বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩

পরিযায়ী পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
পরিযায়ী পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ

প্রকাশ ঘোষ বিধান

পরিযায়ী পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিযায়ী পাখিকে পরিব্রাজক বা যাযাবর পাখিও বলা হয়। পরিযায়ী পাখি যারা শীতের সময় বহু পথ পেরিয়ে আমাদের দেশে আসে এবং কিছুদিন অবস্থান করে আবার চলে যায়।

পাখি পরিযান বলতে নিদিষ্ট প্রজাতির কিছু পাখির প্রতি বছর বা কয়েক বছর পর পর একটি নিদিষ্ট ঋতুতে বা সময়ে কম করে দুটি স্থানের মধ্যে আসা-যাওয়াকে বোঝায়। যেসব প্রজাতির পাখি আসা- যাওয়ায় অংশ নেয়, তাদেরকে পরিযায়ী পাখি বলে। এ পাখিরা প্রায় প্রতি বছর পৃথিবীর কোনো এক বা একাধিক দেশ থেকে বিশ্বের অন্য কোনো দেশে চলে যায় কোনো একটি বিশেষ ঋতুতে। ঋতু শেষে আবার সেখান থেকে ফিরে আসে। এ ঘটনা ঘটতে থাকে প্রতি বছর এবং কমবেশি একই সময়ে।

বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস প্রতি বছর মে ও অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শনিবারে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিযায়ী পাখিদের রক্ষা এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাখিদের পরিযান পথের নিরাপত্তা ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া। সাধারণত মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার (বসন্তকালীন পরিযান) এবং অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শনিবার (শরৎকালীন পরিযান) দিনটি পালিত হয়। পরিযায়ী পাখি, বিশেষ করে শীতের আমেজ আসার সাথে সাথে সুদূর থেকে আসা পাখিদের বাসস্থান ও পরিযান পথ নিরাপদ রাখা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিযায়ী পাখির ভূমিকা অপরিসীম। যাতে এই পাখিদের বিপন্ন অবস্থা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পাখিদের মধ্যে একটি বড় অংশ দখল করে আছে বিভিন্ন প্রজাতির এই পরিযায়ী পাখি। অনিন্দ্য সুন্দর পাখিগুলো প্রকৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীতের শুরুতেই বাংলাদেশের হাওর, বাওর, মোহনা, উপকূলীয় এলাকায় পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠে। খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে এসব পাখি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এদেশে আসে। পরিযায়ী পাখিরা ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন, মাটিকে উর্বর করে তোলাসহ জলজ পরিবেশকে সুন্দর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতি বছর শীতের মৌসুমে দেশে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আসে। পাখিদের কুজনে ও প্রাণপ্রাচুর্যে ভরে উঠে দেশের নানা প্রান্তের হাওর, বাঁওড়, বিলসহ অসংখ্য জলাশয়। পাখি প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখি আছে, তার এক-তৃতীয়াংশই পরিযায়ী পাখি। বাংলাদেশে ৭০০ এর অধিক প্রজাতির পাখির দেখা পাওয়া যায়। তার মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। দেশের জলাভূমি, বন, গ্রাম ও শহর জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। বাংলাদেশের পাখিদের মধ্যে একটি বড় অংশ দখল করে আছে বিভিন্ন প্রজাতির এই পরিযায়ী পাখি। অনিন্দ্য সুন্দর পাখিগুলো প্রকৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নান্দনিক সৌন্দর্যের সাথে বজায় রাখে পরিবেশের ভারসাম্য।

পরিযায়ী পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাইবেরিয়া, হিমালয়সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শীতকালে বাংলাদেশে আসা এসব পাখি ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন, বীজের বিস্তারের মাধ্যমে বনসৃজন এবং জলাভূমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাখিরা প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশের সুস্থতার নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। পরিযায়ী পাখিরা ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে কৃষিতে বড় ধরণের সহায়তা করে এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করে। জলচর পরিযায়ী পাখি বিভিন্ন জলাশয়ের পুষ্টি উপাদান আদান-প্রদান করে পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখে। কোনো এলাকায় পরিযায়ী পাখির আগমনের পরিমাণ দেখে সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের সুস্থতা বোঝা যায়।

পরিযায়ী পাখি আমাদের প্রকৃতির অলঙ্কার। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আসা এসব পরিযায়ী পাখি প্রকৃতির ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিযায়ী পাখির সুরক্ষা দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব। তাদের প্রতি সদয় হওয়া এবং তারা যেন কোনোভাবেই অমানবিক আচরণের শিকার না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

পরিযায়ী পাখি শিকার বা বিক্রি আইনত অপরাধ। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি ১ লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদন্ড বা উভয় দন্ড। কিন্তু আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের অভাবে এই মৌসুমে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। পেশাদার ছাড়াও অনেক শৌখিন শিকারি পরিযায়ী পাখি শিকারে অংশ গ্রহণ করে। শিকারিদের হতে প্রতিদিন শত শত পরিযায়ী পাখি মারা পড়ে। ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

পরিযায়ী পাখিরা ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড় খেয়ে ফসলের সুরক্ষা দেয় এবং পরাগায়নের মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাখির বিষ্ঠা জলাভূমি ও কৃষিজমির উর্বরতা বাড়াতে প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে। তারা বিভিন্ন গাছ ও উদ্ভিদের বীজ বিস্তারে ভূমিকা রাখে, যা বনায়ন বা নতুন চারা গজাতে সাহায্য করে। পাখি প্রকৃতি ও কৃষকের বন্ধু, শত্রু নয়; এই বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের একটু সচেতনতা পরিযায়ী পাখিদের জীবন বাঁচাতে পারে। পরিযায়ী পাখি নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা সবার দায়িত্ব।

পাখি শিকার, বিষটোপ বা জাল ব্যবহার করে পাখি ধরা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এই সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় তাদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া এবং শিকারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জরুরি। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে পরিযায়ী পাখি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল ধ্বংস এবং শিকারিদের কারণে এই পাখিদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। প্রকৃতির ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও উড্ডয়ন পথ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

পরিযায়ী পাখির সুরক্ষা দেওয়া আমাদের সকলের একটি নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব। এই পাখিরা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আমাদের প্রকৃতিতে আসে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

শরতেও প্রতিদিন বৃষ্টি, তারপরও কেন কমছে না ভ্যাপসা গরম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
শরতেও প্রতিদিন বৃষ্টি, তারপরও কেন কমছে না ভ্যাপসা গরম

শরতের আকাশে মেঘ, গত তিনদিনই দুপুরের পর রাজধানীতে বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও টানা, কোথাও আবার অল্প সময়ের ঝুম বৃষ্টি। তবু গরমের অস্বস্তি কাটছে না। বৃষ্টির পর কিছুটা স্বস্তি মিললেও তা স্থায়ী হচ্ছে না। বৃষ্টি থামার পরই আবার ভ্যাপসা গরমে হাঁসফাঁস করতে হচ্ছে নগরবাসীকে।

আজ বুধবার, ২৫ ভাদ্র। শরতের প্রায় মাঝামাঝি সময় চলছে। সাধারণত এ সময়ে বৃষ্টির প্রবণতা থাকলেও বৃষ্টির কারণে তাপমাত্রা খুব বেশি কমছে না। বরং বাতাসে জলীয়বাষ্প বেশি থাকায় তাপমাত্রা যতটা দেখা যাচ্ছে; মানুষের কাছে তার চেয়ে বেশি গরম অনুভূত হচ্ছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, শুধু বৃষ্টি হলেই গরমের অস্বস্তি কমে না। বৃষ্টির পর বাতাসে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বেড়ে গেলে আর্দ্রতা বেশি থাকে। এতে শরীরের ঘাম সহজে শুকাতে পারে না। ফলে শরীরের তাপ বের হতে সময় লাগে এবং গরম বেশি অনুভূত হয়। বিশেষ করে বাতাসের গতি কম থাকলে এই অস্বস্তি আরও বাড়ে।

বৃষ্টির পরও কেন গরম

রাজধানীতে বৃষ্টির পর অনেকেই ভেবেছিলেন তাপমাত্রা কমে স্বস্তি ফিরবে। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর আর্দ্র বাতাস ও কম বাতাস চলাচলের কারণে গরমের অনুভূতি আবার বেড়ে যাচ্ছে। দিনের বেলায় বাইরে বের হওয়া মানুষকে ঘামে ভিজতে হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও ফ্যানের বাতাসে স্বস্তি মিলছে না অনেকের।

আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, মৌসুমি বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ ভারতের রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, বিহার, পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর কম সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। অর্থাৎ আগের তুলনায় মৌসুমি বায়ুর প্রভাব বাংলাদেশে কমে আসতে শুরু করেছে।

আবহাওয়া অধিদফতর আরও জানায়, পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে।

বুধবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ ড. মো. ওমর ফারুক বলেন, ‘এই সময় বাতাসে আদ্রতার পরিমাণ বেশি। অন্যদিকে একের পর এক লঘুচাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ‍বৃষ্টি হলেও তা এত যথেষ্ট নয় যে, গরম কমে আসবে। সব মিলিয়ে এই সময় বৃষ্টির পর পর আবারও ভ্যাপসা গরম লাগতে শুরু করে। এই গরম আরও কিছুদিন থাকতে পারে।’ শীতকাল না আসা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টিও হবে, আবার ভ্যাপসা গরমও থেকে যেতে পারে বলে তিনি জানান।

কতটা বৃষ্টি হয়েছে

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদফতর। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে রাজশাহী ও বরিশালে ২৫ মিলিমিটার। ঢাকায় হয়েছে ৯ মিলিমিটার। এছাড়া শ্রীমঙ্গলে ২৩, কুমারখালীতে ১৫, চুয়াডাঙ্গা ও খুলনায় ১৩, মোংলা ও তাড়াশে ১১, যশোর ও রামগতিতে ১০, চাদপুরে ৮, তেতুলিয়া ৭, টেকনাফে ৫, আরিচায় ৬, সিলেট, নেত্রকোনা, হাতিয়া ও মাদারিপুরে ৩,কক্সবাজার ও বগুড়ায় ২, বান্দারবান, চট্টগ্রাম, সীতাকুণ্ড, রাঙ্গামাটি, দিনাজপুর, টাঙ্গাইলে ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকড করা হয়েছে। এর বাইরে আমবাগানে, সৈয়দপুর ও গোপালগঞ্জে সামান্য বৃষ্টি হয়েছে।

তাপমাত্রা খুব বেশি কমেনি

গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল চট্টগ্রামের রামগতিতে ৩৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া বিভাগীয় শহরগুলোর মধ্যে ঢাকার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪, রাজশাহীতে ৩৪ দশমিক ৫, রংপুরে ৩৫, ময়মনসিংহে ৩৫ দশমিক ২, সিলেটে ৩১ দশমিক ৮, চট্টগ্রামে ৩২ দশমিক ৫, খুলনায় ৩৩ দশমিক ৫ এবং বরিশালে ৩২ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ফলে বৃষ্টি হলেও তাপমাত্রায় বড় ধরনের পতন দেখা যায়নি।

মানুষের ভোগান্তি

বৃষ্টি হলেও গরমের অস্বস্তি থেকে মুক্তি না পাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন খেটে খাওয়া মানুষেরা। রিকশাচালক, পথের হকার ও নির্মাণশ্রমিকদের দীর্ঘ সময় বাইরে থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টির সময় কিছুটা স্বস্তি মিললেও বৃষ্টি থামার পর ভ্যাপসা গরমে আবারও ঘামতে হচ্ছে তাদের।

রাজধানীর গুলশান এলাকায় রিকশা চালান মাসুদ বেপারী বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলে মনে হয় গরম কমবে। কিন্তু বৃষ্টি থামার পর আবার গরম লাগে। বাতাসও কম। রাস্তায় রিকশা চালানো খুব কষ্ট হয় তখন। দুপুর গরমের মধ্যে বৃষ্টি হলে আরাম হয়। কিন্তু এরপর যে গরম পড়ে, সেটা সহ্য করা কঠিন।’’

অন্য ধরনের ভোগান্তির কথা জানালেন, রাজধানীর কাওরান বাজারের হকার ইকবাল আলী। তিনি বলেন, ‘‘বৃষ্টি হলে আরাম লাগে ঠিকই, কিন্তু কেনাবেচা বন্ধ হয়ে যায়। বৃষ্টির পর যখন কেনাবেচা শুরু করি, তখন শুরু হয় গরমের কষ্ট। কোনোদিকেই শান্তিতে নাই।’’

বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটা হতে পারে না: রুমিন ফারহানা

