মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রযুক্তি বিস্তারের লাভ ক্ষতি: ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষার্থে এখনই ভাবতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তি বিস্তারের লাভ ক্ষতি: ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষার্থে এখনই ভাবতে হবে

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল

একটি জাতির ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে আজকের শিশুরা কীভাবে বেড়ে উঠছে তার ওপর। শিশুর মানসিক বিকাশ, জ্ঞানচর্চা, কল্পনাশক্তি, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা গড়ে তুলতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। অথচ প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের একটি বড় অংশ ক্রমেই বই ও শ্রেণিকক্ষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম ও বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক কনটেন্ট তাদের মনোযোগের বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। বিষয়টি এখন আর শুধু পারিবারিক সমস্যা নয়; এটি জাতীয় উদ্বেগের বিষয়।

শিশুকে শুধু মোবাইল থেকে দূরে রাখলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তার হাতে বিকল্প হিসেবে দিতে হবে আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় শিক্ষা। শিশুর জন্য বই পড়াকে আনন্দের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বয়স ও শ্রেণিভিত্তিক পাঠাগার গড়ে তোলা, নিয়মিত বই পড়ার সময় নির্ধারণ, বই পড়া ও গল্প বলার প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং ভালো বই পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা যেতে পারে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, বিজ্ঞান, ইতিহাস, জীবনী, সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই পড়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পাঠ্যবই পড়ে শোনানো বা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার প্রস্তুতি দেওয়াই শিক্ষা নয়। একজন শিক্ষককে শিশুর কৌতূহল জাগাতে হবে, প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করতে হবে এবং পাঠকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আনন্দময়, অংশগ্রহণমূলক ও শিশুবান্ধব পাঠদান নিশ্চিত করা গেলে শ্রেণিকক্ষই হয়ে উঠতে পারে শিশুর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা।

শিক্ষকদেরও তাই ক্লাসে শেখানোর বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্ক, শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণ, হাতে-কলমে শিক্ষা, দলীয় কাজ, গল্প ও উদাহরণের মাধ্যমে পাঠদানÑএসব পদ্ধতি শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

অন্যদিকে, শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের বিষয়টি এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়; বরং বয়স অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে সরকারকে বাস্তবমুখী ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। শিশুদের জন্য ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অভিভাবক ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সচেতনতা বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা-, বিতর্ক, বিজ্ঞানচর্চা, ছবি আঁকা, সংগীত ও বই পড়ার মতো সৃজনশীল কার্যক্রম বাড়াতে হবে। শিশুর অবসর যেন কেবল একটি স্ক্রিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে ব্যবস্থা পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজÑতিন পক্ষকেই সম্মিলিতভাবে করতে হবে।

এখানে অভিভাবকদের দায়িত্বও কম নয়। শিশুকে ব্যস্ত রাখার সহজ উপায় হিসেবে হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। বাবা-মাকেও সন্তানের সঙ্গে কথা বলা, গল্প করা, বই পড়া, খেলাধুলা করা এবং তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিবারে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি হলে শিশুর মধ্যেও বইয়ের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ তৈরি হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলোÑশিশুকে শুধু পরীক্ষার্থী হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে। আজকের শিশু আগামী দিনের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রনায়ক। তাদের চিন্তাশক্তি, মননশীলতা, মানবিকতা ও সৃজনশীলতা যদি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর।

তাই এখনই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারকে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে হবে, শিক্ষকদের শ্রেণিকেন্দ্রিক হতে হবে, বিদ্যালয়কে আনন্দময় শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে এবং অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বই, পাঠাগার, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকা-ের সুযোগ বাড়াতে হবে।

শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু তাকে একটি বই দেওয়া নয়; তার হাতে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি তুলে দেওয়া। আর শ্রেণিকক্ষে তার মনোযোগ ধরে রাখা মানে একটি প্রজন্মের চিন্তার ভিত শক্ত করা। মোবাইল ও প্রযুক্তির যুগে শিশুদের সঠিক পথ দেখাতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে এর মূল্য দিতে হবে জাতিকেই।

পরবর্তী প্রজন্মকে জ্ঞাননির্ভর, মানবিক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে হলে আজই সিদ্ধান্ত নিতে হবেÑশিশুর হাতে থাকবে বই, শ্রেণিকক্ষে থাকবে মনোযোগ, প্রযুক্তি থাকবে নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনের মধ্যে। তা না হলে প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে গিয়েও জ্ঞান ও মননের দিক থেকে একটি জাতি পিছিয়ে পড়তে পারে।

 

Ads small one

হাসপাতালে পড়ে থাকা বৃদ্ধাকে সরকারি আশ্রয়ে পাঠাল সমাজসেবা অধিদপ্তর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩৫ পূর্বাহ্ণ
হাসপাতালে পড়ে থাকা বৃদ্ধাকে সরকারি আশ্রয়ে পাঠাল সমাজসেবা অধিদপ্তর

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পড়ে থাকা অজ্ঞাত পরিচয়ের এক মানসিক ভারসাম্যহীন বৃদ্ধাকে (৬৫) উদ্ধার করে ঢাকার সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট (রবিবার) ওই বৃদ্ধাকে হাসপাতালে অবহেলায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। বিষয়টি নজরে আসার পর সাতক্ষীরা সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলামের তদারকিতে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘সর্বদা সহানুভূতি’র সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে তাঁকে মিরপুর-১-এর সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হয়। সদর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, সেখানে বৃদ্ধা সরকারি ব্যবস্থাপনায় চিকিৎসা, খাদ্য ও পুনর্বাসনের সুযোগ পাবেন।

চিকিৎসাধীন জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াহেদকে দেখতে হাসপাতালে দলীয় নেতৃবৃন্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
চিকিৎসাধীন জামায়াত নেতা আব্দুল ওয়াহেদকে দেখতে হাসপাতালে দলীয় নেতৃবৃন্দ

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ৯ নম্বর ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতে ইসলামীর সাবেক সভাপতি মাওলানা আব্দুল ওয়াহেদকে দেখতে হাসপাতালে গেছেন দলের জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতারা। সোমবার (৩১ আগস্ট) রাতে ইসলামী ব্যাংক কমিউনিটি হাসপাতাল সাতক্ষীরায় চিকিৎসাধীন এই নেতাকে দেখতে যান প্রতিনিধিদলটি। নেতারা তাঁর শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান এবং কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছে চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে তাঁর দ্রুত আরোগ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য প্রফেসর আব্দুল ওয়ারেছ, সদর উপজেলা জামায়াতের সহকারী সম্পাদক প্রফেসর শহিদুর রহমান, ব্রহ্মরাজপুর ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মাওলানা জাকির হোসেন ও সহকারী সম্পাদক মাওলানা শাহিনুর রহমানসহ স্থানীয় বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা। নেতারা অসুস্থ নেতার পরিবারের সদস্যদেরও সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

স্থায়ী ভোটকেন্দ্রের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
স্থায়ী ভোটকেন্দ্রের দাবিতে দেবহাটায় মানববন্ধন

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার রতেœশ্বরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থায়ী ভোটকেন্দ্র স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ভোট দিতে দূরগ্রাম যাব না, স্থায়ী কেন্দ্র চাই নিজগ্রাম’ স্লোগানে ১ সেপ্টেম্বর বিকেল চারটায় পাঁচপোতা বাজারে স্থানীয় এলাকাবাসী এই কর্মসূচি পালন করেন। বিদ্যালয়টিতে কেন্দ্র স্থাপন করা না হলে আসন্ন নির্বাচনে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।
শাহীন মোড়লের সভাপতিত্বে ও সাবেক ইউপি সদস্য শাহাবুদ্দিন মোড়লের সঞ্চালনায় প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য দেন আলহাজ আব্দুল কাদের মোড়ল, ইউপি সদস্য আবুল খায়ের ডাবলু, কামরুজ্জামান খোকা, সমাজসেবক আব্দুল গফুর গাইন, স্বপন কুমার মন্ডল, নিতাই কুমার মন্ডল, আমির আলী গাজী, জিয়াউর রহমান ও শহিদুল ইসলাম। বক্তারা জানান, গ্রামে ১,২২০ জন ভোটার থাকা সত্ত্বেও দুই কিলোমিটার দূরের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়।