এমপির অনৈতিক কা-ে ক্ষোভ: দুধ ঢেলে জামায়াতের রাজনীতির বিদায় নিলেন স্থানীয় নেতা দেলোয়ার
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও বহিষ্কৃত জামায়াত নেতা গাজী নজরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ওঠা অনৈতিক কর্মকা-ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে পদত্যাগ করেছেন এক স্থানীয় জামায়াতকর্মী। কেবল পদত্যাগই নয়, আর কোনো দিন রাজনীতি না করার শপথ নিয়ে দুধ দিয়ে গোসল করে দলীয় সম্পর্কের ইতি টেনেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টার দিকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার নূরনগর ইউনিয়নের হরিণাগাড়ী গ্রামের ‘দিবাসীর মোড়’ এলাকায় ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মাধ্যমে জানা যায়, হরিণাগাড়ী গ্রামের বাসিন্দা মো: মুনসুর সরদারের ছেলে মো. দেলোয়ার হোসেন এতদিন জামায়াতে ইসলামীর নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বায়তুল মাল (অর্থ) সম্পাদক এবং যুব বিভাগের সেক্রেটারির দায়িত্ব পালন করছিলেন। এলাকায় দলের একজন সক্রিয় ও নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে তাঁর পরিচিতি ছিল।
ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে স্থানীয় এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘদিন ধরে দলীয় কর্মকা-ে সক্রিয় ছিলেন এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের পক্ষে নির্বাচনের সময় মাঠে কঠোর পরিশ্রম করেছেন।
কিন্তু সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যমে গাজী নজরুল ইসলামের অনৈতিক কর্মকা- ও অপকর্মের সংবাদ সামনে আসার পর পুরো এলাকায় তীব্র অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। ঘটনাটি প্রমাণিত হওয়ায় দল থেকে তাঁকে বহিষ্কার করা হলেও দেলোয়ার হোসেন প্রচ- মানসিক কষ্টে ভোগেন। এরই প্রেক্ষিতে হরিণাগাড়ী গ্রামের দিবাসীর মোড়ে তিনি প্রকাশ্যে আনুমানিক এক মণ দুধ ঢেলে গোসল করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে ইসলামীর সব পদ থেকে পদত্যাগের পাশাপাশি রাজনীতি থেকে স্থায়ীভাবে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় আরেকজন বাসিন্দা জানান, এমপি গাজী নজরুল ইসলাম যে একটি অনৈতিক কাজ এবং অপকর্মের সাথে লিপ্ত হয়েছে এটা প্রমাণিত হয়ে দল ইতিমধ্যে তাকে বহিষ্কার করেছে। এই অঞ্চলের মানুষ সবাই মর্মাহত এবং আমরা এটাকে ধিক্কার জানাই এবং নিন্দা জানাই। পাশাপাশি গাজী নজরুল ইসলামকে এমপি হিসেবে তাকে দেখতে চাই না। তাকে দ্রুত পদত্যাগের আহ্বান জানাচ্ছি।
দুধ দিয়ে গোসলের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, আমি এই দলটির একজন সক্রিয় কর্মী ছিলাম। কিন্তু সাতক্ষীরা-৪ আসনের রাজনৈতিক নেতার অনৈতিক কর্মকা-ের কারণে চরম হতাশ ও মর্মাহত হয়েছি। তাই দল ছেড়ে দিচ্ছি। ভবিষ্যতে আমি আর কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হব না বা কোনো দলকে সমর্থন করব না। এটি নিশ্চিত করতেই আমি দুধ দিয়ে গোসল করে নিজেকে মুক্ত করলাম।
এলাকাবাসীর একাংশ ওই জামায়াত নেতার অনৈতিক কর্মকা-ের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং স্থানীয় রাজনীতিতে নীতি-নৈতিকতা বজায় রাখার দাবি তুলেছেন।
এদিকে, দেলোয়ার হোসেনের পদত্যাগের বিষয়ে জানতে নূরনগর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সভাপতি মো. আব্দুর রাজ্জাকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুর রাজ্জাককে বলতে শোনা যায়, আমার জানা মতে, আমাদের কমিটির ৬-৭ জনের মধ্যে উনি একজন ছিলেন। তবে উনি সত্যিই বায়তুল মাল সম্পাদক ছিলেন কি না, তা আমার সঠিক জানা নেই।
এদিকে দুধ দিয়ে গোসল করে রাজনীতি ছাড়ার এই ঘটনাটি এখন শ্যামনগর উপজেলাজুড়ে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।












