রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩
রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩

মুক্তমত: সাতক্ষীরায় উন্নয়ন অদৃশ্য-দৃশ্যমানটা কী?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
মুক্তমত: সাতক্ষীরায় উন্নয়ন অদৃশ্য-দৃশ্যমানটা কী?

মোঃ হাফিজুল ইসলাম

সাতক্ষীরার মানুষের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচিত সংসদ সদস্য এলাকার উন্নয়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন এবং নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় দৃশ্যমান ভূমিকা রাখবেন। সরকারি দপ্তর থেকে শুরু করে উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড-সবখানেই তাঁদের সক্রিয় উপস্থিতি থাকবে। সাধারণ মানুষের সমস্যা, রাস্তা-ঘাটের দুরবস্থা, জলাবদ্ধতা, কর্মসংস্থান ও শিক্ষা-স্বাস্থ্য খাতের সংকট নিয়ে তাঁরা কথা বলবেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন এবং সমাধানের উদ্যোগ নেবেন। কিন্তু বাস্তবে এসব ক্ষেত্রে ভূমিকা কতটা দৃশ্যমান-সেই প্রশ্নই এখন আলোচনার বিষয়।

একজন সংসদ সদস্যের দায়িত্ব কেবল নির্বাচনে বিজয়ী হওয়া কিংবা রাজনৈতিক পরিচয়ে সীমাবদ্ধ নয়। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার অর্থ হলো, জনগনের কল্যাণে সংসদে আইন প্রণয়ন করা, মানুষের প্রত্যাশা পূরণে দায়িত্বশীল থাকা এবং এলাকার উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখা। বিশেষ করে সরকারি সভা-সেমিনার, উন্নয়ন পর্যালোচনা সভা ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কর্মসূচিতে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতি জনস্বার্থে সমন্বয় বাড়াতে পারে। সেখানে সংসদ সদস্যের উপস্থিতি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তাঁর অনুপস্থিতির কারণ জানাটাও জরুরি।

প্রশ্ন হচ্ছে, সাতক্ষীরার উন্নয়ন নিয়ে যখন জনমনে নানা প্রশ্ন, তখন উন্নয়নের অগ্রগতি তুলে ধরার উদ্যোগ কতটা দৃশ্যমান? সরকারি অনুষ্ঠানগুলোতে তাঁদের উপস্থিতি কম থাকলে, সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও সমস্যা সমাধানে তাঁর সক্রিয়তা কতটা-সেটিও আলোচনার দাবি রাখে।

অবশ্য, সব উন্নয়ন একজন সংসদ সদস্যের একক সিদ্ধান্তে হয় না। প্রশাসন, স্থানীয় সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোরও দায়িত্ব রয়েছে। একইভাবে, প্রতিটি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকাই একজন জনপ্রতিনিধির কর্মদক্ষতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। তবে জনগণের কাছে কাজের অগ্রগতি তুলে ধরা, নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া তাঁর দায়িত্বের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তাই প্রশ্নটা ব্যক্তিগত আক্রমণের নয়, জনস্বার্থের-সাতক্ষীরার উন্নয়নে কী কাজ হচ্ছে, কী পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং তার সুফল সাধারণ মানুষ কতটা পাচ্ছে?

উন্নয়নের দৃশ্যমান চিত্র কোথায়? সরকারি অনুষ্ঠানেও অনুপস্থিতি কেন? আর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সংসদ সদস্যের সক্রিয় ভূমিকা কোথায়?

উন্নয়নও যদি চোখে না পড়ে, জনপ্রতিনিধির উপস্থিতিও যদি অনুভব করা না যায়-তাহলে সাতক্ষীরার মানুষ দৃশ্যমান হিসেবে কী দেখবেন? এ প্রশ্নের উত্তর বক্তব্যে নয়, কাজের মাধ্যমেই দেওয়া উচিত।

এটি নিছক ব্যঙ্গ নয়; বরং একজন জনপ্রতিনিধির ভূমিকা, দায়িত্ব ও জনসম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনার আহ্বান। এ প্রশ্নের সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য উত্তর হবে এমন কিছু কাজ, যার সুফল সাতক্ষীরার সাধারণ মানুষ নিজেরাই অনুভব করতে পারবেন।

মোঃ হাফিজুল ইসলাম, সংবাদকর্মী

Ads small one

দেশব্যাপী হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৮ অপরাহ্ণ
দেশব্যাপী হত্যা, শিশু নির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলায় যুব নেতৃত্বে দেশব্যাপী শিশুনির্যাতন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (১৮ অক্টোবর-২০২৬) সকাল ১০ টায় সাতক্ষীরা সদরের পিটিআই সংলগ্ন পিএন স্কুল মাঠে বিভিন্ন সংগঠনের সমন্বয়ে উক্ত মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

সহিংসতা নয়, সুবিচার চাই স্লোগানে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনের বক্তারা বলেন একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য মানুষের জীবন, মর্যাদা, নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা অপরিহার্য। কিন্তু হত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, নারী ও শিশুদের প্রতি সহিংসতা এবং মব সৃষ্টির মাধ্যমে আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মতো ঘটনা সমাজে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। এসব সহিংসতা ব্যক্তির মৌলিক অধিকার ও মানবিক মর্যাদাকে ক্ষুন্ন করার পাশাপাশি সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক আস্থা এবং আইনের শাসনের প্রতি মানুষের বিশ্বাসকে দুর্বল করে।

বক্তারা আরো বলেন, অপরাধের অভিযোগে কাউকে গণপিটুনি দেওয়া, জনতার চাপে শাস্তি প্রদান কিংবা গুজব ও উসকানির ভিত্তিতে সহিংসতা সৃষ্টি কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না। অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং ন্যায়সংগত বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।

বক্তারা বলেন, এ প্রেক্ষাপটে যুবসমাজের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। যুবসমাজ শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবে না, বরং মানবাধিকার সুরক্ষা, নারী ও শিশুর নিরাপত্তা, সামাজিক সম্প্রীতি, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে।

মানবনন্ধনে অংশগ্রহণ করেন এক্টিভিস্টা সাতক্ষীরা, জেলা সম্প্রীতি ও সুরক্ষা কমিটি, ইয়ূথ এ্যালায়েন্স নেটওয়াক, সিডো, স্বদেশ, প্রগতি, সাতক্ষীরা জেলা নাগরিক কমিটি, মানাবধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন, বিডি ক্লিন, ভিবিডি, জেডিএফ, প্রতিবন্ধি পুনবাসন কল্যাণ সমিতি, সাংবাদিক সহ অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।

 

শ্যামনগরে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৯ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে পূজামন্ডপ পরিদর্শনে যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা

এম এ হালিম, উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর): সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের কেন্দ্রীয় নেতা শাহজাহান রনি।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকেল থেকে তিনি উপজেলার বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি পূজামন্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি পূজা উদ্যাপন কমিটির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পূজার সময় কোনো ধরনের সমস্যা দেখা দিলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পরামর্শ দেন।

পরিদর্শনকালে শাহজাহান রনি পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং নির্বিঘ্নে পূজা উদ্যাপন নিশ্চিত করতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজা উদ্যাপন এবং পূজামন্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মত দেন তিনি।

এ সময় স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নেতাকর্মীসহ পূজা উদ্যাপন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

পূজামন্ডপে নিরাপত্তায় গাফিলতি হলে জবাবদিহি করতে হবে: এএসপি বায়েজিদ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৫ অপরাহ্ণ
পূজামন্ডপে নিরাপত্তায় গাফিলতি হলে জবাবদিহি করতে হবে: এএসপি বায়েজিদ

আশাশুনি প্রতিনিধি: “শারদীয় দুর্গোৎসবকে শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘœ করতে প্রতিটি পূজামন্ডপে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সর্বোচ্চ সতর্কতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। কোনো পূজামন্ডপে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাপের মাধ্যমে অথবা সরাসরি মোবাইল ফোনে থানা পুলিশকে জানাতে হবে। দায়িত্বে অবহেলা করে কোনো আনসার সদস্য পূজামন্ডপ ছেড়ে চলে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) এন্ট্রিসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো পূজামন্ডপে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট আনসার সদস্যদের জবাবদিহি করতে হবে।”

শনিবার সন্ধ্যা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা সর্বজনীন দুর্গামন্দির, দক্ষিণ বড়দল সর্বজনীন কালীমন্দির, বড়দল বাজার সর্বজনীন দুর্গামন্দির, বুড়িয়া সর্বজনীন দুর্গামন্দিরসহ বিভিন্ন পূজামন্ডপ পরিদর্শনকালে এসব কথা বলেন সহকারী পুলিশ সুপার (দেবহাটা সার্কেল) মোঃ বায়েজিদ ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, শারদীয় দুর্গোৎসব বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব। এ উৎসবকে শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও আনন্দমুখর করতে পুলিশ প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পূজামন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি বলেন, “ধর্ম যার যার, উৎসব সবার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাই যেন নির্বিঘেœ দুর্গোৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে জন্য পুলিশ ও আনসার সদস্যদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা সন্দেহজনক কিছু চোখে পড়লে দ্রুত পুলিশকে জানাতে হবে। পূজামন্ডপের নিরাপত্তায় কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না।”

পরিদর্শনকালে সহকারী পুলিশ সুপার প্রতিটি পূজামন্ডপে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাঁদের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। তিনি পূজামন্ডপের সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন এবং যেকোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক থাকার নির্দেশনা প্রদান করেন। আশাশুনি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিদুর রহমান, এস আই নাসির উদ্দিন, এএসআই অমিত হাসানসহ থানার অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আনসার সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও স্বেচ্ছাসেবক উপস্থিত ছিলেন।