বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

বিশ্ব গিরগিটি দিবস: প্রকৃতির রঙিন দূত, বিজ্ঞানের বিস্ময় ও পরিবেশের নীরব রক্ষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৩২ অপরাহ্ণ
বিশ্ব গিরগিটি দিবস: প্রকৃতির রঙিন দূত, বিজ্ঞানের বিস্ময় ও পরিবেশের নীরব রক্ষক

সাকিবুর রহমান বাবলা
প্রতি বছর ১৪ আগস্ট বিশ্ব গিরগিটি দিবস পালিত হয়। এই দিনটি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণিরই একটি স্বতন্ত্র ভূমিকা রয়েছে। গিরগিটি এমনই এক প্রকৃতির বিস্ময়কর প্রাণি, যাকে আমরা প্রায়ই সাধারণ চোখে দেখি, কিন্তু যার অস্তিত্বের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জীববৈচিত্র্য, পরিবেশের ভারসাম্য, কৃষি, বিজ্ঞান এবং ভবিষ্যৎ চিকিৎসাবিজ্ঞানের সম্ভাবনা। পৃথিবীর নানা সংস্কৃতিতে গিরগিটি অভিযোজন, ধৈর্য এবং পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। প্রকৃতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতার কারণে এটি বিজ্ঞানীদের কাছেও এক আকর্ষণীয় গবেষণার বিষয়।
পৃথিবীতে ৬ হাজারেরও বেশি প্রজাতির গিরগিটি ও গিরগিটি-জাতীয় সরীসৃপ রয়েছে। অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া প্রায় সব মহাদেশেই এদের বিচরণ দেখা যায়। অস্ট্রেলিয়াকে গিরগিটি বৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান আবাসভূমি হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে শত শত প্রজাতির সরীসৃপ বাস করে। অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ার কোমোডো ড্রাগন পৃথিবীর বৃহত্তম জীবিত গিরগিটি, যা প্রায় ৩ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, কোমোডো ড্রাগনের বিবর্তনীয় ইতিহাস লক্ষ বছর পুরোনো এবং এটি পৃথিবীর প্রাচীন সরীসৃপ বিবর্তনের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিনিধি।
গিরগিটির সবচেয়ে বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য হলো পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা। অনেক প্রজাতি প্রয়োজনে শরীরের রঙ পরিবর্তন করতে পারে। এটি কেবল আত্মরক্ষার জন্য নয়; তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, যোগাযোগ, সঙ্গী নির্বাচন এবং আবেগ প্রকাশের সঙ্গেও সম্পর্কিত। প্রকৃতির এই রঙিন রং বদলানো ভাষা আজও বিজ্ঞানীদের বিস্মিত করে। একই সঙ্গে অনেক প্রজাতি বিপদের সময় দ্রুত দৌড়াতে পারে, শরীর ফুলিয়ে বড় দেখাতে পারে অথবা শত্রুর দৃষ্টি ভিন্নদিকে সরিয়ে আত্মরক্ষা করতে পারে।
গিরগিটির আরেকটি বিস্ময়কর ক্ষমতা হলো লেজ পুনর্গঠন। আক্রমণের মুখে অনেক প্রজাতি স্বেচ্ছায় লেজ বিচ্ছিন্ন করে পালিয়ে যেতে পারে যদিও কয়েকবারের জন্য। পরে বিশেষ ধরনের স্টেম সেল ও জিনগত সংকেতের মাধ্যমে নতুন লেজ গজিয়ে ওঠে। এই প্রক্রিয়া চিকিৎসা বিজ্ঞানে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, গিরগিটির পুনর্জন্ম ক্ষমতা মানুষের ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু, তরুণাস্থি এবং স্নায়ুতন্ত্র পুনর্গঠনের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিভিন্ন গবেষণায় অস্টিওআর্থ্রাইটিস, মেরুদ-ের আঘাত এবং পুনর্জন্মভিত্তিক চিকিৎসা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে গিরগিটির জৈবিক রহস্যকে অনুসরণ করা হচ্ছে।
প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গিরগিটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তারা মশা, মাছি, ফড়িং, তেলাপোকা, উইপোকা এবং কৃষির জন্য ক্ষতিকর বহু কীটপতঙ্গ খেয়ে থাকে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে পোকামাকড়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। পরিবেশবান্ধব কৃষি বা জৈব চাষাবাদে গিরগিটি এক নীরব সহযোগী। রাসায়নিক কীটনাশকের পরিবর্তে প্রাকৃতিক শিকারি হিসেবে তারা কৃষকদের সহায়তা করে এবং পরিবেশ দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখে। এ কারণে অনেক পরিবেশবিদ গিরগিটিকে প্রকৃতির “জীবন্ত কীটনাশক” বলে আখ্যায়িত করেন।
প্রকৃতির খাদ্যশৃঙ্খলেও গিরগিটির গুরুত্ব অপরিসীম। তারা যেমন পোকামাকড় খায়, তেমনি নিজেরাও পাখি, সাপ এবং অন্যান্য প্রাণীর খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ফলে গিরগিটির সংখ্যা কমে গেলে পুরো বাস্তুসংস্থানের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। একটি সুস্থ পরিবেশে প্রতিটি প্রাণীর মতো গিরগিটিও একটি অপরিহার্য কড়ি।
বাংলাদেশে গিরগিটি ও গিরগিটি-জাতীয় সরীসৃপের বৈচিত্র্য উল্লেখযোগ্য। সাধারণ বাগান গিরগিটি, রক্তচোষা, তক্ষক এবং বিভিন্ন প্রজাতির গোসাপ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে দেখা যায়। সুন্দরবন, সিলেট, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনাঞ্চল এসব সরীসৃপের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। তবে বন উজাড়, আবাসস্থল ধ্বংস, দূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং অবৈধ বন্যপ্রাণি বাণিজ্যের কারণে অনেক প্রজাতি হুমকির মুখে রয়েছে। বাংলাদেশের বন্যপ্রাণি (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন, ২০১২ এসব প্রাণির সুরক্ষার আইনি ভিত্তি প্রদান করেছে। জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় তাদের আবাসস্থল সংরক্ষণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুঃখজনকভাবে, গিরগিটি নিয়ে এখনও সমাজে নানা কুসংস্কার ও ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই তাদের অশুভ বা ক্ষতিকর মনে করেন। বাস্তবে অধিকাংশ গিরগিটি মানুষের জন্য সম্পূর্ণ নিরীহ এবং পরিবেশের জন্য উপকারী। তাই গিরগিটি সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ছড়িয়ে দেওয়া এবং শিশু-কিশোরদের মধ্যে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের চেতনা গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্ব গিরগিটি দিবস আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়—প্রকৃতির কোনো প্রাণীই অপ্রয়োজনীয় নয়। গিরগিটি শুধু রঙ বদলানো এক বিস্ময়কর সরীসৃপ নয়; এটি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষাকারী, কৃষির সহায়ক, জীববৈচিত্র্যের প্রতিনিধি এবং আধুনিক গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এই নীরব প্রাণিদের সংরক্ষণ করা মানে পরিবেশ, খাদ্যনিরাপত্তা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুস্থ ও টেকসই পৃথিবী নিশ্চিত করা। তাই গিরগিটি দেখলে অকারণে ক্ষতি না করা, ঝোপঝাড় বা প্রাকৃতিক আবাসস্থল পরিষ্কারের সময় সতর্ক থাকা এবং অপ্রয়োজনীয় রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার কমানোর মতো ছোট ছোট উদ্যোগও তাদের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশ্ব গিরগিটি দিবসে অঙ্গীকার হোক—প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণির প্রতি সম্মান, সহাবস্থান ও সংরক্ষণের সংস্কৃতি গড়ে তোলা।

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে ৩৩৯ কোটি টাকা চুক্তিতে মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বর্তমানে প্রকল্পের মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁক সোজা করার কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার মূল কাজ অর্ধেকের কম হয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলোবালি ও খানাখন্দে যানবাহনের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি লাগছে। বিশেষ করে রোগী, পরীক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াতে চরম বিঘœ ঘটছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণাও নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান।