বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩
বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ দিবস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৩৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ দিবস
সাকিবুর রহমান বাবলা
মানবদেহের সুস্থতা, শিশুর মেধাবিকাশ এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে আয়োডিনের ভূমিকা অপরিসীম। পরিমাণে অতি সামান্য প্রয়োজন হলেও এই অপরিহার্য অণুপুষ্টি উপাদানের অভাবে দেখা দিতে পারে গুরুতর শারীরিক, মানসিক ও হরমোনজনিত সমস্যা। প্রতি বছর ২১ অক্টোবর বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ দিবস পালনের উদ্দেশ্য হলো আয়োডিনের গুরুত্ব তুলে ধরা, ঘাটতিজনিত রোগ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য পর্যাপ্ত আয়োডিন নিশ্চিত করা। প্রতিরোধযোগ্য এই পুষ্টিসংকট মোকাবিলায় ব্যক্তি, পরিবার, সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।
১৯৮০-এর দশক থেকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফ এবং আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো বিশ্বব্যাপী সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করে। পরবর্তী সময়ে ২১ অক্টোবর দিবসটি পালনের মাধ্যমে আয়োডিনের ঘাটতি প্রতিরোধের গুরুত্ব বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়। এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য সর্বজনীন লবণ আয়োডিনযুক্তকরণ, যাতে মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যের মাধ্যমে সহজে প্রয়োজনীয় আয়োডিনের জোগান নিশ্চিত করা যায়।
আয়োডিন একটি রাসায়নিক মৌল। এর প্রতীক I, পারমাণবিক সংখ্যা ৫৩ এবং এটি পর্যায় সারণির ১৭তম গ্রুপের হ্যালোজেন পরিবারের সদস্য। সাধারণ তাপমাত্রায় এটি চকচকে কালচে-বেগুনি কঠিন পদার্থ; উত্তপ্ত হলে সরাসরি বেগুনি বাষ্পে পরিণত হতে পারে, যা ঊর্ধ্বপাতন নামে পরিচিত। শিল্পকারখানায় প্রাকৃতিক ব্রাইন বা লবণাক্ত ভূগর্ভস্থ পানি এবং চিলির কিছু খনিজ আকরিক থেকে আয়োডিন উৎপাদন করা হয়। পরে খাদ্যোপযোগী লবণে নির্দিষ্ট মান অনুযায়ী পটাশিয়াম আয়োডেট বা উপযুক্ত আয়োডিন যৌগ মিশিয়ে আয়োডিনযুক্ত লবণ তৈরি করা হয়। উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণের প্রতিটি পর্যায়ে এর মান নিয়ন্ত্রণ জরুরি।
মানবদেহ নিজে আয়োডিন তৈরি করতে পারে না। গলার সামনের দিকে অবস্থিত থাইরয়েড গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত থাইরক্সিন (টি৪) ও ট্রাই-আয়োডোথাইরোনিন (টি৩) হরমোন তৈরির অপরিহার্য উপাদান হলো আয়োডিন। টি৪-তে চারটি এবং টি৩-তে তিনটি আয়োডিন পরমাণু থাকে। এসব হরমোন শরীরের বিপাকক্রিয়া, শক্তি উৎপাদন, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, কোষের বৃদ্ধি, প্রোটিন সংশ্লেষণ এবং মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
আয়োডিনের প্রাকৃতিক উৎসের মধ্যে সমুদ্রের পানি, সামুদ্রিক শৈবাল, মাছ ও অন্যান্য সামুদ্রিক খাবার উল্লেখযোগ্য। সমুদ্র থেকে বাষ্পীভবন ও বায়ুমণ্ডলীয় পরিবহনের মাধ্যমে আয়োডিন স্থলভাগে পৌঁছায় এবং বৃষ্টির সঙ্গে মাটিতে ফিরে আসে। তবে সমুদ্র থেকে দূরবর্তী অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা এবং বন্যায় মাটির উপরিভাগ ক্ষয়প্রাপ্ত অঞ্চলে আয়োডিনের প্রাপ্যতা কম হতে পারে। ফলে সেসব অঞ্চলের মাটি ও খাদ্যশস্য থেকে পর্যাপ্ত আয়োডিন না-ও পাওয়া যেতে পারে। এ কারণে খাদ্যোপযোগী লবণ আয়োডিনযুক্ত করা জনস্বাস্থ্যের একটি কার্যকর ও সাশ্রয়ী কৌশল।
আয়োডিনের ঘাটতিজনিত রোগসমষ্টিকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে আয়োডিন ডেফিশিয়েন্সি ডিসঅর্ডার্স (আইডিডি) বলা হয়। শরীরে আয়োডিন কমে গেলে থাইরয়েড গ্রন্থি পর্যাপ্ত হরমোন তৈরি করতে পারে না। রক্তে হরমোনের মাত্রা কমে গেলে মস্তিষ্কের পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে থাইরয়েড-উদ্দীপক হরমোন-এর নিঃসরণ বাড়তে পারে। এর প্রভাবে থাইরয়েড গ্রন্থির কোষ বৃদ্ধি পেয়ে গ্রন্থিটি ফুলে যায়; এ অবস্থাকে গলগণ্ড বা ঘ্যাগ রোগ বলা হয়। দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতিতে হাইপোথাইরয়েডিজম দেখা দিতে পারে। এর লক্ষণগুলোর মধ্যে ক্লান্তি, অলসতা, শীত শীত ভাব, শুষ্ক ত্বক, কোষ্ঠকাঠিন্য ও ওজন বৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য।
আয়োডিনের অভাবের সবচেয়ে গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে গর্ভস্থ শিশু ও শৈশবের বিকাশে। গর্ভাবস্থায় মায়ের শরীরে তীব্র ঘাটতি থাকলে ভ্রূণের মস্তিষ্ক ও কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক গঠন ব্যাহত হতে পারে। ফলে শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি, ব্যবহার করতে হবে; তবে বেশি লবণ খেয়ে আয়োডিনের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা যাবে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রাপ্তবয়স্কদের দৈনিক লবণ গ্রহণ পাঁচ গ্রামের কম রাখার পরামর্শ দেয়। লবণ শুকনো, পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখতে হবে। রান্নার তাপে আয়োডিনের কিছু অংশ নষ্ট হতেশেখার ক্ষমতা, শ্রবণশক্তি, কথা বলা এবং চলাফেরার বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। গুরুতর ক্ষেত্রে জন্মগত হাইপোথাইরয়েডিজম ও ঐতিহাসিকভাবে ক্রিটিনিজম নামে পরিচিত গুরুতর বিকাশগত সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব এবং অন্যান্য গর্ভকালীন জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
গর্ভধারণ থেকে শিশুর জীবনের প্রথম দুই বছর মস্তিষ্কের বিকাশের অত্যন্ত সংবেদনশীল সময়। এ সময় আয়োডিনের তীব্র ঘাটতিতে মস্তিষ্কের যে ক্ষতি হয়, তা পরবর্তী সময়ে সম্পূর্ণভাবে পূরণ করা সম্ভব নাও হতে পারে। শিশুদের স্বাভাবিক শারীরিক বৃদ্ধি, হাড়-পেশির বিকাশ, ভাষা শেখা, মনোযোগ এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা বজায় রাখতে পর্যাপ্ত থাইরয়েড হরমোন অপরিহার্য। বড়দের ক্ষেত্রেও দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি কর্মক্ষমতা, মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। তবে এসব সমস্যার অন্যান্য কারণও রয়েছে; তাই উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও ইউনিসেফ সর্বজনীন লবণ আয়োডিনযুক্তকরণকে আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধের প্রধান কৌশল হিসেবে সুপারিশ করে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে প্রায় ১৮০ কোটি মানুষের অপর্যাপ্ত আয়োডিন গ্রহণের ঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়েছে; তবে পরিসংখ্যানটি প্রতিবেদন ও সময়ভেদে পরিবর্তিত হয়। সাধারণভাবে দৈনিক আয়োডিনের চাহিদা শিশুদের ক্ষেত্রে বয়সভেদে প্রায় ৯০–১২০ মাইক্রোগ্রাম এবং কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ১৫০ মাইক্রোগ্রাম। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী নারীদের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক নির্দেশিকায় দৈনিক মোট গ্রহণের প্রায় ২৫০ মাইক্রোগ্রামের সুপারিশ রয়েছে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দেশে ১৯৮৯ সালে আয়োডিন ঘাটতিজনিত রোগ প্রতিরোধ আইন প্রণয়ন করা হয় এবং ১৯৯৪ সালে এ-সংক্রান্ত বাস্তবায়নবিধি চালু হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো ও ইউনিসেফের ২০২৫ সালের বহুমাত্রিক ক্লাস্টার জরিপে পরিবারের রান্নার লবণে আয়োডিনের উপস্থিতি পরীক্ষা করা হয়েছে। আইন ও কর্মসূচি থাকা সত্ত্বেও মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার, উৎপাদন পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ, বাজার তদারকি এবং ভোক্তা সচেতনতা নিশ্চিত করা এখনো গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত কম দামের কারণে খোলা ও আয়োডিনবিহীন লবণ কেনার প্রবণতা প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
আয়োডিনের অন্যান্য খাদ্য উৎস হলো সামুদ্রিক মাছ, চিংড়ি, দুধ, দই ও ডিম। তবে এসব খাবারে আয়োডিনের পরিমাণ উৎস ও উৎপাদনপদ্ধতিভেদে পরিবর্তিত হয়। দৈনিক চাহিদা পূরণে অনুমোদিত আয়োডিনযুক্ত লবণ পারে, তাই সঠিক সংরক্ষণ ও প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে আয়োডিনের ঘাটতি মূল্যায়নে রক্তের টি‌এস‌এইচ ও ফ্রি টি৪ পরীক্ষা, প্রয়োজনে অন্যান্য থাইরয়েড পরীক্ষা এবং থাইরয়েড গ্রন্থির আল্ট্রাসনোগ্রাফি ব্যবহার করা হয়। প্রস্রাবে আয়োডিনের মাত্রা জনগোষ্ঠীর পুষ্টিগত অবস্থা নির্ধারণের গুরুত্বপূর্ণ সূচক; তবে একবারের প্রস্রাব পরীক্ষায় ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি নিশ্চিত করা যায় না। চিকিৎসায় ঘাটতির কারণ ও তীব্রতা অনুযায়ী খাদ্যাভ্যাস সংশোধন, চিকিৎসকের পরামর্শে আয়োডিন সম্পূরক এবং হাইপোথাইরয়েডিজম হলে লেভোথাইরক্সিন দেওয়া হতে পারে। গলগণ্ড বড় হয়ে শ্বাস বা খাবার গিলতে সমস্যা সৃষ্টি করলে কিংবা অন্য চিকিৎসাগত কারণ থাকলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে। অতিরিক্ত আয়োডিনও থাইরয়েডের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে; তাই নিজে থেকে সম্পূরক গ্রহণ করা উচিত নয়।
বিশ্ব আয়োডিন ঘাটতিজনিত ব্যাধি প্রতিরোধ দিবসের মূল বার্তা হলো—প্রতিরোধযোগ্য এই পুষ্টিসংকট মোকাবিলায় সচেতনতাই সবচেয়ে বড় শক্তি। মানসম্মত আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার, উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত জনস্বাস্থ্য জরিপ এবং গর্ভবতী মা ও শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার মাধ্যমে ঘাটতিজনিত রোগের বোঝা কমানো সম্ভব। সামান্য আয়োডিনের যথাযথ জোগান একটি শিশুর মেধা, একটি পরিবারের সুস্থতা এবং একটি জাতির ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

