সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬, ২১ আষাঢ় ১৪৩৩

বাংলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের চিরপ্রস্থান/ এম.এম হায়দার আলী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:০৯ অপরাহ্ণ
বাংলার এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের চিরপ্রস্থান/ এম.এম হায়দার আলী

এম.এম হায়দার আলী

বাংলা ভাষা, সাহিত্য, ইতিহাস ও মননশীল চিন্তার আকাশ থেকে আরেকটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নিভে গেল। লেখক, গবেষক, শিক্ষাবিদ ও প্রজ্ঞার আলোকবর্তিকা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক আর আমাদের মাঝে নেই। তাঁর প্রস্থান শুধু একটি মানুষের মৃত্যু নয়; এটি বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর মৃত্যুতে জাতি হারাল একজন চিন্তাশীল শিক্ষক, একজন নির্ভীক গবেষক এবং বাংলা ভাষার এক নিবেদিতপ্রাণ সাধক। গত রোববার রাজধানীর মিরপুরের একটি হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার পাকুন্দিয়া গ্রামে জন্ম নেওয়া আবুল কাসেম ফজলুল হক জ্ঞানের সাধনায় নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। সদ্য প্রয়াত এই মনীষীর জীবনি ঘেঁটে যতটুকু জানা সম্ভব হল, তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে অসংখ্য শিক্ষার্থীকে কেবল পাঠদানই করাননি, তাঁদের মধ্যে জাগিয়ে তুলেছিলেন মুক্তচিন্তা, মানবিক মূল্যবোধ ও সাহিত্যবোধের দীপ্তি। বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশের সাহিত্য ও সংস্কৃতির বিকাশে অসামান্য অবদান রাখেন। তাঁর লেখনী ছিল সময় সচেতন, বিশ্লেষণধর্মী এবং সমাজমনস্ক।

 

মুক্তিসংগ্রাম, ‘কালের যাত্রার ধ্বনি, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন, ‘উনিশ শতকের মধ্যশ্রেণী ও বাংলা সাহিত্য, মানুষ ও তার পরিবেশ, সাহিত্যজিজ্ঞাসা, সাহিত্যসৃষ্টি ও সাহিত্যবিচার, ‘জাতীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিকতাবাদ, বিশ্বায়ন ও ভবিষ্যৎ, বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন ও উত্তরকাল, আধুনিকতাবাদ ও জীবনানন্দের জীবনোৎকণ্ঠা’,এসব গ্রন্থ আজও গবেষক, শিক্ষার্থী ও পাঠকের কাছে মূল্যবান সম্পদ।

 

দার্শনিক বার্ট্রান্ড রাসেলের রাজনৈতিক আদর্শের বাংলা অনুবাদের মাধ্যমে তিনি বিশ্বচিন্তার দুয়ারও বাংলা ভাষাভাষী মানুষের জন্য উন্মুক্ত করেছিলেন। সম্পাদক হিসেবেও তাঁর অবদান স্মরণীয়। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত ‘মোতাহের হোসেন চৌধুরীর নির্বাচিত প্রবন্ধ, ‘ইতিহাসের আলোকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি’ এবং স্বদেশচিন্তা সহ একাধিক গ্রন্থ বাংলা সাহিত্যকে সমৃদ্ধ করেছে। পাশাপাশি সুন্দরম ও লোকায়ত’ সাময়িকীর মাধ্যমে তিনি নতুন চিন্তা, সাহিত্যচর্চা ও সাংস্কৃতিক আলোচনার ক্ষেত্র তৈরি করেছিলেন।

তাঁর অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্জন কোনো পুরস্কার নয়; তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় তিনি ছিলেন একজন মুক্তবুদ্ধির মানুষ, যিনি সত্য, যুক্তি এবং মানব কল্যাণের পক্ষে আজীবন কলম ধরেছিলেন। একজন প্রকৃত মনীষীর মৃত্যু কখনো তাঁর চিন্তার মৃত্যু নয়। মানুষ চলে যান, কিন্তু তাঁর সৃষ্টি, তাঁর দর্শন এবং তাঁর আলোকিত চিন্তা যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে। অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের রচনা, গবেষণা ও চিন্তার আলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে পথ দেখাবে,এটাই আমাদের বিশ্বাস।

 

আজ তাঁর শূন্যতায় বাংলা সাহিত্য ও বুদ্ধিবৃত্তিক সমাজ গভীরভাবে শোকাহত। মহান আল্লাহ যেন এই প্রাজ্ঞ মনীষীকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবার, সহকর্মী, ছাত্রছাত্রী ও অসংখ্য গুণগ্রাহীকে এই শোক বহনের শক্তি দান করেন।বিদায় প্রাজ্ঞ মনীষী। আপনার কলম থেমে গেছে, কিন্তু আপনার চিন্তার আলো বাংলার আকাশে দীর্ঘদিন জ্বলে থাকবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে ৬৬ লক্ষাধিক টাকার মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: সোমবার (০৬ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ ভোমরা, হিজলদী ও কাকডাঙ্গা বিওপি এবং বাঁকাল চেকপোষ্ট এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ০২ জন আসামীসহ ভারতীয় চিংড়ি মাছের রেনুপোনা ও বাংলাদেশী ট্রাক, মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, ভোমরা বিওপির আভিযানে বিজিবি চেকপোষ্ট হতে ৬০ লাখ টাকার ভারতীয় চিংড়ি রেনুপোনা ও বাংলাদেশী ট্রাক আটক করে। হিজলদী বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানাধীন বড়ালি মোড় হতে ১ লাখ ২৭ হাজার ৬০০ টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। কাকডাঙ্গা বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার কেড়াগাছি হতে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকার ভারতীয় ঔষধ আটক করে।

এছাড়াও, বাঁকাল চেকপোষ্ট এর আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার শ্রীরামপুর হতে ২ লাখ ৩৪ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৬৬ লাখ ০৬ হাজার ৬০০ টাকা।

বিজিবি আরো জানায়, চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়। এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী মাদক চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে।

 

দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

সাতক্ষীরায় র‌্যাবের অভিযানে ৫৪২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ২জন গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৬:২৩ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় র‌্যাবের অভিযানে ৫৪২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার, ২জন গ্রেপ্তার

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরায় র‌্যাবের অভিযানে ৫৪২ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়েছে। এসময় ২জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হাড়দ্দাহ এলাকার মো. মাজেদ মোড়লের ছেলে মো. আসাদুল মোড়ল (৪৫) এবং মৃত ইয়ার আলী মোল্লার ছেলে মো. রুহুল আমিন মোল্লা (৩৯)।

র‌্যাব জানায়, মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে সোমবার (৬ জুলাই) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতক্ষীরা জেলার সদর থানার হাড়দ্দাহ এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৪৫৪ বোতল উইনকেরিক্স এবং ৮৮ বোতল এস্কাফসহ মোট ৫৪২ বোতল ফেন্সিডিল জব্দ করা হয়।

র‌্যাব জানায়, উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে জব্দকৃত মাদকদ্রব্য জব্দ তালিকার মাধ্যমে আইনানুগভাবে জব্দ করা হয়। পরে গ্রেপ্তাারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করে উদ্ধারকৃত ফেন্সিডিলসহ তাদের সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‌্যাব-৬ সিপিসি-১, সাতক্ষীরার কোম্পানি কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জায়েন উদ্দীন মুহাম্মদ যিয়াদ জানান, অবৈধ অস্ত্র, মাদকদ্রব্য ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে র‌্যাবের চলমান অভিযান অব্যাহত থাকবে।

 

সাতক্ষীরায় ২৬০ কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩৮ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ২৬০ কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি জব্দ

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা শহরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে প্রায় ২৬০ কেজি জেলি পুশ করা চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়েছে। গতকাল রোববার রাতে শহরের সংগীতা মোড় থেকে এ মাছগুলো জব্দ করা হয়। পরে জনসম্মুখে গাড়ির চাকায় পিষ্ট করে মাছগুলো ধ্বংস করা হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে নেতৃত্ব দেন, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. শাহেদ হোসেন।

তিনি জানান, সাতক্ষীরা শহরের সঙ্গীতা মোড় এলাকায় ঢাকাগামী পরিবহন যোগে বিপুল পরিমাণ মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর জেলি পুশ করা চিংড়ি মাছ রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। এসময় সেখান থেকে ২৬০ কেজি চিংড়ি মাছ জব্দ করা হয়। চিংড়ি মাছ গুলো পরে জনসম্মুখে গাড়ির চাকায় পিষ্ট করে ধ্বংস করা হয়।

তিনি আরো জানান, খাদ্যে ভেজাল ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর কার্যক্রম প্রতিরোধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। জেলি বা অন্যান্য ক্ষতিকর পদার্থ পুশ করে মাছের ওজন বৃদ্ধি করা সম্পূর্ণ অবৈধ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। খাদ্যে ভেজাল ও প্রতারণার সঙ্গে জড়িত অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আরো জানান।