শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩

যে রক্তের দাগ মোছে না/ আখলাকুর রহমান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ
যে রক্তের দাগ মোছে না/ আখলাকুর রহমান

আখলাকুর রহমান

দক্ষিণ পশ্চিম সীমান্তের এই সাতক্ষীরা জনপদে যখন সকালের মিহি আলো ফোটে তখন বাতাসে ধান আর মেঠো মাটির গন্ধ থাকার কথা ছিল। থাকার কথা ছিল সুন্দরবনের কোলঘেঁষে বেড়ে ওঠা খেটে খাওয়া মানুষের ঘামের সোঁদা ঘ্রাণ। কিন্তু আজ এই শহরের আনাচে কানাচে বাতাসের সঙ্গে মিশে গেছে এক তীব্র তামার গন্ধ। সে আর কিছু নয় তা কাঁচা রক্তের গন্ধ। সম্প্রতি সাতক্ষীরার প্রাণিসম্পদ অফিসের সামনের সড়কে এক চায়ের দোকানদারকে বাঁচাতে গিয়ে কলেজছাত্র জাকারিয়া খানের নিথর দেহ ঢলে পড়েছে ধূলিমায়ায়। বুক চিরে অকাতরে রক্ত ঝরেছে আর সেই রক্তের প্রতিটি ফোঁটা বড় নির্মমভাবে প্রশ্ন তুলে গেছে আমাদের সমাজ আমাদের বিবেক আর আমাদের কথিত রাজনীতির দিকে। জাকারিয়া কোনো মারামারির পক্ষ ছিল না, সে শুধু অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে গিয়ে বাড়িয়ে দিয়েছিল হাত, আর সেই হাত কেটে ফেলা হলো ধারালো অস্ত্রের কোপে।

আহমেদ ছফা কোনো এক প্রসঙ্গে লিখেছিলেন একটি জাতির সমাজব্যবস্থায় যখন পচন ধরে তখন তার প্রথম আঘাতটি এসে পড়ে তরুণের গায়ে। সাতক্ষীরায় কিশোর জাকারিয়ার বুকে যে ছুরিটি বসানো হয়েছে তা কেবল একজন তরুণের রক্তমাংসের শরীর এফোঁড় ওফোঁড় করেনি, তা আমাদের পুরো সামাজিক কাঠামোর ভঙ্গুর পাঁজরে এক নিষ্ঠুর পেরেক পুঁতে দিয়েছে। অপরাধী চক্রের মূল হোতা নাহিদ আর তার সহযোগীরা হয়তো পুলিশের হাতে ধরা পড়েছে ভারতে পালানোর পথে। আইনি খাতা অনুযায়ী হয়তো তাদের বিচার হবে চালান হবে জেলখানায়। কিন্তু এই আইনি প্রক্রিয়ার ভেতরে মূল সত্যটি ঢাকা পড়ে যায়। প্রশ্ন থেকে যায় যে কিশোরটি জাকারিয়ার বুকে কুপিয়ে রক্ত বের করল সেই কিশোরের হাতের ধারালো অস্ত্রটি কে তুলে দিয়েছিল। বছরের পর বছর ধরে সাতক্ষীরার মাটিতে এই ছোট ছোট কিশোরদের হাতে ফুল আর বইয়ের বদলে কে তুলে দিল মৃত্যুর বার্তা।

কিশোর অপরাধ বা কিশোর গ্যাং কোনো আসমান থেকে খসে পড়া কুয়াশা নয়। কোনো এক সকালে হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে একদল কিশোর সিদ্ধান্ত নেয় না যে তারা আজ কাউকে খুন করবে কিংবা পাড়ার মোড়ে অস্ত্র উঁচিয়ে মহড়া দেবে। সাতক্ষীরায় এই কিশোরদের বিচ্যুতি আর তাদের হিংস্্রতার উত্থান কোনো একদিনের ঘটনা নয়। এটি বছরের পর বছর ধরে লালন করা একটি বিষবৃক্ষের ফল। একসময় পাড়া মহল্লায় এই বয়সের কিশোরদের চেনার উপায় ছিল ফুটবল খেলার মাঠ কিংবা কোনো পাঠাগারের বইয়ের পাতা। কিন্তু আজ শহরের গলিতে গলিতে চেনা যায় তরুণের দলবদ্ধ গর্জন মোটরসাইকেলের বিকট শব্দের আস্ফালন আর কোমরে গুঁজে রাখা ছোট ধারালো অস্ত্রের উপস্থিতি। তারা কারা। এরা আমাদেরই সন্তান আমাদেরই ভাই কিংবা প্রতিবেশী। কিন্তু এদের মগজে ঢুকে গেছে এক অদ্ভুত ক্ষমতার বিষাক্ত মোহ।

সমাজ যখন তার নৈতিকতার কঙ্কালটা হারিয়ে ফেলে তখন সেই শূন্য জায়গায় এসে বাসা বাঁধে নিশাচর শকুন। সাতক্ষীরার এই কিশোর গ্যাংগুলো আজ সেই শকুনের জাত ভাই হয়ে উঠেছে। অতি তুচ্ছ তর্ক কথা কাটাকাটি কিংবা এক চিলতে অহংকারের বশে তারা আজ সমবয়সীর বুকে ছেনি বসাতে দ্বিধা করে না। কারণ তারা মনে মনে বিশ্বাস করে তাদের পেছনে কেউ একজন আছে। এমন কেউ একজন যার ছায়া অনেক লম্বা যার ক্ষমতার হাত অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত।
সাতক্ষীরায় যুগের পর যুগ ধরে এই যে কিশোর অপরাধীদের দৌরাত্ম্য বেড়ে চলেছে তার আসল চালিকাশক্তি কী। তা কি কেবলই বয়সের ভুল কিংবা হরমোনের তাড়না। নাকি এর পেছনে রয়েছে রাজনীতি নামক এক মহীরুহের বিষাক্ত আশ্রয়। অপ্রিয় সত্য হলেও আমাদের তা সপাটে স্বীকার করতেই হবে। স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ছোটখাটো রাজনৈতিক নেতা কিংবা নামধারী মুরুব্বিদের প্রশ্রয়ই এই কিশোরদের দুঃসাহসের প্রধান জ্বালানি। এই উদীয়মান তরুণরা হয়তো রাষ্ট্রবিজ্ঞান বোঝে না, তারা বোঝে রাজনৈতিক বড় ভাইয়ের দাপট। মিছিলে লোক বাড়ানোর সস্তা রসদ হিসেবে এদের ব্যবহার করা হয়। নেতাদের ক্ষমতার শো ডাউনে এদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পোস্টার আর মনের ভেতর গেঁথে দেওয়া হয় এক ভুয়া ক্ষমতার অহংকার। তুই অপরাধ কর তোর কিছু হলে পেছনে আমি আছি, এই একটি মাত্র আশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে তৈরি হয় হাজারো জাকারিয়ার খুনি।

এই রাজনৈতিক আর সামাজিক প্রশ্রয়ের খেলাটি সাতক্ষীরায় নতুন নয়। যুগে যুগে এই আশ্রয়দাতারা বদলায়, তাদের দল কিংবা ক্ষমতার রঙ বদলায় কিন্তু বদলায় না কেবল বলি হওয়া তরুণের পরিচয়। একদলের স্বার্থসিদ্ধির জন্য ব্যবহার করা হয় এই কিশোরদের আর অন্যদলের আক্রোশের শিকার হয়ে লাশ হতে হয় আরেক জাকারিয়াকে। রাজপথ যখন রক্তে লাল হয় তখন ক্ষমতার বড় ভাইয়েরা সুশীতল ঘরে বসে নিজেদের আখের গোছায় আর কাটিয়া মহল্লার কোনো এক হতভাগা মায়ের কোলে নেমে আসে চিরন্তন অন্ধকার।

আমরা যখন সংবাদপত্রের পাতায় সংবাদের শিরোনাম পড়ি যে সাতক্ষীরায় জাকারিয়া হত্যার প্রধান আসামিরা গ্রেপ্তার হয়েছে তখন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমরা হয়তো একটু স্বস্তি পাই। আমরা ভাবি আইনের কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্র ও সামাজিক ব্যবস্থার খাতা যেখানে শেষ হয় কোনো এক মায়ের অনন্ত নীরবতা ঠিক সেখান থেকেই শুরু হয়। জাকারিয়ার মা আজ কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন। তিনি কি সংবাদপত্রের খবর পড়েন। তিনি কি স্থানীয় রাজনীতির এই নোংরা অংকগুলো বোঝেন। একটি সন্তানকে দশ মাস দশ দিন জঠরে ধারণ করে তিল তিল করে বড় করে তোলা আর একদিন সকালে তার রক্তভেজা জামাটি জড়িয়ে ধরে চিৎকার করা এই যন্ত্রণার পরিমাপ করার ক্ষমতা মানুষের কোনো ভাষার নেই।

জাকারিয়ার মায়ের মতো এমন শত মায়ের বুক আজ সাতক্ষীরার মাটিতে খালি হয়ে যাচ্ছে। যে কোলের উষ্ণতায় জাকারিয়া বড় হয়েছিল সেই কোল আজ এক বিশাল মরুভূমি। আমাদের সমাজ কি পারে জাকারিয়ার মায়ের সেই শূন্য কোল ফিরিয়ে দিতে। কোনো বিচার ব্যবস্থা কোনো ফাঁসির দড়ি কিংবা কোনো প্রশাসনিক আশ্বাস কি সেই মায়ের চোখের এক ফোঁটা জলের দাম শোধ করতে পারবে। রাষ্ট্র যখন তার নাগরিকদের জীবনের ন্যূনতম নিরাপত্তা দিতে পারে না, তখন সেই রাষ্ট্রে সামাজিক সুস্থতার দাবি করা বড় কঠিন হয়ে পড়ে। যখন সাতক্ষীরার রাস্তায় জাকারিয়ারা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে না, চায়ের দোকানে সামান্য ঝগড়া মেটাতে গিয়ে লাশ হয়ে যায়, তখন বুঝতে হবে আমাদের জনপদের অভিভাবকরা তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালনে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।

এখন বড় প্রশ্ন হলো, জাকারিয়া হত্যার বিচার কি কেবল ওই হাতে গোনা কয়েকটা আসামির সাজাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে? ওই কিশোরদের জেলে পাঠালেই কি সাতক্ষীরা থেকে এই অস্ত্রের মহড়া বন্ধ হয়ে যাবে। নিশ্চিতভাবেই না। যদি সাতক্ষীরাকে এই অন্ধকার থেকে বের করে আনতে হয় তবে আঘাত করতে হবে বিষবৃক্ষের শেকড়ে। যে সামাজিক বা রাজনৈতিক ক্ষমতা এই কিশোরদের হাতকে খুনি বানিয়ে তোলে সেই আশ্রয়দাতাদেরও জাকারিয়া হত্যার সমান অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে হবে। অপরাধীকে প্রশ্রয় দেওয়া নিজে অপরাধ করার চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।

পরিবারগুলোকে আজ চোখ মেলতে হবে। জানতে হবে তাদের সন্তানরা কার সাথে সময় কাটাচ্ছে রাত বিরাতে কোথায় যাচ্ছে। কেবল জিপিএ পাঁচ আর অর্থ উপার্জনের প্রতিযোগিতায় না নামিয়ে সন্তানদের বুকের ভেতরে একটু মানবিকতার চর্চা করাতে হবে। একই সাথে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠগুলো আবার সচল করতে হবে সংস্কৃতি চর্চার পথ সুগম করতে হবে। যে হাতে বই কিংবা ফুটবল থাকার কথা সেই হাতে যাতে কোনো বড় ভাই ধারালো অস্ত্র তুলে দিতে না পারে তার সামাজিক প্রতিরোধ গড়তে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে কঠোর হতে হবে। কোনো বড় ভাইয়ের টেলিফোন যেন অপরাধীকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চাবিকাঠি না হতে পারে।

জাকারিয়ার বুকের রক্ত এখনো আমাদের রাস্তার ধূলিকণায় শুকিয়ে যায়নি। হয়তো কিছুদিন পর নতুন কোনো খবরের চাপে আমরা এই শোক আর ক্ষোভ ভুলে যাব। আবার হয়তো কোনো এক গলির মোড়ে আরেকদল তরুণ নতুন অস্ত্রের ধার পরীক্ষা করবে বড় ভাইয়ের ইশারায়। কিন্তু আমরা যদি আজ সচেতন না হই যদি সাতক্ষীরার সুশীল সমাজ এই প্রশ্রয়দাতার সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আওয়াজ না তোলে তবে মনে রাখা ভালো যে আজ যা জাকারিয়ার মায়ের সাথে ঘটেছে কাল তা আপনার কিংবা আমার সন্তানের সাথেও ঘটতে পারে। জাকারিয়ার এই মর্মান্তিক বিদায় যেন আমাদের বিবেককে নাড়া দিয়ে যায়। আমরা এমন এক সাতক্ষীরা চাই যেখানে কোনো মা তার সন্তানকে বাইরে পাঠিয়ে বুক ধড়ফড় করে অপেক্ষা করবেন না। আমরা এমন পরিবেশ চাই যেখানে রাজনীতি মানে হবে মানুষের সুরক্ষা কোনো কিশোরকে খুনি বানানোর কারখানা নয়। জাকারিয়া আর কোনোদিন ফিরে আসবে না কিন্তু তার রক্তের দোহাই দিয়ে সাতক্ষীরার আর কোনো মায়ের বুক খালি হওয়া বন্ধ করতেই হবে।

আখলাকুর রহমান, উদ্যোক্তা ও স্বপ্নদ্রষ্টা, আসিফা

Ads small one

মৌচাক সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বিশেষ অনুষ্ঠান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
মৌচাক সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে নজরুল বর্ষ উপলক্ষে সাতক্ষীরায় বিশেষ অনুষ্ঠান

সংবাদদাতা: মৌচাক সাহিত্য পরিষদের আয়োজনে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কালজয়ী সাহিত্যকর্মের ওপর এক বিশেষ আলোচনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।

‘নজরুল বর্ষ’ উদ্যাপন উপলক্ষে সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী তুফান কনভেনশন সেন্টার ও লেকভিউ প্রাঙ্গণে এই মহতী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বিকেলে “মৌচাক সাহিত্য পরিষদ, সাতক্ষীরা”-এর ব্যানারে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক, কবি ও নাট্যকার আব্দুল ওহাব আজাদ।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো. জাহারুল ইসলাম (টুটুল)। তিনি তাঁর বক্তব্যে জাতীয় কবির বিদ্রোহী চেতনা ও তাঁর সাহিত্যিক অবদান বর্তমান প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে কবির জীবন ও সৃষ্টির নান্দনিক দিক নিয়ে গভীর ও তাত্ত্বিক আলোচনা করেন সম্মানিত আলোচকদ্বয়Ñযশোর ও বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের সাবেক কলেজ পরিদর্শক প্রফেসর মো. আবু নসর এবং সাতক্ষীরা সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর বাসুদেব বসু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৌচাক সাহিত্য পরিষদের উপদেষ্টা আব্দুর রব ওয়ার্ছি, মাওলানা আনোয়ারুল হাসান, মুসা করিম, সহসভাপতি শেখ মোসফিকুর রহমান মিলটন, প্রভাষক মহিনুর ইসলাম, যুগ্ম সম্পাদক মো. মছরুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ আব্দুল মজিদ, সাহিত্য সম্পাদক মনিরুজ্জামান মুন্না, জেলা সাহিত্য পরিষদের সভাপতি কবি শহীদুর রহমান, ড. মুফতি আখতারুজ্জামান, সংগীতশিল্পী আবু আফফান রোজ বাবু এবং কবি পল্টু বাশারসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করে দর্শক-শ্রোতাদের মুগ্ধ করে রুফাইয়া রহমান মাইসা, শেখ মিফাতাহুল জান্নাত ও সানজিদা সুরাইয়া শেফা।

তালার ধানদিয়ায় প্রায় দুই লাখ টাকার গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
তালার ধানদিয়ায় প্রায় দুই লাখ টাকার গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেশে জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সরকারের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে সাতক্ষীরার তালা উপজেলার ধানদিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ঝড়গাছা-পানপাড়া গ্রামের নিমাই কৃষ্ণ ঘোষের তিন ছেলেÑপ্রণব ঘোষ, সন্ন্যাসী কুমার ঘোষ ও সুমন ঘোষের পৈতৃক সম্পত্তিতে লাগানো ১৫ বছরের পুরোনো দুটি বড় শীলকড়া গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে।

একই এলাকার সুধীর ঘোষের ছেলে ও স্বর্ণ ব্যবসায়ী পিন্টু ঘোষ এবং রবীন ঘোষসহ তাঁদের সন্ত্রাসী বাহিনী বৈদ্যুতিক করাত দিয়ে এই গাছগুলো কেটে ফেলে।

ভুক্তভোগী প্রণব ঘোষ, সন্ন্যাসী কুমার ঘোষ ও সুমন ঘোষ জানান, তাঁদের না জানিয়ে প্রভাবশালী পিন্টু ঘোষ ও তাঁর লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে জোরপূর্বক গাছ দুটি কেটে নেন, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দুই লাখ টাকা। এ সময় গাছ কাটার ফলে ওই স্থানে থাকা অসংখ্য বাঁশঝাড় ও ফলজ গাছেরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

আশাশুনির নবাগত সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রথম অনুষ্ঠানেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনির নবাগত সমাজসেবা কর্মকর্তার প্রথম অনুষ্ঠানেই অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলায় নবাগত সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১ অক্টোবর আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস পালনের মধ্য দিয়ে তিনি প্রথম কোনো সরকারি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন। তবে উপজেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি অনুষ্ঠানটিতে প্রবীণদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ও জনসমাগম ছিল না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে উপজেলা পরিষদ ভবনের সামনে থেকে একটি সংক্ষিপ্ত র‌্যালি বের করা হয়, যা মাত্র ২০-৩০ হাত এগিয়ে ফটোসেশনের মাধ্যমেই শেষ করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথি ও কয়েকজন আধা প্রবীণ এবং যুবকদের নিয়ে এই র‌্যালি সম্পন্ন হয়। এরপর উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে ২০-৩০ জনের অংশগ্রহণে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন প্রবীণ উপস্থিত থাকলেও তাঁদের কোনো বক্তব্য বা অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ দেওয়া হয়নি। এমনকি এনজিও প্রতিনিধি ও উপস্থিত সাংবাদিকদেরও কোনো মতামত নেওয়া হয়নি। সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা এবং দুজন রাজনৈতিক ব্যক্তি বক্তব্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন।

এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সরকারিভাবে আর্থিক বরাদ্দ থাকার পরও সমাজসেবা কর্মকর্তা অনুষ্ঠান খরচের অজুহাতে উপজেলার ছয়টি এনজিওর কাছ থেকে চাঁদা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অনুষ্ঠানে বিতরণ করা ব্যানারে ফ্রেন্ডশিপ, উত্তরণ, ইএসডিও, বারসিক, ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স, ন্যাজারিন মিশন ও আইডিয়াল এনজিওর নাম ও মনোগ্রাম ব্যবহার করা হয়। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ব্যানার ও নাশতা বাবদ মোট খরচ হয়েছে ৪ হাজার ৯৬০ টাকা, যা এনজিওদের কাছ থেকে তোলা চাঁদার মাধ্যমেই মূলত পূরণ করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি বরাদ্দের টাকা আত্মসাতের পথ উন্মুক্ত হয়েছে বলে অভিযোগ সচেতন মহলের। এ বিষয়ে সচেতন নাগরিকরা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা অফিসের ইউনিয়ন সমাজকর্মী মৃণাল স্বর্ণকার জানান, এনজিওদের কাছ থেকে টাকা আদায় করা হয়েছে এবং মোট ৪,৯৬০ টাকা খরচ হয়েছে; পরবর্তীতে তিনটি অনুষ্ঠানের জন্য ২৫ হাজার টাকার বরাদ্দ পাওয়া যাবে। তবে অভিযুক্ত উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা এস এম দেলোয়ার হোসেন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের সরাসরি জবাব না দিয়ে অফিসে গিয়ে কথা বলার পরামর্শ দেন।