সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩

ম্যানগ্রোভ ইকো ট্যুরিজম ও সাতক্ষীরার যুবসমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৪ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
ম্যানগ্রোভ ইকো ট্যুরিজম ও সাতক্ষীরার যুবসমাজের অর্থনৈতিক মুক্তি

মো. মামুন হাসান
সাতক্ষীরা আজ কেবল একটি সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চল নয়, এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এক অনন্য এবং অফুরন্ত অর্থনৈতিক সম্ভাবনার প্রবেশদ্বার। পৃথিবীর একক বৃহত্তম ও সবচেয়ে সমৃদ্ধ ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের পশ্চিম তোরণ হওয়ার সুবাদে এই অঞ্চলের যে বৈশ্বিক পরিচিতি রয়েছে, তাকে পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করার মাহেন্দ্রক্ষণ এখনই। প্রথাগত পর্যটনের সীমাবদ্ধতা ভেঙে প্রকৃতি, মানুষ, সংস্কৃতি এবং আধুনিক অর্থনৈতিক দর্শনের যে অপূর্ব মেলবন্ধন এখানে সম্ভব, তা বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে সাতক্ষীরাকে একটি শীর্ষস্থানীয় ও অত্যন্ত লাভজনক গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে। বর্তমান বিশ্বের সচেতন পর্যটকেরা এখন আর যান্ত্রিক বিলাসবহুল হোটেলের চার দেয়ালে বন্দী থাকতে চান না; তারা খুঁজছেন প্রকৃতির নিবিড় সান্নিধ্য, শেকড়ের অভিজ্ঞতা এবং গ্রামীণ জীবনযাত্রার সক্রিয় অংশীদারিত্ব। এই বৈস্ময়কর বৈশ্বিক চাহিদার সবচেয়ে সময়োপযোগী, পরিবেশবান্ধব ও বাণিজ্যিকভাবে আকর্ষণীয় রূপ হলো ইকো ট্যুরিজম এবং কমিউনিটি ভিত্তিক হোমস্টে পর্যটন। কোস্টা রিকা, নেপাল, ভূটান ও থাইল্যান্ডের মতো সফল রাষ্ট্রগুলো বিশ্বকে দেখিয়েছে যে, পর্যটন তখনই দীর্ঘমেয়াদে টেকসই এবং সবচেয়ে বেশি লাভজনক হয়, যখন স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে সরাসরি সাধারণ মানুষকে এর অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করা যায়।
এই প্রগতিশীল বৈশ্বিক বাস্তবতাকে ধারণ করে সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত উপকূলে একটি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক বিপ্লবের সূচনা করেছে স্থানীয় তরুণদের নিজস্ব মেধা ও শ্রমে গড়ে ওঠা ‘ট্যুরিজম’। এটি কেবল একটি প্রথাবদ্ধ ট্যুর গাইড সেবা নয়, এটি আসলে তৃণমূলের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করার একটি শক্তিশালী গ্রিন ফিল্ড মডেল। এই দর্শনের মূল সৌন্দর্য হলো, এখানে পর্যটকদের শুধু সুন্দরবনের সৌন্দর্য দেখিয়ে বিদায় করা হয় না, বরং তাদের নদী, ম্যানগ্রোভের জীববৈচিত্র্য এবং উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনসংগ্রামের জীবন্ত অংশ করে তোলা হয়। ‘র ট্যুরিজম’ পর্যটকদের সরাসরি নিয়ে যায় জেলেদের পাড়ায়, উত্তাল নদীপথে, গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী বাজারে এবং সরাসরি উপকূলীয় হেঁশেলে। এই মডেলটি একটি যুগান্তকারী অর্থনৈতিক সত্য উন্মোচন করেছে যে, পর্যটনের নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা যদি সরাসরি স্থানীয় মানুষের হাতে থাকে, তবে পর্যটন খাতের আয় শহরের বড় বহুজাতিক সিন্ডিকেট বা বিলাসবহুল রিসোর্টের পকেটে না গিয়ে সরাসরি প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছায়। এর ফলে স্থানীয় অর্থনীতির মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট বা আবর্তনের হার বহুগুণ বেড়ে যায় এবং প্রতিটি টাকা সরাসরি গ্রামীণ জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখে।
এই বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে যদি সুন্দরবন সংলগ্ন প্রতিটি গ্রামকে পরিকল্পিত উপায়ে পরিবেশবান্ধব হোমস্টে ইকো ইউনিটে রূপান্তর করা যায়, তবে তা বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ টেকসই অর্থনৈতিক মডেলে পরিণত হবে। পর্যটকেরা যখন শহরের যান্ত্রিক কোলাহল ছেড়ে মাটির তৈরি বা পরিবেশবান্ধব কাঠের কুটিরে থাকবেন, স্থানীয় বিশুদ্ধ উপাদান দিয়ে তৈরি খাবার খাবেন এবং মানুষের সঙ্গে জীবন ভাগ করে নেবেন, তখন পর্যটন একটি সম্পূর্ণ নতুন জীবন্ত অর্থনৈতিক ব্যবস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে। এই হোমস্টে মডেলটিকে বাণিজ্যিকভাবে সফল করতে প্রতিটি বাড়িকে সুনির্দিষ্ট থিমে সজ্জিত করা সম্ভব। যেমন জেলে জীবনভিত্তিক হোমস্টে যেখানে পর্যটক মাছ ধরার বাস্তব কৌশল শিখবেন; মৌয়াল জীবনভিত্তিক হোমস্টে যেখানে সুন্দরবনের খাঁটি মধু সংগ্রহের রোমাঞ্চকর ইতিহাস ও প্রক্রিয়া জানা যাবে; কিংবা কৃষিভিত্তিক হোমস্টে যেখানে পর্যটকেরা সরাসরি মাঠে কৃষিকাজে অংশ নেবেন। এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বৈপ্লবিক ও ইতিবাচক দিক হলো স্থানীয় নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন এবং কিচেন ট্যুরিজমের বিকাশ। উপকূলীয় নারীরা তাদের সনাতনী রন্ধনশিল্পের মাধ্যমে পর্যটকদের আতিথেয়তা প্রদান করে সরাসরি আয় করতে পারবেন। পাশাপাশি তাদের তৈরি বিখ্যাত নকশিকাঁথা, মাটির নান্দনিক সামগ্রী, গোলপাতার হস্তশিল্প, খাঁটি সুন্দরবনের মধু এবং ঐতিহ্যবাহী শুঁটকি মাছ সরাসরি চড়া দামে পর্যটকদের কাছে বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে। এটি গ্রামীণ নারীদের ঘরের ভেতর থেকেই স্বাধীন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তায় রূপান্তরিত করবে, যা গ্রামীণ নারী ও শিশু স্বাস্থ্য এবং শিক্ষার উন্নয়নে এক অভূতপূর্ব সামাজিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে।
অর্থনৈতিক লাভজনকতাকে প্রিমিয়াম স্তরে নিয়ে যেতে রাতভিত্তিক এক্সপেরিয়েন্স ইকো ট্যুরিজম এবং অ্যাডভেঞ্চার প্যাকেজ অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে। সুন্দরবনের শান্ত নদী ও খালের বুকে জোসনা রাতে কাঠের নৌকায় ঐতিহ্যবাহী নৌভ্রমণ, সম্পূর্ণ ওজোনস্তর ও ধূলিকণামুক্ত আকাশের নিচে তারা পর্যবেক্ষণ এবং স্থানীয় উপাদান দিয়ে তৈরি ক্যান্ডেল লাইট ডিনারের মতো বিশেষ প্যাকেজগুলো উচ্চবিত্ত দেশি এবং বিদেশি ইকো ট্যুরিস্টদের বিপুলভাবে আকর্ষণ করবে। এই ধরনের উচ্চ মূল্যের সেবা থেকে অত্যন্ত স্বল্প পরিচালন খরচে বিশাল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। এর সঙ্গে সুন্দরবনের নদী ব্যবস্থায় সম্পূর্ণ শব্দ ও ধোঁয়ামুক্ত পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক বোট ট্যুরিজম এবং বনের প্রান্ত ঘেঁষে সুন্দরবন সাইকেল ট্রেইল চালু করা গেলে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ আয়কারী ইকো ট্যুরিজম পণ্য হিসেবে বিকশিত হবে। ফিশারম্যান ফর এ ডে কিংবা মধু সংগ্রহ অভিজ্ঞতা ট্যুরের মতো রোমাঞ্চকর ইকো অ্যাডভেঞ্চারের জন্য আধুনিক পর্যটকেরা চড়া মূল্য দিতে সদা প্রস্তুত থাকেন, যার শতভাগ সরাসরি প্রান্তিক জেলে, মৌয়াল ও গাইডদের ঘরে পৌঁছাবে।
এই ত্রিমাত্রিক রূপান্তরের সবচেয়ে বড় সামাজিক সুফল আসবে যুবসমাজের ব্যাপক কর্মসংস্থান ও মেধা পাচার রোধের মাধ্যমে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝুঁকিতে থাকা এই উপকূলীয় অঞ্চলের শিক্ষিত ও আধা শিক্ষিত তরুণরা আর শুধুমাত্র গতানুগতিক চাকরির আশায় দিন না গুনে হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ ইকো গাইড, ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর, হোমস্টে ম্যানেজার, ওয়াইল্ডলাইফ ফটোগ্রাফার এবং সফল পর্যটন উদ্যোক্তা। সাতক্ষীরাকে দেশের প্রথম সম্পূর্ণ প্লাস্টিকমুক্ত পরিকল্পিত ম্যানগ্রোভ হোমস্টে জোন হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব, যা আন্তর্জাতিক পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও আতিথেয়তার মানদ- পূরণ করবে। সারা বছর এই লাভজনক ধারা সচল রাখতে পাখি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র, ইকো ফটোগ্রাফি ক্যাম্প, ম্যানগ্রোভ জীববৈচিত্র্য শিক্ষাসফর এবং বার্ষিক সুন্দরবন উৎসবের মতো উদ্ভাবনী উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে, যা অফ সিজন বা মন্দা মৌসুমেও স্থানীয় অর্থনীতিকে সমভাবে সচল ও চাঙ্গা রাখবে।
তবে এই অপরিসীম অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত সম্ভাবনাকে একটি স্থায়ী ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি দিতে হলে একটি সুসংগঠিত প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি। জেলা প্রশাসনের দূরদর্শী নেতৃত্বে বন বিভাগ, স্থানীয় সরকার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন সাতক্ষীরা কমিউনিটি ট্যুরিজম কাউন্সিল গঠন করা প্রয়োজন। এই কাউন্সিল ডিজিটাল সেন্ট্রালাইজড বুকিং অ্যাপ, পর্যটকদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব নৌযানের লাইসেন্স প্রদান এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ শর্তে ও জামানতবিহীন সবুজ ঋণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মূল চালিকাশক্তি তথা দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের মতো বিশেষায়িত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি কমিউনিটি গাইডেন্স, খাদ্য নিরাপত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং ও পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে নিয়মিত পেশাদার সার্টিফিকেট কোর্স চালু করে স্থানীয় যুবসমাজকে বিশ্বমানের পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই মডেলটিতে অর্থনৈতিক লাভ যত বেশি হবে, সুন্দরবনের পরিবেশগত সুরক্ষাও তত বেশি জোরদার হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের চরম ঝুঁকিতে থাকা এই অঞ্চলে রেসপন্সিবল ট্যুরিজম বা দায়িত্বশীল পর্যটন নীতিমালার অধীনে প্রতিটি পর্যটকের মাধ্যমে একটি করে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ, প্লাস্টিক বর্জন এবং স্থানীয় পরিবেশ সংরক্ষণ ও কমিউনিটি ফান্ডে বাধ্যতামূলক প্রতীকী অনুদানের ব্যবস্থা থাকবে। এর ফলে পর্যটকেরা কেবল প্রকৃতির ভোক্তা হবেন না, বরং তারা সুন্দরবন রক্ষার সক্রিয় অর্থায়নকারীতে পরিণত হবেন। স্থানীয় মানুষ যখন বুঝতে পারবেন যে সুন্দরবন অক্ষুণ্ন ও জীবন্ত থাকলে তাদের অর্থনৈতিক আয় এবং সামাজিক মর্যাদা বহুগুণ বৃদ্ধি পায়, তখন তারা নিজেরাই বন ও বন্যপ্রাণী নিধনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় রক্ষাকবচ হিসেবে দাঁড়িয়ে যাবেন। প্রতি বছর সেরা ইকো উদ্যোক্তা, সেরা নারী উদ্যোক্তা ও সেরা পরিবেশবান্ধব উদ্যোগকে সাতক্ষীরা ইকো ট্যুরিজম অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সুস্থ প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করা যাবে।
পরিশেষে দৃঢ়ভাবে বলা যায়, একবিংশ শতাব্দীর চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই যুগে ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন ক্ষতিকারক ভারী শিল্পকারখানাই কোনো অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তির একমাত্র পথ হতে পারে না। জ্ঞান, সংস্কৃতি, পরিবেশ রক্ষা এবং সর্বস্তরের মানুষের সক্রিয় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে গড়ে ওঠা গ্রিন ইকোনমি বা সবুজ অর্থনীতিই পৃথিবীর ভবিষ্যৎ। সাতক্ষীরার প্রকৃত উন্নয়ন ও টেকসই সমৃদ্ধি কোনো পরিবেশ বিধ্বংসী শিল্পায়নে নয়, বরং সুন্দরবনের ছায়ায় গড়ে ওঠা এই মানবিক, সামাজিক ও বাণিজ্যিকভাবে অত্যন্ত লাভজনক ইকো ও কমিউনিটি ট্যুরিজমের মধ্যেই নিহিত। এখন প্রয়োজন শুধু রাষ্ট্রীয় দূরদর্শিতা, কার্যকর সরকারি বেসরকারি সমন্বিত বিনিয়োগ এবং দ্রুত বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা। আজ সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া গেলে আগামী দিনের সাতক্ষীরা শুধু সুন্দরবনের প্রবেশদ্বার হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা সমগ্র বাংলাদেশের বুকে জলবায়ু সহনশীল টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের এক উজ্জ্বল ও অনুকরণীয় বৈশ্বিক দৃষ্টান্ত হিসেবে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

 

Ads small one

কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের নিবন্ধন শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০৮ অপরাহ্ণ
কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দিরের শতবর্ষ উদ্‌যাপনের নিবন্ধন শুরু

কপিলমুনি (পাইকগাছা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ডিজিটাল নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। সোমবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে এ আয়োজন শুরু হয়।

সকালে খুলনার জেলা প্রশাসক ও বিদ্যালয়ের সভাপতি হুরে জান্নাত নিজ কার্যালয়ে নিবন্ধন করে কার্যক্রমের সূচনা করেন। সকাল ৯টায় প্রাক্তন পরিচালনা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আয়োজক কমিটির মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে শোভাযাত্রা, শতবর্ষের পতাকা উত্তোলন এবং প্রয়াত ব্যক্তিদের স্মরণে নীরবতা পালন করা হয়। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ডিজিটাল নিবন্ধন কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক এ কে এম সাঈদ হোসেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সঞ্জয় কুমার মণ্ডল, সদস্যসচিব এস এম মুস্তাফিজুর রহমান পারভেজ, প্রাক্তন প্রধান শিক্ষক মো. কবীর আহমেদসহ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক, পরিচালনা কমিটির সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।

বিকেলে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সহচরী বিদ্যামন্দির শিক্ষক একাদশ ও হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক একাদশ অংশ নেয়। খেলার সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ক্রীড়া ও কুপন কমিটির আহ্বায়ক এম আজাদ হোসেন।

ছবি ক্যাপশন: কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির স্কুল অ্যান্ড কলেজের শতবর্ষ উদ্‌যাপন উপলক্ষে ডিজিটাল নিবন্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

পাইকগাছায় দুর্গাপূজা পরবর্তী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
পাইকগাছায় দুর্গাপূজা পরবর্তী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

পাইকগাছা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার পাইকগাছায় শারদীয় দুর্গাপূজা পরবর্তী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও উৎসবের সার্বিক মূল্যায়ন নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে পূজা উদযাপন পরিষদের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আয়োজিত সভায় দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী।

সভায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের আহ্বায়ক প্রাণকৃষ্ণ দাশ, সদস্যসচিব হিমাদ্রী শেখর দে, অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বিদ্যুৎ রঞ্জন সাহা, পৌর কমিটির সভাপতি বাবুরাম মণ্ডল, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রমের সভাপতি মনোহর চন্দ্র সানা, সরল কালীবাড়ি কেন্দ্রীয় পূজা মন্দিরের সভাপতি সুরঞ্জন চক্রবর্তী, সাংবাদিক প্রকাশ ঘোষ বিধান, স্নেহেন্দু বিকাশ, পূর্ণ চন্দ্র মণ্ডল, সুনীল কুমার মণ্ডল, সঞ্জীব রায়, ভূদেব কুমার মণ্ডল ও দীপঙ্কর সানাসহ অন্যরা।

সভায় বক্তারা দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে সম্পন্ন হওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে পূজার সময় সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

কলারোয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

কলারোয়া প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার কলারোয়ায় উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) উপজেলা পরিষদ সম্মেলনকক্ষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলামের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় মাদক ও সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণ, পৌর শহরের যানজট নিরসন, পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং সেতুর দুই পাশের অবৈধ দোকানপাট উচ্ছেদসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) হারুন অর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি ও সাবেক অধ্যক্ষ রইছ উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ শরিফুজ্জামান তুহিন, পৌর জামায়াতের আমির সহকারী অধ্যাপক ইউনুস আলী বাবু, আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আহম্মদ আলী, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাইদুর রহমান রেজা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা এসএম এনামুল ইসলাম, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নুরুন নাহার আক্তার ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আশরাফ হোসেন।

এ ছাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সাঈদ আলী গাজী, মাহবুবুর রহমান মফে, সোহেল রানা, বিশাখা তপন সাহা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান ও মফিজুল ইসলাম এবং কলারোয়া প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক তাওফিকুর রহমান সঞ্জু, যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ সাজেদ, সাংবাদিক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু ও প্রভাষক আরিফ মাহমুদসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।