সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব কোডিং দিবস: ডিজিটাল যুগে নতুন সাক্ষরতার আহ্বান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
বিশ্ব কোডিং দিবস: ডিজিটাল যুগে নতুন সাক্ষরতার আহ্বান

সাকিবুর রহমান বাবলা

প্রযুক্তিনির্ভর বর্তমান বিশ্বে কোডিং আর কেবল কম্পিউটার বিজ্ঞানী বা সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের বিষয় নয়; এটি ডিজিটাল সমাজে অংশগ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, স্বয়ংক্রিয়তা, ক্লাউড কম্পিউটিং ও ডিজিটাল সেবার দ্রুত বিস্তারের বাস্তবতায় কোডিংকে নতুন ধরনের সাক্ষরতা হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা-ইউনেস্কো। এই গুরুত্বকে সামনে রেখে প্রতিবছর ২৯ অক্টোবর বিশ্ব কোডিং দিবস পালিত হয়।

বিশ্ব কোডিং দিবসের যাত্রা শুরু হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগে। ২০২৩ সালে ইউনেস্কোর ৪২তম সাধারণ সম্মেলনে ২৯ অক্টোবরকে বিশ্ব কোডিং দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং ২০২৪ সালে প্রথমবার দিবসটি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়। তাদের সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও উদ্ভাবনে কোডিংয়ের গুরুত্ব বিবেচনায় সদস্যরাষ্ট্রগুলোকে জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ দিবস উপলক্ষে কার্যক্রম আয়োজনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

দিবসটির তারিখের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রযুক্তি-উন্নয়নের ইতিহাসও জড়িত। ২৯ অক্টোবর ১৯৯৯ তারিখে দুবাই ইন্টারনেট সিটি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচিত হয়। পরবর্তীতে এটি মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তি ও ব্যবসায়িক কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।
কোডিং হলো কম্পিউটার বা ডিজিটাল যন্ত্রকে নির্দিষ্ট কাজ করানোর জন্য প্রোগ্রামিং ভাষায় নির্দেশনা লেখা। পাইথন, জাভা, জাভাস্ক্রিপ্টসহ বিভিন্ন ভাষার মাধ্যমে তৈরি কোডের ওপর নির্ভর করে পরিচালিত হয় ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, সফটওয়্যার, গেম, তথ্যব্যবস্থা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অসংখ্য ডিজিটাল সেবা। এই কোডিং মানুষের যৌক্তিক চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকাশে সহায়তা করে। একটি জটিল সমস্যাকে ছোট ছোট ধাপে ভাগ করে সমাধান করার অভ্যাস শিক্ষা ও কর্মজীবনের নানা ক্ষেত্রেই কার্যকর। ইউনেস্কোও কোডিংকে কেবল প্রযুক্তিগত দক্ষতা নয়, বরং যুক্তি, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের ভাষা হিসেবে তুলে ধরেছে।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ কোডিংয়ের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এআই-ভিত্তিক বিভিন্ন টুল কোড লেখা, পরীক্ষা ও ত্রুটি শনাক্তকরণে সহায়তা করতে পারে। তবে কেবল এআইয়ের ওপর অন্ধনির্ভরতা নয়; বরং কোড কীভাবে কাজ করে, তার যুক্তি কী এবং এর ফলাফল নিরাপদ ও নৈতিক কিনা, তা বোঝার মৌলিক দক্ষতা অর্জন করাও জরুরি।

ইউনেস্কো বলছে, এআইয়ের যুগে কোডিং শেখা এআই সাক্ষরতা ও সমালোচনামূলক চিন্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে কোডিং শিক্ষাকে যেন কেবল মুখস্থনির্ভর না রেখে সৃজনশীল, আন্তঃবিষয়ক ও নৈতিক শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করা হয়, সেই গুরুত্বও তুলে ধরা হয়েছে।
ডিজিটাল যুগের বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রযুক্তিগত বৈষম্য। উচ্চ আয়ের দেশগুলোর শিক্ষার্থীরা কম্পিউটার বিজ্ঞান শিক্ষার সুযোগ তুলনামূলক বেশি পেলেও নি¤œ আয়ের অনেক অঞ্চলে শিক্ষক, অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ ও শিক্ষাসামগ্রীর ঘাটতি রয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লিঙ্গবৈষম্যÑঅনেক ক্ষেত্রে মেয়েরা কোডিং শেখার সুযোগ থেকে পিছিয়ে থাকে। তাই বিশ্ব কোডিং দিবসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হলোÑকোডিং শিক্ষা হতে হবে সবার জন্য সহজলভ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বিশেষ করে সুবিধাবঞ্চিত ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশু-কিশোরদের জন্য প্রশিক্ষণ, উপযুক্ত শিক্ষক এবং প্রযুক্তিগত অবকাঠামো নিশ্চিত করা জরুরি।

বাংলাদেশে তরুণদের মধ্যে প্রোগ্রামিং, সফটওয়্যার উন্নয়ন, ফ্রিল্যান্সিং, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা বিজ্ঞান ও এআই নিয়ে আগ্রহ বাড়ছে। দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও প্রযুক্তি খাতের বিভিন্ন উদ্যোগ ডিজিটাল দক্ষতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরও এগিয়ে যেতে হলে শুধু প্রচলিত কোডিং শেখানো যথেষ্ট নয়; গবেষণা, উদ্ভাবন, এআই, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা বিজ্ঞান এবং পণ্যভিত্তিক প্রযুক্তি উন্নয়নে গুরুত্ব বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কোডিং শিক্ষায় নিরাপত্তা ও নৈতিকতা অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষা, নিরাপদ সফটওয়্যার তৈরি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং মেধাস্বত্বের প্রতি সম্মানÑডিজিটাল দক্ষতার অবিচ্ছেদ্য অংশ।

বিশ্ব কোডিং দিবস তাই নিছক একটি প্রযুক্তি উদযাপনের দিন নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রযুক্তির ভোক্তা থেকে প্রযুক্তির স্রষ্টা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান। ডিজিটাল যুগে যে সমাজ তার শিশু-কিশোর ও তরুণদের যুক্তি, সৃজনশীলতা এবং প্রযুক্তিগত দক্ষতায় সমৃদ্ধ করতে পারবে, সেই সমাজই পরিবর্তনশীল বিশ্বে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে সক্ষম হবে। ২৯ অক্টোবরের এই দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয়Ñকোডিং শেখা মানে শুধু কম্পিউটারকে নির্দেশ দেওয়া নয়; বরং যুক্তি দিয়ে ভাবা, সমস্যা সমাধান করা এবং ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিকে দায়িত্বশীলভাবে নির্মাণ করার সক্ষমতা অর্জন করা।

 

Ads small one

উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:২০ অপরাহ্ণ
উত্তর প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১

ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তর প্রদেশে টানা ভারী বর্ষণ ও বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৮১ জনে পৌঁছেছে। রাজ্য সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে।

২৪ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা অধ্যুষিত ভারতের সবচেয়ে জনবহুল এই রাজ্যে জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মৌসুমী বায়ু চলাকালীন সময়ে নিয়মিতই বৃষ্টি ও বজ্রপাত হয়ে থাকে। তবে রাজ্য ত্রাণ কমিশনারের কার্যালয় থেকে রবিবার রাতে প্রকাশিত পরিস্থিতি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, অতি সম্প্রতি হওয়া ব্যতিক্রমী মাত্রার ভারী বর্ষণের ফলেই এই বিপুল প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ত্রাণ কমিশনারের প্রতিবেদনে বলা হয়, বৃষ্টি ও বন্যাজনিত নানা দুর্ঘটনায় রাজ্যের ২ হাজার ২০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৫৪টি গবাদিপশু মারা গেছে। এর পাশাপাশি প্রায় ৮১ হেক্টর আবাদি জমির ফসল নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

দুর্যোগ সংস্থার প্রতিবেদন অনুযায়ী, রবিবার উত্তর প্রদেশের ৭৫টি জেলার মধ্যে ৭৪টি জেলাতেই অস্বাভাবিক ও মাত্রাতিরিক্ত বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

সূত্র: এএফপি

ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৬ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগীদের নিয়মিত ও সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে সমাজসেবা অধিদফতর।

সমাজসেবা অধিদফতর ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর জারি করা এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় ভাতাভোগীদের নিজ নিজ মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) হিসাব, টাকাপে (TakaPay) ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে জিটুপি (G2P) পদ্ধতিতে সরাসরি ভাতার অর্থ পাঠানো হচ্ছে।

সঠিক ও প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সময়মতো ভাতার অর্থ পৌঁছানোর লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি মাসের কিস্তির অর্থ পাঠাতে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/শহর সমাজসেবা কর্মকর্তাদের নির্ভুল পে-রোল পাঠানো আবশ্যক।

নির্দেশনায় বলা হয়, প্রতি মাসের নির্ধারিত ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে পে-রোল পাঠানোর আগে উপকারভোগীদের মোবাইল ও ব্যাংক হিসাব নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংশোধন করে ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস)-এ হালনাগাদ করতে হবে।

এ ছাড়া বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী কোনও উপকারভোগীর মৃত্যু বা অন্য কোনও কারণে প্রতিস্থাপনের প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাস্তবায়ন করতে হবে।

চিঠিতে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির ভাতার অর্থ নিয়মিতভাবে পাঠানোর লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট উপজেলা/ সমাজসেবা কার্যালয় থেকে প্রতি মাসের ২০ থেকে ২৫ তারিখের মধ্যে উপকারভোগীদের নিজস্ব এমএফএস, টাকাপে ও ব্যাংক হিসাবের অনুকূলে শতভাগ নির্ভুল পে-রোল পাঠানো নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

সমাজসেবা অধিদফতরের পরিচালক (সামাজিক নিরাপত্তা) মো. মোশাররফ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রটি ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালকদের কাছে পাঠানো হয়েছে। সূত্র: বাসস

‘২ কোটির নিচে নেবো না’ বলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সেই প্রকৌশলী বরখাস্ত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:০৯ অপরাহ্ণ
‘২ কোটির নিচে নেবো না’ বলা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সেই প্রকৌশলী বরখাস্ত

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদফতরের সহকারী পরিচালক মো. কাউসার আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ার পর লক্ষ্মীপুরে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পিডিবির তদন্ত ও শৃঙ্খলা পরিদপ্তরের সহকারী পরিচালক-৩ মো. কাউসার আহমেদ অপু স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশের মাধ্যমে তাকে বহিষ্কার করা হয়।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ‘মো. নুরুল আমিন, নির্বাহী প্রকৌশলী, বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ, বিউবো, লক্ষ্মীপুর-এর বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত কথোপকথনের একটি ভিডিও গণমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালা ১৯৮২-এর ১৪১ (১) বিধির অধীনে ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিধি অনুসারে নুরুল আমিনকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো।’

পিডিবির কুমিল্লা বিতরণ অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী শেখ ফিরোজ কবির সাময়িকভাবে বরখাস্তের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনটি বলেন, ‘তাকে সাময়িক বহিষ্কারের অফিস আদেশের চিঠিটি আমি বিকালে পেয়েছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গত রবিবার রাতে নুরুল আমিনের প্রায় ৮ মিনিট ৫০ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি নিয়ে এলাকায় আলোচনা ও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে সামনে থাকা এক ব্যক্তিকে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’

ভিডিওতে তিনি একটি কাজের ব্যয় ও মালামালের হিসাব নিয়েও কথা বলেন। তাকে বলতে শোনা যায়, ‘সোজা হিসাব, ৩ লাখ টাকার ওয়ার্কে মালামাল লাগে ৩০ লাখ টাকা। তাহলে কত কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করছে। হিসাব করে দেখা যাবে ৫ কোটি টাকার মাল সে আত্মসাৎ করেছে। ৫ কোটি টাকা থেকে আমাকে ২ কোটি টাকা দেন, আমি সব সই করে দেবো।’

ভিডিওর একটি অংশে নুরুল আমিনকে বলতে শোনা যায়, ‘এসি স্যার রাজি হয়ে গেছে কোনও একটা কারণে, আমি দুই কোটি টাকা থেকে নড়বো না। ছয় কোটি টাকা তিন গুণ না, আমি দুই কোটি টাকার কমে নড়বো না। চেয়ারম্যানের কাছে যেতে হলে যাবো। দেখি চেয়ারম্যান কী কয়।’

এরপর তাকে আরও বলতে শোনা যায়, ‘একটা বিলের জন্য যদি দুই কোটি টাকা নিই, তাহলে চেয়ারম্যান কি আমার বিরুদ্ধে যাবে? আমাকে জায়গামতো পোস্টিং দেবে।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে লক্ষ্মীপুর পিডিবির দুই ঠিকাদার অভিযোগ করেন, নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিন বিভিন্ন কাজের বিল অনুমোদন ও অর্থ ছাড় করাতে ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দিলে বিল আটকে রাখা, কাজের অনুমোদন না দেওয়া কিংবা নানা ধরনের প্রশাসনিক জটিলতায় ফেলার কারণে ঠিকাদারদের কেউই তার সঙ্গে বিরোধে যেতে চান না।

অভিযোগ ও ভিডিওর বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী নুরুল আমিনের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করলেও রিসিভ করেননি। আজ দুপুর ১২টার দিকে তার কার্যালয়ে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। এ সময় কার্যালয়ে থাকা পিডিবির সহকারী প্রকৌশলী জানান, নুরুল আমিন সকাল থেকেই কার্যালয়ে আসেননি।

এ ছাড়া নির্বাহী প্রকৌশলীর নুরুল আমিনের বিরুদ্ধে মিটার সংযোগ ও লাইন নির্মাণ এবং মেরামতকাজে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন একাধিক গ্রাহক।