বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬, ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাইকগাছায় বিলুপ্তির পথে বর্ষার কদম ফুল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৩ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় বিলুপ্তির পথে বর্ষার কদম ফুল

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): কদম ফুল বর্ষার রূপ ও প্রকৃতির এক অনন্য আশীর্বাদ। এর গোল বলের মতো আকার, সাদা ও হলুদ-কমলা রঙের মিশ্রণ এবং মিষ্টি সুবাস বর্ষাকালের স্নিগ্ধতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দেওয়া কদম ফুল যে কারো মন কেড়ে নেয়।

শুরু হয়েছে বর্ষাকাল। প্রকৃৃতিও সাজে কদম ফুলের সৌন্দর্যে। বর্ষার প্রতীক হয়ে যেন পাইকগাছার প্রকৃতিতে আগমন ঘটেছে কদম ফুলের। উপজেলার চারদিকে কদম ফুলের সমারোহ। সড়কের ধারে কদমগাছে পাতার সঙ্গে ফুটে আছে হলদে রঙের কদম ফুল। সেই সঙ্গে শিশু, কিশোর ও কিশোরীরা মেতে ওঠে আনন্দে। বাসাবাড়ির কাছে সহজে মেলে এই কদম ফুল। কদমের ঘ্রাণ আর আষাঢ়ে বর্ষায় শিশুদের মাঝে উচ্ছ্বাস দেখা যায়। মেতে উঠে কদম ফুলের উৎসবে।

খুলনার উপকূলের পাইকগাছা পৌর সদর, গদাইপুর, কপিলমুনি, হরিঢালী, রাড়ুলীসহ বিভিন্ন এলাকায় কদম ফুল ফুটতে দেখা গেছে। পথে-প্রান্তরে কদম গাছগুলো ভরে উঠতে শুরু করেছে ফুলে ফুলে। কদম ফুলের গন্ধে যেনো গ্রামবাংলার চিরচেনা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। চকচকে উজ্জ্বল সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফোটে থাকা কদম ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃৃতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে।

বর্ষার আগমনী বার্তা নিয়ে আসে কদম ফুল। তাই, কদম ফুলকে বলা হয় বর্ষার দূত। বাংলা কবিতা ও গানেও সমভাবে সমাদৃত হয়েছে বর্ষাকাল ও কদম। বর্ষার সঙ্গে কদম ফুলের যেন এক নিবিড় সম্পর্ক প্রাকৃতিকভাবেই আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে আছে। উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় কদম ফুল ফুটেছে। সড়কে যাতায়াতের সময় হঠাৎ এ ফুলের গন্ধ ভেসে আসে। যা খুবই ভালো লাগে এবং বিমোহিত করে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কের পাশে, মেঠোপথের ধারে, বসতবাড়ির আশেপাশে, পুকুর ও দীঘির পাড়ের কদম গাছ ছেয়ে আছে মিষ্টি গন্ধেভরা তুলতুলে কদম ফুলে। এসব ফুলের মন ভোলানো সৌন্দর্যে আকৃষ্ট হচ্ছেন শিশুরাসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। শিশুরা এসব ফুল তাদের খেলার অনুষঙ্গ হিসেবেও ব্যবহার করছে। কিশোরীদের চুলের খোপা ও বেনিতেও শোভা পাচ্ছে বর্ষাদূত কদম ফুল। উঠতি বয়েসী কিশোর কিশোরীদের হাতেও শোভা পাচ্ছে এই ফুল। প্রতিটি সড়ক দিয়ে যেতে যেতে কদম ফুলের গন্ধ ও সৌন্দর্য উপভোগ করছেন সবাই।

শিক্ষার্থী মায়া আক্তার বলেন, রূপ, রঙ ও গন্ধে দৃষ্টিনন্দন ফুল কদম। এই ফুল অন্যান্য ফুলের মতো নয়, এটি সম্পূর্ণ একটি ভিন্নধর্মী ফুল। এই ফুলের হলুদ ও সাদা পাপড়ি আর ভেতরের গোলাকার বলের মতো অংশটি নিয়েই ফুলটির সৌন্দর্য ফুটে উঠে। এ ফুলের সৌন্দর্য অন্য ফুলের তুলনায় সম্পূর্ণ আলাদা। প্রতি বছরই বর্ষা এলে কদম ফুলের প্রেমে পড়তে একরকম বাধ্যই হতে হয়।

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এখন অসময়েও কদম ফুল ফুটতে দেখা যায়। কয়েক বছর আগেও আষাঢ়ের কদম গাছ ফুলে ফুলে ভরে থাকত। কদম ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য ফুল পিপাসুদের তৃপ্তি মিটাতো। বাঙালির ভালোবাসার কদম ফুল এখন প্রকৃতিতে দেখা মেলে খুব কম। ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে এই অপরূপ সৌন্দর্যের প্রতীক কদমগাছ। লাভের অঙ্কের হিসাব মেলাতে মানুষ আর বাড়ির আঙিনায় কদম ফুলের গাছ লাগাতে চায় না। মেহগনি, রেইন্ট্রিসহসহ বিভিন্ন দামি কাঠের গাছ রোপণে ঝুঁকছে।

প্রকৃতির ঐতিহ্য রক্ষায় সরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে অন্য গাছের পাশাপাশি কদম গাছ রোপণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। কদম গাছ কমে যাওয়ায় এখন মানুষ তার ঐতিহ্য ভুলতে বসেছে। এমনকি কালের বিবর্তনে কদম ফুল গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে।

Ads small one

আরামপ্রিয় প্রাণী বিড়াল/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:৩৫ অপরাহ্ণ
আরামপ্রিয় প্রাণী বিড়াল/ প্রকাশ ঘোষ বিধান

প্রকাশ ঘোষ বিধান

বিড়াল অত্যন্ত আরামপ্রিয়, শান্ত ও স্বাধীনচেতা একটি গৃহপালিত প্রাণী। এরা নরম ও তুলতুলে পশম এবং রাজকীয় স্বভাবের জন্য মানুষের খুব প্রিয়। সারাদিনের বেশিরভাগ সময় এরা ঘুমে ও অলসতায় কাটাতে পছন্দ করে।

বিড়াল মানুষের অন্যতম প্রিয় ও আদুরে পোষা প্রাণী, যা তার মায়াবী চোখ, নরম স্বভাব এবং ভালোবাসাময় আচরণের জন্য পরিচিত। এরা শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, বরং মানুষের মানসিক চাপ কমাতে এবং একাকীত্ব দূর করতে দারুণ ভূমিকা রাখে। নরম স্বভাব, মায়াবী চোখ আর চমৎকার সব আচরণের কারণে এরা মানুষের খুব সহজেই মন কেড়ে নেয়।

গৃহপালিত পোষা প্রাণীর মধ্যে বিড়াল অন্যতম। আদুরে চেহারার এই প্রাণী পছন্দ করেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আজ থেকে দশ হাজার বছর আগেও মানুষ বিড়াল পুষত।

 

শহরবাসীদের অনেকেই পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়াল পালেন। এটি বর্তমানে পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় গৃহপালিত প্রাণী। বিড়াল খুবই আরামপ্রিয় একটি প্রাণী। এরা দিনে প্রায় ১৪ ঘণ্টা ঘুমায়।
বাংলাদেশে বিড়ালকে বাঘের মাসি বলে ডাকা হয়। অনেকে বিড়াল পোষেন ইঁদুর মারার জন্য। তাছাড়া দুধ, মাছ, মাংস বিড়ালের প্রিয় খাবার। এরা খুবই নিঃশব্দে চলাফেরা করতে পারে। কারণ এদের পায়ের নীচে খুব নরম মাংসপিন্ড থাকে।

বিড়াল একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় গৃহপালিত ও আদুরে প্রাণী। মানুষ ও বিড়ালের মধ্যকার এই সুসম্পর্ক বিজ্ঞানসম্মতভাবেও প্রমাণিত। বিড়ালের আদুরে আচরণধীরে চোখের পাতা বন্ধ করা বা স্লো ব্লিংক করে ভালোবাসা প্রকাশ করা। খুশি হয়ে লেজ নাড়ানো এবং আরও বেশি আদর চাওয়া। কাছে এসে মিউ মিউ শব্দ করে মনোযোগ আকর্ষণ করা। গায়ে গা ঘষে নিজেদের গন্ধ ও ভালোবাসা জানানো।

প্রতি বছর ৮ আগস্ট বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত আনন্দের সাথে আন্তর্জাতিক বিড়াল দিবস পালন করা হয়। ২০০২ সালে ইন্টারন্যাশনাল ফান্ড ফর অ্যানিম্যাল ওয়েলফেয়ার এই বিশেষ দিনটির সূচনা করে। পরবর্তীতে ২০২০ সাল থেকে বিড়ালদের স্বাস্থ্য ও সুরক্ষায় নিয়োজিত অলাভজনক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল ক্যাট কেয়ার এই দিবসটি পরিচালনার দায়িত্ব নেয়।

গৃহপালিত এবং অলিতে-গলিতে ঘুরে বেড়ানো অবহেলিত বিড়ালদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা। প্রাণীদের প্রতি নিষ্ঠুরতা দূর করে তাদের নিরাপদ আশ্রয় ও ভালো আচরণের অধিকার মনে করিয়ে দেওয়া। বিড়ালের সঠিক পুষ্টি, টিকাদান ও চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা। ৮ আগস্ট বিশ্বজুড়ে আন্তর্জাতিক দিবস হিসেবে স্বীকৃত, তবুও কিছু দেশ নিজেদের মতো করে আলাদা দিনেও এই দিবসটি উদযাপন করে।

অস্ট্রেলীয় অঞ্চল, মাদাগাস্কার ও প্রশান্তমহাসাগরীয় দ্বীপসমূহ ছাড়া পৃথিবীর সর্বত্র ৩৪ প্রজাতির বিড়াল ছড়িয়ে রয়েছে। বিড়ালের প্রজাতিসমূহের বিস্তার দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় সর্বোচ্চ, যেখানে একটি এলাকায় একত্রে ৭ প্রজাতির বিড়াল দেখা যায়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় বিড়াল প্রজাতির সংখ্যা ৭ এবং ইউরোপে ৪। বাংলাদেশে আছে ৮ প্রজাতি, তন্মধ্যে ৬টি বিভিন্ন ধরনের হুমকির মুখে। হুমকিগ্রস্ত ৬ প্রজাতির মধ্যে সোনালি বিড়াল, গেছোবাঘ বা লামচিতা, চিতাবাঘ ও বাঘ অতিবিপন্ন এবং বনবিড়াল ও মেছোবিড়াল বিপন্ন।

পৃথিবীতে ঠিক কত জাতের বিড়াল আছে তা নিয়ে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যায়। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, ইন্টারন্যাশনাল প্রোগ্রেসিভ ক্যাট ব্রিডার্স অ্যালায়েন্স (আইপিসিবিএ) ২০১৬ সাল পর্যন্ত ৭৩ জাতের বিড়াল তালিকাভুক্ত করেছে। অন্যদিকে দি ইন্টারন্যাশনাল ক্যাট অ্যাসোসিয়েশনের (টিআইসিএ) তথ্য অনুযায়ী ৫৮ জাত, ক্যাট ফ্যান্সিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (সিএফএ) তথ্য অনুযায়ী ৪৪ জাতের বিড়াল আছে।

বিড়ালের অন্যান্য ফেলিডি প্রাণীর অনুরূপ দঢ় নমনীয় শরীর, ত্বরিত প্রতিক্রিয়াশীল, এদের তীক্ষè দাঁত এবং সঙ্কোচনীয় থাবা দেখা যায়। এরা ক্ষুদ্র শিকারে পারদর্শী। এদের নৈশদৃষ্টি এবং ঘ্রাণশক্তি খুব প্রখর। তবে এদের বর্ণের দৃশ্যমানতা দরিদ্র। বিড়ালের যোগাযোগের মধ্যে কণ্ঠস্বরের ব্যবহার যেমন, মিয়াও, গরগর, কম্পনজাত শব্দ, হিস, গর্জন এবং গোঁ গোঁ শব্দ করা প্রভৃতি কণ্ঠ্যবর্ণের ব্যবহারের পাশাপাশি বিড়ালের নির্দিষ্ট শরীরী ভাষা রয়েছে। বিড়াল, একক শিকারী হওয়া সত্ত্বেও সামাজিক প্রজাতির। মানুষের কানের তুলনায় বিড়াল খুব তীক্ষ্ণ এবং খুব উচ্চ শব্দ কম্পাঙ্ক শুনতে পায়, যেমন ইঁদুর অথবা অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণীর দ্বারা সৃষ্ট শব্দ। এরা শিকারী প্রবৃত্তির হওয়ায় ভোর ও সন্ধ্যায় সর্বাধিক সক্রিয় থাকে। এছাড়াও এরা নিজ প্রজাতির সাথে অপ্রকাশ্য এবং ফেরোমোন অনুভূতি দ্বারা যোগাযোগ করতে সক্ষম।

বিড়ালের রাতে দেখতে পাওয়ার বিষয়টি নিশাচর প্রাণীদের মত নয়। বিড়ালকে নিশাচর প্রাণী বলা অমূলক। মূলত মৃদু আলো বা স্বল্প আলোতে বিশেষ করে গোধূলি বেলার আলোতে বিড়ালের দৃষ্টিশক্তি প্রকাশ করে। এর মাধ্যমে সকাল-সন্ধ্যার মৃদু আলোয় বিড়াল দেখতে পায়, যে আলোয় মানুষ দেখতে পায় না কিন্তু বিড়াল দেখতে পায় এবং শিকার করতে পারে। প্রাচীনকাল থেকেই ঘরবাড়ি ও ফসল ইঁদুরের হাত থেকে রক্ষা করতে বিড়ালের কদর রয়েছে।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

হারিয়ে যাচ্ছে নাম খোদাইয়ের শিল্প/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:১৮ অপরাহ্ণ
হারিয়ে যাচ্ছে নাম খোদাইয়ের শিল্প/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

একসময় মানুষের হাতে থাকা একটি ঝর্ণা কলম শুধু লেখার উপকরণ ছিল না, ছিল আভিজাত্য, রুচি ও ব্যক্তিত্বের প্রতীক। সেই কলমে নিজের নাম খোদাই করা থাকলে তার মূল্য আরও বেড়ে যেত। জন্মদিন, পরীক্ষায় সাফল্য, চাকরিতে যোগদান, বিদায় সংবর্ধনা কিংবা বিশেষ কোনো অর্জনের স্মারক হিসেবে নাম খোদাই করা ঝর্ণা কলম ছিল এক অনন্য উপহার। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে সেই সংস্কৃতির সঙ্গে হারিয়ে যেতে বসেছে একটি পেশাওÑঝর্ণা কলমে নাম খোদাই করার কারিগরদের পেশা।

 

একসময় শহর থেকে শুরু করে মফস্বলের বড় বাজার গুলোতে দেখা মিলত এসব দক্ষ কারিগরের। ছোট্ট একটি টেবিল, কয়েকটি সূক্ষ্ম যন্ত্র, লুপ বা আতস কাচ এবং অসাধারণ ধৈর্যÑএই ছিল তাঁদের কর্মজীবনের প্রধান উপকরণ। ধাতব কলমের গায়ে নিখুঁতভাবে অক্ষর ফুটিয়ে তোলার কাজটি ছিল এক ধরনের শিল্প। কয়েক মিনিটের মধ্যেই একটি সাধারণ কলম হয়ে উঠত বিশেষ একজন মানুষের স্মৃতিবাহী সম্পদ। আজ সেই দৃশ্য খুব কমই দেখা যায়।

 

প্রযুক্তির উন্নয়ন, লেখার অভ্যাসের পরিবর্তন এবং বাজার ব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে ঝর্ণা কলমে নাম খোদাইয়ের ঐতিহ্য ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে। একসময় যাঁদের হাতে প্রতিদিন শত শত কলমে মানুষের নাম লেখা হতো, তাঁদের অনেকেই এখন অন্য পেশায় চলে গেছেন।বর্তমান প্রজন্মের অনেকের কাছে কলম হয়তো শুধুই একটি সাধারণ ব্যবহার্য জিনিস। কিন্তু কয়েক দশক আগেও একটি ভালো কলম ছিল বিশেষ মর্যাদার বিষয়। একজন শিক্ষার্থী ভালো ফল করলে বাবা-মা তাকে একটি ঝর্ণা কলম কিনে দিতেন। কোনো শিক্ষককে সম্মান জানাতে, কোনো প্রিয়জনকে স্মরণীয় উপহার দিতে বা কর্মজীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করতে দেওয়া হতো নাম খোদাই করা কলম।

 

সেই সময় একটি কলমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকত সম্পর্ক ও অনুভূতি। কলমে খোদাই করা নামটি শুধু পরিচয় বহন করত না, বহন করত ভালোবাসা ও সম্মানের স্মৃতি। অনেকেই আজও যতœ করে রেখে দিয়েছেন তাঁদের পুরোনো ঝর্ণা কলম, কারণ সেটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কোনো মুহূর্ত। ঝর্ণা কলমে নাম খোদাই করা সহজ কোনো কাজ ছিল না। এর জন্য প্রয়োজন হতো বিশেষ দক্ষতা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার।

 

একটি ধাতব পৃষ্ঠে অক্ষর বসাতে সামান্য ভুল হলেই নষ্ট হয়ে যেতে পারত দামি কলম। তাই কারিগরদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হতো। প্রথমে কলমের ওপর নামের অবস্থান নির্ধারণ করা হতো। এরপর বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে ধীরে ধীরে অক্ষর তৈরি করা হতো। কারও হাতের লেখা ছিল এতটাই সুন্দর যে, গ্রাহকেরা নির্দিষ্ট কারিগরের কাছেই যেতেন নাম খোদাই করাতে। এই পেশার সঙ্গে যুক্ত মানুষদের অনেকেই বলতেন, এটি শুধু কাজ নয়, এক ধরনের সৃজনশীলতা। একটি নামকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলার মধ্যেই ছিল তাঁদের আনন্দ। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রযুক্তি মানুষের জীবনকে সহজ করেছে।

 

এখন কম্পিউটার নিয়ন্ত্রিত লেজার মেশিন কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই যেকোনো লেখা খোদাই করে দিতে পারে। ফলে হাতে খোদাইয়ের প্রয়োজন কমে গেছে। আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা থাকলেও এর কারণে হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো দক্ষতার মূল্য। একজন অভিজ্ঞ কারিগর যে যতœ ও আবেগ দিয়ে একটি নাম খোদাই করতেন, যন্ত্রের নিখুঁত কাজেও সেই মানবিক স্পর্শ অনেক সময় পাওয়া যায় না। একসময় যে পেশায় অনেক মানুষের জীবিকা চলত, এখন সেটি প্রায় বিলুপ্তির পথে। নতুন প্রজন্মও এই কাজ শেখার প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ফলে কয়েক বছর পর হয়তো এই পেশার দক্ষ কারিগর খুঁজে পাওয়াই কঠিন হয়ে যাবে। ঝর্ণা কলমে নাম খোদাইয়ের পেশা হারিয়ে যাওয়ার অন্যতম কারণ মানুষের জীবনযাত্রার পরিবর্তন।

 

এখন মানুষ মোবাইল ফোনে লিখছে, কম্পিউটারে কাজ করছে। অফিসের নথিপত্র থেকে ব্যক্তিগত যোগাযোগÑসবকিছুই ডিজিটাল হয়ে গেছে। আগের মতো চিঠি লেখা হয় না, ডায়েরি লেখার অভ্যাসও কমেছে। ফলে ভালো কলমের প্রয়োজনও কমে গেছে। বাজারে এখন কম দামের বল পয়েন্ট কলম সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষ আর ঝর্ণা কলমের দিকে আগের মতো ঝুঁকছেন না। তবে এর মধ্যেও কিছু মানুষ এখনো ঝর্ণা কলমের ঐতিহ্য ধরে রেখেছেন। লেখক, সংগ্রাহক, শিল্পী ও রুচিশীল মানুষের কাছে একটি সুন্দর ঝর্ণা কলম এখনো বিশেষ আকর্ষণের বিষয়।

 

একটি পেশার বিলুপ্তি মানে শুধু কিছু মানুষের কর্মসংস্থান হারানো নয়; এর সঙ্গে হারিয়ে যায় একটি সময়ের সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার অংশ। ঝর্ণা কলমে নাম খোদাইয়ের পেশার সঙ্গেও জড়িয়ে আছে তেমনই একটি ইতিহাস। এই কারিগররা ছিলেন এক ধরনের শিল্পী। তাঁরা মানুষের নামকে সাধারণ লেখা থেকে স্মৃতির অংশে পরিণত করতেন। তাঁদের হাতের কাজ একটি সাধারণ বস্তুতে যোগ করত ব্যক্তিগত মূল্য।

 

আজকের দ্রুতগতির জীবনে আমরা অনেক কিছু সহজে পেয়ে যাচ্ছি, কিন্তু হারিয়ে ফেলছি অনেক ঐতিহ্য। মাটির খেলনা, পালকির কারিগর, ঢেঁকি নির্মাতা, বাঁশের শিল্পী কিংবা ঝর্ণা কলমে নাম খোদাইকারীদের মতো অনেক পেশাই সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে। হারিয়ে যাওয়া এসব পেশাকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন নতুন উদ্যোগ। হস্তশিল্প মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বিশেষ প্রদর্শনীতে এসব কারিগরদের কাজ তুলে ধরা যেতে পারে। তরুণ প্রজন্মকে এই পেশার সঙ্গে পরিচিত করার সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন।

 

অনলাইন বাজারেও নাম খোদাই করা ঝর্ণা কলমের চাহিদা তৈরি করা সম্ভব। আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে এই পেশাকে নতুনভাবে ফিরিয়ে আনা যেতে পারে। শুধু ব্যবসায়িক দৃষ্টিকোণ থেকে নয়, আমাদের ইতিহাস ও সংস্কৃতির অংশ হিসেবেও এই ধরনের শিল্প সংরক্ষণ করা জরুরি। ঝর্ণা কলমে খোদাই করা একটি নাম হয়তো আজ আর খুব সাধারণ দৃশ্য নয়, কিন্তু এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে অসংখ্য মানুষের স্মৃতি ও আবেগ। সেই নামের পেছনে ছিল একজন কারিগরের নিপুণ হাত, ধৈর্য ও সৃজনশীলতা।

 

সময়ের পরিবর্তনে অনেক পেশা হারিয়ে যায়, কিন্তু তাদের গল্প হারিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ এসব পেশার মধ্যেই লুকিয়ে থাকে একটি সমাজের জীবনযাত্রা, সংস্কৃতি ও মানুষের সৃষ্টিশীলতার ইতিহাস। ঝর্ণা কলমে নাম খোদাইয়ের পেশা হয়তো আজ সংকটের মুখে, কিন্তু এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñমানুষের হাতের তৈরি শিল্পের মূল্য কখনো পুরোপুরি শেষ হয় না। প্রয়োজন শুধু তাকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার।

লেখক: সংবাদকর্মী

এসএমসি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় শেখ সিদ্দিকুর রহমানকে সংবর্ধনা ও অভিনন্দন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ৪:০৮ অপরাহ্ণ
এসএমসি সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় শেখ সিদ্দিকুর রহমানকে সংবর্ধনা ও অভিনন্দন

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার জোড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির (এসএমসি) সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় দৈনিক সাতক্ষীরার সকাল পত্রিকার সাহিত্য সম্পাদক, বিশ্ব গণমানুষের সেবা ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি, লেখক ও গবেষক শেখ সিদ্দিকুর রহমানকে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

অভিনন্দন জানিয়েছেন দৈনিক সাতক্ষীরার সকাল পত্রিকা পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিশ্ব গণমানুষের সেবা ফাউন্ডেশন সাতক্ষীরা জেলা শাখার সদস্যবৃন্দ, জোড়দিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকবৃন্দ, এলাকাবাসী, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এছাড়া শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি শেখ মোনায়েম, আলহাজ্ব শেখ আসাফুর রহমান, তৈমুর হাসান, যুবদল নেতা প্রিন্স, শেখ সাইফুর রহমান, কবি গুলশান আরা, তামান্না জাবরিন, কবি আবু কাজী প্রমুখ।

শুভেচ্ছা বার্তায় তাঁরা বলেন, একজন শিক্ষানুরাগী, সাংস্কৃতিক সংগঠক ও সমাজসেবী হিসেবে শেখ সিদ্দিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের জন্য একটি সুন্দর ও আধুনিক শিক্ষা-পরিবেশ গড়ে উঠবে বলে তাঁদের প্রত্যাশা। তাঁরা তাঁর সার্বিক সাফল্য, সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন। প্রেসবিজ্ঞপ্তি