সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্ব বসতি দিবস: সবার জন্য নিরাপদ আবাসনের অঙ্গীকার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৪৩ অপরাহ্ণ
বিশ্ব বসতি দিবস: সবার জন্য নিরাপদ আবাসনের অঙ্গীকার

সাকিবুর রহমান বাবলা

একটি নিরাপদ ঘর শুধু ইট-পাথরের কাঠামো নয়; এটি মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক জীবনের ভিত্তি। অথচ আজও বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পর্যাপ্ত আবাসনের বাইরে। এই বাস্তবতায় প্রতি বছর অক্টোবরের প্রথম সোমবার পালিত হয় বিশ্ব বসতি দিবস। ২০২৬ সালে দিবসটি পালিত হচ্ছে ৫ অক্টোবর, এর প্রতিপাদ্য ‘সবার জন্য পর্যাপ্ত বাসস্থান’। এ বছরের বৈশ্বিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ওমানের মাস্কাটে।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৮৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর ৪০/২০২ রেজুলেশনের মাধ্যমে অক্টোবরের প্রথম সোমবারকে বিশ্ব বসতি দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ১৯৮৬ সালে কেনিয়ার নাইরোবিতে প্রথম দিবসটি পালিত হয়; প্রতিপাদ্য ছিলÑ‘আশ্রয় আমার অধিকার’। দিবসটির উদ্দেশ্য ছিল মানুষের বসবাসের পরিবেশের অবস্থা পর্যালোচনা করা এবং সবার জন্য পর্যাপ্ত আশ্রয়ের মৌলিক অধিকার সম্পর্কে বিশ্ববাসীকে সচেতন করা।

বর্তমানে আবাসন সংকটের ব্যাপ্তি আরও গভীর। ইউএন হ্যাবিট্যাট ওয়ার্ল্ড সিটিজ রিপোর্ট ২০২৬ অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৩.৪ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ ও পর্যাপ্ত আবাসনের কোনো না কোনো ঘাটতিতে রয়েছে। এর মধ্যে এক বিলিয়নের বেশি মানুষ অনানুষ্ঠানিক বসতি ও বস্তিতে বসবাস করছে। ২০২৩ সালে বৈশ্বিক আবাসন ঘাটতি প্রায় ২৮৮ মিলিয়ন ইউনিটে পৌঁছেছে। অপর্যাপ্ত আবাসনের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে অনিরাপদ জমির মালিকানা, অতিরিক্ত ভিড়, মৌলিক সেবার ঘাটতি, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি।

এই সংকটের পেছনে রয়েছে দ্রুত ও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, আয়-বৈষম্য, আবাসন ও জমির উচ্চমূল্য, দারিদ্র্য, যুদ্ধ-সংঘাত, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, নদীভাঙন, খরা ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির মতো দুর্যোগ মানুষের ঘরবাড়ি ও জীবিকার ওপর সরাসরি আঘাত করছে। ফলে আবাসন এখন কেবল নগর পরিকল্পনার বিষয় নয়; এটি দারিদ্র্য হ্রাস, জলবায়ু সহনশীলতা, জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত।

বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দ্রুত নগরায়ণ, গ্রাম থেকে শহরে কর্মসংস্থান ও সেবার সন্ধানে মানুষের আগমন এবং জলবায়ুজনিত বাস্তুচ্যুতি শহরাঞ্চলে আবাসনের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে। ইউএন হ্যাবিট্যাট-এর বাংলাদেশ-সংক্রান্ত তথ্যে দীর্ঘদিন ধরেই নগর দরিদ্র ও অনানুষ্ঠানিক বসতিতে বসবাসকারীদের জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের ঘাটতিকে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণ এবং বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ করতে হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জনশুমারি ও গৃহগণনা ২০২২ আবাসন পরিস্থিতি বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভিত্তি। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের তথ্যেও বস্তি ও ভাসমান পরিবারের উপস্থিতি স্পষ্ট; তাই আবাসন পরিকল্পনায় শুধু বাড়ির সংখ্যা নয়, বাসস্থানের মান, নিরাপত্তা, নাগরিক সুবিধা ও ভাড়ার সক্ষমতাকেও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। এছাড়া সরকারি খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে কিছুটা হলেও সহায়ক ভূমিকা পালন করা যেতে পারে।

বিশ্ব বসতি দিবসের তাৎপর্য এখানেইÑমানুষকে শুধু একটি ছাদ দেওয়া নয়, বরং নিরাপদ, সাশ্রয়ী, স্বাস্থ্যসম্মত, টেকসই ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার এসডিজি ১১-এর লক্ষ্যও হলো শহর ও মানববসতিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সংকটসহনশীল ও টেকসই করে তোলা। ২০২৬ সালের জাতিসংঘের মূল্যায়ন বলছে, এই লক্ষ্য অর্জনে বিশ্ব এখনও প্রয়োজনীয় গতিতে এগোতে পারেনি।

এ অবস্থায় সরকারের দায়িত্ব হলো সাশ্রয়ী আবাসন, পরিকল্পিত নগরায়ণ, নিরাপদ ভূমি-ব্যবস্থা, পানি ও স্যানিটেশন, পরিবহন এবং দুর্যোগসহনশীল অবকাঠামোকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় আনা। নি¤œআয়ের মানুষের জন্য আবাসন প্রকল্প, বস্তি উন্নয়ন ও পুনর্বাসন কার্যক্রমে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে ইউএন হ্যাবিট্যাট, স্থানীয় সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, গবেষণা সংস্থা ও নাগরিক সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। ইউএন হ্যাবিট্যাট-ও জাতীয় সরকারকে সবার জন্য পর্যাপ্ত আবাসনের নীতি ও কৌশল প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে নেতৃত্ব দেওয়ার আহ্বান জানায়।

১৯৮৯ সাল থেকে ইউএন হ্যাবিট্যাট স্ক্রোল অব অনার অ্যাওয়ার্ড প্রদান করে আসছে মানব বসতি ও নগরজীবনের মানোন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে। এটিও দেখিয়ে দেয়Ñআবাসন নিশ্চিত করা শুধু সরকারের দায়িত্ব নয়; ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ।

পরিশেষে বলা যায়, একটি সুন্দর শহর মানেই শুধু উঁচু ভবন, প্রশস্ত সড়ক কিংবা আধুনিক অবকাঠামো নয়; সুন্দর শহর হলো যেখানে প্রত্যেক মানুষের নিরাপদে থাকার জায়গা আছে, যেখানে বস্তি ও প্রান্তিক মানুষ উন্নয়নের বাইরে পড়ে থাকে না এবং যেখানে আবাসন মানুষের মর্যাদার সঙ্গে যুক্ত থাকে। বিশ্ব বসতি দিবস তাই কেবল একটি দিবসের আনুষ্ঠানিকতা নয়Ñএটি সবার জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করার বৈশ্বিক অঙ্গীকারকে নতুন করে স্মরণ করার দিন।

 

 

Ads small one

দেবহাটায় সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে মন্দিরের জমি দখলের হুমকি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
দেবহাটায় সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে মন্দিরের জমি দখলের হুমকি

সংবাদদাতা: জমি দখল করতে ৮৯ বছরের মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে সংখ্যলঘুদের হুমকি দেওয়া হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টার দিকে সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দিরের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
পাইকাড়া সার্বজনীন কালীমাতা ও রাধা গোবিন্দ মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অনিমেষ কুমার রায় জানান, ব্রিটিশ শাসনামলে জমিদার কৃষ্ণকিশোর বন্দোপাধ্যায় সিএস ৩২ খতিয়ানের ২৭৮৫ দাগের এক একর জমিতে ১৯৩৭ সালে এ মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। একতলা বিশিষ্ঠ মন্দিরের বারান্দার চারিধারে বাঁশের চটার রেলিং রয়েছে। মন্দিরের পূর্ব পাশে পাকা প্রাচীর দেওয়া ছিলো। মন্দিরের জায়গাটুকু বাদ দিয়ে বাকী জমিতে ক’টি মাছের ঘের রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তারা ওই মন্দিরে পুজা অর্চনা ছাড়াও ঘেরে গলদা, বাগদা, রুই , কাতলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করে আসছেন। ওই জমি ক্রয়সূত্রে দাবি করে বাবর আলী ফকির আদালতে দেঃ ১/৯৫ মামলা করলে ১৯৯৬ সালের ৩ এপ্রিল তা খারিজ হয়ে যায়।
অনিমেষ কুমার রায় আরো জানান, সম্প্রতি মন্দিরের ৯৯ শতক জমির মধ্যে ৮৫ শতক জমি মাটিকুমড়া গ্রামের কলিমউদ্দিনের ছেলে আজিবর রহমান ও মুজিবর রহমানের কাছ থেকে পাইকাড়া গ্রামের বাবুরালী গাজীর ছেলে মাহামুদুল হাসান, জামাল ফারুক ও জামাল ফারুকের স্ত্রী রওশানারা খাতুন কিনেছেন দাবি করে মন্দির কর্তৃপক্ষকে জমি ছেড়ে দিতে বলে। প্রস্তাবে রাজী না হওয়ায় ওই জমি দখলে নেওয়ার হুমকি দেয় বাবুরালী গাজী ও তার ছেলেরা। বাধ্য হয়ে তার (অনিমেষ) জ্যাঠাত ভাই তপন রায় বাদি হয়ে গতবছরের ৬ মার্চ সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে পিটিশন ৩৩৩/২৫ নং মামলা দায়ের করেন। মামলায় বাবুরারী গাজীসহ তার ছেলে মাহামুদুল হাসান, জামাল ফারুক ও জামাল ফারুকের স্ত্রী রওশানারাসহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৫ মার্চ গভীর রাতে জনাব আলী গাজীর ছেলে বাবুরালী গাজীর নেতৃত্বে তার ছেলে জামাল ফারুক, মাহামুদুল হাসান, নজরুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫/৪০ জন সন্ত্রাসী হাতে দা, লাঠি, শাবল, লোহার রড, বাঁশের লাঠি নিয়ে মন্দিরের চারিপাশের বাঁশের বেড়া ও পূর্ব পাশের ইটের প্রাচীর ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পরে তারা বেড় জাল দিয়ে গলদা ও বাগদাসহ বিভিন্ন প্রজাতির লক্ষাধিক টাকার মাছ লুটপাট করে। ভাংচুর ও লুটপাটে বাধা দেওয়ায় তিনজন নারীসহ ছয়জনকে পিটিয়ে জখম করা হয়। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে মীমাংসা করে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে গতবছরের ১৫ জুলাই মন্দিরের পুকুর ও ঘের থেকে তাদের চাষকৃত মাছ ধরে নিলে জামাল ফকির বাদি হয়ে আদালতে সিআরপি-১৪৬/ ২৬ নং মামলা করা হয়। মামলায় হীরুলাল,প্রভাস রায়সহ চারজনকে বিবাদী করা হয়।পিবিআই কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান দুটি দলিলের ফটোকপি মূলে জালাল ফারুক ৫৮০৩ দাগের ৩৫ শতক জমি দাবি করলেও ওই জমি ও পুকুরে বিবাদীগণ মাছ চাষ ও বিক্রি করে বলে উল্লেখ করেন। এরপরও তিনি ভূমি অপরাধ প্রতিকার ও প্রতিকার আইনের তিনটি ধারায় ও পেনাল কোর্ড এর ১৪৩ ও ৫০৬ ধারা উল্লেখ করে প্রতিবেদন দিলে সমন পেয়ে সোমবার আদালত থেকে জামিন নেন। এতে ক্ষুব্ধ জামাল ফারুক, মহিদ, বাবর আলী, মিন্টু, এলা ঢালীসহ ১০/১২ জন সোমবার বিকেলে মন্দিরের সাইনবোর্ড তুলে নিয়ে জমি জবরদখলের হুমকি দিয়ে চলে যায়। ৯৯৯ এ ফোন দিলে দেবহাটা থানার উপপরিদর্শক বিপ্লবের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পাইকাড়া গ্রামের জামাল ফারুক বলেন, জমি কিনেছেন তাই দখল করতে সাইনবোর্ড তুলে ফেলেছেন।
দেবহাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহীন আলম জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১:০০ পূর্বাহ্ণ
আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ ৫ জনকে কুপিয়ে জখমের অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরায় পূর্বশত্রুতার জের ধরে এক আইনজীবীর স্ত্রী ও শালিকাসহ পাঁচজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। ৫ অক্টোবর বিকেলে পুরাতন সাতক্ষীরা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত গৃহবধূ সোনিয়া আফরিন (৩০) ও তাঁর বোন সাফিও খাতুনকে (৩২) সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোনিয়া আফরিনের স্বামী আইনজীবী মো. সাইফুল্লাহ গণী বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
মামলার এজাহার ও বাদীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ এপ্রিল সকালে পুরাতন সাতক্ষীরা মাদ্রাসাপাড়া এলাকার ফারুক হোসেন, তাঁর স্ত্রী উম্মে কুলসুম, ছেলে ফাহিম ও রবিউল ইসলামসহ আসামিরা বাদীর বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালান। ওই ঘটনায় ৩ মে আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলা করা হলে আদালতের নির্দেশে পরদিন সদর থানা পুলিশ সেটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করে। ওই মামলার জের ধরে আসামিরা ক্ষুব্ধ হয়ে বাদী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের ক্ষতিসাধনের চেষ্টা করতে থাকেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর বিকেল পাঁচটার দিকে সোনিয়া আফরিন ও তাঁর বড় বোন সাফিয়া খাতুন বাড়ির সামনের রাস্তায় বের হলে ওত পেতে থাকা আসামিরা ধারালো দা, লোহার রড ও শাবল নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালান। হামলায় সোনিয়া ও সাফিয়া গুরুতর জখম হন। এ সময় তাঁদের বাঁচাতে এগিয়ে এলে মিজান ও মইনুল ইসলামকে পিটিয়ে জখম করা হয়। বাধা দিতে গেলে মিজানের স্ত্রী মমতাজকেও (৩০) লোহার রড দিয়ে পেটানো হয়। এ ছাড়া হামলাকারীরা সোনিয়া আফরিনের গলা থেকে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে আসামিরা স্থান ত্যাগ করেন। গুরুতর আহত সোনিয়া আফরিন ও সাফিয়া খাতুনকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে মমতাজ, মিজান ও মইনুল ইসলামকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, ঘটনাটিতে থানায় মামলা করা হয়েছে এবং পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে।

আশাশুনিতে নবাগত ওসি শাহিদুর রহমানের যোগদান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে নবাগত ওসি শাহিদুর রহমানের যোগদান

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে নবাগত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হিসেবে যোগদান করেছেন শাহিদুর রহমান। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তিনি আশাশুনি থানায় যোগদান করেন। আশাশুনিতে ওসি হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি সাতক্ষীরা সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। পাশাপাশি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি’র দায়িত্বে ছিলেন। নবাগত অফিসার ইনচার্জ যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার কৃতি সন্তান। (ওসি) শাহিদুর রহমান ২০১২ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। নবাগত (ওসি) সোমবার বিকাল ৪টায় আশাশুনি থানায় পৌঁছে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই লক্ষণ চন্দ্র দাসের কাছ থেকে চার্জ বুঝিয়ে নেন। এসময় থানার এসআই ফিরোজ আলম, আনজির হোসেন, কামরুল ইসলাম কাছেদ মুন্সী, মিনহাজ উদ্দিনসহ পুলিশ সদস্যরা নবাগত ওসিকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। যোগদানের পর ওসি শাহিদুর রহমানের বলেন, পুলিশ ও জনতার সম্পর্ক হবে বন্ধুর মতো। জনসাধারণের যে কোনো প্রয়োজনে পুলিশ সহায়তা দিতে বদ্ধপরিকর। আশাশুনি থানা এলাকায় সকল অপরাধমূলক কর্মকা-সহ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম কর্মীসহ সকল শ্রেণীপেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তিনি।