মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রযুক্তি বিস্তারের লাভ ক্ষতি: ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষার্থে এখনই ভাবতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪২ অপরাহ্ণ
প্রযুক্তি বিস্তারের লাভ ক্ষতি: ভবিষ্যৎ প্রজন্ম রক্ষার্থে এখনই ভাবতে হবে

মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জল

একটি জাতির ভবিষ্যৎ কেমন হবে, তার অনেকটাই নির্ভর করে আজকের শিশুরা কীভাবে বেড়ে উঠছে তার ওপর। শিশুর মানসিক বিকাশ, জ্ঞানচর্চা, কল্পনাশক্তি, মূল্যবোধ ও সৃজনশীলতা গড়ে তুলতে বই পড়ার কোনো বিকল্প নেই। অথচ প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের একটি বড় অংশ ক্রমেই বই ও শ্রেণিকক্ষ থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। মোবাইল ফোন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেম ও বিভিন্ন ধরনের বিনোদনমূলক কনটেন্ট তাদের মনোযোগের বড় অংশ দখল করে নিচ্ছে। বিষয়টি এখন আর শুধু পারিবারিক সমস্যা নয়; এটি জাতীয় উদ্বেগের বিষয়।

শিশুকে শুধু মোবাইল থেকে দূরে রাখলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তার হাতে বিকল্প হিসেবে দিতে হবে আনন্দদায়ক ও আকর্ষণীয় শিক্ষা। শিশুর জন্য বই পড়াকে আনন্দের অভ্যাসে পরিণত করতে হবে। প্রতিটি বিদ্যালয়ে বয়স ও শ্রেণিভিত্তিক পাঠাগার গড়ে তোলা, নিয়মিত বই পড়ার সময় নির্ধারণ, বই পড়া ও গল্প বলার প্রতিযোগিতা আয়োজন এবং ভালো বই পড়ার জন্য শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করা যেতে পারে। পাঠ্যবইয়ের পাশাপাশি গল্প, বিজ্ঞান, ইতিহাস, জীবনী, সাহিত্য ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বই পড়ার সুযোগ তৈরি করতে হবে।

শিশুদের শ্রেণিকক্ষে ধরে রাখার ক্ষেত্রেও শিক্ষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু পাঠ্যবই পড়ে শোনানো বা পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার প্রস্তুতি দেওয়াই শিক্ষা নয়। একজন শিক্ষককে শিশুর কৌতূহল জাগাতে হবে, প্রশ্ন করতে উৎসাহিত করতে হবে এবং পাঠকে বাস্তব জীবনের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। আনন্দময়, অংশগ্রহণমূলক ও শিশুবান্ধব পাঠদান নিশ্চিত করা গেলে শ্রেণিকক্ষই হয়ে উঠতে পারে শিশুর সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গা।

শিক্ষকদেরও তাই ক্লাসে শেখানোর বিষয়ে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর আন্তরিক সম্পর্ক, শ্রেণিকক্ষে সক্রিয় অংশগ্রহণ, হাতে-কলমে শিক্ষা, দলীয় কাজ, গল্প ও উদাহরণের মাধ্যমে পাঠদানÑএসব পদ্ধতি শিশুদের শেখার আগ্রহ বাড়াতে পারে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত করার উদ্যোগ নিতে হবে।

অন্যদিকে, শিশুদের মোবাইল ব্যবহারের বিষয়টি এখন নতুন করে ভাবার সময় এসেছে। প্রযুক্তি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয়; বরং বয়স অনুযায়ী নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ প্রযুক্তি ব্যবহার নিশ্চিত করাই হওয়া উচিত লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে সরকারকে বাস্তবমুখী ও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। শিশুদের জন্য ক্ষতিকর অনলাইন কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বয়সভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অভিভাবক ও শিক্ষকদের ডিজিটাল সচেতনতা বাড়াতে জাতীয় পর্যায়ে কর্মসূচি গ্রহণ করা প্রয়োজন।

খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকা-, বিতর্ক, বিজ্ঞানচর্চা, ছবি আঁকা, সংগীত ও বই পড়ার মতো সৃজনশীল কার্যক্রম বাড়াতে হবে। শিশুর অবসর যেন কেবল একটি স্ক্রিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে ব্যবস্থা পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজÑতিন পক্ষকেই সম্মিলিতভাবে করতে হবে।

এখানে অভিভাবকদের দায়িত্বও কম নয়। শিশুকে ব্যস্ত রাখার সহজ উপায় হিসেবে হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া বন্ধ করতে হবে। বাবা-মাকেও সন্তানের সঙ্গে কথা বলা, গল্প করা, বই পড়া, খেলাধুলা করা এবং তার পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পরিবারে বই পড়ার পরিবেশ তৈরি হলে শিশুর মধ্যেও বইয়ের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ তৈরি হবে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলোÑশিশুকে শুধু পরীক্ষার্থী হিসেবে নয়, ভবিষ্যতের নাগরিক হিসেবে দেখতে হবে। আজকের শিশু আগামী দিনের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, গবেষক, সাংবাদিক, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রনায়ক। তাদের চিন্তাশক্তি, মননশীলতা, মানবিকতা ও সৃজনশীলতা যদি দুর্বল হয়ে যায়, তাহলে তার প্রভাব পড়বে পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর।

তাই এখনই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। সরকারকে নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নিতে হবে, শিক্ষকদের শ্রেণিকেন্দ্রিক হতে হবে, বিদ্যালয়কে আনন্দময় শিক্ষার কেন্দ্রে পরিণত করতে হবে এবং অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি শিশুদের জন্য বই, পাঠাগার, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকা-ের সুযোগ বাড়াতে হবে।

শিশুর হাতে বই তুলে দেওয়া মানে শুধু তাকে একটি বই দেওয়া নয়; তার হাতে ভবিষ্যতের চাবিকাঠি তুলে দেওয়া। আর শ্রেণিকক্ষে তার মনোযোগ ধরে রাখা মানে একটি প্রজন্মের চিন্তার ভিত শক্ত করা। মোবাইল ও প্রযুক্তির যুগে শিশুদের সঠিক পথ দেখাতে ব্যর্থ হলে ভবিষ্যতে এর মূল্য দিতে হবে জাতিকেই।

পরবর্তী প্রজন্মকে জ্ঞাননির্ভর, মানবিক ও সৃজনশীল করে গড়ে তুলতে হলে আজই সিদ্ধান্ত নিতে হবেÑশিশুর হাতে থাকবে বই, শ্রেণিকক্ষে থাকবে মনোযোগ, প্রযুক্তি থাকবে নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজনের মধ্যে। তা না হলে প্রযুক্তির দৌড়ে এগিয়ে গিয়েও জ্ঞান ও মননের দিক থেকে একটি জাতি পিছিয়ে পড়তে পারে।

 

Ads small one

বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: যশোর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মসূচি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: যশোর ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় কর্মসূচি

পত্রদূত ডেস্ক: ৪৮ বছরের সংগ্রাম, ঐতিহ্য ও গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, বৃক্ষরোপণ, মাছের পোনা অবমুক্তকরণ ও দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে সাতক্ষীরা ও যশোরের বিভিন্ন উপজেলায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর সকালে ও বিকেলে পৃথকভাবে এসব কর্মসূচির আয়োজন করে স্থানীয় বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো।

আমাদের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর:

সাতক্ষীরায় বিএনপির শোভাযাত্রা ও গাছের চারা বিতরণ:

সাতক্ষীরায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, গাছের চারা বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরে কলারোয়া উপজেলা বিএনপির আয়োজনে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রাটি প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা পরিষদ প্রশাসকের বাসভবনের সামনে আলোচনা সভায় মিলিত হয়। কলারোয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়ার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অধ্যক্ষ রইচ উদ্দীন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফ হোসেন, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল ইসলাম চন্দন।
প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান স্মরণ করেন এবং দলের প্রতিষ্ঠাকালীন লক্ষ্য বাস্তবায়নে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান। সভা শেষে সেখানে চারা বিতরণ ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কলারোয়ায় শোভাযাত্রা ও সমাবেশ:

টানা বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মীর অংশগ্রহণে কলারোয়ায় বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। সকাল সাড়ে ১১টায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শেষে কলারোয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বাসভবন চত্বরে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি আব্দুর রশিদ মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির প্রকাশনাবিষয়ক সম্পাদক ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব।
উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রকিব মোল্লা ও সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ তামিম আজাদ মেরিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি অধ্যক্ষ রইচ উদ্দীন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক আরশাফ হোসেন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ আব্দুল কাদের বাচ্চু, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন প্রমুখ। সভা শেষে চারা বিতরণ করা হয়।

Oplus_131072

দেবহাটায় বিশাল শোভাযাত্রা:

দেবহাটায় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। বিকেল ৪টায় দেবহাটা উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে বিশাল শোভাযাত্রাটি বের হয়ে পারুলিয়া ও সখিপুর বাজারের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পারুলিয়া বাসস্ট্যান্ড চত্বরে শেষ হয়।

শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা যুবদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাবিব মন্টু, কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীম এবং পারুলিয়া ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম। পরে কুলিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হামিদুল হক শামীমের সভাপতিত্বে এবং উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আহম্মদ আলীর সঞ্চালনায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

শ্যামনগরে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনায় ঐক্যের আহ্বান:

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে বিকেলে পৌর সদরের কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে উপজেলা বিএনপির আয়োজনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সোলাইমান কবীরের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব আশেক-ই এলাহী মুন্নার সঞ্চালনায় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মো. মনিরুজ্জামান। তিনি বলেন, সমাজে নানা সময়ে সুযোগ সন্ধানীদের অপচেষ্টা থাকে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করতে একযোগে কাজ করতে হবে।

সভায় আরও বক্তব্য দেন শ্যামনগর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক আবু সাঈদ, গাবুরা ইউপি চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম, কেন্দ্রীয় কৃষকদল নেতা আইনজীবী খান আব্দুস সালাম, পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান আমজাদুল ইসলাম, আব্দুস শহীদ, আবুল কালাম মোড়ল ও সাবেক চেয়ারম্যান সাদেকুর রহমান সাদেম।

পাটকেলঘাটায় শোভাযাত্রা ও কেক কাটা:

তালার পাটকেলঘাটায় আলোচনা সভা, কেক কাটা ও শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। পাটকেলঘাটার বাবলু মার্কেট থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়ে বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাবলু মার্কেটে এসে শেষ হয়।

এর আগে তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মৃণাল কান্তি রায়ের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাবেক এমপি ও সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব। সভায় আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মোশারফ হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা, বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এস এম লিয়াকত হোসেন, যুবদল নেতা সাইদুর রহমান সাঈদ ও মন্টু। সভা শেষে অতিথিরা প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।

সাতক্ষীরা জেলা জাসাসের সংস্কৃতি অনুষ্ঠান ও আনন্দ মিছিল:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) সাতক্ষীরা জেলা শাখার উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। বিকেলে শহরের এবি খান পেট্রোল পাম্পের সামনে সংগঠনের কার্যালয়ে আলোচনা সভা শেষে শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্ক থেকে আনন্দ শোভাযাত্রা বের করা হয়।

জেলা জাসাসের সভাপতি শেখ জিল্লুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ফারুক হোসেনের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন আশাশুনি উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক ও ভারপ্রাপ্ত ইউপি চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম বাচ্চু, পৌর জাসাসের আহ্বায়ক সিরাজ আনোয়ার রাজ, সদস্যসচিব মো. রাজু আহম্মেদ রাজু, সদর উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক আব্দুল কাদের, সদস্যসচিব মো. শাহাদাত হোসেন ও পাটকেলঘাটা জাসাসের আহ্বায়ক শেখ সামিউল ইসলাম রুবেল। সন্ধ্যায় মাওয়া চাইনিজ রেস্তোরাঁর সামনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের শুভেচ্ছা মিছিল:

সাতক্ষীরা জেলা আইনজীবী সমিতির শহীদ মিনার চত্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সংগঠনের জেলা ইউনিটের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আকবর আলীর সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জজ কোর্টের পাবলিক প্রসিউকিটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আব্দুস সাত্তার। বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মিজানুর রহমান পিন্টু।

সাতক্ষীরা সদরে আনন্দ শোভাযাত্রা:

জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুর রউফের নেতৃত্বে বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা করে শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে শহরের প্রাণিসম্পদ মোড় থেকে শোভাযাত্রাটি শুরু হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে জেলা বিএনপি আয়োজিত সমাবেশে মিলিত হয়।

কেশবপুরে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা:

যশোরের কেশবপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে দলীয় কার্যালয়ে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কেশবপুর পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুস সামাদ বিশ্বাসের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হোসেন আজাদ। পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুজ্জামান চৌধুরীর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শেখ শহীদুল ইসলাম শহীদ, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি প্রভাষক আলাউদ্দীন আলা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মকবুল হোসেন মুকুল প্রমুখ। পরে জেলা অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। বিকেলে ঘোড়ার গাড়ি ও ব্যান্ড পার্টিসহ এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা মণিরামপুর শহরের সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে।

সম্পাদকীয়/ বনের অধিকার বনাম দালালের দৌরাত্ম্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৩ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বনের অধিকার বনাম দালালের দৌরাত্ম্য

সুন্দরবনের সম্পদ আহরণ করে জীবনধারণ করা প্রান্তিক জেলে ও বাওয়ালীদের জীবন সংগ্রাম এমনিতেই চরম প্রতিকূল। ঝড়-ঝাপটা, বাঘের ভয় আর জলদস্যুর আতঙ্কের সঙ্গে লড়াই করে তাঁদের টিকিয়ে রাখতে হয় অস্তিত্ব। অথচ প্রজনন মৌসুমের তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে যখন এই শ্রমজীবী মানুষেরা বনে ফেরার স্বপ্ন দেখছেন, ঠিক তখনই তাঁদের ওপর চেপে বসেছে এক খড়্গ। সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চার স্টেশনে বোট লাইসেন্স সার্টিফিকেট (বিএলসি) নবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের খবর কেবল হতাশাজনকই নয়, বরং চরম উদ্বেগের।

সংবাদ মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সরকারিভাবে বিএলসি নবায়ন ফি ৩৪ টাকা ৫০ পয়সা হলেও তা জমা দিতে গিয়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও দালালদের শরণাপন্ন হতে বাধ্য হচ্ছেন সাধারণ জেলেরা। অভিযোগ উঠেছে, স্টেশন কর্মকর্তাদের ছত্রচ্ছায়ায় একটি সুসংগঠিত দালাল চক্র প্রতিটি লাইসেন্সের জন্য ৯০০ থেকে ১,০০০ টাকা পর্যন্ত হাতিয়ে নিচ্ছে। বন কর্মকর্তা ও দালালের এই যোগসাজশ বনের প্রান্তিক মানুষদের ওপর এক নির্দয় শোষণ ছাড়া আর কিছুই নয়। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, অনিয়ম ঢাকা দিতে গণমাধ্যমকর্মীদের উৎকোচ দেওয়ার মতো বিস্ফোরক অভিযোগও উঠে এসেছে, যা অনিয়মের গভীরতাকেই নির্দেশ করে।

কর্মকর্তারা সরকারি ফির কাঠামোগত ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও, সাধারণ জেলেদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য উপাধি দেয় এক ভিন্ন বাস্তবতার। নির্দিষ্ট ফি পরিশোধের প্রক্রিয়াকে জটিল করে দালালমুখী করা এবং বনজীবীদের অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আদায় করার এই চর্চা কঠোর হস্তে বন্ধ হওয়া জরুরি।

বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার পাশাপাশি বনজীবীদের ন্যায্য অধিকার সুনিশ্চিত করা বন বিভাগের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। অবিলম্বে সাতক্ষীরা রেঞ্জের চারটি স্টেশনের বিএলসি নবায়ন প্রক্রিয়ায় গঠিত অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত প্রয়োজন। দালাল চক্রের মূলোৎপাটনসহ যেসকল কর্মকর্তা এই অসাদচরণ ও অর্থ আত্মসাটের সঙ্গে জড়িত, তাঁদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বা হয়রানিমুক্ত উপায়ে সরাসরি সরকারি ফি পরিশোধের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করে উপকূলীয় জেলেদের প্রশাসনিক নিপীড়ন থেকে মুক্ত করার জোরালো দাবি জানাচ্ছি।

নবম পে-স্কেল: এক শ্রেণির স্বস্তি, কোটি মানুষের বঞ্চনা?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০২ অপরাহ্ণ
নবম পে-স্কেল: এক শ্রেণির স্বস্তি, কোটি মানুষের বঞ্চনা?

‎গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ

দীর্ঘ প্রায় এক যুগ পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নবম জাতীয় পে-স্কেল অনুমোদন নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত। নতুন বেতন কাঠামোয় সর্বনি¤œ প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রায় ২৪ লাখ সরকারি কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী এ সিদ্ধান্তে উপকৃত হবেন।

 

সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির বাস্তবতা বিবেচনায় বেতন বৃদ্ধি অবশ্যই যৌক্তিক। কিন্তু একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠছে দেশের বেসরকারি চাকরিজীবী, শ্রমিক ও নি¤œআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের সমান্তরাল পরিকল্পনা কী? নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নে সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা।

 

সরকারি কর্মচারীদের হাতে অতিরিক্ত অর্থ গেলে বাজারে ভোগক্ষমতা বাড়বে, যা সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে। রাজস্ব আদায়ে কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি না এলে এত বড় ব্যয় রাষ্ট্রীয় অর্থনীতি ও বাজেট ব্যবস্থাপনার জন্যও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

সরকারি খাতে বড় ধরনের বেতন বৃদ্ধি স্বাভাবিকভাবেই বেসরকারি খাতের কর্মীদের মধ্যেও বেতন বৃদ্ধির প্রত্যাশা তৈরি করবে। কিন্তু গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক চাপের কারণে অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে একই হারে বেতন বাড়ানো সম্ভব নাও হতে পারে। ফলে সরকারি ও বেসরকারি কর্মজীবীদের আয়ের ব্যবধান আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় দেশের বিশাল অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজার। দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, নির্মাণশ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারীসহ কোটি কোটি মানুষের কোনো নির্দিষ্ট বেতন কাঠামো নেই।

 

সরকারি কর্মচারীর বেতন রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তে বাড়লেও দ্রব্যমূল্য বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন শ্রমজীবী মানুষের আয় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাড়ে না। অথচ একই বাজার থেকে সরকারি কর্মকর্তা ও দিনমজুর দুজনকেই চাল, ডাল, তেল ও ওষুধ কিনতে হয়। রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান উন্নত করা নয়, শ্রমিক, কৃষক, বেসরকারি চাকরিজীবী ও নি¤œআয়ের মানুষের জন্যও ন্যূনতম মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিত করা।

 

সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য বেতন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তার সঙ্গে সামাজিক বৈষম্য কমানোর কার্যকর উদ্যোগও জরুরি। শুধু বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে এমন নিশ্চয়তাও নেই। বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রয়োজন জবাবদিহি, স্বচ্ছতা, দক্ষতা এবং সরকারি সেবার মান বৃদ্ধি।

 

জনগণ স্বাভাবিকভাবেই আশা করবে, বাড়তি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের বিনিময়ে তারা আরও দ্রুত, দক্ষ ও জনবান্ধব সেবা পাবেন। নবম পে-স্কেল তাই শুধু সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন বৃদ্ধির বিষয় নয়, এটি রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ভারসাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচারেরও একটি পরীক্ষা। সরকারি কর্মচারীদের মুখে হাসি ফুটুক, সেটিই কাম্য। কিন্তু সেই স্বস্তি যেন দেশের শ্রমজীবী ও নি¤œআয়ের মানুষের বঞ্চনার কারণ না হয় রাষ্ট্রকে সেই ভারসাম্যও নিশ্চিত করতে হবে।

লেখক: সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা