শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

বাংলা সাহিত্য উত্তরণের উপাখ্যান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৩২ অপরাহ্ণ
বাংলা সাহিত্য উত্তরণের উপাখ্যান

এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী

কালের বিচারে বাংলা সাহিত্যকে তিনটা মোটা দাগে বিভক্ত করা হয়েছে। নানাবিধ মতভেদের মধ্যেও এই তিনটি মৌলিক বিভাজন হল ঃ (১) প্রাচীন যুগ (২) মধ্য যুগ (৩) আধুনিক যুগ। শিরোনামে উল্লেখিত বিবর্তনের আলোচনায় স্বাভাবিক নিয়মেই প্রাচীন যুগ নামক অধ্যায়টিকে পরিত্যাগ করলেও চলে। তবে সামগ্রিক বাংলা সাহিত্যের উৎসের বিচারে একে একেবারে উপেক্ষাও করা যায় না। সংক্ষেপে এতটুকু বলা যায় যে, প্রাচীন যুগের বাংলা সাহিত্যের নিদর্শন মিলেছে মাত্র দুটি। একটি হল চর্যাপদ আর অন্যটি হল নাথ সাহিত্যে। অবশ্য চর্যাপদের ভাষা প্রকৃত বাংলা কিনা তা নিয়ে মতভেদ আছে। অবশ্য এতটুকু বলা যায় যে বাংলার আগের স্তরে যে কথ্য প্রকৃত ভাষা প্রচলিত ছিল এটি সেই ভাষা। এছাড়া অন্য এক নিদর্শন নাথ সাহিত্য প্রাচীর যুগের নিদর্শন হলেও এটির লিখিত নিদর্শন পাওয়া গেছে অনেককাল পরে। বিশেষত মধ্যযুগের মধ্যবর্তী সময়ের। ফলে সময়ের বিবর্তনে এটির ভাষাও তথ্য উভয়ই বদলে গেছে।

 

এবার মধ্যযুগের কথায় আসা যাক। এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনায় যাবার আগে সময়ের বিচার প্রসঙ্গে এ কথা পরিস্কার করে নেওয়া দরকার যে ইতিহাসসহ অন্যান্য বিচারে যাই হোক না কেন সাহিত্যের বিচারে মধ্যযুগের শুরু বারোশ খ্রিষ্টাব্দ থেকে। এর আগে যতদূর যাওয়া যায় তা প্রাচীন যুগের অন্তর্ভূক্ত। আর বারোশ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আঠারোশো খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মধ্যযুগের সীমানা।

 

আঠারোশো খ্রিষ্টাব্দ থেকে আধুনিক যুগের সূচনা। মধ্যযুগেই বিপুল পরিমাণ সাহিত্যের নিদর্শন পাওয়া গেছে। শৈল্পিক মান যাই হোক না কেন পরিমাণের দিক থেকে আধুনিক সাহিত্যের তুলনায় কোন অংশ কম নয়। বিশেষত সেই সময়কার ছাপাখানা বিহীন কাগজ-কলমের দুলর্ভতার কথা বিবেচনা করলে মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের নিদর্শনসমূহ মূলতঃ পঞ্চদশ শতাব্দী অর্থাৎ চৌদ্দশো খ্রিষ্টাব্দ থেকে মিলতে শুরু করেছে। এটাকে পুজি করে কোন কোন লেখক আগের দুটি শতাব্দীকে অন্ধকার যুগ বলে আখ্যায়িত করতে চান। সামগ্রিক গবেষণায় তথাকথিত অন্ধকার যুগ মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়েছে। সেই সময়েই আবার শূন্যপুরাণ নামে একটা কাব্যগ্রন্থের নিদর্শন মিলেছে।

 

মোটা দাগে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:- (১) ধর্মভিত্তিক সাহিত্য (২) রোমাপ্ট সাহিত্য। ধর্মভিত্তিক সাহিত্যকে চারভাগে ভাগ করা যায়। যথাÑ (১) বৌদ্ধ ধর্মীয় (২) হিন্দু ধর্মীয় (৩) ইসলাম ধর্মীয় (৪) ধর্ম সমন্বয়। প্রথমে আসা যাক বৌদ্ধ ধর্মীয় বিষয়ক সাহিত্যে। এই ধারার সাহিত্যের সূচনা হয়েছিল প্রাচীন যুগ থেকেই। অনেকের মতে বৌদ্ধদের হাতইে বাংলা সাহিত্যের সূচনা হয়েছিল।

 