Ads small one

আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস: দুর্বলতা নয়, সহমর্মিতা চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩২ অপরাহ্ণ
আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস: দুর্বলতা নয়, সহমর্মিতা চাই

সাকিবুর রহমান বাবলা

২২ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে পালিত হয় আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবস। তোতলামি নিয়ে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, আক্রান্ত ব্যক্তিদের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করা এবং তাদের সঙ্গে সহমর্মিতাপূর্ণ আচরণ গড়ে তোলাই এ দিবসের মূল উদ্দেশ্য। ১৯৯৮ সালে ইন্টারন্যাশনাল স্টাটারিং অ্যাসোসিয়েশন, ইন্টারন্যাশনাল ফ্লুয়েন্সি অ্যাসোসিয়েশন এবং ইউরোপিয়ান লীগ অব স্টাটারিং অ্যাসোসিয়েশনসের যৌথ উদ্যোগে দিবসটি প্রথম পালিত হয়। এর আগে ১৯৯৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের মাইকেল সুগারম্যান একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে দিবসটি পালনের প্রস্তাব দেন।

২০২৬ সালের প্রতিপাদ্য ‘তোতলামির নানা রূপ—আপনারটি কেমন?’ এই প্রতিপাদ্য মনে করিয়ে দেয়, সবার তোতলামির অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। এর প্রকাশভঙ্গি ও চ্যালেঞ্জও ভিন্ন হতে পারে। তাই তাদের অভিজ্ঞতা বোঝা, এই বৈচিত্র্যকে সম্মান করা এবং সচেতনতা বাড়ানো জরুরি। বিশ্বে প্রায় এক শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক এবং প্রায় পাঁচ শতাংশ শিশু কোনো না কোনো সময় তোতলামির সমস্যায় ভোগে। সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সে এর লক্ষণ দেখা দেয়। ছেলেদের মধ্যে এটি মেয়েদের তুলনায় প্রায় দুই থেকে তিন গুণ বেশি দেখা যায়।

তোতলামি হলো কথা বলার গতি ও স্বাভাবিক প্রবাহের একটি সমস্যা। কথা বলার সময় একই বর্ণ বা শব্দ বারবার বলা, কোনো ধ্বনি টেনে উচ্চারণ করা কিংবা হঠাৎ আটকে যাওয়া এর সাধারণ লক্ষণ। একজন ব্যক্তি মনে মনে কী বলতে চান, তা পরিষ্কারভাবে জানলেও মুখে স্বাভাবিক ছন্দে প্রকাশ করতে অসুবিধা হতে পারে। এটি বুদ্ধির ঘাটতি, অলসতা বা মানসিক দুর্বলতার লক্ষণ নয়। কথা বলার সময় মস্তিষ্কের প্রক্রিয়া ও স্নায়বিক সমন্বয়ের পার্থক্য এবং বংশগত বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে তোতলামির সম্পর্ক থাকতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় বলা হয়েছে, আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৬০ শতাংশের পরিবারে তোতলামির ইতিহাস রয়েছে।

শিশুর ভাষা শেখার দ্রুত বিকাশের সময় তোতলামি শুরু হতে পারে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে বয়স বাড়ার সঙ্গে এটি কমে যায়। আনুমানিক ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ শিশু বিকাশজনিত তোতলামি থেকে সেরে ওঠে। তবে সবার ক্ষেত্রে এমনটি হয় না। ভয়, উদ্বেগ বা মানসিক চাপ তোতলামির মূল কারণ নয়। কিন্তু এসব কারণে সমস্যা বেড়ে যেতে পারে। তাই লক্ষণ দীর্ঘদিন থাকলে, অথবা শিশুর কথা বলা, পড়াশোনা ও সামাজিক যোগাযোগে সমস্যা হলে দ্রুত স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ প্যাথলজিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

তোতলামি মোকাবিলায় স্পিচ-ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা ব্যক্তির প্রয়োজন অনুযায়ী কথা বলার কৌশল শেখান। তারা বাচনপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ এবং যোগাযোগে স্বাচ্ছন্দ্য বাড়ানোর অনুশীলনও করান। তোতলামির কারণে ভয়, লজ্জা বা উদ্বেগ তৈরি হলে কগনিটিভ বিহেভিওরাল থেরাপি সহায়ক হতে পারে। তোতলামি পুরোপুরি দূর করার জন্য সর্বজনস্বীকৃত কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে অন্য কোনো মানসিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে পারেন। ধীরে ও স্বচ্ছন্দে কথা বলার অনুশীলন, শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল, বই পড়া এবং নিজের কথা রেকর্ড করে শোনা কিছুটা সহায়ক হতে পারে। তবে এসব অনুশীলনের ফল সবার ক্ষেত্রে এক নয় এবং এগুলো পেশাদার থেরাপির বিকল্প নয়।

তোতলামি মানুষের সম্ভাবনা বা সাফল্যের পথে অনিবার্য বাধা নয়। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন শৈশবে তোতলামির অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। অভিনেতা জেমস আর্ল জোন্স, এমিলি ব্লান্ট ও রোয়ান অ্যাটকিনসন এবং সংগীতশিল্পী এড শিরানও জীবনের বিভিন্ন সময়ে বাচনগত সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের জীবন দেখায়, কোনো একটি সীমাবদ্ধতা দিয়ে মানুষের প্রতিভা ও অর্জন বিচার করা উচিত নয়। সাফল্যের জন্য তোতলামি পুরোপুরি দূর হওয়া জরুরি নয়। তোতলামি থাকলেও একজন মানুষ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জীবন ও কর্মক্ষেত্রে এগিয়ে যেতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কেউ কথা বলতে গিয়ে আটকে গেলে ধৈর্য ধরে তার কথা শুনতে হবে। মাঝপথে বাধা দেওয়া বা তার হয়ে বাক্য শেষ করে দেওয়া যাবে না। তার কথা বলার ধরন নকল করে হাসাহাসি, ব্যঙ্গ বা কটূক্তি করা বন্ধ করতে হবে। অপমানজনক নামে ডাকাও উচিত নয়। ‘আস্তে বলো’, ‘গভীর শ্বাস নাও’ বা ‘আগে ভেবে নাও’-এ ধরনের অযাচিত উপদেশ অনেক সময় তার মানসিক চাপ বাড়িয়ে দিতে পারে। বরং স্বাভাবিক চোখের যোগাযোগ রেখে তাকে কথা শেষ করার যথেষ্ট সময় দিতে হবে। শ্রেণিকক্ষ, সভা, কর্মক্ষেত্র ও সামাজিক অনুষ্ঠানে তাদের মতামত প্রকাশের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা জরুরি।

তোতলামি কারও নিজের তৈরি সমস্যা নয়। এর পেছনে জৈবিক, স্নায়বিক ও বংশগত কারণ থাকতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তিকে দোষ দেওয়া বা তার মেধা ও যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায়। শুরুতেই বিশেষজ্ঞের সহায়তা, পরিবারের সহযোগিতা এবং সমাজের গ্রহণযোগ্যতা তাদের জীবনকে সহজ করতে পারে। আন্তর্জাতিক তোতলামি সচেতনতা দিবসের শিক্ষা হোক-কথা বলার ধরন নয়, মানুষের চিন্তা, প্রতিভা ও মানবিক মূল্যবোধ দিয়েই তাকে বিচার করা উচিত। সহমর্মিতা, ধৈর্য ও সম্মানের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমাজ গড়তে পারি, যেখানে সবাই নির্ভয়ে নিজের কথা বলতে এবং নিজের মতো করে বিকশিত হতে পারে।

 

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:২১ অপরাহ্ণ
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রয়োজন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

সড়ক দুর্ঘটনা বর্তমানে একটি জাতীয় সংকটে পরিণত হয়েছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন অসংখ্য প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে এবং পরিবারগুলোকে পঙ্গু করে দিচ্ছে। এ জন্য কেবল চালকদের দায়ী না করে পুরো সড়ক ব্যবস্থাকে নিরাপদ করার ওপর জোর দিতে হবে। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য চালক, পথচারী, সরকার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিশেষজ্ঞদের যৌথ অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত প্রয়াস এবং সুদূরপ্রসারী দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রতিনিয়ত সড়ক দুর্ঘটনায় অসংখ্য প্রাণহানি এবং পঙ্গুত্ব বরণের ঘটনা শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের বিপর্যয় নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্যও একটি বড় ধাক্কা। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য কোনো একক পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; বরং সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, পরিবহন মালিক-শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে যে সকল সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন। লক্কড়ঝক্কড় ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলাচল কঠোরভাবে বন্ধ করতে হবে এবং নিয়মিত যানের পরীক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। ট্রাফিক আইন অমান্যকারী, বেপরোয়া চালক এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের জন্য দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। রাস্তায় চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনের নিয়মিত ফিটনেস পরীক্ষা নিশ্চিত করা এবং লাইসেন্সবিহীন বা ত্রুটিপূর্ণ গাড়ি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা। চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রদানের প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ, আধুনিক এবং দুর্নীতিমুক্ত করা। গতিসীমা মানা, সিটবেল্ট ও হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং মদ্যপান বা বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালানো রোধে আইন প্রয়োগ জোরদার করতে হবে।

সড়কে পর্যাপ্ত আলো, স্পষ্ট সাইনবোর্ড, জেব্রাক্রসিং এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে সড়ক ও বাঁক নির্মাণ করতে হবে। নগর পরিকল্পনা ও গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করতে হবে যাতে অতিরিক্ত ঝুঁকি কমে। মহাসড়কের বিপজ্জনক মোড় বা ব্ল্যাক স্পট চিহ্নিত করে দ্রুত সংস্কার করা এবং লেন বিভাজক (ডিভাইডার) স্থাপন করা। পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের জন্য পর্যাপ্ত ফুটওভার ব্রিজ, আন্ডারপাস এবং জেব্রা ক্রসিং তৈরি ও তা ব্যবহারে বাধ্য করা। দূরপাল্লার মহাসড়কগুলোতে ধীরগতির যানবাহন রিকশা, ভ্যান, নসিমন জন্য আলাদা সার্ভিসের লেনের ব্যবস্থা করা।

মহাসড়কে গতি নিয়ন্ত্রণ এবং বেপরোয়া ড্রাইভিং স্বয়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত করতে আইটিএস বা ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম চালু করা দীর্ঘমেয়াদে অত্যন্ত কার্যকর। গণপরিবহনে জিপিএস ট্র্যাকিং সিস্টেম বাধ্যতামূলক করা উচিত। চালকদের জন্য নিয়মিত পেশাদার প্রশিক্ষণ এবং মানসিক স্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা। চালকদের নিয়মিত চোখের পরীক্ষা করা জরুরি। দূরপাল্লার চালকদের একটানা অতিরিক্ত সময় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের সুযোগ দেওয়া জন্য মহাসড়কে বিশ্রামাগার তৈরি প্রয়োজন।

দুর্ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত রোগী স্থানান্তরের জন্য ডেডিকেটেড অ্যাম্বুলেন্স সেবা চালু রাখতে হবে। সরকারি-বেসরকারি সব হাসপাতালে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার ব্যক্তিদের প্রাথমিক ও জরুরি চিকিৎসা বিনা প্রশ্নে দেওয়া আইনিভাবে বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন।

বিদ্যালয় পর্যায় থেকেই শিশুদের ট্রাফিক নিয়ম ও সড়ক সচেতনতা বিষয়ে শিক্ষা দেওয়া। টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিয়মিত সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতামূলক ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা। সাধারণ মানুষের মধ্যে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে কেবল একটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ নয়, বরং সরকার, চালক, যাত্রী এবং সাধারণ মানুষের সমন্বিত প্রয়াস প্রয়োজন।

সড়ক নিরাপত্তা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। পরিবহন মালিক, শ্রমিক, যাত্রী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের সমন্বয়ে একটি টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করলেই কেবল সড়ক দুর্ঘটনা সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব। জাতিসংঘের দ্বিতীয় দশক কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২১-২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে সম্মিলিত প্রয়াস প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধ করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি একক কোনো কর্তৃপক্ষ বা নিয়মের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব নয়।

বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনা ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য অর্জনে একটি সুনির্দিষ্ট, কাঠামোগত এবং দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। সড়ক দুর্ঘটনা রোধে একটি সমন্বিত উদ্যোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা অত্যন্ত জরুরি, কারণ কেবল বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের মাধ্যমে সড়কে স্থায়ী শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা অসম্ভব।

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সমন্বিত প্রয়াস ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা একটি নিরাপদ ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য অপরিহার্য। সড়ক দুর্ঘটনা কেবল অসংখ্য মূল্যবান প্রাণ কেড়ে নেয় না, বরং এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকেও মারাত্মকভাবে ব্যাহত করে। তাই এই সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য সব অংশীজনদের একত্রে কাজ করা এবং একটি সুনির্দিষ্ট কৌশলগত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

শার্শায় দুই কেজি ৯০ গ্রাম স্বর্ণসহ এক পাচারকারী গ্রেপ্তার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:০৭ অপরাহ্ণ
শার্শায় দুই কেজি ৯০ গ্রাম স্বর্ণসহ এক পাচারকারী গ্রেপ্তার

বাগআঁচড়া (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শায় দুই কেজি ৯০ গ্রাম ওজনের ১৮ পিস স্বর্ণেরবার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেলসহ আলাউদ্দিন (৫২) নামে এক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর ১টা ৩০ মিনিটের সময় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন যশোরের নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন।

এর আগে একই দিন সকাল সাড়ে দশটার দিকে শার্শা থানাধীন দক্ষিণ বুরুজবাগান গ্রামস্থ প্রাইম ব্রিকস্ নামক ইটভাটা সংলগ্ন নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের উপর থেকে আলাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃত আলাউদ্দিন (৫২) উপজেলার হাড়িখালী যদুনাথপুর গ্রামের মৃত গোলাম রসুলের ছেলে।

পুলিশ জানায়, স্বর্ণের চালান পাচার হবে এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শার্শা থানা পুলিশের একটি চৌকস টিম নাভারণ-সাতক্ষীরা মহাসড়কের খাজুরা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানকালে সন্দেহভাজন ব্যক্তি আলাউদ্দিন গ্রেপ্তার করেন পুলিশ। এসময় অপর দুই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি সুকৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে গ্রেপ্তার আসামির হেফাজতে থাকা ১৮ পিস স্বর্ণেরবার ও একটি সুজুকি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়।

নাভারণ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ হোসেন জানান এঘটনায় চোরাচালান বিরোধী আইনে একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে, এবং পালাতক অপর দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান স্বর্ণের মান, আনুমানিক বাজার মূল্য নির্ধারণ ও যশোর ট্রেজারি শাখায় স্বর্ণেরবার গুলো জমা দেওয়ার বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।