শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩
শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

পরিযায়ী পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
পরিযায়ী পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ

প্রকাশ ঘোষ বিধান

পরিযায়ী পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ। পরিযায়ী পাখিকে পরিব্রাজক বা যাযাবর পাখিও বলা হয়। পরিযায়ী পাখি যারা শীতের সময় বহু পথ পেরিয়ে আমাদের দেশে আসে এবং কিছুদিন অবস্থান করে আবার চলে যায়।

পাখি পরিযান বলতে নিদিষ্ট প্রজাতির কিছু পাখির প্রতি বছর বা কয়েক বছর পর পর একটি নিদিষ্ট ঋতুতে বা সময়ে কম করে দুটি স্থানের মধ্যে আসা-যাওয়াকে বোঝায়। যেসব প্রজাতির পাখি আসা- যাওয়ায় অংশ নেয়, তাদেরকে পরিযায়ী পাখি বলে। এ পাখিরা প্রায় প্রতি বছর পৃথিবীর কোনো এক বা একাধিক দেশ থেকে বিশ্বের অন্য কোনো দেশে চলে যায় কোনো একটি বিশেষ ঋতুতে। ঋতু শেষে আবার সেখান থেকে ফিরে আসে। এ ঘটনা ঘটতে থাকে প্রতি বছর এবং কমবেশি একই সময়ে।

বিশ্ব পরিযায়ী পাখি দিবস প্রতি বছর মে ও অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শনিবারে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়, যার মূল উদ্দেশ্য হলো পরিযায়ী পাখিদের রক্ষা এবং তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। পাখিদের পরিযান পথের নিরাপত্তা ও তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণের ওপর জোর দেওয়া। সাধারণত মে মাসের দ্বিতীয় শনিবার (বসন্তকালীন পরিযান) এবং অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শনিবার (শরৎকালীন পরিযান) দিনটি পালিত হয়। পরিযায়ী পাখি, বিশেষ করে শীতের আমেজ আসার সাথে সাথে সুদূর থেকে আসা পাখিদের বাসস্থান ও পরিযান পথ নিরাপদ রাখা। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পরিযায়ী পাখির ভূমিকা অপরিসীম। যাতে এই পাখিদের বিপন্ন অবস্থা ও সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের পাখিদের মধ্যে একটি বড় অংশ দখল করে আছে বিভিন্ন প্রজাতির এই পরিযায়ী পাখি। অনিন্দ্য সুন্দর পাখিগুলো প্রকৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ। শীতের শুরুতেই বাংলাদেশের হাওর, বাওর, মোহনা, উপকূলীয় এলাকায় পরিযায়ী পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠে। খাদ্য ও আশ্রয়ের সন্ধানে এসব পাখি হাজার হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এদেশে আসে। পরিযায়ী পাখিরা ক্ষতিকারক পোকামাকড় দমন, মাটিকে উর্বর করে তোলাসহ জলজ পরিবেশকে সুন্দর রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রতি বছর শীতের মৌসুমে দেশে বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখি আসে। পাখিদের কুজনে ও প্রাণপ্রাচুর্যে ভরে উঠে দেশের নানা প্রান্তের হাওর, বাঁওড়, বিলসহ অসংখ্য জলাশয়। পাখি প্রাকৃতিক পরিবেশের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। পৃথিবীতে প্রায় ১০ হাজার প্রজাতির পাখি আছে, তার এক-তৃতীয়াংশই পরিযায়ী পাখি। বাংলাদেশে ৭০০ এর অধিক প্রজাতির পাখির দেখা পাওয়া যায়। তার মধ্যে প্রায় ৩০০ প্রজাতির পরিযায়ী পাখির দেখা মেলে। দেশের জলাভূমি, বন, গ্রাম ও শহর জুড়ে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি দেখা যায়। বাংলাদেশের পাখিদের মধ্যে একটি বড় অংশ দখল করে আছে বিভিন্ন প্রজাতির এই পরিযায়ী পাখি। অনিন্দ্য সুন্দর পাখিগুলো প্রকৃতিরও অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে নান্দনিক সৌন্দর্যের সাথে বজায় রাখে পরিবেশের ভারসাম্য।