তৎকালীন বাংলা ভাষা ছিল তাদের ধর্মপ্রচারের বাহন। তারা মূলতঃ গানে গল্পে রঙ্গিয়ে রসিয়ে ধর্মীয় তত্ত্বকথা শোনাতেন। বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রচারকদের বলা হত বৈতালিক। পুরুষেরা গাইতেন থেরগাঁথা। আর মহিলারা গাইতেন থেরিগাঁথা। চর্যাপদের পুরোটাই বৌদ্ধ ধর্মীয় বিষয়ক রচনা। পরবর্তীকালে নাথ সাহিত্যও ছিল বৌদ্ধ প্রভাবিত। এছাড়া হিন্দু ও ইসলাম ধর্মীয় সাহিত্যেরও বড় একটা অংশ ছিল বৌদ্ধ ধর্মতত্ত্ব দ্বারা প্রভাবিত। ডাঃ আহমদ শরিফ যাকে বলেছেন “প্রচ্ছন্ন বৌদ্ধ সাহিত্য।” এরপর আসা ২ যাক হিন্দু ধর্মীয় বিষয় সাহিত্যে। এই সাহিত্যের ধারাটি সংখ্যায় বিপুল। যা উনবিংশ শতাব্দীতে চরমরূপ পেয়েছিল। সেই থেকে জনমনে এমন বিভ্রান্তিরও সৃষ্টি হয়েছিল যে বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বুঝি হিন্দুর দ্বারা সৃষ্ট ও চর্চিত। যা আজও কারো কারও মনে বৃদ্ধমূল।

 

আগেই বলা হয়েছে যে বাংলা সাহিত্যের সূচনা হয়েছিল বৌদ্ধ ধর্মীয় তাত্ত্বিকদের হাতে। এছাড়াও সেন বংশের শাসনামলে হিন্দু শাস্ত্রের এই ফতোয়া ছিল যে, ‘‘অষ্টাদশ পুরানানি রামস্য চরিতানিচ। ভাষায়ং মানব শ্রুতায় গৌরব নরকংব্রজেত্ম’’ অর্থাৎ রামায়ণ, অষ্টাদেশ পুরান প্রভৃতি জনগণের ভাষায় প্রচার করলে তাকে রৌরব নরকে যেতে হবে।

 

এখানে উল্লেখ্য যে, হিন্দু শাস্ত্রে সবচাইতে বেশি গুরুত্ব রাখে বেদ, তারপর মহাভারত তারও পরে রামায়ণ পুরাণের স্থান। যা থেকে হিন্দু ধর্মীয় সাহিত্যের প্রধান প্রধান ধারাগুলি হল (১) মঙ্গল কাব্য (২) বৈষ্ণব পদাবলী (৩) জীবনী কাব্য (৪) অনুবাদ কাব্য। মঙ্গল কাব্যগুলি প্রধানত উপাখ্যান ধর্মী কাব্য। মনষা, চন্ডী প্রভৃতি লৌকিক দেবদেবীর মর্তো পূজা প্রতিষ্ঠার কাহিনী অবলম্বনে রচিত।

 

দ্বিতীয় ধারার সাহিত্য মূলতঃ বৈষ্ণব গোষ্ঠীর রাধা-কৃষ্ণ বিষয়ক খন্ড কবিতা। এই ধারার কাব্যেই মানবিক প্রেমের আদি উন্মেষ লক্ষ্য করা যায়। জীবনী কাব্য মূলতঃ মধ্যযুগের ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব গৌড়ীয় বৈষ্ণব মতের প্রচারক শ্রী চৈতন্যদেবের জীবন কাহিনী অবলম্বনে রচিত। এর মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যে প্রথমবারের মত জীবন্ত মানুষকে নিয়ে সাহিত্য সৃষ্টি শুরু হল। সর্বশেষ অনুবাদ সাহিত্যে ছিল রামায়ণ, মহাভারত ভাগবতের অনুবাদ।

 

এবার আসা যাক ইসলাম ধর্ম সন্বন্ধীয় সাহিত্যে। এই ধারার সাহিত্য বাংলা সাহিত্যে নতুন মাত্রা ও সৌন্দর্য নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল। কেননা বাংলা তথা উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলে ইসলামের আগমন ঘটেছিল তিনটি চ্যালেঞ্জ বা জটিলতা নিয়ে। প্রথমত এ অঞ্চলে ইসলামই ছিল প্রথম বিদেশী ধর্ম। কেননা হিন্দু, বৌদ্ধ, জৈন প্রভৃতি ধর্ম ছিল এ অঞ্চলে উদ্ভুত ও বিকশিত। এই উপমহাদেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে বিদেশী ধর্মের কিছু প্রভাব থাকলেও এই পূর্বাঞ্চল ছিল সম্পূর্ণ এর বাহিরে।

 

দ্বিতীয়ত ইসলামের মাধ্যমেই এই অঞ্চলে কোন তৌহিদি বা একাত্ববাদী ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হল। ইতিপূর্বে প্রতিষ্ঠিত ধর্মগুলি ছিল বহুত্ববাদী। এমনকি বৌদ্ধ ধর্মও এর বাইরে ছিল না। তৃতীয়ত ইসলামের মাধ্যমেই বাংলায় সর্বপ্রথম পরকালের ধারণা প্রতিষ্ঠিত হল। পূর্ববর্তীবিষয়ের মূল ভিত্তিই ছিল পূর্নজন্ম। অর্থাৎ এ পৃথিবীতেই বার বার জন্ম নেওয়া। ভিন্নধর্মী বৌদ্ধধর্মও এর বাহিরে ছিল না।

 

এক্ষেত্রে ইসলামই সম্পূর্ণ নতুন কনসেপ্ট নিয়ে আসে। ইসলাম ধর্ম বিষয়ক সাহিত্যকে তিন ভাগে ভাগ করা যায় (১) লৌকিক ইসলাম (২) পৌরাণিক ইসলাম (৩) শাস্ত্রীয় ইসলাম। প্রথমটি মূলতঃ কারবালার ঘটনাকে ঘিরে নানাবিধ লৌকিক জনশ্রুতিমূলক কাব্য। এছাড়া সাহাবী আমীর হামজার বীরত্বের নানাবিধ কাল্পনিক উপখ্যানের মাধ্যমে এই ধারার ব্যাপক বিকাশ ঘটে। এছাড়াও সুফিবাদী তাত্ত্বিক সাহিত্যও এই ধারার মধ্যে পড়ে। এই ধারার সর্বপ্রথম উন্মেষ ঘটে শেখ ফয়জুল্লার “জয়নবের চৌতিশা” কাব্যকে ঘিরে। পরবর্তীকালের মোহাম্মদ খানের “মক্তুল হোসেন” থেকে নানাবিধ জংগনামা কাব্যের মাধ্যমে এই ধারার ব্যাপক বিকাশ ঘটে। এমনকি এর প্রভাব আমরা দেখি উনবিংশ শতাব্দীর আধুনিক যুগেও মির মোশাররফ হোসেনের “বিষাদ সিন্ধু” উপন্যাসে।

 

দ্বিতীয় ধারাটির ব্যাপক বিকাশ ঘটে মধ্যযুগের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কবি সৈয়দ সুলতানের হাতে। এক্ষেত্রে তার শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হল “নবী বংশ ও শবে মেরাজ।” পরবর্তীতে এর আরও বিকাশ আমরা দেখতে পাই কাসাসুল আম্বিয়াতে। তৃতীয় ধারাটির সর্বশ্রেষ্ঠ নিদর্শন হচ্ছে নসরুল্লাহ খন্দকারের “শরিয়ত নামা”। এর উপর ভিত্তি করেই পরবর্তীকালের শরিয়তী সাহিত্য ৩ বিকশিত হয়েছে।

 

মধ্যযুগের ধর্মভিত্তিক বাংলা সাহিত্যের আলোচনায় সবার শেষে আগে ধর্ম সন্নন্ধায় বিষয়ক সাহিত্যেক ধারা। এই ধারার সর্বশ্রেষ্ঠ সৃষ্টি হল “সত্যপীর ও সত্য নারায়ণ বিষয়ক কাব্যে। যা সৃষ্টি হয়েছিল সুন্দরবন অঞ্চলে। অবিশ^াস্যভাবে এই প্রথম বাংলা সাহিত্যে বাংলার মাটিতে শোনা গেল, “হিন্দুর দেবতা তুমি। মুসলমানের পীর।” এর মধ্যে বাংলা ভাষা তথা বাংলার মাটিতে সর্বপ্রথম জাতীয়তাবাদের বীজ বপন করা হল। আজকের বাঙালী কিংবা বাংলাদেশী যে জাতীয়তাবাদের কথাই বলি না কেন তার আজ সূচনা হয়েছিল এর মাধ্যমেই। এতে সমন্বয় ঘটেছিল ইসলাম, হিন্দু এমনকি বিলুপ্ত প্রায় বৌদ্ধ ধর্মের। এই ধারার আরও উন্নততর রূপ দেখতে পাই বহুল আলোচিত বাউল সাহিত্যে।

 

এবার আসা যাক মধ্যযুগীয় সাহিত্যের সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী সুদরপ্রসারী রোমাঞ্জ রোমাপ্ট কাব্যধারার প্রসঙ্গে। এটিকে সুদূর প্রসারি বলা হচ্ছে এই অর্থে যে এর মাধ্যমেই বাংলা সাহিত্যসহ সমগ্র বাংলার জনজীবনের সর্বপ্রকার চিন্তা-চেতনা ও সৃষ্টিশীলতার বদ্ধ স্্েরাতখুলে দিয়েছিল। বহুল আলোচিত রোমান্টিকতা তো এ রোমাঞ্চরেই উন্নতরূপ মাত্র। আবার আধুনিকতাও উত্তর আধুনিকতা এই রোমান্টি সিজমেরই উন্নততর ও সূক্ষ্ম চিন্তা ধারা। অর্থাৎ সবকিছুর উৎস ও শিকড় নিহিত আছে এই রোমাঞ্চ কাব্যধারায়। এই কাব্যধারার সর্বশ্রেষ্ঠ কবিরা হলেন আলাওল, দৌলত কাজী, শবিরিদ খান, মোহাম্মদ কবির, মাগন ঠাকুর প্রভৃতি। উল্লেখ্য যে এই ধারার সর্বপ্রথম সূচনা করেছিলেন শাহ মোহাম্মদ সগির “ইউসুফ জুলেখা” কাব্যের মাধ্যমে। এরই ধারাবাহিকতায় পরবর্তী উল্লেখিত কবিরা সার্থক রোমাঞ্চ কাব্যই সৃষ্টি করেননি সেই সাথে তারা বাংলা সাহিত্যের বদ্ধ স্্েরাতকে খুলে দিয়ে বেশ বিন্দু নতুনমাত্রাও সংযোজন করেছিলেন।

 

আলাওল সমগ্র বাংলা সাহিত্যে প্রথম বহুমুখী প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছিলেন। একই সাথে তিনি সৃষ্টি করেছিলেন উপাখ্যান ও খন্ড কবিতা। অনুবাদ ও মৌলিক রচনা। আবার ইসলামী সাহিত্যও। দৌলত কাজী শুধু রোমাঞ্চের সার্থক স্্রষ্টাই নন তিনি একই সাথে বাংলা সাহিত্যে জাগতিক জীবনবোধ অর্থাৎ রোমান্টিঞ্জিজমকেই নিয়ে এসেছিলেন। যা কিনা সমকালীন সমগ্র বিশ^সাহিত্যেও বিরল। বাংলা সাহিত্যকে প্রথম নাগরিক শালীনতা দান করেছিলেন শাবিরিদ খান।

 

এছাড়াও বাংলা সাহিত্যে প্রথম নাটক সৃষ্টির উদ্যোগও নিয়েছিলেন। এই ধারার কবিদের আরও একটা অনন্য সাধারণ কৃতিত্ব এই যে, এই ধারার কবিদের মাধ্যমেই সর্বপ্রথম বাংলা সাহিত্য বাংলার সীমার বাইরে বিশেষত আরাকান রাজ্যে বিস্তৃত হয়েছিল। আলাওল, দৌলত কাজী, মাগন ঠাকুর প্রভৃতি এই কৃতিত্বের অধিকারী। এই ধারার সর্বাধিক দাবী রত্মগুলি হচ্ছে “আলাওলের পন্সাবতী”, দৌলত কাজীর “সতিময়না ওলোর চন্দ্রানী”, মোহাম্মদ কবিরের “মধুমদনতী”, শাবিরিদ খানের “বিদ্যাসুন্দর” প্রভৃতি। তবে যার শুরু থাকে তার শেষও থাকে। অনিবার্যভাবেই কালের কঠোর নিয়মে অষ্টাদশ শতাব্দীতে এসে মধ্যযুগীয় সাহিত্যের ধারাগুলির অবক্ষয় শুরু হল।

 

অবশেষে মধ্যযুগীয় সাহিত্যের ধপ্তংস¯দপ থেকে ফিনকস পাখির মত জন্ম হল আধুনিক বাংলা সাহিত্যের। এর শুভ সূচনা হয়েছিল কাটা কাটায় আঠারোশো খ্রিষ্টাব্দে। মূলতঃ পলাশীর পরবর্তী ঘটনার সূত্র ধরে সেই সময় ইংরেজ সিভিলিয়ানদের জন্য অত্যান্ত জরুরী ছিল দেশী ভাষা শিক্ষা। এই উদ্দেশ্যেই প্রতিষ্ঠিত হল ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ। এই কলেজের নিয়ন্ত্রণে রচিত হতে লাগল দেশী ভাষাসমূহের গদ্য গ্রন্থ। কেননা বাস্তব কর্মকান্ড গদ্য ভঙ্গীর গুরুত্ব বেশি। এই ধারায় রচিত হল মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকার ? রাম রাম বসুর গদ্য গ্রন্থাবলী। মৃত্যুঞ্জয় বিদ্যালংকরের “প্রতাপাদিত্য চরিত” দিয়ে যে গদ্যের ৪ সূচনা করলেন তা অর্ধশথাব্দীরও বেশী সময় ধরে বহমান ছিল। যা পূর্ণতা পেয়েছিল রামমোহন বিদ্যাসমের বঙ্কিমচন্দ্রের মাধ্যমে।

 

মধ্যযুগের রোমাঞ্চধর্মী চেতনা রোমান্টিপিজমে রূপান্তরিত হয়ে এই সাহিত্য সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও এই আধুনিক তাকে ধর্ম নিরপেক্ষতা বলে চালানোর প্রয়াস ও তৎজনিত বিতর্ক সত্ত্বেও পাশ্চাত্যে প্রভাবিত এই ধারাকে একেবারে অস্বীকারও করা যায় না। তবে গদ্যের চেয়ে অধিকতর ফলবান হয়েছিল পদ্য বা কাব্য সাহিত্যে। এই ধারার সার্থক রূপকার ছিলেন মাইকেল মধুসূদন দত্ত একমাত্র তিনিই সার্থকভাবে বাংলা কাব্য তথা সমগ্র বাংলা সাহিত্যকে মধ্যযুগীয় সীমাবদ্ধতা ও পিছুটান থেকে বের করে নিয়ে এসে পরিপূর্ণ আধুনিকতার মধ্যে নিয়ে আসেন।

