বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩

পাইকগাছা আদালত ভবন বেহাল, বর্ষা এলে ছাদে পলিথিন দিয়ে চালাতে হয় অফিস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা আদালত ভবন বেহাল, বর্ষা এলে ছাদে পলিথিন দিয়ে চালাতে হয় অফিস

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা আদালত ভবনের অবস্থা খুবই নাজুক। জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের একটি বড় অংশ ধ্বসে পড়েছে। সম্প্রতি রাতে আদালতের সিএসআই অফিস কক্ষের ছাদ ধ্বসে পড়ে। শুধু তাই নয়, বর্ষা মৌসুম এলে ছাদে পলিথিন ও ত্রিফল দিয়ে চালাতে হয় অফিসের কার্যক্রম।

আদালত সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভবনটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। কোথাও কোথাও দেয়াল ও ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে। ছাদের বেশ কিছু অংশও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে একটি অংশ ধ্বসে পড়ায় পুরো ভবনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রাতে ছাদ ধ্বসে পড়ার সময় বিকট শব্দ হয়। শব্দ শুনে আদালতে দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে তাঁরা দেখতে পান, ছাদের ভেঙে পড়া অংশ কক্ষের ভেতরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে। ছাদের পলেস্তারা ও নির্মাণসামগ্রীর বড় অংশ নিচে পড়ে যায়। তবে দিনের বেলায় আদালতের কার্যক্রম চলার সময় ছাদ ধ্বসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারত বলে জানিয়েছেন আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পাইকগাছা চৌকি আদালতে প্রতিদিন বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতি থাকে। আদালতের কার্যক্রম চলাকালে কক্ষগুলোতে মানুষের উপস্থিতিও থাকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, রাতের পরিবর্তে দিনের বেলায় ছাদ ধ্বসের ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারত। ধ্বসে পড়া ছাদের নিচে কেউ থাকলে গুরুতর আহত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানীরও আশঙ্কা ছিল। আদালতের সিএসআই মোঃ তরিকুল ইসলাম বলেন, ছাদ ধ্বসে পড়ার ঘটনা দিনের বেলায় ঘটলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতো। এমনকি ছাদের ভেঙে পড়া অংশ তাঁর মাথার ওপর পড়ার আশঙ্কাও ছিল।

আদালত সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, খুলনা জেলার দুর্গম এলাকা হিসেবে ১৯৮৩ সালে পাইকগাছায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও সিনিয়র সহকারী জজ চৌকি আদালত প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ভবনটির প্রয়োজনীয় সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণ যথাযথভাবে হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ভবনের বিভিন্ন অংশে এখন জরাজীর্ণতার ছাপ স্পষ্ট। দেয়াল ও ছাদে ফাটলসহ বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

আইনজীবী সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব এড. আব্দুস সাত্তার বলেন, “আদালত ভবনের বিভিন্ন অংশে ফাটল রয়েছে। ছাদসহ বেশ কয়েকটি অংশ ভীষণ ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিদিন আদালতে বিচারক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, আইনজীবী, পুলিশ সদস্য ও বিভিন্ন মামলার বিচারপ্রার্থীরা আসেন। ফলে ভবনের কোনো অংশ হঠাৎ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ভবনটির অবস্থা এতটাই নাজেুক যে, বর্ষা মৌসুম এলে ছাদের উপর পলিথিন ও ত্রিফল দিয়ে অফিসের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হয়।”

আদালতে সেবা নিতে আসা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “একটি অংশ ধ্বসে পড়ার পর বিষয়টিকে শুধু বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পুরো ভবনের কাঠামোগত অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। বিশেষ করে ছাদ ও দেয়ালের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো দ্রুত শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া জরুরী।”

আদালত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই ভবনটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো প্রয়োজনীয় সংস্কার করা অথবা ভবনটি ব্যবহার অনুপযোগী হলে নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁদের আশঙ্কা, ছাদের একটি অংশ ধসে পড়ার পরও যদি ঝুঁকিপূর্ণ অন্যান্য অংশে ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে ভবিষ্যতে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই বিচারক, আইনজীবী, কর্মকর্তা কর্মচারী, পুলিশ সদস্য ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

 

Ads small one

কলারোয়ায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:০৫ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় এক হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব

পত্রদূত ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত ৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপন কর্মসুচির আওতায় সাতক্ষীরার কলারোয়ায় তিনটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক হাজার শিক্ষার্থীদের মাঝে গাছের চারা বিতরণ করা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে বৃহস্পতিবার কলারোয়া মডেল হাইস্কুল প্রাঙ্গনে উক্ত গাছের চারা বিতরণ করেন, জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহি কমিটির প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
গাছের চারা বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহি এসএম মাহফুজুর রহমান।

