পাইকগাছায় ভাঙনে সরু ওয়াপদা সড়ক, চরম ঝুঁকিতে হাজারো মানুষ
পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সোলাদানা ইউনিয়নের পাটকেলপোতা থেকে ভ্যাকটমারি পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে। নারিকেলতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে ভ্যাকটমারি বাজার পর্যন্ত সড়কের বড় একটি অংশ নদীভাঙনে বিলীন হয়ে সরু হয়ে গেছে।
স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়া এবং পাশে প্রবহমান শিবসা ও চৌমুহনী নদীর স্রোতে ভাঙন তীব্র রূপ নিয়েছে। কোথাও গাইড ওয়াল না থাকায় সড়ক ধসে পাশের খাল ও পুকুরে তলিয়ে যাচ্ছে। এখন ভ্যান বা মোটরসাইকেল চলাচলও বিপজ্জনক হয়ে পড়েছে। জোয়ারের সময় নদীর পানি বাঁধে আছড়ে পড়লে আতঙ্ক ছড়ায় লোকালয়ে।
সোলাদানা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডে ৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১টি মাদ্রাসা, ৮টি মসজিদ ও ৫টি মন্দির রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ পার্শ্ববর্তী পাইকগাছার গড়ইখালী ও কয়রা উপজেলার বহু মানুষ এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। বর্ষায় সড়কটি কাদায় পরিণত হলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। গর্ত ও সংকীর্ণ রাস্তার কারণে অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতে না পারায় জরুরি রোগীদের হাসপাতালেও নেওয়া যায় না।
সোলাদানা ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবু বক্কর সিদ্দিকী বলেন, বিষয়টি বারবার পরিষদে জানানো হলেও কাজ হয়নি। বর্তমানে স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তাটি কোনোমতে টিকিয়ে রাখা হয়েছে।
সোলাদানা ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান পীযুষ কান্তি মন্ডল বলেন, রাস্তাটির অবস্থা খুবই খারাপ। এটি পাউবোর (ওয়াপদা) আওতাধীন হওয়ায় মাটি ফেলে সংস্কারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. শাফিন শোয়েব বলেন, সড়কের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাঁর জানা ছিল না। আবেদন পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু মাটি বা ইট ফেলে সাময়িক মেরামত করলে হবে না; নদীভাঙন ঠেকাতে পাইলিং ও গাইড ওয়াল দিয়ে টেকসই সংস্কার করতে হবে।