পরিযায়ী পাখি প্রকৃতি ও পরিবেশের অবিচ্ছেদ্য অংশ, যা বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাইবেরিয়া, হিমালয়সহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে শীতকালে বাংলাদেশে আসা এসব পাখি ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ দমন, বীজের বিস্তারের মাধ্যমে বনসৃজন এবং জলাভূমির উর্বরতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। পাখিরা প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ধন ও পরিবেশের সুস্থতার নির্দেশক হিসেবে কাজ করে। পরিযায়ী পাখিরা ফসলের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে কৃষিতে বড় ধরণের সহায়তা করে এবং কীটনাশকের ব্যবহার কমাতে সাহায্য করে। জলচর পরিযায়ী পাখি বিভিন্ন জলাশয়ের পুষ্টি উপাদান আদান-প্রদান করে পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখে। কোনো এলাকায় পরিযায়ী পাখির আগমনের পরিমাণ দেখে সেখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশের সুস্থতা বোঝা যায়।

পরিযায়ী পাখি আমাদের প্রকৃতির অলঙ্কার। প্রতি বছর শীতের মৌসুমে হাজার হাজার কিলোমিটার পাড়ি দিয়ে আসা এসব পরিযায়ী পাখি প্রকৃতির ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পরিযায়ী পাখির সুরক্ষা দেওয়া আমাদের সকলের দায়িত্ব। তাদের প্রতি সদয় হওয়া এবং তারা যেন কোনোভাবেই অমানবিক আচরণের শিকার না হয়, সেদিকে নজর রাখা জরুরি।

পরিযায়ী পাখি শিকার বা বিক্রি আইনত অপরাধ। বাংলাদেশে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ অনুযায়ী পাখি নিধনের সর্বোচ্চ শাস্তি ১ লাখ টাকা জরিমানা, এক বছরের কারাদন্ড বা উভয় দন্ড। কিন্তু আইনের সুষ্ঠু প্রয়োগের অভাবে এই মৌসুমে পাখি শিকারিদের দৌরাত্ম্য বেড়ে যায়। পেশাদার ছাড়াও অনেক শৌখিন শিকারি পরিযায়ী পাখি শিকারে অংশ গ্রহণ করে। শিকারিদের হতে প্রতিদিন শত শত পরিযায়ী পাখি মারা পড়ে। ফলে জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

পরিযায়ী পাখিরা ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ ও পোকামাকড় খেয়ে ফসলের সুরক্ষা দেয় এবং পরাগায়নের মাধ্যমে উদ্ভিদের বংশবৃদ্ধিতে সহায়তা করে। পাখির বিষ্ঠা জলাভূমি ও কৃষিজমির উর্বরতা বাড়াতে প্রাকৃতিক সার হিসেবে কাজ করে। তারা বিভিন্ন গাছ ও উদ্ভিদের বীজ বিস্তারে ভূমিকা রাখে, যা বনায়ন বা নতুন চারা গজাতে সাহায্য করে। পাখি প্রকৃতি ও কৃষকের বন্ধু, শত্রু নয়; এই বার্তা সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের একটু সচেতনতা পরিযায়ী পাখিদের জীবন বাঁচাতে পারে। পরিযায়ী পাখি নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা করা সবার দায়িত্ব।

পাখি শিকার, বিষটোপ বা জাল ব্যবহার করে পাখি ধরা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। এই সৌন্দর্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় তাদের নিরাপদে থাকতে দেওয়া এবং শিকারিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া জরুরি। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের স্বার্থে পরিযায়ী পাখি রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। জলবায়ু পরিবর্তন, আবাসস্থল ধ্বংস এবং শিকারিদের কারণে এই পাখিদের সংখ্যা দিন দিন কমছে। প্রকৃতির ভারসাম্য এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় তাদের নিরাপদ আবাসস্থল ও উড্ডয়ন পথ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

পরিযায়ী পাখির সুরক্ষা দেওয়া আমাদের সকলের একটি নৈতিক ও নাগরিক দায়িত্ব। এই পাখিরা হাজার হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে আমাদের প্রকৃতিতে আসে এবং বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট

 

Ads small one

সাবেক গণভবন, পিরোজপুর ও নোয়াখালীতে ঝটিকা মিছিল থেকে যুবলীগের একজন আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১:০৮ পূর্বাহ্ণ
সাবেক গণভবন, পিরোজপুর ও নোয়াখালীতে ঝটিকা মিছিল থেকে যুবলীগের একজন আটক

ন্যাশনাল ডেস্ক: ঢাকায় গণভবন এলাকায় কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগ ও দলটির সহযোগী সংগঠনের সদস্যদের ঝটিকা মিছিল থেকে একজনকে আটকের তথ্য দিয়েছে পুলিশ। খোকন কাজী নামে ৪০ বছর বয়সী আটক ওই ব্যক্তি যুবলীগের সদস্য বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদপুর থানার ওসি মেজবাহ উদ্দিন। শুক্রবার বেলা সোয়া ২টার দিকে গণভবন ক্রসিংয়ের পশ্চিম পাশের সড়কে ২০-২৫ জনের অংশগ্রহণে মিছিলটি হয়।

এদিকে পিরোজপুরে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের মিছিল হয়েছে। এ সময় একজনকে আটক করা হয়েছে।
পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. মাহামুদ হাসান বলেন, শুক্রবার ভোরে শহরেরর বড় মসজিদ টাউন ক্লাব সড়ক থেকে একটি মিছিল স্থানীয় দামদোর ব্রিজের কাছে যায়। আটক শামীম সিকদার সদর উপজলোর ব্রাক্ষণকাঠী এলাকার মৃত হান্নান সিকদারের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মিছিলটি দমোদর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মারুফ হাসানের নেতৃত্বে কয়েকজন ধাওয়া দেয়। এ সময় সবাই পালিয়ে গেলেও শামীমকে ধরে পুলিশে দেওয়া হয়। জেলা যুবদলের আহ্বায়ক মারুফ হাসান বলেন, তারা শুধু মিছিল করেনি, বর্তমান সরকারকে নিয়ে আপত্তিকর স্লোগান দিচ্ছিল। তাদের উদ্দেশ্য অসৎ ছিল। তাই আমরা তাদের প্রতিহত করেছি।

অপরদিকে, নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদীতে যুবলীগের ঝটিকা মিছিল হয়েছে। শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে মাইজদী বাজারের উত্তরে চৌমুহনী-মাইজদী মহাসড়কে ওই মিছিল হয়। পরে ফেসবুকে বিভিন্ন পেজ থেকে মিছিলের ৫১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এ ভিডিওতে দেখা যায়, যুবলীগের ২৫ থেকে ৩০ জন নেতা-কর্মী মাইজদী বাজারের উত্তর দিক থেকে একটি ঝটিকা মিছিল বের করেন। এ সময় তাঁরা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরীকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

মাদক পাচার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সমঝোতা স্মারক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
মাদক পাচার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সমঝোতা স্মারক

ন্যাশনাল ডেস্ক: মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অপব্যবহার ও পাচার রোধে একজোট হয়েছে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান। শুক্রবার রাজধানী ঢাকার হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দুই দেশের মধ্যে এ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।

এই সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় দেশ মাদক পাচার এবং মাদক সংক্রান্ত অর্থ পাচার রোধে তথ্য আদান-প্রদান করবে এবং একে অপরকে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে। এছাড়া মাদক সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী সংস্থা এবং পাচারের নতুন পদ্ধতি ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে দুই দেশ। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই সমঝোতা স্মারকে সই করেন।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য এই চুক্তি কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে।

এর আগে পাকিস্তান পক্ষ থেকে সন্ত্রাসবাদ, মাদক পাচার, চোরাচালান এবং দলিলপত্র জালিয়াতি রোধে একটি খসড়া চুক্তির প্রস্তাব করা হয়েছিল, যা নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ওই সিদ্ধান্তের আলোকে বর্তমান সরকার খসড়াটি পর্যালোচনা করছে। তার ভিত্তিতে মাদক পাচাররোধে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হল।

সমঝোতা স্মারকে যা আছে: তথ্য আদান-প্রদান: মাদক পাচারকারী ব্যক্তি, অপরাধী সংগঠন এবং মাদক লুকানোর নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য বিনিময়। যৌথ কার্যক্রম: মাদক পাচার রোধে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা এবং ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মত সমন্বিত অভিযান পরিচালনা। প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি: মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়।

প্রযুক্তিগত সহায়তা: লুকানো মাদক শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং স্নিফার ডগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময়। ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ: নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে এএনএফ ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে। গোপনীয়তা রক্ষা: বিনিময় করা সকল তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষকে তা জানানো হবে না।

আরেক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পাশাপাশি দুই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে বৈঠকও হয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে ‘অত্যন্ত সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে’ বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে সেখানে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, বাংলাদেশে বন্দি তিনজন পাকিস্তানির মুক্তির বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের মতামতের জন্য পাঠানো নথির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কেও বৈঠকে আলোচনা হয়। রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এ বিষয়ে মিয়ানমারের সঙ্গে গঠনমূলক আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততা বাড়াতে পাকিস্তান ভূমিকা রাখতে পারে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উভয় দেশের মন্ত্রী আঞ্চলিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অভিন্ন স্বার্থের ওপর গুরুত্ব আরপ করেন। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় এবং বিচারিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে একমত পোষণ করেন তারা। মানবপাচার এবং অভিবাসীদের অবৈধ চোরাচালান প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্য আদান-প্রদান এবং পাচারকারী চক্র দমনে যৌথ প্রচেষ্টার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া পাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা এবং সচেতনতামূলক কর্মসূচি বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা হয়।

ফৌজদারি অপরাধের তদন্তে দ্রুত তথ্য ও সাক্ষ্য বিনিময়ের লক্ষ্যে ‘মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স ইন ক্রিমিনাল ম্যাটারস’ চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরে বৈঠকে আশা প্রকাশ কর হয়, এর ফলে আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় হবে।

এছাড়া অপরাধীরা যাতে এক দেশ থেকে অন্য দেশে পালিয়ে বিচার এড়াতে না পারে, সেজন্য সন্ত্রাসবাদ ও আর্থিক অপরাধসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যকর প্রত্যর্পণ ব্যবস্থা নিয়ে কথা হয় বৈঠকে। এসব সহযোগিতার মাধ্যমে দুই দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উভয় পক্ষ আশা প্রকাশ করে।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

 

রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য দিয়ে জীবন সাজাতে হবে: মির্জা ফখরুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ
রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য দিয়ে জীবন সাজাতে হবে: মির্জা ফখরুল

ন্যাশনাল ডেস্ক: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ব মানবতার কবি। তার কবিতা ও সাহিত্য দিয়ে জীবন সাজাতে হবে। নাটক, গানসহ সব ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অবাধ বিচরণ ছিল। গীতাঞ্জলি কাব্যগ্রন্থের মধ্য দিয়ে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন তিনি।’ শুক্রবার বেলা ১১টায় নওগাঁর পতিসরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মজয়ন্তীতে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নওগাঁর পতিসরে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথের সাহিত্যচর্চা ও অন্যান্য কর্মকান্ডের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ এই অঞ্চলে তার জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করেছিলেন। কৃষকদের দুঃখ, দুর্দশা দেখে কৃষি ব্যাংক করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য করের লাঙল নিয়ে এসে কৃষিকাজ শুরু করেছিলেন।’
এ সময় দেশের রাজনীতি প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দেশে একটি হতাশাগ্রস্ত গোষ্ঠী আছে তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্ন সময় এই সমাজকে আবার অস্থির করে রাখতে চায়।

‘বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচ্ছন্ন না। দেশের মানুষ বার বার পরিবর্তনের জন্য যুদ্ধ করেছে, লড়াই করেছে। কিন্তু কোনও পরিবর্তন আসেনি। ১৯৭১ সালের যুদ্ধে আমাদের যে স্বকীয়তা ও পরিচয়, আমরা বাংলাদেশি, সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। ৯ মাস যুদ্ধ করে স্বাধীনতা নিয়ে আসতে হয়েছে। আবার গণতন্ত্র লড়াই করে ফিরিয়ে আনতে হয়েছে। আমরা হানাদার বাহিনী ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে।’

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আ ন ম বজলুর রশীদ। এ সময় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, হুইপ অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, নওগাঁ-৬ আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল ইসলাম রেজু, নওগাঁ-৫ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুল ইসলাম ধলু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান, নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদা বাবুল, নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপু, নওগাঁ-১ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম মুশফিকুল ফজল (আনসারী), রাজশাহীর উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ শাহজাহান, নওগাঁ জেলা পরিষদের প্রশাসক আবু বক্কর সিদ্দিক, নওগাঁর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। আলোচনা সভার পরে রাজধানীর ও স্থানীয় শিল্পীরা আবৃত্তি, গান, নৃত্য পরিবেশন করেন।