এসময় সেখানে আরো উপস্থিত ছিলেন, কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি অধ্যক্ষ রইচ উদ্দিন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা, সাংগঠনিক তামিম আজাদ মেরিন, উপজেলা কৃষকদলের আহবায়ক মাস্টার মনিরুজ্জামান, উপজেলা জামাতের আমির কামরুজ্জামান, বেত্রাবতী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুল ইসলাম, কলারোয়া মডেল হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনসহ বেত্রাবতি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কলারোয়া মডেল হাইস্কুল এবং বাটরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিব এ সময় বলেন, কলারোয়া উপজেলায় একটি মিনি স্টেডিয়াম, শিল্পকলা একাডেমী, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গ্রন্থগার নির্মানসহ বিভিন্ন খেলার মাঠ সংস্কার করার আশ^াস দেন। গাছের চারা বিতরণ শেষে তিনি বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে গাছের চারা রোপন করেন।

সাতক্ষীরায় অসুস্থ বিএনপি নেতা তারিকুল হাসানকে দেখতে জেলা নেতৃবৃন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় অসুস্থ বিএনপি নেতা তারিকুল হাসানকে দেখতে জেলা নেতৃবৃন্দ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তারিকুল হাসানকে দেখতে যান জেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টায় তার বাসভবনে নেতৃবৃন্দ তার শয্যাপাশে কিছু সময় অতিবাহিত করেন, তার চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং আশু আরোগ্য কামনা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের প্রশাসক, বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহবায়ক রহমতুল্লাহ পলাশ, সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হাসান হাদি, জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোশাররফ হোসেন, ধুলিহর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী তাকদীর আহসান রুবেল।

এছাড়াও জেলা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন। নেতৃবৃন্দ উপস্থিত সকলের কাছে অসুস্থ নেতার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া প্রার্থনা করেছেন।

প্রতারণা মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, আসাদের নামে ফের আদালতে মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ
প্রতারণা মাধ্যমে ৩ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ, আসাদের নামে ফের আদালতে মামলা

বাগআঁচড়া (শার্শা) সংবাদদাতা: যশোরের শার্শায় মানবাধিকার কর্মী আসাদুজ্জামান আসাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আবারও প্রতারণার মাধ্যমে তিনলক্ষ টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ উঠেছে। এঘটনায় ভুক্তভোগী এক ব্যক্তি সু’বিচার পেতে বিজ্ঞ আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান আসাদ যশোরের শার্শা উপজেলার ৮নং বাগআঁচড়ার আ.ফ.ম. নিছার আলীর ছেলে ও বাগআঁচড়া সাতমাইল গ্রামের বাসিন্দা। আসাদের নামে যশোর ও ঝিনাইদহ আদালতে তিনটি মামলা চলোমান ও শার্শা থানায় দুটি চাঁদাবাজি এবং একটি খুন জখমের অভিযোগসহ ছয়টি গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।

নতুন মামলা সূত্রে জানা গেছে, আসাদুজ্জামান আসাদ ঝিনাইদহ জেলার কালিগঞ্জ থানার আসাননগর গ্রামের জাহাঙ্গীর হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে চার লক্ষ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে বিদেশে (মালয়েশিয়ায়) বৈধ ভিসায় মোটা টাকা বেতনের চাকরি দেয়ার প্রলোভন দেখালে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর বিদেশে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর তার বাড়িতে বসে “আসাদুজ্জামান আসাদকে” প্রথম ধাপে বিদেশে যাওয়ার জন্য গত ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্থানীয় সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে নন জুড়িশিয়াল ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে নগত তিন লক্ষ টাকা প্রদান করেন।

 

আসাদ সাক্ষীগণের উপস্থিতিতে ঐ তিন লক্ষ টাকা গ্রহণ করেন। মামলার কপিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর মালয়েশিয়া যাওয়ার ফ্লাইটের দিন ০১ এপ্রিল ২৬ তারিখে বাকী এক লক্ষ ৫০ হাজার টাকা আসাদকে দিতে হবে। আর যদি ইংরেজি ০১ এপ্রিল তারিখের মধ্যে অভিযুক্ত আসাদ ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীরকে মালয়েশিয়ায় পাঠাতে ব্যর্থ হয়, তাহলে ইংরেজি ০১ মে তারিখের মধ্যে তিন লক্ষ টাকা ফেরত দিতে বাধ্য থাকিবেন। কিন্তু উক্ত তারিখের মধ্যে ভুক্তভোগীকে মালয়েশিয়া পাঠাতে ব্যর্থ হওয়ায় আসাদকে দেওয়া তিনলক্ষ টাকা ফেরত চাইলে, তিনি টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করেন।

 

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী জাহাঙ্গীর হোসেন সুবিচার প্রার্থনা করে বিজ্ঞ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও শৈলকুপা আমলী আদালত, ঝিনাইদহে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার ধারা- ৪০৬/৪২০/৫০৬ (২) দঃ বিঃ আইন।