ন্যাশনাল ডেস্ক: বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর বিদ্যুৎ-গ্যাসের সংকট হবে না, তা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা।বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে একটি বিলের ওপর জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ মন্তব্য করেন। এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হইতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর সারের সংকট হবে না, যারা গরিব কৃষক আছেন, তারা সার লুট করবেন না; সেটাও হতে পারে না।
রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে, আর বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না; সেটাও হতে পারে না। সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণখেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া। এ সময় রুমিন ফারহানা বলেন, ‘এত অসহিষ্ণু সংসদ, মনে হয় যেন একেবারে আওয়ামী লীগের আমলে ফিরে গেছি আমরা। মজা মন্দ না। আওয়ামী লীগকে যখন বলতাম তখন তারাও হট্টগোল করতো। এখন বিএনপির একই ধরনের আচরণ করছে। আরও খারাপ আচরণ।’
এ সময় সংসদের সরকারদলীয় অংশ থেকে হইচই শুরু হলে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সবাইকে শান্ত থাকতে বলেন। এই সংসদের বেশিরভাগ সদস্য ঋণখেলাপি হিসেবে পরিচিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের আগে নামটা কাটানোর জন্য হাইকোর্টে গিয়ে রিট করা আমাদের পুরোনো সংস্কৃতি। এগুলো আমরা বহু দেখেছি। ইলেকশনের আগে তাড়াতাড়ি ঋণখেলাপির নাম থেকে বাদ দেয়।’ এরপর রুমিন ফারহানার জন্য নির্ধারিত দুই মিনিট সময় শেষ হয়ে গেলে তার মাইক বন্ধ হয়ে যায়। মাইক ছাড়াই বক্তব্য দিতে থাকেন রুমিন ফারহানা। এই পর্যায়ে আবারও সংসদে হট্টগোল শোনা যায়।
পরে আরও কয়েক দফায় ‘অর্ডার অর্ডার’ বলে সংসদের শৃঙ্খলা ফেরানোর চেষ্টা করেন ডেপুটি স্পিকার। এরপর সরকার দলীয় চিফ হুইপের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।
এসময় চিফ হুইপকে উদ্দেশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘একজন মাননীয় সদস্য বক্তব্য রাখছেন। শি হ্যাজ এভরি লিবার্টি টু স্পিক। বাট অন্যান্য মাননীয় সদস্যরা উনার বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান—সেটা কিন্তু গণতান্ত্রিক রীতিনীতির বাইরে। আমি এজ এ চিফ হুইপ অব ট্রেজারি বেঞ্চ, আপনাকে অনুরোধ করবো, অনারেবল মেম্বারস অব দ্য পার্লামেন্ট, যারা আছেন প্রত্যেকের এখানে লিবার্টি আছে। তারা তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। আপনাদের টার্ন যখন আসে, আপনারা তখন সেটা খণ্ডন করবেন। কিন্তু বক্তব্য প্রদানে বাধা প্রদান করা কোনও অবস্থাতেই কাম্য না।’

রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
রুনা লায়লার মৃত্যুর গুজব, মেয়ে তানি বললেন ‘মা সম্পূর্ণ সুস্থ’

‘মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন রুনা লায়লা’—এমন একটি খবর ও এআই-নির্ভর ভিডিও ছড়িয়ে পড়ায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লার একমাত্র মেয়ে তানি লায়লা। তার দাবি, মা রুনা লায়লা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন।

পরিবার নিয়ে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা তানি লায়লা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে রুনা লায়লার সুস্থ থাকার বিষয়টি জানান।

তানি পোস্টে লেখেন, সামান্য কিছু অর্থ উপার্জনের লোভে এ ধরনের পোস্ট, এআই (AI) দিয়ে তৈরি ইউটিউব ভিডিও এবং ভুয়া খবর ছড়ানোর বিষয়টি দেখে আমি সত্যিই বিরক্ত ও অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি।

তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের কন্টেন্টগুলোর বিরুদ্ধে রিপোর্ট করা শুরু করবো—একটা একটা করে, যতক্ষণ না এই সব মাথামোটা লোক তাদের এই বাজে কাজ বন্ধ করে।’

তানির ভাষ্য, ‘আমার মা তার জীবনের ছয়টি দশক সঙ্গীতের সেবায় উৎসর্গ করেছেন। অথচ মানুষ এখনও তাকে এভাবেই অসম্মান করে চলেছে—কী চরম লজ্জার ও অপমানের বিষয় আমাদের জন্য!’

রুনা লায়লা সুস্থ ও জীবিত আছেন জানিয়ে পোস্টে তিনি লেখেন, আমার মা সম্পূর্ণ সুস্থ ও জীবিত আছেন; কেউ মারা যাননি বা মৃত্যুর মুখেও নেই—এসবই এআই-এর মাধ্যমে তৈরি ভিডিও ও ছবি।’

গণমাধ্যমের কাছে তানির অনুরোধ তথ্য যাচাই করে নিউজ করার জন্য।

সবশেষে তিনি বলেন, ‘আর সহ্য করা যাচ্ছে না… যারা রুনা লায়লাকে অনুসরণ করেন, দয়া করে এ ধরনের অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করুন।’

এদিকে সাম্প্রতিক সময়েও গানের অনুষ্ঠানে বেশ সক্রিয় ছিলেন রুনা লায়লা। গত মাসে অস্ট্রেলিয়ার দুটি অঙ্গরাজ্যে দুটি কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করেছেন তিনি। তার আগে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির উদ্যোগে আয়োজিত একক গানের অনুষ্ঠানেও গান করেছেন এই শিল্পী।