বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

পাইকগাছায় ভাঙনে সরু ওয়াপদা সড়ক, চরম ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৩৮ পূর্বাহ্ণ
পাইকগাছায় ভাঙনে সরু ওয়াপদা সড়ক, চরম ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের পাটকেলপোতা থেকে ভ্যাকটমারি পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। নারিকেলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ভ্যাকটমারি বাজার পর্যন্ত সড়কের বড় একটি অংশ নদীভাঙনে বিলীন হয়ে সরু হয়ে গেছে।

স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং পাশে প্রবহমান শিবসা ও চৌমুহনী নদীর স্রোতে ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। কোথাও গাইড ওয়াল না থাকায় সড়ক ধসে পাশের খাল ও পুকুরে তলিয়ে যাচ্ছে। এখন ভ্যান বা মোটরসাইকেল চলাচলও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। জোয়ারের সময় নদীর পানি বাঁধে আছড়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়ায় লোকালয়ে।
সোলাদানা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি মাদ্রাসা, ৮টি মসজিদ ও ৫টি মন্দির রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ পার্শ্ববর্তী পাইকগাছার গড়ইখালী ও কয়রা উপজেলার বহু মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। বর্ষায় সড়কটি কাদায় পরিণত হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। গর্ত ও সংকীর্ণ রাস্তার কারণে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে না পারায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালেও নেওয়া যায় না।

সোলাদানা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি বারবার পরিষদে জানানো হলেও কাজ হয়নি। বর্তমানে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি কোনোমতে টিকিয়ে রাখা হয়েছে।

সোলাদানা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পীযুষ কান্তি মন্ডল বলেন, রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। এটি পাউবোর (ওয়াপদা) আওতাধীন হওয়ায় মাটি ফেলে সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাঁর জানা ছিল না। আবেদন পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু মাটি বা ইট ফেলে সাময়িক মেরামত করলে হবে না; নদীভাঙন ঠেকাতে পাইলিং ও গাইড ওয়াল দিয়ে টেকসই সংস্কার করতে হবে।

Ads small one

আশাশুনিতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, পাম্পে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৫৫ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট, পাম্পে গ্রাহকদের দীর্ঘ সারি

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার পেট্রোল পাম্প, ডিপো ও খুচরা দোকানগুলোতে হঠাৎ জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে। এতে করে পাম্পগুলোতে তেল নিতে আসা মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক অস্থিরতার অজুহাতে উপজেলার মহেশ্বরকাটি পাম্পটি পেট্রোল ও ডিজেল সরবরাহ বন্ধ ঘোষণা করেছে। সেখানে মজুত নেই জানিয়ে কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়। বুধহাটা পাম্প থেকে কিছু তেল সরবরাহ করা হলেও চালকদের দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

এ ছাড়া উপজেলার অধিকাংশ ডিপো ও খুচরা দোকান তেল বিক্রি বন্ধ রেখেছে। দু-একটি দোকানে জ্বালানি মিললেও লিটারপ্রতি অতিরিক্ত দাম নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন গ্রাহকেরা। হঠাৎ এমন কৃত্রিম সংকটে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ ও পরিবহন চালকেরা।

শ্যামনগরে চুনা নদীতে র‌্যাবের অভিযান: বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক ২

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে চুনা নদীতে র‌্যাবের অভিযান: বিপুল পরিমাণ মাদকসহ আটক ২

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা নদী এলাকা থেকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, ভারতীয় ওষুধ ও প্রসাধনী সামগ্রীসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা নদীর চরে নোঙর করা একটি নৌকায় অভিযান চালায় র‌্যাব-৬-এর একটি দল। তল্লাশি চালিয়ে নৌকা থেকে এসব চোরাচালানি পণ্য ও মাদক জব্দ করা হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—শ্যামনগরের মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের রাশিদুল ইসলামের ছেলে ইসমাইল হোসেন (২৮) এবং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের চুনা গ্রামের আব্দুল হাকিমের ছেলে মো. সুমন (২৫)।
র‌্যাব জানায়, নৌকায় অভিযানের পাশাপাশি চোরাচালান ও পাচারের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে আটক ব্যক্তিদের বাড়িসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে।
সীমান্তবর্তী ও দুর্গম এই উপকূলে বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দের ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা জানান, মাদকের প্রভাবে এলাকার যুবসমাজ বিপথগামী হচ্ছে। এ ধরনের নিয়মিত অভিযান চললে এলাকা থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব হবে।

আশাশুনিতে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান, দুশ্চিন্তায় অভিভাবকেরা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:৪৭ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদান, দুশ্চিন্তায় অভিভাবকেরা

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের ১০৫ নম্বর নাটানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ ভবনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পাঠদান চলছে। প্রায় তিন দশকের পুরোনো এই ভবনটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৯৫ সালে চার কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনটি নির্মিত হয়। বর্তমানে ছাদের প্লাস্টার খসে পড়ছে এবং রড বেরিয়ে গেছে। গত এক মাসের টানা বর্ষণে ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় পাঠদান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নতুন ভবনের জন্য গ্রামবাসী ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দীপঙ্কর মল্লিক, সহকারী শিক্ষক অমরনাথ ঢালী, রুম্পা সরকার, তাপসী সরকার, সাধনা মন্ডল ও চম্পা রানী সরকার বলেন, জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান চালাতে হচ্ছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে অন্তত একটি টিনশেড ঘর নির্মাণ বা বিকল্প ব্যবস্থা করা না হলে বিদ্যালয়টির শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার বর্মনের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অতি দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন এলাকাবাসী।