বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও সাতক্ষীরাবাসীর উন্নয়ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১১ এপ্রিল, ২০২৬, ১২:২৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও সাতক্ষীরাবাসীর উন্নয়ন

আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম প্রান্তের সীমান্ত ঘেঁষা জেলা সাতক্ষীরা। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই জেলার রাজনৈতিক দৃশ্যপটে একটি অভাবনীয় এবং ঐতিহাসিক ঘটনার অবতারণা হয়েছে। সাতক্ষীরা জেলার মোট ৪টি সংসদীয় আসনেই নিরঙ্কুশ বিজয় লাভ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সাতক্ষীরা যেন আক্ষরিক অর্থেই ‘জামায়াতে ইসলামীর রাজধানী’ হিসেবে পুনরায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে এই ফলাফলের মাধ্যমে। সারা দেশের মধ্যে এই জেলাটিতে দলটির সাংগঠনিক ভিত্তি, জনসমর্থন এবং আদর্শিক প্রভাব যে কতটা গভীর ও শেকড়বদ্ধ, ৪টি আসনে তাদের এই একচেটিয়া বিজয় তারই একটি সুস্পষ্ট প্রমাণ। কিন্তু এই বিপুল রাজনৈতিক সমর্থন এবং নির্বাচনী উল্লাসের ঠিক অপর পৃষ্ঠাতেই লুকিয়ে আছে এক চরম হতাশা ও ব্যর্থতার গল্প। রাজনৈতিক দিক থেকে জেলাটি একটি নির্দিষ্ট দলের সবচেয়ে বড় দুর্গে পরিণত হলেও, উন্নয়নের মাপকাঠিতে সাতক্ষীরা বাংলাদেশের সবচেয়ে পিছিয়ে পড়া এবং চরম অবহেলিত একটি জনপদ। জামায়াতের বর্তমানের এই জনপ্রিয়তা ভবিষ্যতে কোনদিকে মোড় নিতে পারে সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
সাতক্ষীরার এই অবহেলার ইতিহাস দীর্ঘদিনের। প্রকৃতি অকৃপণ হাতে এই জেলাকে সম্পদশালী করেছে। জাতীয় অর্থনীতিতে এই জেলার অবদান কোনো অংশেই কম নয়। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে জাতীয় বাজেটে এবং রাষ্ট্রীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় সাতক্ষীরা বরাবরই বিমাতৃসুলভ আচরণের শিকার হয়েছে। দেশের অন্যান্য জেলাগুলো যখন আধুনিকায়ন, শিল্পায়ন এবং বিশেষায়িত মেগা প্রকল্পের ছোঁয়ায় নিজেদের চেহারা বদলে ফেলেছে, সাতক্ষীরা তখনো পড়ে আছে মান্ধাতা আমলের ভগ্ন দশায়। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাত, শিল্প কলকারখানার অভাব, কর্মসংস্থানের তীব্র অভাব এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াল থাবায় ধুঁকছে এই জেলার সাধারণ মানুষ। আশ্চর্যের বিষয় হলো, যে জামায়াতের প্রতি এখানকার মানুষের এত অগাধ বিশ্বাস ও সমর্থন, সেই জামায়াতে ইসলামীও অতীতকাল থেকে এই জেলার দৃশ্যমান বা কাঠামোগত কোনো বড় উন্নয়নের সাথে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে পারেনি। জামায়াতের জন্য সাতক্ষীরার মানুষ জীবন, রক্ত, নির্যাতন, জেল, জুলুম, সম্পদ, সমর্থন সবকিছু উজাড় করে দিলেও যদি প্রশ্ন করা হয় সাতক্ষীরাকে জামায়াত কী দিয়েছে? তখন সেই প্রশ্নের উত্তরে আর কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। সাতক্ষীরা ও জামায়াতের ভালবাসা একপেশে। আর তাই এই একপেশে ভালবাসা আর কতদিন স্থায়ী থাকবে এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সাতক্ষীরাকে জামায়াতের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘাটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজনৈতিক পথ-পরিক্রমায় জামায়াতের জন্য সাতক্ষীরার মানুষই সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরিয়েছে। বিগত হাসিনা সরকারের সময়ে শুধু সাতক্ষীরা থেকেই জামায়াতের ৪৬ জন জীবন দিয়েছেন। আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায়ের দিন সাতক্ষীরায় ৮ জনের মতো মানুষ পুলিশের গুলিতে জীবন দিয়েছিল। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতাকর্মীদের উপর ভয়াবহ নির্যাতন ও অত্যাচার চালানো হয়েছিল। শেখ হাসিনা সরকার সাতক্ষীরা থেকে জামায়াত-শিবির নিশ্চিহ্ন করার জন্য ভয়াবহ হত্যাযজ্ঞ চালালেও জামায়াতের অবস্থান এই জেলায় আরও সুদৃঢ় হয়েছে।
সাতক্ষীরায় জামায়াতে ইসলামী পূর্বে সাতক্ষীরা-১, ২ ও ৩ (১৯৯১), সাতক্ষীরা-২ ও ৫ (১৯৯৬), সাতক্ষীরা-২, ৩ ও ৫ (২০০১) এবং এবারের নির্বাচনে ২০২৫ সালে চারটি আসনেই জয়লাভ করেছে। সাতক্ষীরা জামায়াতের অঞ্চল হওয়ায় এখানের জামায়াত নেতারা প্রায় সবাই কেন্দ্রীয় নেতা। নিরপেক্ষ নির্বাচন হলেই সাতক্ষীরায় জামায়াত একাধিক আসনে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছে প্রতিবার। সাতক্ষীরার মানুষ জামায়াতে ইসলামীকে ভালবেসে মন উজাড় করে সমর্থন দিয়েছে। কিন্তু সত্যি কথা এটাই সাতক্ষীরার এই ভালোবাসার বিপরীতে জামায়াত সাতক্ষীরাকে কিছু দিতে পারেনি। সাতক্ষীরার উন্নয়নে জামায়াত চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে সর্বকালেই।
জামায়াত ইসলামী একাধিকবার সাতক্ষীরার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলেও তারা দলীয় ভাবে সাতক্ষীরার জন্য কোনও মেগা উন্নয়ন ঘটাতে পারেনি। বছরের পর বছর জামায়াতের সংসদ সদস্য থাকলেও সাতক্ষীরায় জামায়াতের উন্নয়ন হাতে গোনা কয়েকটির মধ্যে রয়েছে সাতক্ষীরা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, শিল্পকলা একাডেমী ভবন, সরকারী শিশু সদন ভবন, আশাশুনি প্রতিবন্ধী এতিম শিশু সদন, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের মুক্তিযোদ্ধা জিয়া হল অন্যতম। অবশ্য এই উন্নয়ন গুলোর মধ্যে কোনটি সাতক্ষীরার জন্য বিশেষায়িত উন্নয়ন নয়, সরকার প্রতিটি জেলায় এই অবকাঠামোগুলো করতে চেয়েছিল তারই ধারাবাহিকতায় সাতক্ষীরায় এই উন্নয়ন গুলো হয়েছিল। জামায়াতের সময়ে সাতক্ষীরায় কোনও বিশেষায়িত বা মেগা উন্নয়ন কখনও হয়নি।
জামায়াতের ঘাটি হিসেবে জামায়াতের উচিত ছিল সাতক্ষীরাকে মডেল জেলা ও সাতক্ষীরা শহরকে আধুনিক সৌন্দর্যমন্ডিত শহরে রূপান্তরিত করা, কিন্তু তারা বরাবরই সাতক্ষীরার ব্যাপারে ব্যর্থতা দেখিয়েছে। বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের একেকটি শক্তিশালী জেলা রয়েছে, যেগুলিকে সেই সব দলের রাজধানী বলা হয়। যেমন বিএনপির বগুড়া, আওয়ামীলীগের গোপালগঞ্জ, জাতীয় পার্টির রংপুর ও জামায়াতের সাতক্ষীরা। জামায়াত বাদে প্রতিটি রাজনৈতিক দল তাদের রাজধানী খ্যাত জেলা শহরকে উন্নয়নের মাপকাঠিতে সবার উপরে নেবার চেষ্টা করেছে। সেই সব জেলা শহরকে তারা তাদের দলের উন্নয়নের মডেল হিসেবে সারাদেশের সামনে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছে। বিএনপি বগুড়া, জাতীয় পার্টি রংপুর ও আওয়ামীলীগ গোপালগঞ্জকে এমন ভাবে উন্নত করেছে যাতে সেই সব জেলায় কেউ প্রবেশ করলে শহরের উন্নয়ন দেখে মুগ্ধ হয়ে সেই সব দলকে ভোট দিতে অনুপ্রাণিত হয়। শুধু ব্যতিক্রম জামায়াতের সাতক্ষীরা। সাতক্ষীরা শহরের অবস্থা এমনই নাজুক ও বিধ্বস্ত যে বাইরের জেলার কেউ সাতক্ষীরায় প্রবেশ করলে সাতক্ষীরার অবস্থা দেখে কখনই সে জামায়াতকে ভোট দিবে না। কারণ সে সহজেই বুঝবে জামায়াত মানেই ব্যর্থতা আর উন্নয়নহীনতার অন্ধকারাচ্ছন্ন এক আদিম যুগের অবস্থা।
সাতক্ষীরার মানুষ উজাড় করে জামায়াতকে ভালবাসলেও জামায়াত বৈষম্য করেছে সাতক্ষীরা বাসীর সাথে। ২০০১ সালের চার দলীয় সরকারে জামায়াতের ২জন পূর্ণ মন্ত্রী জনাব মতিউর রহমান নিজামী ও জনাব আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ বাংলাদেশে সরকারের ৩টি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রিত্ব পালন করলেও তারা সাতক্ষীরার জন্য কোনও বিশেষায়িত মেগা প্রকল্পে গ্রহণ করেনি। সবচেয়ে হতাশার বিষয় জামায়াতের তৎকালীন আমীর মতিউর রহমান নিজামী শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করলেও তিনি সাতক্ষীরায় কোনও ভারী শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেননি। অথচ তাদের উচিত ছিল ক্ষমতায় বসে সবার আগে সাতক্ষীরার জন্য মেগা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া।
সাতক্ষীরা জামায়াত সমর্থিত জেলা হওয়ার কারণে বিএনপি, আওয়ামীলীগ ও জাতীয় পার্টি সাতক্ষীরার উন্নয়নে চরম বৈষম্য করে থাকে। বিগত ১৫ বছর আওয়ামীলীগ সরকার সাতক্ষীরাকে এক প্রকার স্বীকারই করতো না। তারা সমগ্র বাংলাদেশে যে পরিমাণ উন্নয়ন করেছে তার দশ ভাগও সাতক্ষীরায় করেনি। তারপরও বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে যে উন্নয়ন হয়েছে সেটি ছিল সাতক্ষীরার ইতিহাসের সবোর্চ্চ উন্নয়ন। তাদের উন্নয়নের মধ্যে ছিল- ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সাতক্ষীরাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবী বাইপাস সড়ক, শ্যামনগর ও আশাশুনি উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার কোটি টাকার স্থায়ী বাধ নির্মাণের সূচনা, মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল, যুব উন্নয়ন একাডেমী, সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ভোমরা স্থল বন্দরের সম্প্রসারণ, বিভাগীয় কর কমিশনারের কার্যালয়, ধান গবেষণা ইন্সটিটিউট, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট, সাতক্ষীরা হর্টিকালচার সেন্টার, কালিগঞ্জ সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ, সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়ককে ৩৬ ফুটে প্রশস্ত করণ, সাতক্ষীরা-ভোমরা সড়ক জাতীয় মহাসড়কে উন্নীত করন, এবং সাতক্ষীরা পৌরসভাকে “ক” শ্রেণীতে উন্নীতকরণ। এছাড়া সাতক্ষীরা পাকাপোল ব্রিজ, আশাশুনি মানিকখালি ও মরিচ্চাপ ব্রিজ, আশাশুনি বাইপাস সড়ক, কালিগঞ্জ সেতু, শ্যামনগরে পৌরসভা স্থাপন, সাতক্ষীরার প্রতিটি উপজেলায় একটি কলেজ ও উচ্চ বিদ্যালয়কে সরকারীকরণ, প্রতি উপজেলায় মডেল মসজিদ ও ফায়ার স্টেশন নির্মাণ। উল্লেখ্য, বর্তমানে সাতক্ষীরা-শ্যামনগর নতুন যে মহাসড়ক নির্মাণ হচ্ছে সেটিও গত আওয়ামীলীগ সরকারের অবদান। কারণ গত হাসিনা সরকারের সময়ে এই প্রকল্পটি একনেকে পাস ও টেন্ডার করা হয়।
জামায়াত সাতক্ষীরা থেকে একাধিকবার বিজয়ী হলেও মেগা উন্নয়ন তো দূরের কথা, ছোট ছোট উন্নয়নেও ছিল জামায়াত এমপিরা পরিপূর্ণভাবে ব্যর্থ। সাতক্ষীরাবাসী ১৯৯০ সালের পর থেকে একটি শহর বাইপাস সড়কের দাবী জানিয়ে আসছিল। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার গঠন করলে সাতক্ষীরাবাসী দীর্ঘ ৫ বছর ধরে বাইপাসের জন্য আন্দোলন করলেও জোট সরকারের নিকট থেকে বাইপাস আদায় করতে পারেনি। অবশেষে ২০১৭ সালে আওয়ামীলীগ সরকার সাতক্ষীরা বাইপাস সড়ক প্রতিষ্ঠা করে। সাতক্ষীরা শহরের প্রাণসায়ের খালের উপরের জরাজীর্ণ ছোট্ট মাত্র কয়েক ফুটের স্টিল সেতুটি পুনরায় নির্মাণের জন্য সাতক্ষীরা বাসী ২০০১ সাল থেকে জোট সরকারের উপর দাবী জানিয়ে আসলেও তারা সেটি কর্ণপাত করেনি। পরে আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর সেই ব্রিজটি বাস্তবায়ন হয়।
সাতক্ষীরাবাসী জামায়াতের জন্য রক্ত দিয়েছে, জীবন দিয়েছে এবং পরিপূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। এখন সময় এসেছে সাতক্ষীরার রক্তের প্রতিদান দেয়ার। জামায়াতের এখন উচিত সাতক্ষীরাবাসীর রক্তের মূল্য উন্নয়ন দিয়ে পরিশোধ করার। নতুন চার সংসদ সদস্যের কাছে সাতক্ষীরাবাসীর বেশ কয়েকটি দাবী রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম রেল লাইন, পূর্ণাঙ্গ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, ইকোনোমিক জোন, জাদুঘর, ক্রীড়া কমপ্লেক্স, ভোমরা বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, আধুনিক শিশু পার্ক, ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান, জলাবদ্ধতা নিরসন, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল চালু করা, নার্সিং কলেজ স্থাপন, সুন্দরবন কেন্দ্রিক আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ ও উপকূলীয় টেকসই বেড়ি বাধ নির্মাণ করা। এছাড়া শহরের প্রধান সড়কগুলো ফোর লেনে উন্নীতকরণ, শহরের প্রধান মোড়গুলো বিভিন্ন স্থাপনা ও আইল্যান্ড দিয়ে সাজানো, শহর জুড়ে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আধুনিক স্ট্রিট লাইটের সুবিধা, বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ, বাস টার্মিনাল স্থানান্তর ও বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ শহরবাসীর দীর্ঘ দিনের দাবী। সাদা সোনা খ্যাত চিংড়ি এবং বিখ্যাত ল্যাংড়া ও হিমসাগর আম সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার স্থাপন এবং রপ্তানি প্রক্রিয়া সহজীকরণ করার লক্ষে সাতক্ষীরায় প্রসেসিং কারখানা তৈরি এখন বর্তমান এমপিদের নিকট সময়ের দাবী। জামায়াতের চার এমপি মিলে সাতক্ষীরা শহরকে আধুনিক ও সৌন্দর্যমন্ডিত শহরে পরিণত করা উচিত। যাতে বাইরের জেলা থেকে সাতক্ষীরায় প্রবেশ করলে মানুষ বুঝতে পারে জামায়াতের উন্নয়ন কত আধুনিক ও তাদের দক্ষতা কতো বেশি।
সাতক্ষীরার মানুষের মনে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ক্ষুধা রয়েছে। বিগত ৫০ বছরেও সাতক্ষীরায় তেমন কোনও উন্নয়ন হয়নি। বিগত ১৫ বছর আওয়ামীলীগ সারা দেশে উন্নয়ন করলেও সাতক্ষীরাবাসী উন্নয়ন বঞ্চিত হয়ে চেয়ে চেয়ে দেখেছে। সাতক্ষীরার মানুষ এবার জামায়াতকে সবোর্চ্চ সমর্থন দিয়েছে উন্নয়নের জন্য। জামায়াত যদি এই সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে জনগণের চাহিদা পূরণ না করতে পারে, তবে আবেগ নির্ভর জামায়াতের ভোট ব্যাংকের দ্রুত পতন ঘটতে পারে। এবারের নির্বাচনে শ্যামনগর, তালা-কলারোয়া, আশাশুনি-কালিগঞ্জ আসনে জামায়াত কম ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছে। সঠিক উন্নয়ন না পেলে এই ৩টি আসন আগামী নির্বাচন থেকেই জামায়াতের হাত ছাড়া হতে পারে। সাতক্ষীরা-২ আসনটিতে জামায়াতের বড় বিজয় হলেও সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপি বিজয়ী হয়ে যদি শহরে বড় ধরনের উন্নয়ন দেখাতে পারে, তবে সমগ্র সাতক্ষীরা-২ আসনটি পরবর্তীতে জামায়াতের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
জামায়াতকে সাতক্ষীরাবাসী ভোট দেয়, কিন্তু তাদের সবার মনে অভিযোগ রয়েছে যে, জামায়াত উন্নয়ন করতে পারে না। এই অভিযোগ দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে, যেটি পরবর্তী নির্বাচনে জামায়াতের জন্য ভোটের বড় বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। সাতক্ষীরার চার এমপির উচিত দল বেঁধে সাতক্ষীরার বিশেষায়িত ও মেগা উন্নয়নের পেছনে লেগে পড়া। সময় এসেছে সাতক্ষীরা জামায়াতের আত্মসমালোচনা করার। কারণ পরবর্তী নির্বাচনের আগে ঠিকই সাতক্ষীরা বাসী জামায়াতের উন্নয়ন দাঁড়িপাল্লা দিয়ে মেপে নিবে। জামায়াতের আমীরসহ সকল এমপির এখন প্রধান দায়িত্ব সাতক্ষীরার উন্নয়নে কাজ করা, কারণ জামায়াতের অস্তিত্বই টিকে আছে সাতক্ষীরাবাসীর রক্তের বিনিময়ে। (এটা লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব মন্তব্য)। লেখক: আল মুতাসিম বিল্লাহ সুমন, রাজারবাগান, সাতক্ষীরা

Ads small one

সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৮:৪৭ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা জেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলামকে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ

পত্রদূত রিপোর্ট: জুলাই আন্দোলন চলাকালে ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদ রূপ হত্যা মামলায় সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলামকে এক দিনের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (২৯ জুলাই) শুনানি শেষে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ২৭ জুলাই রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও ডিবির তেজগাঁও বিভাগের পরিদর্শক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। আদালত সেদিন তাকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য বুধবার দিন ধার্য করেন।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামলার এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। আসামির স্থায়ী ঠিকানা অন্য জেলায় হওয়ায় তার পরিচয়-ঠিকানা যাচাই-বাছাই বাকি রয়েছে। জামিন পেলে তিনি পলাতক হতে পারেন। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন, পলাতক আসামি ও নির্দেশদাতাদের শনাক্ত এবং ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

তবে রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর না করে আদালত এক দিনের জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন। শুনানির সময় নজরুল ইসলাম আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে তার পক্ষে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আরিফ রেজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ২৪ আগস্ট ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী রমিজ উদ্দিন আহমেদ রূপ (২১) বন্ধুদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন। ওই দিন কাওরান বাজার মেট্রোরেল স্টেশনের কাছে গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে প্রথমে কাঠালবাগানের পদ্মা হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

এ ঘটনায় রূপের বাবা এ কে এম রকিবুল আহমেদ তেজগাঁও থানায় মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ২২৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কয়রায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিক রিয়াজুলকে হত্যার হুমকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪৮ অপরাহ্ণ
কয়রায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে সাংবাদিক রিয়াজুলকে হত্যার হুমকি

সংবাদদাতা: খুলনার কয়রায় সংবাদ প্রকাশের জের ধরে দৈনিক পত্রদূত এর কয়রা প্রতিনিধি জি এম রিয়াজুল আকবরকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন আমাদী ইউনিয়নের খেওয়া গ্রামের মৃত দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মোঃ হাফিজুর রহমান (মন্টু) ও মোঃ লতিফুর রহমান (লান্টু)।

 

এ ব্যাপারে তাদের বিরুদ্ধে কয়রা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন সাংবাদিক জি এম রিয়াজুল আকবর। যার জিডি নং ১৩৯৭। তারিখ ২৮-৭-২০২৬ ইং। জিডি সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের খেওনা গ্রামের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে হাফিজুর রহমান মন্টু ও লতিফুর রহমান লাল্টুর বিরুদ্ধে গত ১৫ জুলাই একটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনের সংবাদ ১৬ জুলাই দৈনিক পত্রদূত পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। ওই সংবাদের জের ধরে তারা সাংবাদিক রিয়াজুল আকবরকে বিভিন্ন ভাবে খুন জখমের হুমকি প্রদান করতে থাকে।

 

যার জের ধরে গত ২৭ জুলাই আনুমানিক সাড়ে ৪ টার দিকে সাংবাদিক রিয়াজুল আকবর পেশাগত কারণে দক্ষিণ খেওনা গ্রামের কালভার্ট ব্রিজে পৌঁছালে তারা সাংবাদিক রিয়াজুল আকবরকে অবরোধ করে অকথ্য ভাষায় মানহানি কর গালি-গালাজ করে। এ সময় তিনি প্রতিবাদ করলে তারা তাকে উপস্থিত মানুষের সামনে খুন জখমের হুমকি দিয়ে মারপিট করতে উদ্যত হয়। তাদের উদ্বত্বপূর্ণ আচারণ ও হুমকির কারনে সাংবাদিক রিয়াজুল আকবর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

এ ব্যাপারে জানতে মোঃ হাফিজুল ইসলাম (মন্টু) ও লতিফুর রহমান (লান্টু) মুঠোফোন কল দিলে বন্ধ পাওয়ায় তাদের বক্তব্য নেওয়া যায়নি।

জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা কয়রা থানার এ এস আই মোঃ আব্দুর রহিম বলেন, জিডির কপি পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৭:৪২ অপরাহ্ণ
বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় বিশ্বখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকালে পাইকগাছা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজন পরিষদ মিলনায়তনে এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

সভায় বক্তৃতা করেন, সরকারি পাইকগাছা কলেজের অধ্যক্ষ সমরেশ রায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ একরামুল হোসেন, সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা সৈকত মল্লিক, পাইকগাছা টিটিসির অধ্যক্ষ প্রকৌশলী মোঃ হাবিবুর রহমান, থানার ওসি (অপারেশন) জুলফিকার আলী, কপিলমুনি কলেজের অধ্যক্ষ হাবিবুল্লাহ বাহার, ফসিয়ার রহমান মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) উৎপল কুমার বাইন, খুলনা প্রতœতত্ত্ব বিভাগের উপ-সহকারী পরিচালক মুহিদুল ইসলাম, উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মীর নুরে আলম সিদ্দিকী, প্রেসক্লাব পাইকগাছার সভাপতি প্রকাশ ঘোষ বিধান, পৌর বিএনপির সভাপতি আসলাম পারভেজ, জামাত নেতা, মোঃ আব্দুল মোমিন সানা, অ্যাডভোকেট মোর্তুজা জামান রুলু, রাড়ুলী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোঃ আবুল হাসেম মোড়ল, উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব এস এম এমদাদুল হক, তুষার কান্তি মন্ডল, সাংবাদিক আহম্মদ আলী বাচা, পূর্ণ চন্দ্র মন্ডলসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকবৃন্দ ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা।

সভায় আগামী ২ আগস্ট আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ঐদিন সকালে খুলনা জেলার পাইকগাছায় আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের জন্মস্থান পরিদর্শন, তাঁর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ, আলোচনা সভা, পিসি রায়ের জীবন ও কর্মের ওপর তথ্যচিত্র প্রদর্শন, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান বিষয়ক উপস্থিত বক্তৃতা প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণ।