বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সেই যুগ্মসচিব সন্তানকে মোংলা বন্দর থেকে প্রত্যাহার

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১০:৪৭ অপরাহ্ণ
মায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সেই যুগ্মসচিব সন্তানকে মোংলা বন্দর থেকে প্রত্যাহার

রাজধানীর মিরপুরে নুরুজাহান বেগম নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্মসচিব) এ কে এম আনিসুর রহমানকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আনিসুর রহমানকে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বর্তমান কর্মস্থল থেকে অবমুক্ত হয়ে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে। অন্যথায় বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) বলে গণ্য করা হবে।

সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরে একটি বাসা থেকে নুরুজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। একা বসবাসরত ওই বৃদ্ধার মৃত্যুর ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ঘটনার পর অভিযোগ ওঠে, সন্তানরা আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও বৃদ্ধা মায়ের যথাযথ দেখাশোনা করেননি। নুরুজাহান বেগমের এক ছেলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (যুগ্মসচিব) একেএম আনিসুর রহমান, আরেক ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষক, একজন ছেলে কানাডা প্রবাসী এবং এক মেয়ে ঢাকার একটি স্কুলের শিক্ষক।

উল্লেখ্য, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী সক্ষম সন্তানদের জন্য পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক।

মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি প্রথমে অস্বীকার করেছিলেন আনিসুর রহমান

রাজধানীর মিরপুরে বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের পচাগলা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের দাবি, সরকারের যুগ্মসচিব ও মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য এ কে এম আনিসুর রহমান প্রথমে নুরজাহান বেগমকে নিজের মা হিসেবে স্বীকার করেননি। পরে তিনি বিষয়টি স্বীকার করেন।

বুধবার সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান কমডোর মো. শফিকুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন, আনিসুর রহমান প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করেছিলেন। পরে তিনি স্বীকার করেন নুরজাহান বেগম তার মা এবং তিনি মারা গেছেন।

সামাজিক অবক্ষয়ের প্রতিচ্ছবি?

পরিবারের সদস্যরা উচ্চশিক্ষিত ও সামাজিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরও একজন মায়ের এমন নিঃসঙ্গ ও মর্মান্তিক মৃত্যু মানবিক দায়বোধ এবং পারিবারিক মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ঘটনা সামাজিক অবক্ষয়ের উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাতেমা রেজিনা ইকবাল বলেন, ‘অনেকেই এখন ক্যারিয়ার ও ব্যক্তিগত উন্নতির পেছনে এতটাই ব্যস্ত হয়ে পড়ছেন যে মা-বাবার প্রতি দায়িত্ববোধের বিষয়টি উপেক্ষিত হচ্ছে। মা-বাবার লালন-পালন ছাড়া কেউ আজকের অবস্থানে পৌঁছাতে পারতেন না—এই উপলব্ধিও অনেকের মধ্যে কাজ করছে না। স্বার্থ, পদোন্নতি, ক্যারিয়ার ও করপোরেট সংস্কৃতির প্রভাবে মানুষ ক্রমেই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘সমাজে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ কার্যকরভাবে প্রয়োগ করতে হবে। একইসঙ্গে পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানোও জরুরি।’

হাইকোর্টে রিট

এদিকে, নুরজাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।

রিটে ৭৫ বছর বয়সী এই বৃদ্ধার মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে কিনা, তা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। বুধবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শরীফ সরকার জনস্বার্থে এ রিট দায়ের করেন। রিটের পক্ষে রয়েছেন ব্যারিস্টার এইচ এম সানজিদ সিদ্দিকী।

Ads small one

লিচুর সঙ্গে ভুলেও খাবেন না যে ধরনের ওষুধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:২৫ পূর্বাহ্ণ
লিচুর সঙ্গে ভুলেও খাবেন না যে ধরনের ওষুধ

 

লিচু একটি সুস্বাদু ও জনপ্রিয় ফল হলেও কিছু নির্দিষ্ট ধরনের ওষুধের সঙ্গে এটি খাওয়া স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, লিচুর সঙ্গে কিছু খাবার ও ওষুধ একসঙ্গে গ্রহণ করলে পুষ্টি শোষণে সমস্যা, হজমের গোলমাল বা ওষুধের কার্যকারিতায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই লিচু খাওয়ার আগে এর কিছু সংযম মেনে চলা জরুরি।

সাধারণভাবে লিচু খাওয়ার দুই ঘণ্টা আগে এবং পরে কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ এড়িয়ে চলা ভালো বলে জানাচ্ছে বিভিন্ন গবেষণা।

যেসব ওষুধের সঙ্গে লিচু খাওয়া উচিত নয়
কিছু ওষুধের সঙ্গে লিচু খেলে ওষুধের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে বা শরীরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।

প্যারাসিটামল ট্যাবলেট: এই ওষুধ জ্বর ও ব্যথা কমাতে ব্যবহৃত হয়। লিচুর উচ্চ চিনি উপাদান ওষুধের শোষণ ও বিপাক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে, ফলে কার্যকারিতা কমে যেতে পারে।

মেটফরমিন (সাস্টেইন্ড রিলিজ ট্যাবলেট): এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত একটি সাধারণ ওষুধ। লিচুতে প্রাকৃতিক চিনি বেশি থাকায় রক্তে শর্করা বাড়তে পারে। ফলে ওষুধের নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে এবং রক্তে শর্করার ওঠানামা দেখা দিতে পারে।

ডমপেরিডোন ট্যাবলেট: এটি হজম ও পাকস্থলীর কার্যকারিতা বাড়াতে ব্যবহৃত হয়। লিচুর মিষ্টতা ওষুধের তিক্ত স্বাদ কমিয়ে দিতে পারে, যার ফলে এর স্বাভাবিক প্রভাব কমে যেতে পারে।

ভিটামিন কে১ ইনজেকশন: এটি রক্ত জমাট বাঁধার সমস্যায় ব্যবহৃত হয়। লিচুর ভিটামিন সি কিছু ক্ষেত্রে রক্ত পাতলা করার প্রভাব ফেলতে পারে, যা ওষুধের কার্যকারিতার সঙ্গে বিরোধ তৈরি করতে পারে।

অ্যাসপিরিন ট্যাবলেট: এই ওষুধ ব্যথা, জ্বর এবং রক্ত জমাট বাঁধা রোধে ব্যবহৃত হয়। লিচুর অ্যাসিড পাকস্থলীর অম্লতা বাড়াতে পারে, যার ফলে ওষুধ দ্রুত শোষিত হয়ে পেটের অস্বস্তি বা রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
লিচু খাওয়ার ক্ষেত্রে ওষুধের এই পারস্পরিক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন। বিশেষ করে যারা নিয়মিত ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের জন্য লিচু খাওয়ার আগে সময় ও পরিমাণ সম্পর্কে সতর্ক হওয়া জরুরি।

যদি নির্দিষ্ট ওষুধ চলাকালীন লিচু খেতেই হয়, তবে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে খাদ্য ও ওষুধের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হয় এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে।

অবশ্যই যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করুন।

লিচু পুষ্টিকর এবং উপকারী ফল হলেও কিছু খাবার ও ওষুধের সঙ্গে এটি একসঙ্গে গ্রহণ করা উচিত নয়। সঠিক নিয়ম মেনে খেলে লিচুর উপকারিতা পাওয়া যায়, আর অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়িয়ে চলা সম্ভব হয়।

সূত্র: কাইনিয়াও হেল্থ

প্রাথমিকে ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্তের নির্দেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
প্রাথমিকে ১৪,৩৮৪ সহকারী শিক্ষক নিয়োগ চূড়ান্তের নির্দেশ

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত নিয়োগ কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (৩ জুন) মন্ত্রণালয়ের উপসচিব রাজীব কুমার সরকার স্বাক্ষরিত বিদ্যালয়-২ শাখা থেকে জারি করা স্মারকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়, চূড়ান্ত নিয়োগের আগে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে পূর্ব কার্যকলাপ এবং জমা দেওয়া কাগজপত্র ও ডকুমেন্টসের সত্যতা যাচাই করতে হবে।

নিয়োগের জন্য নির্বাচিত প্রার্থীদের সম্পর্কে জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) প্রতিবেদন সংগ্রহ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদায়নের আগে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের প্রাথমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) দুই মাস মেয়াদি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করতে হবে। পুলিশি তদন্ত, এনএসআই প্রতিবেদন এবং দুই মাসের প্রশিক্ষণ সন্তোষজনক হওয়া সাপেক্ষে নিয়োগপ্রাপ্তদের চাকরিতে যোগদান করানো হবে।

তবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগ বিধিমালা-২০২৫ এর সব শর্ত পূরণ সাপেক্ষে চাকরির দুই বছর পর তাদের স্থায়ীকরণ করা হবে।

ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
ইউএনওকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানার অভিযোগ

সিলেটের ওসমানীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মুনমুন নাহার আশাকে ‘আপা’ সম্বোধন করায় বনফুল অ্যান্ড কোম্পানির একটি আউটলেটকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৯ মে ঈদের পরদিন বিকেলে ওসমানীনগর উপজেলার তাজপুর বাজারে এ ঘটনাটি ঘটে।

তবে ঘটনা সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং সাজানো বলে দাবি করেছেন ইউএনও। তিনি বলেছেন, এমন অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা। আপা সম্বোধন করা কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ নয়, বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এমন প্রচার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সেদিন নিজের মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে সাধারণ ক্রেতার বেশে তাজপুর বনফুল শাখায় যান ইউএনও মুনমুন নাহার আশা। ইউএনও দোকানের কর্মচারী আব্দুল মান্নানের কাছে প্রথমে চকলেট আইসক্রিম চান। সেটি না থাকায় ইউএনও মিষ্টির কাউন্টারে গিয়ে বিভিন্ন ধরনের মিষ্টির দাম ও মান জানতে চান। এ সময় আব্দুল মান্নান তাকে ‘আপা’ সম্বোধন করে মিষ্টিগুলো শুকনো এবং দুদিনের পুরোনো বলে জানান।

‘আপা’ সম্বোধন করায় ইউএনও ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুল মান্নানকে বলেন, ‘তুমি আমাকে চিনো? আমাকে আপা ডাকছ কেন? আমি ম্যাজিস্ট্রেট।’ এরপর তিনি ম্যানেজারকে ডেকে এনে বাসি খাবার বিক্রির অভিযোগে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।

আব্দুল মান্নানের দাবি, একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়। তিনি প্রথমে স্বাক্ষর করতে অস্বীকৃতি জানান। তখন ছয় মাসের জেল ও আরও বেশি জরিমানার ভয় দেখিয়ে তার কাছ থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

এই বিষয়ে আব্দুল মান্নান সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) তাহসিনা রুশদীর লুনার শরণাপন্ন হন এবং বিষয়টি দেখার অনুরোধ জানান।

আব্দুল মান্নান বলেন, আমি ২৬ বছর ধরে বনফুলে চাকরি করছি। চাকরি জীবনে অনেক ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি, কিন্তু এমন ঘটনার সম্মুখীন কখনও হইনি। আমার কাছে পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত মনে হয়েছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পর তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তবে উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মীদের হস্তক্ষেপে তার চাকরি রক্ষা পায়। বর্তমানে তাকে বনফুলের সিলেট কারখানায় বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি ৫০ হাজার টাকার জরিমানার অর্থ তার বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে বলে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ তাকে জানিয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সভাপতি এস টি এম ফখর উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগী ব্যক্তি বিষয়টি নিয়ে সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনার কাছে গিয়েছিলেন। এমপি উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনেছেন। তবে ঘটনার বিস্তারিত জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করাই সমীচীন হবে।

তবে ‘আপা’ সম্বোধন করায়ই যে জরিমানা করা হয়েছে, এমন দাবি সরাসরি অস্বীকার করেন বনফুল তাজপুর শাখার ব্যবস্থাপক সুহেল বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘ঘটনার সময় আমি বাইরে ছিলাম। মান্নান ম্যাডামকে চিনতে পারেননি। তার আচরণে ইউএনও ম্যাডাম ক্ষুব্ধ হয়েছেন, তবে বিষয়টি পরে সমাধান হয়ে গেছে।’

জরিমানা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শুকনো মিষ্টি দু-চার দিন রেখে বিক্রি করা যায়। ঈদের সময় অন্য মিষ্টি ছিল না, শুকনো মিষ্টি থাকায় জরিমানা করেন ইউএনও। জরিমানার টাকাও পরিশোধ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনমুন নাহার আশা এশিয়া পোস্টকে বলেন, বাসি মিষ্টি বিক্রির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বনফুলের তাজপুর শাখায় গিয়ে ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়। দাখিল করা রশিদ দেখে নিশ্চিত হওয়া যায় তাদের মিষ্টি বাসি। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট কর্মচারি স্বীকার করেন এগুলো অনেক আগের মিষ্টি এবং পুরোনো ও নতুন মিশ্রিত আছে।

তিনি বলেন, এই অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে জরিমানা করার সময় অবিযুক্ত পালিয়ে যান এবং মোবাইল বন্ধ করে রাখেন। পরে বনফুলের ওই শাখার ম্যানেজার তাকে খুঁজে এনে উপস্থিত করেন এবং পলানোর অভিযোগে কোম্পানি ও ওই কর্মচারীকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অভিযোগ করেন, কিছু ব্যক্তি হলুদ সাংবাদিকতার মাধ্যমে সরকার তথা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে মিথ্যা ও বানোয়াট সংবাদ প্রচার করছে।

‘আপা’ সম্বোধনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই অভিযোগ একেবারেই মিথ্যা। আপা সম্বোধন করা কোনো দণ্ডনীয় অপরাধ নয়। বাসি মিষ্টি বিক্রির দায়ে জরিমানা করা হয়েছে।