 

যদিও একই সময়ে রামমোহন-বিদ্যাসাগর-বঙ্কিমরা গদ্য সাহিত্যে ছিটেফোটা আধুনিকতা এনেছিলেন কিন্তু তাদের মধ্যে ছিল হিন্দুত্বের পিছুটান। মাইকেল ছিলেন এই পিছুটান থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। এরই ধারাবাহিকতায় আরেকজন কবির আবির্ভাব ঘটেছিল। যার মাধ্যমে বাংলা কাব্য মধ্যযুগীয় রোমাঞ্চ থেকে পরিপূর্ণ রোমান্টিকতায় পরিণত হয়েছিল। তিনি হলেন বাংলা কাব্যের ভোরের পাখি বিহারীলাল চক্রবর্তী।

 

বলা যায় যে পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বিহারীলালের সম্প্রসারণ মাত্র। যদিও রবীন্দ্রনাথের খ্যাতির নীচে বিহারীলাল চাপা পড়ে গেছেন। রবীন্দ্রনাথকে বড় দেখানোর জন্য বিহারীলালের কথিত ত্রুটি-বিচ্যুতিগুলিকে বড় করে দেখানো হয়েছে। তা সত্ত্বেও বিহারীলাল বাংলা সাহিত্যে রোমান্টিপিজমের জনক। পরবর্তীকালের আধুনিকতা কিংবা উত্তর আধুনিকতা যাই বলি না কেন এরই সম্প্রসারণ মাত্র। আগেই বলা হয়েছে রবীন্দ্রনাথ বিহারীলালের সম্প্রসারণ মাত্র। অন্ততঃ কাব্য সাহিত্যের বিচারে। তবে অনুগামীর চেয়ে পুরোগামরি স্বাচ্ছন্দ অনেক বেশি তাকে অস্বীকার করতে পারে। এছাড়া সাহিত্যের অনন্য শাখায়ও রবীন্দ্রনাথ তার প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়েছিলেন। সেটাও উপেক্ষা করার মত নয়। তা সত্ত্বেও তিনি বঙ্কিম কিংবা পূর্বসুরীদের হিন্দুত্বের পিছুটান ছাড়তে পারেননি।

 

এমন এক যুগ সন্ধিক্ষণে প্রয়োজন ছিল যুগন্ধর সাহিত্য পাঠক প্রতিভার যিনি অবসান ঘটাবেন হাজার বছরের এই অচলাবস্থার। এই যুগন্ধর সাহিত্য প্রতিভাটি হলেন বিদ্রোহী, বিপ্লবী বর্তমানে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। সেই সময়কার পরিস্থিতির বিশ্লেষণে আমরা দেখতে পাই রবীন্দ্র অনুকৃতি তখন নিষ্ফলতার জন্ম দিতে শুরু করেছিল। শুধু কি তাই ? মাইকেল এমনকি মধ্যযুগীয় কাব্যধারার অনূকরণও তখন পর্যন্ত চলছিল। নজরুলের মত নক্ষত্রের আবির্ভাবে পুরনো সমস্ত ধারারই অবসান ঘটল। তা রূপান্তরিত হল মহৎ সমাধিক্ষেত্রে। নজরুলের অনুকৃতির পথ ধরেই বাংলা কাব্য সাহিত্যে রচিত হল আধুনিক ও উত্তর আধুনিক ধারার কাব্য সাহিত্য। যা আজও চলমান।

 

মধ্যযুগের রোমাঞ্চ রচয়িতারা যে বীজটি বপন করেছিলেন তা নজরুলের প্রতিভা ও মননের স্পর্শেতা রূপান্তরিত হয়েছিল বিশাল শৈল্পিক এক বটগাছে। পরবর্তী আধুনিক ও উত্তর আধুনিক যে কবির কথাই বলি না কেন সবাই কোন না কোনভাবে নজরুলের অধমর্ণ। এমনকি সবচাইতে তরুণতম কবির ব্যর্থতম রচনাটির ক্ষেত্রেও একথা প্রযোজ্য। পরবর্তীতে তথাকথিত আধুনিক কিংবা উত্তর আধুনিক যার কথাই বলি না কেন তারা আসলে নজরুলের বটগাছটিকে নতুন ফুল, পাতা, ফল দিয়ে সমৃদ্ধ করেছেন মাত্র। শুধু কি কাব্য সাহিত্য ? এর সম্প্রসারণ ঘটল উপন্যাস, নাটক, ছোটগল্প, প্রবন্ধ প্রভৃতি সর্বক্ষেত্রেই। আর এভাবেই রচিত হল বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগ থেকে আধুনিক যুগে উত্তরণের উপাখ্যান।

লেখক : এড. সৈয়দ ইফতেখার আলী, সাবেক আহবায়ক, সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি

Ads small one

প্রেমের আগে আত্মগঠন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:২৭ অপরাহ্ণ
প্রেমের আগে আত্মগঠন

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

প্রেম মানুষের জীবনের স্বাভাবিক ও সুন্দর একটি অনুভূতি। প্রেম মানুষকে কোমল করে, অন্যের প্রতি যতœশীল হতে শেখায়, জীবনে আনন্দ যোগ করে। কিন্তু প্রশ্ন হলোÑজীবনের কোন সময়ে, কোন মানসিক প্রস্তুতিতে এবং কী উদ্দেশ্যে আমরা প্রেমকে গ্রহণ করছি? কারণ প্রেম নিজে সমস্যা নয়; সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন প্রেম জীবনের লক্ষ্যকে সরিয়ে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে ওঠে। বিশেষ করে কৈশোর ও তারুণ্যের সময়ে এই প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। এই বয়সে আবেগ তীব্র, কল্পনা প্রবল, অথচ জীবনের বাস্তবতা সম্পর্কে অভিজ্ঞতা সীমিত। ফলে সাময়িক আকর্ষণকে অনেক সময় স্থায়ী ভালোবাসা বলে মনে হয়। একজন মানুষকে ঘিরে তখন ভবিষ্যতের সব স্বপ্ন তৈরি হয়। পড়াশোনা, ক্যারিয়ার, পরিবার, আত্মনির্ভরতাÑসবকিছু যেন দ্বিতীয় হয়ে যায়। অথচ এই সময়টিই একজন মানুষের ভবিষ্যৎ ব্যক্তিত্বের ভিত গড়ে দেওয়ার সময়। তাই প্রশ্নটি হওয়া উচিতÑপ্রেম করব কি না, তা নয়; বরং প্রেমের আগে নিজেকে কতটা তৈরি করেছি? নিজেকে তৈরি করা বলতে শুধু ভালো ফলাফল বা অর্থ উপার্জনের যোগ্যতা বোঝায় না।

 

আত্মগঠন অনেক বিস্তৃত একটি বিষয়। নিজের চরিত্র, বিবেক, চিন্তাশক্তি, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, দায়িত্ববোধ, আত্মসম্মান, ধৈর্য এবং অন্য মানুষের প্রতি সম্মানÑসবকিছুর সমন্বয়েই একজন পরিণত মানুষ তৈরি হয়। একজন তরুণ যদি নিজের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা না রাখে, নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা না করে, আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না শেখে, তাহলে শুধু প্রেমের সম্পর্ক তাকে পরিণত করে তুলবেÑএমন নিশ্চয়তা নেই। বরং অপরিপক্বতার কারণে সম্পর্কটি তার জন্য মানসিক চাপ ও হতাশার কারণ হয়ে উঠতে পারে। আমাদের সমাজে প্রেম নিয়ে দুটি বিপরীত প্রবণতা দেখা যায়। একদিকে কেউ কেউ প্রেমকে এমনভাবে উপস্থাপন করেন যেন প্রেম ছাড়া জীবন অসম্পূর্ণ। অন্যদিকে অনেকে প্রেমকে সম্পূর্ণ নেতিবাচক হিসেবে দেখেন। দুটো অবস্থানই একপেশে। সুস্থ প্রেম জীবনের সৌন্দর্য বাড়াতে পারে, কিন্তু অসুস্থ সম্পর্ক জীবনকে বিপর্যস্তও করতে পারে। সুতরাং প্রয়োজন নিষেধ নয়, প্রয়োজন সচেতনতা।

 

একটি সম্পর্ক তখনই সুন্দর হয়, যখন সেখানে দুজন মানুষের ব্যক্তিসত্তার বিকাশের সুযোগ থাকে। ভালোবাসা কাউকে তার পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দেবে না, স্বপ্ন ত্যাগ করতে বাধ্য করবে না, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করবে না কিংবা আত্মসম্মান নষ্ট করবে না। বরং সত্যিকারের ভালোবাসা মানুষকে আরও দায়িত্বশীল, আরও মানবিক এবং আরও ভালো মানুষ হওয়ার অনুপ্রেরণা দেবে। কিন্তু বাস্তবে আমরা অনেক সময় এর বিপরীত চিত্র দেখি। প্রেমের নামে অতিরিক্ত নির্ভরতা, সারাক্ষণ যোগাযোগের চাপ, সন্দেহ, অধিকারবোধ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি, বিচ্ছেদের ভয়Ñএসব ধীরে ধীরে ব্যক্তিস্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসকে ক্ষয় করতে পারে। তখন সম্পর্ক ভালোবাসার জায়গা থেকে সরে গিয়ে মানসিক নির্ভরতার জায়গায় দাঁড়ায়। বিশেষ করে তরুণদের মনে রাখা দরকার, কাউকে ভালোবাসা আর নিজের অস্তিত্ব কাউকে দিয়ে দেওয়া এক বিষয় নয়। নিজের স্বপ্নের মালিক নিজেকেই থাকতে হবে। সম্পর্ক থাকবে, কিন্তু নিজের পরিচয়ও থাকবে। ভালোবাসা থাকবে, কিন্তু আত্মসম্মানও থাকবে। সঙ্গী থাকবে, কিন্তু নিজের লক্ষ্যও থাকবে। কারণ জীবন দীর্ঘ।

 

তারুণ্যের একটি সম্পর্কই জীবনের শেষ সত্য নয়। মানুষের জীবন বদলায়, মানুষ বদলায়, পরিস্থিতি বদলায়। যে সম্পর্ক আজ অবিচ্ছেদ্য মনে হচ্ছে, কয়েক বছর পর সেটিই হয়তো জীবনের একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে। কিন্তু সেই সময়ের মধ্যে অর্জিত শিক্ষা, দক্ষতা, চরিত্র ও আত্মবিশ্বাস সারা জীবন সঙ্গে থাকবে। এই জায়গাতেই আত্মগঠনের গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি।

 

একজন তরুণ যদি নিজের শিক্ষা শেষ করে, কোনো পেশাগত দক্ষতা অর্জন করে, অর্থনৈতিকভাবে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে এবং মানসিকভাবে পরিণত হয়, তাহলে তার সম্পর্কের সিদ্ধান্তও সাধারণত বেশি বাস্তবসম্মত হয়। তখন সে শুধু আবেগ দিয়ে নয়, বিবেচনা দিয়ে মানুষকে মূল্যায়ন করতে শেখে। সে বুঝতে পারেÑশুধু চেহারা, কথার মাধুর্য কিংবা মুহূর্তের আকর্ষণ দিয়ে জীবনসঙ্গী নির্বাচন করা যায় না। মানুষের চরিত্র, দায়িত্ববোধ, মূল্যবোধ, আচরণ ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ।

 

অন্যদিকে আত্মগঠনহীন আবেগ অনেক সময় মানুষকে ভুল সিদ্ধান্তের দিকে ঠেলে দেয়। শুধু ‘সে আমাকে ভালোবাসে’Ñএই একটি কারণ দিয়ে কোনো সম্পর্ককে নিরাপদ বা উপযুক্ত ধরে নেওয়া যায় না। একজন মানুষ কেমন জীবনযাপন করে, তার মূল্যবোধ কী, সে দায়িত্ব নিতে পারে কি না, অন্যকে সম্মান করে কি নাÑএসব প্রশ্নও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভূমিকাও রয়েছে।

 

তরুণদের প্রেমের বিষয়ে শুধু ভয় দেখানো বা শাসন করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণভাবে কথা বলতে হবে। আবেগ কী, আকর্ষণ কী, দায়িত্ব কী, সুস্থ সম্পর্ক কাকে বলেÑএসব বোঝাতে হবে। একই সঙ্গে তাদের সামনে এমন একটি ভবিষ্যৎ তৈরি করতে হবে, যেখানে শিক্ষা, দক্ষতা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ থাকবে। কারণ শূন্যতা থেকেই অনেক সময় অতিরিক্ত আবেগের জন্ম হয়। যার নিজের কোনো লক্ষ্য নেই, সে অন্য একজন মানুষকেই হয়তো নিজের পুরো পৃথিবী বানিয়ে ফেলে। তাই তরুণদের বলা দরকারÑনিজেকে ব্যস্ত রাখো, কিন্তু শুধু ব্যস্ত থাকার জন্য নয়; নিজেকে উন্নত করার জন্য।

 

বই পড়ো, নতুন কিছু শেখো, শরীরচর্চা করো, পরিবারকে সময় দাও, সমাজকে বোঝো, নিজের দক্ষতা বাড়াও। নিজের এমন একটি পরিচয় তৈরি করো, যাতে তোমাকে চিনতে অন্য কারও পরিচয়ের প্রয়োজন না হয়। আত্মগঠন মানুষকে প্রেম থেকে দূরে সরিয়ে দেয় না; বরং প্রেমকে আরও সুস্থ ও সুন্দর করে। কারণ পরিণত মানুষ জানে, ভালোবাসা মানে শুধু কাছে পাওয়া নয়Ñপ্রয়োজনে সম্মান দিয়ে দূরত্বও মেনে নেওয়া।

 

ভালোবাসা মানে শুধু অধিকার নয়Ñস্বাধীনতার প্রতিও শ্রদ্ধা। ভালোবাসা মানে শুধু আবেগ নয়Ñদায়িত্বও। আমাদের তরুণদের সামনে তাই একটি নতুন জীবনদর্শন তুলে ধরা প্রয়োজনÑ‘আগে নিজেকে গড়ো, তারপর সম্পর্ককে জায়গা দাও।’ আজ যে বয়সে নিজের ভবিষ্যৎ তৈরি করার কথা, সে বয়সে যদি আমরা শুধু সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার চিন্তায় ডুবে থাকি, তাহলে ভবিষ্যতের অনেক দরজা নিজেরাই বন্ধ করে দিতে পারি। আবার নিজের ভবিষ্যৎ গড়ে নেওয়ার পর যে ভালোবাসা জীবনে আসে, সেটি অনেক বেশি সচেতন, দায়িত্বশীল ও স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।

 

জীবনে প্রেম আসবেই। কখনো তা থাকবে, কখনো থাকবে না। কেউ হয়তো পাশে থাকবে সারাজীবন, কেউ হয়তো মাঝপথে চলে যাবে। কিন্তু নিজের শিক্ষা, দক্ষতা, চরিত্র, আত্মমর্যাদা ও আত্মবিশ্বাসÑএসবই শেষ পর্যন্ত মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ।তাই প্রেমকে ভয় নয়, প্রেমকে বোঝার শিক্ষা দরকার। প্রেমকে অস্বীকার নয়, প্রেমের আগে নিজের ভিত শক্ত করার শিক্ষা দরকার। কারণ যে নিজেকে গড়ে তুলতে পারে, সে শুধু ভালোবাসতে শেখে নাÑসে ভালোবাসার যোগ্য একজন মানুষও হয়ে ওঠে। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সম্পর্কের জন্য তাই তাড়াহুড়ো নয়। আগে নিজের ভিত তৈরি হোক। নিজের স্বপ্নের সঙ্গে নিজের পরিচয় তৈরি হোক। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর শক্তি তৈরি হোক। তারপর প্রেম আসুকÑজীবনকে পূর্ণ করতে, জীবনকে গ্রাস করতে নয়। প্রেমের আগে আত্মগঠনÑএই হোক তারুণ্যের নতুন অঙ্গীকার।

লেখক: সংবাদকর্মী

পাইকগাছায় শকুন সচেতনতা দিবস পালিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:০৫ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় শকুন সচেতনতা দিবস পালিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: পাইকগাছায় আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার (৫ সেপ্টম্বর) বেলা ১১ টায় পাইকগাছার নতুন বাজার সংগঠনের কার্যালয়ে পরিবেশবাদী সংগঠন বনবিবির উদ্যোগে শকুন সচেতনতা দিবসের আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন বনবিবির সভাপতি সাংবাদিক ও কলামিস্ট প্রকাশ ঘোষ বিধান।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, নতুন বাজার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি অশোক কুমার ঘোষ। বিশেষ অতিথি ছিলেন, সপ্তদ্বীপা সাহিত্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মাধুরী রানি সাধু, প্রেসক্লাব পাইকগাছার নির্বাহী সদস্য আহম্মেদ আলী বাঁচা।

 

বক্তব্য রাখেন, সাংবাদিক ফারুক হোসেন, সাংবাদিক প্রীতিশ মন্ডল, রাবেয়া বেগম, লিনজা আক্তার মিথিলা, অর্পিতা সাধু, দিঘী, মিম, আফরোজা, ফাওদিয়া, সাদিয়া, পরিবেশ কর্মি শাহিনুর রহমান, গনেশ দাশ, গাজী আলম হোসেন প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, শকুন আমাদের অতি পরিচিত পাখি। এক সময় বাংলাদেশের গ্রামগঞ্জে গরু, মহিষসহ গবাদি পশুর মৃতুদেহ যখানে ফেলা হতো সেখানে দলে দলে শকুন হাজির হতো। কিন্তু এখন আর আগের মত শকুন দেখা যায় না। নির্মল পরিবেশ ও সুস্থ্য প্রকৃতির জন্য মহাবিপন্ন শকুন রক্ষা করা আমাদের সকলের নৈতিক দায়িত্ব। শকুনের গুরুত্ব সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে ছড়িয়ে দিতে সচেতনতামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ ও উদ্বুদ্ধ করতে পারলে শকুন সুরক্ষা পদক্ষেপ সার্থক হবে।

সাতক্ষীরায় কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৩৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় কৃষি ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সম্মেলন অনুষ্ঠিত

পত্রদূত ডেস্ক: সাতক্ষীরায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন বিষয়ক শাখা ব্যবস্থাপক ও কর্মকর্তাদের নিয়ে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। কৃষি ব্যাংক সাতক্ষীরার মুখ্য আঞ্চলিক কার্যালয়ের আয়োজনে শনিবার দুপুরে মোজাফফার গার্ডেন এন্ড রিসোর্টে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

 

সাতক্ষীরার মুখ্য আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক এস এম এ কাইয়ুমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা বিভাগীয় মহা ব্যবস্থাপক মোঃ আবু হাশেম মিয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনা বিভাগীয় নিরীক্ষা কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্র সাহা, উপব্যবস্থাপক শাহনেওয়াজ মোহাম্মদ মোস্তফা ফয়সাল, আঞ্চলিক নিরীক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিহাদুল ইসলাম প্রমুখ।

প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, কর্মকর্তা ও শাখা ব্যবস্থাপকদের সাধারণ মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার করতে হবে। সরকার যে সুযোগ দিয়েছে সেটা যেন মানুষের কল্যাণে কাজ হয়। একজন কৃষকও গ্রাহক ব্যাংকে এসে কষ্ট পেয়ে ফিরে না যায়।

সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন কৃষি ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কাজী মাসুদুল হক ও মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাস।