বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে সাতক্ষীরায় বাঁশ ও গোবর সারে অনিয়ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬, ৯:৪৪ অপরাহ্ণ
প্রধানমন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ প্রকল্পে সাতক্ষীরায় বাঁশ ও গোবর সারে অনিয়ম

কাগজে-কলমে ১৫০ কেজি সার, মিলছে ৪০ কেজি, ৫০ টাকার খুঁটির দাম ১০ টাকা!

মো: হোসেন আলী: জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। কিন্তু সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর এই বিশেষ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পটিতেই ভর করেছে চরম অনিয়ম ও দুর্নীতির ছায়া। ২০২৫-২০২৬ অর্থ বছরে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে কৃষকদের মাঝে গাছের চারা, বাঁশের খুঁটি ও জৈব সার বিতরণের নামে চলছে প্রকাশ্য হরিলুট। সরকারি পত্রে বরাদ্দের যে হিসাব দেখানো হয়েছে, বাস্তবতার সাথে তার কোনো মিল নেই। সাধারণ কৃষকদের মুখ বন্ধ রেখে কাগজে-কলমে সই নিয়ে লাখ লাখ টাকা পকেটে ভরার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, চলতি অর্থ বছরে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ জন কৃষককে এই প্রণোদনা সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিজন কৃষক পাঁচটি গাছের চারা, ৫টি বাঁশের খুঁটি এবং ১৫০ কেজি জৈব সার (গোবর) পাওয়ার কথা। সরকারি হিসাব অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে—প্রতি পিস গাছের চারা ১৬০ টাকা, প্রতি পিস বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা এবং প্রতি কেজি জৈব সার (গোবর) ৪ টাকা। এছাড়া পরিবহন ও আনুষঙ্গিক অপ্রত্যাশিত ব্যয়ও ধরা হয়েছে পৃথকভাবে।

কিন্তু গত সোমবার (২৯ জুন) সদর উপজেলায় চারা ও উপকরণ বিতরণকালে দেখা যায় এক ভিন্ন চিত্র। কৃষকদের ১৫০ কেজি গোবর সার দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দেওয়া হচ্ছে মাত্র ৪০ কেজি। অথচ চতুর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের কাছ থেকে ১৫০ কেজি সার বুঝে পেয়েছেন মর্মে স্বাক্ষর বা টিপসই করিয়ে নিচ্ছেন।

মাঠে দায়িত্বরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা তন্ময় মন্ডলের কাছে এই গড়মিলের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। ধোঁয়াশাপূর্ণ কণ্ঠে তিনি কেবল বলেন, একটু সমস্যা আছে। স্যারদের সঙ্গে কথা বলেন।

প্রকল্পের বড় ধরনের জালিয়াতি ধরা পড়েছে গাছের চারা সোজা রাখার জন্য দেওয়া বাঁশের খুঁটিতে। সরকারি খাতায় প্রতি পিস খুঁটির মূল্য ধরা হয়েছে ৫০ টাকা। কিন্তু কৃষকদের সরবরাহ করা হয়েছে অত্যন্ত নি¤œমানের বাঁশের কঞ্চি বা খুঁটি, যার বাজারমূল্য কোনোভাবেই ১০ থেকে ২০ টাকার বেশি নয়। বিষয়টি নিশ্চিত হতে স্থানীয় বাঁশ ব্যবসায়ী আশারুল ইসলামের দ্বারস্থ হলে তিনি খুঁটি পরীক্ষা করে জানান, এই খুঁটির মান খুবই খারাপ, স্থানীয় বাজারে এর মূল্য ১০ টাকার বেশি হতে পারে না।
এমনকি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জামালউদ্দীনও খুঁটির নমুনা দেখে স্বীকার করেছেন, যে এগুলোর মান অত্যন্ত নি¤œ এবং এর প্রকৃত মূল্য ১০ টাকার বেশি নয়।

সার বিতরণের এই হরিলুট নিয়ে সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ শুভ্র’র দাবি এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন। ১৫০ কেজি গোবরের পরিবর্তে তাদের ৬০০ টাকা মূল্যের ৪০ কেজির ‘কোম্পানির সার’ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে খামারবাড়ির অতিরিক্ত উপ-পরিচালক মো. জামালউদ্দীনের দাবি, ওই এক বস্তা সারের মূল্য ৪৮০ টাকা। সরকারি পত্রে যেখানে ৪ টাকা কেজি দরে ১৫০ কেজি গোবরের দাম ৬০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, সেখানে কর্মকর্তারা একেক সময় একেক দামের বস্তা সারের অজুহাত দিয়ে কৃষকদের ঠকাচ্ছেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক কৃষক প্রশ্ন তুলে বলেন, সরকারি পত্রে যেখানে স্পষ্ট ‘গোবর সার’ ও সুনির্দিষ্ট ওজনের কথা উল্লেখ আছে, সেখানে কর্মকর্তারা কার অনুমতিতে কোম্পানির বস্তা সার দিলেন এবং ওজনে ১১০ কেজি কম দিলেন?
ভুক্তভোগী কৃষকেরা আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী পরিবেশবান্ধব এই উদ্যোগকে মাঠপর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা নিজেদের পকেট ভারী করার হাতিয়ারে পরিণত করেছেন।

হিসাব কষে দেখা গেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১ হাজার ২০০ কৃষকের বরাদ্দের কেবল বাঁশের খুঁটি এবং জৈব সারের অংশটি থেকেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রায় ৩ লাখ ২৪ হাজার টাকা লুটপাট করেছেন। সমগ্র সাতক্ষীরা জেলায় এই প্রকল্পের আওতায় মোট ৪৮ হাজার ৬০০ জন কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যার মোট প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭১ লাখ১৩ হাজার ৫০০ টাকা। সদর উপজেলার এই চিত্র যদি পুরো জেলার প্রতিফলক হয়, তবে সামগ্রিক লুটপাটের অঙ্ক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের এ ধরনের অনিয়ম, জালিয়াতি ও সরকারি অর্থ লুটপাটের অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাতক্ষীরা। দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা সংগঠনটির সভাপতি মো. তৈয়েব হাসান সামছুজ্জামান বলেন, সরকারি উন্নয়নমূলক কর্মকা-ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। অভিযোগ ওঠা এসব বিষয় যথাযথভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানাচ্ছি।

কৃষি বিভাগের এই প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দিতে অস্বীকৃতি জানান। তবে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হবে এবং তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

Ads small one

কলারোয়ায় বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার ও রেকর্ড সংশোধনের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার ও রেকর্ড সংশোধনের দাবি

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার পিছলাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে নিবন্ধিত ৯ শতক জমি বিদ্যালয়ের অনুকূলে রেকর্ড ও দখল বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

আবেদনপত্র সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির মোট জমির পরিমাণ ৭৩ শতক। এর মধ্যে ৫৮ শতক জমি ২ নম্বর খতিয়ানে এবং ১৫ শতক জমি ২/১ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭৩ সালে দুটি পৃথক নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ১৫ শতক জমি ক্রয় করা হয়, যা বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে নিবন্ধিত রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে আরএস রেকর্ড প্রকাশের সময় ২/১ নম্বর খতিয়ানের ৯৬৫ নম্বর দাগের ১৫ শতক জমির মধ্যে ৯ শতক জমি ভুলবশত ‘পিছলাপোল ঈদগাহ ময়দান’-এর নামে রেকর্ড করা হয়। অথচ দলিল অনুযায়ী এই জমির প্রকৃত মালিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই রেকর্ড সংশোধন বিধিসম্মতভাবে করার দাবি জানানো হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, বিদ্যালয় চত্বরের প্রায় মাঝখানে ঈদগাহ ময়দান থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচল ও খেলাধুলায় নানা সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই জমি পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম আবেদনপত্রটি পর্যালোচনা করে জমি উদ্ধারের পক্ষে সুপারিশ করেছেন।

 

কেশবপুরে স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু: ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু: ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এক মেধাবী ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
নিহত কিশোরীর নাম ফারিয়া ইয়াসমিন তিশা (১৬)। সে উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা গ্রামের ঠিকাদার মো. আলমগীর হোসেনের ছোট মেয়ে এবং ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১ জুলাই (বুধবার) তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একই গ্রামের মো. আহাদ আলীর ছেলে রাজিদুর রহমান নিশানের (২১) সঙ্গে ওই কিশোরীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের দাবি, রাজিদুর কৌশলে কিশোরীর কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। এই মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরেই তিশা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করছে তার পরিবার।
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রতিবেদন পেতে আনুমানিক ৩০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে। তবে পুলিশ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে এসআই শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, অনেক সময় না জেনে অপতথ্য ছড়ানো হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার আগে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা, যাতে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

 

পত্রদূতে সংবাদ প্রকাশের জের: শ্যামসুন্দর মঠ সংস্কারে নামছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
পত্রদূতে সংবাদ প্রকাশের জের: শ্যামসুন্দর মঠ সংস্কারে নামছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

মিলন বিশ্বাস: দৈনিক ‘পত্রদূত’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে টনক নড়েছে প্রশাসনের। অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়া সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামের ঐতিহাসিক ‘শ্যামসুন্দর মঠ-মন্দির’ রক্ষায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে খুলনা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর।
গত ১৯ জুন অনলাইন ও ২২ জুন প্রিন্ট ভার্সনে দৈনিক পত্রদূতে “দাঁড়িয়ে আছে একাকী, ভাঙা দেয়ালে কান পাতলে আজও মেলে ৪০০ বছরের ইতিহাস” শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই অনন্য পুরাকীর্তির জরাজীর্ণ দশা, মাদকসেবীদের উপদ্রব এবং প্রতœতত্ত্ব বিভাগের দীর্ঘদিনের উদাসীনতার চিত্র সবিস্তারে তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর পরই সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রাথমিকভাবে মন্দির প্রাঙ্গণ ও মূল ভবনে সংস্কার কাজের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় মন্দির জুড়ে জন্ম নেওয়া পরগাছা, আগাছা নির্মূল এবং চারপাশের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ পুরোদমে চালানো হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, পত্রদূতের খবরের পর এমন দ্রুত পদক্ষেপ তারা আগে কখনো দেখেননি।
খুলনা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পত্রদূতের প্রতিবেদনটি তাদের বিশেষ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। শত বছরের এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে তারা আর সময় নষ্ট করতে চান না।
তিনি আরও জানান, “আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। আজ থেকে মঠটির সুরক্ষায় প্রাথমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আগাছা পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া মূল অবকাঠামোর সংস্কার কাজের রূপরেখা তৈরি ও বাস্তব অবস্থা সশরীরে খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহেই প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসছে।”
জরুরি ভিত্তিতে এই কাজ শুরু হওয়ায় সোনাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা, দর্শনার্থী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
মন্দিরের সভাপতি দেবপ্রিয় চৌধুরী এবং সেবাইত সুবপ্রসাদ চৌধুরী পত্রদূত-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “পত্রদূত পত্রিকায় আমাদের আকুতি আর মন্দিরের বাস্তব চিত্রটি সঠিকভাবে ফুটে ওঠায় আজ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। আজ থেকে আগাছা ও ময়লা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে, যা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আমরা চাই আগামী সপ্তাহের পরিদর্শনের পর দ্রুত মূল ভবনের স্থায়ী সংস্কার কাজও শুরু হোক।”