রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩
রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬, ২০ আশ্বিন ১৪৩৩

মেটে আলু বা গাছ আলুর দ্বিমুখী ফলনে লাভবান কৃষক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৪:৪০ অপরাহ্ণ
মেটে আলু বা গাছ আলুর দ্বিমুখী ফলনে লাভবান কৃষক

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): মেটে আলু বা গাছ আলুর দ্বিমুখী ফলন কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক একটি কৃষি বিপ্লব হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এই লতানো কন্দাল জাতীয় ফসলের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এটি একই সাথে মাটির নিচে এবং গাছের কান্ডে (লতায়) ফলন দেয়। এই দ্বিমুখী ফলনের কারণেই এটি চাষ করে কৃষকেরা দ্বিগুণ লাভ করতে পারছেন।

মেটে আলু বা গাছ আলু একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ঔষধি গুণসম্পন্ন লতানো কন্দাল জাতীয় দেশীয় সবজি। অঞ্চলভেদে এটি চুপরি আলু, মাচা আলু, পেস্তা আলু, মোম আলু, মাইট্টা আলু বা আসাম আলু নামেও সমধিক পরিচিত। এই উদ্ভিদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, মাটির নিচে এবং লতার কান্ড বা গিঁটে আলু জন্মায়। কান্ডের গায়ে হওয়া ছোট কালচে-বেগুনি আলুগুলোকে গাছ আলু বা বুলবিল বলা হয়। মাটির নিচে হওয়া বড় বাদামি বা বেগুনি রঙের আলুগুলোকে সাধারণত মেটে আলু বলা হয়।

খুলনার পাইকগাছা উপজেলার বিভিন্ন বাড়ির গাছে গাছে মেটে আলু বা গাছ আলু আবাদ করা হয়। গাছের গোড়ায় ফল রোপন করলেই হয়, কোন পরিচর্যা করা লাগে না। কৃষকদের কাছে একটি অত্যন্ত লাভজনক ফসল মেটে আলু।

উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়ায় এর ফলন সবচেয়ে ভালো হয়. পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা সম্পন্ন উঁচু বেলে দো-আঁশ মাটি এই আলু চাষের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে মাটির নিচে থাকা আলু কেটে কিংবা কান্ডের গাছ আলু (বুলবিল) বীজ হিসেবে মাটিতে রোপণ করা হয়। এটি মূলত মাচা, বেড়া কিংবা অন্য কোনো বড় গাছের ওপর ভর করে বেড়ে ওঠে। গাছের লতা বা কান্ড থেকে ছোট ছোট বীজ-আলু পাওয়া যায় এবং মাটির নিচে বিশাল আকৃতির প্রধান আলু উৎপন্ন হয়। একটি গাছ সাধারণত ৮ থেকে ১০ মাস বাঁচে এবং ফলন দেওয়ার পর শীতকালে লতা শুকিয়ে মারা যায়। পরবর্তী বছর মূল থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবার নতুন চারা গজায়। এই গাছের রোগবালাই প্রায় নেই বললেই চলে এবং অত্যন্ত কম খরচে ও কম যতেœ বাড়ির আঙিনায় বা পতিত জমিতে এটি চাষ করা সম্ভব।

মেটে আলু শর্করা, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন, ফাইবার, ভিটামিন এবং খনিজ লবণের একটি চমৎকার উৎস। এটি শরীরের ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে দারুণ সাহায্য করে। এতে থাকা প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন এ এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে। প্রচুর ফাইবার বা আঁশ থাকায় এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, যা ওজন কমাতে এবং হজমপ্রক্রিয়া উন্নত করতে সাহায্য করে। মেটে আলুতে থাকা উপাদান হাড়ের ক্ষয়রোধ করে এবং ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখে।

রোগবালাইয়ের কম ঝুঁকি এবং একই গাছ থেকে ওপর-নিচ দুই দিকেই ফলন পাওয়ার কারণে মেটে আলু বাংলাদেশের কৃষকদের কাছে একটি অত্যন্ত লাভজনক ও নিরাপদ অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।

 

Ads small one

সাতক্ষীরায় জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নামে থানায় মামলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় জাকারিয়া হত্যার ঘটনায় ১২ জনের নামে থানায় মামলা

পত্রদূত রিপোর্ট: কলেজ ছাত্র জাকারিয়া খাঁনকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের ভাই শাহারিয়ার খাঁন বাদি হয়ে শনিবার রাতে ১২ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা সাত জনকে আসামী করেছেন। মামলায় কিশোর গ্যাং এর নেতা নাহিদ হাসানকে প্রধান আসামী করা হয়েছে। এদের মধ্যে মুহিদ হাসান বনিকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে রবিবার সকালে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার আসামীরা হলেন, শহরের ইটাগাছা এলাকার মৃত গিয়াসউদ্দিনের ছেলে নাহিদ হাসান, ফিরোজউদ্দিনের ছেলে মুহিদ হাসান বনি, তার ভাই জাকির হোসেন রণি, সিরাজুল ইসলামের ছেলে আরিজুল ইসলাম, আবুল হোসেন ওরফে বড় খোকার ছেলে ছোট ময়না, রবিউল ইসলামের ছেলে মোঃ জুয়েল, মোঃ হাসানের ছেলে সাগর, শাকিল চেয়ারম্যানের ছেলে সামি, জমিদার মুন্সির ছেলে মোঃ নাঈম, নজরুল ইসলাম সরদারের ছেলে রাশিদুজ্জামান রাশেদ, মোঃ মিঠুর ছেলে হুজাইফা ও মিজানুর রহমানের ছেলে শরিফুল ইসলাম।

এদিকে জাকারিয়াকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা ছাড়াও ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর বকচরা দাখির মাদ্রাসার সুপার মোঃ রমজান আলীকে ছুরিকাঘাত করে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় তার ভাইয়ের দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী নাহিদ। চলতি বছরের ১২ এপ্রিল শহরের ফুচকা বাংলার পরিচালক আজিজুল ইসলামকে ছুরি দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার প্রধান আসামী নাহিদ। এ ছাড়া শহরতলীর বাঁকাল ইসলামপুর চর এলাকার এক যুবককে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে কুপিয়ে হতার চেষ্টাকারি নাহিদ। এ ছাড়া নাহিদের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর ৪৭ নং মামলা ও ২০২২ সালের ২৯ এপ্রিল ৮৮ নং মামলা রয়েছে। যাহা আজো বিচারাধীন।

মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা সদর থানার উপপরিদর্শক আলমগীর হোসেন বলেন, রবিবার সকালে বনিকে আদালতে পাঠানো হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমা- আবেদন জানানো হবে।

প্রসঙ্গত. শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে শহরের প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসের প্রধান ফটকের পাশে চায়ের দোকানের মালিক রবিউল ইসলামের ভাইপো বাপ্পি হাসানের সঙ্গে বিরোধের জেরে নাহিদসহ কয়েকজন তাকে মারপিট শুরু করলে তাকে বাঁচাতে যেয়ে ছুরিকাঘাতে জাকারিয়া মারা যায়। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার অফিসের পাশে যুবদল ও ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সদস্যদের পরিচিতি পর্ব শেষে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল।

 

সাতক্ষীরা পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ মাসুম বিল্লাহ শাহীন বলেন, তার ফুফাত ভাই জাকারিয়া হতাকা-ে যে মামলা করা হয়েছে তা সিসি টিভি দেখেই করা হয়েছে। এখানো নাহিদ বা কাউকে ঘটনার সঙ্গে জড়িত না থাকার কথা বলার সূযোগ নেই। নাহিদকে ধরিয়ে দিতে পারলে ১০ লাখ টাকা পুরষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

 

ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩২ অপরাহ্ণ
ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা অনুষ্ঠিত

সরকারের অগ্রাধিকারভুক্ত কার্যক্রমের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পরিবীক্ষণের লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ পরিবীক্ষণ দলের উদ্দেশ্য সম্পর্কে অবহিতকরণসহ ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভা আজ (রবিবার) দুপুরে খুলনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতি জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত বলেন, বর্তমান সরকারের ডেঙ্গু মোকাবেলায় প্রধান অগ্রাধিকার হলো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা জোরদার করা যার মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি। এরই অংশ হিসেবে ডেঙ্গু সংক্রমণ রোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতা কর্মসূচি চলমান রয়েছে এবং একটি পরিবীক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে।

 

সকল স্তরের মানুষ এবং সমাজকে সচেতন করতে এ অভিযান কার্যকর করতে হবে। প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে প্রতি শনিবার পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন জেলা প্রশাসনে জমা দেওয়ার জন্য তিনি অনুরোধ জানান।
সভায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবির সিদ্দিকী শুভ্র, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা: রনী খাতুনসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তথ্যবিবরণী

ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৩০ অপরাহ্ণ
ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার: সমাজকল্যাণ মন্ত্রী

সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতি মানুষের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। অনেক মানুষ মনে করেন, যে কোন সমস্যায় সমাজকল্যাণের কাছে গেলে তার সমাধান পাওয়া যাবে। অথচ এসব সমস্যার সবকিছু সমাধান করা সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একার পক্ষে সম্ভব নয়। সরকারের পাশাপাশি অন্যান্য সংস্থারও এসব বিষয় দেখার দায়িত্ব রয়েছে।

তিনি আজ (রবিবার) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের দপ্তর থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে খুলনা সিএসএস আভা সেন্টারে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বাস্তবায়নাধীন কার্যক্রম অবহিতকরণ শীর্ষক খুলনা বিভাগীয় সেমিনারের উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, মানুষের চাওয়ার যেমন শেষ নেই, তেমনি বিভিন্ন দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদেরও কীভাবে আরও ভালো করা যায়, সে চেষ্টা থাকে। ফ্যামিলি কার্ড সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার। সামনে ফ্যামিলি কার্ডের যে কর্মসূচি, তার প্রশিক্ষণ আজ থেকে শুরু হয়েছে। এই কর্মসূচি উপজেলা পর্যায় এবং ইউনিয়ন ও মাঠপর্যায়ে যাবে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সুপারভিশন খুবই প্রয়োজন। সরকারের বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং হঠাৎ ঘটে যাওয়া বিভিন্ন অনাকাঙ্কিত ঘটনার বিষয়ে কীভাবে দ্রুত সাড়া দেওয়া যায়, সে ব্যাপারে সবাইকে আরও সচেতন ও উদ্যোগী হতে হবে। মানুষ যত বেশি আধুনিক ও উন্নত হচ্ছে, সমাজেও তত ধরনের বিভিন্ন সমস্যা ও বৈষম্য তৈরি হচ্ছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে সমাজকল্যাণের কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। স্বাভাবিক জনগোষ্ঠীর পাশাপাশি প্রতিবন্ধী এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্যও কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, জনবল বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতি বাড়ানো এবং পদোন্নতির বিষয়ে তাঁরা কাজ করছেন। এর মধ্যে কিছু বিষয়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে, তবে আরও অনেক কিছু দৃশ্যমান হতে হবে। আজকের আয়োজনটি সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে একটি ফ্রি ও ফ্রেন্ডলি আলোচনা এবং ইন্টারএকটিভ সেশনের মতো হবে। এর মাধ্যমে সেবার মান আরও উন্নত করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। আয়োজকদের সুন্দরভাবে অনুষ্ঠান শেষ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

সেমিনারে খুলনা সিএসএস আভাসেন্টারে প্রধান অতিথি ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ আবু ইউছুফ। বিভাগীয় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালক অনিন্দিতা রায়ের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রতিষ্ঠান) মোহা: কামরুজ্জামান। সেমিনারে খুলনা বিভাগের ১০ জেলার সমাজসেবা দপ্তরের উপপরিচালক, সহকারী পরিচালক, জেলা সমাজসেবা অফিসার, উপজেলা সমাজসেবা অফিসারসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী