বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

এমপির অনৈতিক কা-ে ক্ষোভ: দুধ ঢেলে জামায়াতের রাজনীতির বিদায় নিলেন স্থানীয় নেতা দেলোয়ার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬, ১০:৫৯ অপরাহ্ণ
এমপির অনৈতিক কা-ে ক্ষোভ: দুধ ঢেলে জামায়াতের রাজনীতির বিদায় নিলেন স্থানীয় নেতা দেলোয়ার

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করেছেন এক স্থানীয় জামায়াতকর্মী। কেবল পদত্যাগই নয়, আর কোনো দিন রাজনীতি না করার শপথ নিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে দলীয় সম্পর্কের ইতি টেনেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের হরিণাগাড়ী গ্রামের ‘দিবাসীর মোড়’ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, হরিণাগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো: মুনসুর সরদারের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন এতদিন জামায়াতে ইসলামীর নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল মাল (অর্থ) সম্পাদক এবং যুব বিভাগের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এলাকায় দলের একজন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকা-ে সক্রিয় ছিলেন এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনের সময় মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।

 

কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক কর্মকা- ও অপকর্মের সংবাদ সামনে আসার পর পুরো এলাকায় তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও দেলোয়ার হোসেন প্রচ- মানসিক কষ্টে ভোগেন। এরই প্রেক্ষিতে হরিণাগাড়ী গ্রামের দিবাসীর মোড়ে তিনি প্রকাশ্যে আনুমানিক এক মণ দুধ ঢেলে গোসল করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর সব পদ থেকে পদত্যাগের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরেকজন বাসিন্দা জানান, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম যে একটি অনৈতিক কাজ এবং অপকর্মের সাথে লিপ্ত হয়েছে এটা প্রমাণিত হয়ে দল ইতিমধ্যে তাকে বহিষ্কার করেছে। এই অঞ্চলের মানুষ সবাই মর্মাহত এবং আমরা এটাকে ধিক্কার জানাই এবং নিন্দা জানাই। পাশাপাশি গাজী নজরুল ইসলামকে এমপি হিসেবে তাকে দেখতে চাই না। তাকে দ্রুত পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি।

দুধ দিয়ে গোসলের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি এই দলটির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলাম। কিন্তু সাতক্ষীরা-৪ আসনের রাজনৈতিক নেতার অনৈতিক কর্মকা-ের কারণে চরম হতাশ ও মর্মাহত হয়েছি। তাই দল ছেড়ে দিচ্ছি। ভবিষ্যতে আমি আর কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হব না বা কোনো দলকে সমর্থন করব না। এটি নিশ্চিত করতেই আমি দুধ দিয়ে গোসল করে নিজেকে মুক্ত করলাম।

এলাকাবাসীর একাংশ ওই জামায়াত নেতার অনৈতিক কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখার দাবি তুলেছেন।

এদিকে, দেলোয়ার হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুর রাজ্জাককে বলতে শোনা যায়, আমার জানা মতে, আমাদের কমিটির ৬-৭ জনের মধ্যে উনি একজন ছিলেন। তবে উনি সত্যিই বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন কি না, তা আমার সঠিক জানা নেই।

এদিকে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার এই ঘটনাটি এখন শ্যামনগর উপজেলাজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

 

Ads small one

মশার দাপট, ডেঙ্গু আতঙ্কে ঘুম হারাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:২২ পূর্বাহ্ণ
মশার দাপট, ডেঙ্গু আতঙ্কে ঘুম হারাম

জিএম আমিনুল হক: সাতক্ষীরা জেলাজুড়ে গ্রাম থেকে শহর—সবত্রই মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে জনজীবন। বর্ষার মৌসুম শুরু হতেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক। তবে মশা দমনে স্থানীয় প্রশাসন বা পৌরসভার দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সদর, তালা, কলারোয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ড্রেনের জমে থাকা পানি ও আবর্জনার কারণে মশার বংশবৃদ্ধি চরম আকার ধারণ করেছে। মশার কয়েল বা স্প্রে ব্যবহার করেও রেহাই মিলছে না।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি জ্বর ও শরীর ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। চলতি মাসে সদর উপজেলায় দুজন এবং তালায় একজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক জানান, জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার জন্ম হয়। এ বিষয়ে গৃহস্থালি সচেতনতার পাশাপাশি ব্যাপক প্রচার দরকার।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত তিন মাসে পৌরসভা বা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মশা মারতে কোনো ওষুধ ছিটানো বা ফগিং করা হয়নি। কোথাও কোথাও লোকদেখানো ওষুধ দেওয়া হলেও কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। পৌরসভার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, নিয়মিত কর দেওয়ার পরও পৌরসভা থেকে মশা নিধনে কার্যকর সেবা মিলছে না।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন জানান, ডেঙ্গু মোকাবিলায় হাসপাতালগুলোকে সতর্ক ও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মশা নিধন কার্যক্রম জোরদার করতে পৌরসভা ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবল ফগিং নয়, মশা দমনে ড্রেন পরিষ্কার ও নালা-নর্দমার জমা পানি নিষ্কাশন করা জরুরি। দ্রুত যৌথ অভিযান শুরু না করলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।

দেবহাটার কোমরপুরে ঠিকাদার কাজ না ফেলে নিখোঁজ, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটার কোমরপুরে ঠিকাদার কাজ না ফেলে নিখোঁজ, চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী

সীমান্ত প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর দক্ষিণ পাড়া ও ভাতশালা স্লুইসগেট সংলগ্ন মোড় থেকে ঢেবখালি মোড় পর্যন্ত এক কিলোমিটার রাস্তার বেহাল দশায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তিন গ্রামের মানুষ। রাস্তাটির কাজ শেষ না করে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু সেলিম, আইয়ুব আলী ও রমজান আলী জানান, শহরমুখী এই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি পাকাকরণের জন্য ২০২৫ সালে আধাকিলোমিটার অংশের বরাদ্দ দেওয়া হয়। কাজ পাওয়ার পর ঠিকাদার আনু মাস্টার রাস্তার দুই পাশে প্রায় দুই ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মাটি ফেলে রেখে চলে যান। এরপর আর কাজ হয়নি। বর্ষা শুরু হতেই সেই গর্তে পানি ও হাঁটুসমান কাদা জমে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের যাতায়াত বন্ধের পাশাপাশি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় ইউপি সদস্য হীরা জানান, কাজ শেষ করার জন্য বারবার যোগাযোগ করা হলেও ঠিকাদার আনু মাস্টার গত এক বছর ধরে বালুসংকটের অজুহাত দেখাচ্ছেন।
এলাকাবাসীর দাবি, দায়িত্বহীনতা ও দুর্নীতির কারণে ঠিকাদার আনু মাস্টারের লাইসেন্স বাতিল করে তাঁকে শাস্তির আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ করে রাস্তাটি দ্রুত চলাচলের উপযোগী করার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তাঁরা।

আশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৮

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে গ্রেপ্তার ৮

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি থানা-পুলিশের বিশেষ অভিযানে পরোয়ানাভুক্ত ও বিভিন্ন মামলার আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই ২০২৬) সকালে গ্রেপ্তারকৃতদের বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। আশাশুনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমদ খানের নেতৃত্বে পুলিশের পৃথক দল উপজেলার বিভিন্ন স্থানে এ অভিযান চালায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—একটি মামলার আসামি বুধহাটা গ্রামের খলিল ও মহসিন গাজী; শ্রীউলা গ্রামের কেনা গাজী ও তৌফিক গাজী; পারিবারিক পরোয়ানা মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত বাইনতলা গ্রামের হাফিজুল সানা; আশাশুনি থানার মামলায় তিন মাসের সাজাপ্রাপ্ত কোদ-া গ্রামের কুলসুম; নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আসামি রাম নগর গ্রামের রিফাত গাজী এবং বুধহাটা গ্রামের রফিকুল ইসলাম।