বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩

যোগব্যায়াম প্রাচীন আধ্যাত্মিক অনুশীলন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ৯:৩৭ পূর্বাহ্ণ
যোগব্যায়াম প্রাচীন আধ্যাত্মিক অনুশীলন

প্রকাশ ঘোষ বিধান

যোগব্যায়াম শুধুমাত্র একটি শারীরিক ব্যায়াম নয়, এটি মূলত দেহ, মন এবং আত্মার মিলন ঘটানোর একটি প্রাচীন আধ্যাত্মিক অনুশীলন। এটি অনুশীলনের মাধ্যমে আত্ম-উপলব্ধি, মানসিক শান্তি এবং পরমাত্মার সাথে সংযোগ স্থাপনের পথ সুগম হয়। হিন্দু, বৌদ্ধ ও জৈন দর্শনে যোগের মূল লক্ষ্য হলো জাগতিক মোহ ও দুঃখ থেকে মুক্তি এবং আত্মিক মুক্তি বা মোক্ষ লাভ করা।

 

যোগ হল প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত এক বিশেষ ধরনের শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন। এর উদ্দেশ্য মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতাবিধান। সুস্বাস্থ্যের চাবিকাঠি হিসেবে ইয়োগা বা যোগের গুরুত্ব অনেক। এই প্রথা ভারতে আজও প্রচলিত আছে। ইতিহাস থেকে জানা যায়, প্রাচীনকাল থেকেই ভারতের সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ যোগ। বিভিন্ন রোগ ঠেকাতে, শরীর ভালো রাখতে এবং নিয়মিত শরীরচর্চা করতে তারা ভরসা রাখতেন যোগব্যায়ামের ওপর। বর্তমান সময়ে এর উপকারিতা ও গুরুত্ব বেশি হওয়ায় ভারতের এই প্রাচীন জ্ঞান এখন বিশ্বের অন্য দেশগুলোতেও আপন করে নেওয়া হচ্ছে।

 

২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস। ২০১৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা করার প্রস্তাব দেন। এই বছরই ১১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘ রাষ্ট্রসংঘ সাধারণ পরিষদ ২১ জুন তারিখটিকে আন্তর্জাতিক যোগ দিবস বলে ঘোষণা করেন।২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ২১ জুন বিশ্বব্যাপী দিবসটি উদযাপন করা হয়।

 

যোগ শব্দটি দুটি সংস্কৃত শব্দ য়ুজ এবং য়ুজির সমন্বয়ে গঠিত। যার অর্থ এক সঙ্গে বা একত্র হওয়া। তাই যোগের অর্থ বোঝায় আত্মা, মন এবং শরীরের সমন্বয়। চিন্তা ও কর্মের একতা প্রকাশ করে সৃষ্টিকর্তা বা আধ্যাত্মিক বিষয়ে চিন্তা করাও যোগের একটি প্রধান উদ্দেশ্য।

 

পতঞ্জলির যোগসূত্রে আধ্যাত্মিক উন্নতির জন্য আটটি ধাপের কথা বলা হয়েছে। যম (নিয়ম), নিয়ম (শৃঙ্খলা), আসন (শারীরিক ভঙ্গি), প্রাণায়াম (শ্বাস নিয়ন্ত্রণ), প্রত্যাহার (ইন্দ্রিয় নিয়ন্ত্রণ), ধারণা (মনোযোগ), ধ্যান (একাগ্রতা) এবং সমাধি (পরমাত্মায় লীন হওয়া)। শ্বাস-প্রশ্বাসের নিয়ন্ত্রণ (প্রাণায়াম) এবং গভীর মনোযোগের (ধ্যান) মাধ্যমে মনকে শান্ত করা হয়, যা অন্তর্মুখী হতে সাহায্য করে।

 

যোগ সারায় রোগ! এই প্রবাদ বহু প্রাচীন। বহু যুগ ধরে ভারতের বিশিষ্ট ঋষি-মুণিরা নিয়মিত যোগব্যায়াম করতেন। যোগ বিদ্যায়, শিবকে আদি যোগী বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ ভগবান শিব ছিলেন যোগের জনক। বেদ অনুযায়ী, যোগ হল আত্মা ও পরমাত্মার মিলন। যোগ অহংকে ধ্বংস করে। যে মুহুর্তে মনের প্রবৃত্তি বন্ধ হয়ে যায়, তখনই যোগের কণা শুরু হয়।

 

সুষম খাদ্যাভাস ও যোগব্যায়ামের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে সুস্থভাবে জীবনযাপন করতেন। শুধু তাই নয়, মন ও শরীর উভয়ই সুস্থ ও শক্তিশালী থাকে। আর তাই দেশে এখনও যোগব্যায়ামকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা হয়। বর্তমানে দেশ ছাড়িয়ে গোটা বিশ্বের দরবারেই এই যোগ-ব্যায়াম এক অন্য মাত্রা পেয়েছে।

 

সাফল্যে তিনটি জিনিস থেকে আসে। সম্পদ, খ্যাতি ও মানসিক শান্তি। এই তিন জিনিস যদি একজনের মধ্যে থাকে তাহলে তিনি খুব সহজেই মানসিক শান্তি পাওয়ার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হল যোগব্যায়াম। ২১ জুন যোগ দিবস পালিত হয় প্রতি বছর। যোগব্যায়াম করার কোনও নির্দিষ্ট সময় নেই। যোগব্যায়াম শুধুমাত্র দীর্ঘায়ু হতে নয়, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে, মনকে শান্ত ও মজবুত করতেও সাহায্য করে।

 

পঞ্চাঙ্গ অনুসারে, ২১ জুন হল উত্তর গোলার্ধের দীর্ঘতম দিন। এদিন ভারতীয় সংস্কৃতি অনুসারে, গ্রীষ্মের অবিচ্ছিন্নতার পরে সূর্য দক্ষিণায়ণে পড়ে। গ্রীষ্মকালীন অয়নকাল। গ্রীষ্মকালের পর সূর্য দক্ষিণায়নে। এই দিনে সূর্য খুব তাড়াতাড়ি উদয় হয়, তারপর দেরি করে অস্তও যায়। দক্ষিণায়নের কারণে সূর্যের তেজ কমে যায়। কথিত আছে, সূর্যের দক্ষিণায়নের সময় আধ্যাত্মিক কৃতিত্ব অর্জনে অত্যন্ত খুব উপকারী বলে প্রমাণিত। এছাড়া এর জেরে পরিবেশ দূষিত হয়, জীবাণু উৎপন্ন হয় সবচেয়ে বেশি, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এদিন। এই কারণেই এদিন যোগাব্যায়াম করে শরীর ও মন থাকে সুস্থ ও মজবুত।

 

সারা বিশ্বেই মহা সমারহে পালিত হয় এই বিশেষ দিন। উদ্দেশ্যে একটাই, যোগেই হোক রোগ-বিয়োগ। যোগের মাধ্যমেই সেরে উঠুক এ বিশ্ব। প্রাচীন ভারতে তখন ওষুধ মানক বস্তুটি ছিল মানুষের নাগালের বাহিরে, তখন শারীরিক এবং মানসিক ভাবে সেরে ওঠার অন্যতম বিশ্বাসযোগ্য মাধ্যম ছিল যোগ ব্যায়াম। সেই ভারতের দেখাদেখিই যোগা ছড়িয়ে পড়ে সারা বিশ্বেই। ধীরে ধীরে সেরে উঠতে থাকে বিশ্ব।

 

যোগ হলো প্রাচীন ভারতে উদ্ভূত এক বিশেষ ধরনের শারীরিক ও মানসিক ব্যায়াম এবং আধ্যাত্মিক অনুশীলন প্রথা বা যোগব্যায়াম। নিয়মিত যোগব্যায়াম হার্ট ভালো রাখতে, রক্তচাপ কমাতে, নমনীয়তা বাড়াতে এবং পেশি শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এ ছাড়া শ্বাসযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত করতে, সামগ্রিক মানসিক সুস্থতা দেয় যোগাভ্যাস। নিয়মিত যোগ ব্যায়াম করা জরুরি। এতে শরীর ও মন সুস্থ থাকে।

লেখক; সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

কলারোয়ায় বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার ও রেকর্ড সংশোধনের দাবি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৭ পূর্বাহ্ণ
কলারোয়ায় বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার ও রেকর্ড সংশোধনের দাবি

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার পিছলাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে নিবন্ধিত ৯ শতক জমি বিদ্যালয়ের অনুকূলে রেকর্ড ও দখল বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অ্যাডহক কমিটির সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক।

আবেদনপত্র সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়টির মোট জমির পরিমাণ ৭৩ শতক। এর মধ্যে ৫৮ শতক জমি ২ নম্বর খতিয়ানে এবং ১৫ শতক জমি ২/১ নম্বর খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত। ১৯৭৩ সালে দুটি পৃথক নিবন্ধিত দলিলের মাধ্যমে ১৫ শতক জমি ক্রয় করা হয়, যা বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের অনুকূলে নিবন্ধিত রয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, পরবর্তী সময়ে আরএস রেকর্ড প্রকাশের সময় ২/১ নম্বর খতিয়ানের ৯৬৫ নম্বর দাগের ১৫ শতক জমির মধ্যে ৯ শতক জমি ভুলবশত ‘পিছলাপোল ঈদগাহ ময়দান’-এর নামে রেকর্ড করা হয়। অথচ দলিল অনুযায়ী এই জমির প্রকৃত মালিক বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই রেকর্ড সংশোধন বিধিসম্মতভাবে করার দাবি জানানো হয়েছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক গোলাম মোস্তফা আবেদনপত্রে উল্লেখ করেন, বিদ্যালয় চত্বরের প্রায় মাঝখানে ঈদগাহ ময়দান থাকায় কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচল ও খেলাধুলায় নানা সমস্যা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার স্বার্থে এই জমি পুনরুদ্ধার করা প্রয়োজন।

উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম আবেদনপত্রটি পর্যালোচনা করে জমি উদ্ধারের পক্ষে সুপারিশ করেছেন।

 

কেশবপুরে স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু: ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুরে স্কুলছাত্রীর রহস্যজনক মৃত্যু: ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের কেশবপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের এক মেধাবী ছাত্রীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধর্ষণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
নিহত কিশোরীর নাম ফারিয়া ইয়াসমিন তিশা (১৬)। সে উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের বাগদহা গ্রামের ঠিকাদার মো. আলমগীর হোসেনের ছোট মেয়ে এবং ওই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১ জুলাই (বুধবার) তার রহস্যজনক মৃত্যু হয়।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একই গ্রামের মো. আহাদ আলীর ছেলে রাজিদুর রহমান নিশানের (২১) সঙ্গে ওই কিশোরীর দীর্ঘদিন ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। পরিবারের দাবি, রাজিদুর কৌশলে কিশোরীর কিছু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে এবং পরে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করতে শুরু করে। এই মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরেই তিশা আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছে বলে দাবি করছে তার পরিবার।
আইনি প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে কেশবপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শহিদুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। ময়নাতদন্তের (পোস্টমর্টেম) প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। প্রতিবেদন পেতে আনুমানিক ৩০ দিনের মতো সময় লাগতে পারে। তবে পুলিশ বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভিন্ন আলোচনার বিষয়ে এসআই শহিদুল ইসলাম আরও বলেন, অনেক সময় না জেনে অপতথ্য ছড়ানো হয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন আসার আগে কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য তিনি সবাইকে অনুরোধ জানান।
এদিকে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে একটি নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা, যাতে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যায়।

 

পত্রদূতে সংবাদ প্রকাশের জের: শ্যামসুন্দর মঠ সংস্কারে নামছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ৩ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
পত্রদূতে সংবাদ প্রকাশের জের: শ্যামসুন্দর মঠ সংস্কারে নামছে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর

মিলন বিশ্বাস: দৈনিক ‘পত্রদূত’ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পর অবশেষে টনক নড়েছে প্রশাসনের। অবহেলা আর সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের মুখে পড়া সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার সোনাবাড়িয়া গ্রামের ঐতিহাসিক ‘শ্যামসুন্দর মঠ-মন্দির’ রক্ষায় দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে খুলনা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তর।
গত ১৯ জুন অনলাইন ও ২২ জুন প্রিন্ট ভার্সনে দৈনিক পত্রদূতে “দাঁড়িয়ে আছে একাকী, ভাঙা দেয়ালে কান পাতলে আজও মেলে ৪০০ বছরের ইতিহাস” শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটিতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই অনন্য পুরাকীর্তির জরাজীর্ণ দশা, মাদকসেবীদের উপদ্রব এবং প্রতœতত্ত্ব বিভাগের দীর্ঘদিনের উদাসীনতার চিত্র সবিস্তারে তুলে ধরা হয়। সংবাদটি প্রকাশের পর পরই সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) প্রাথমিকভাবে মন্দির প্রাঙ্গণ ও মূল ভবনে সংস্কার কাজের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলায় মন্দির জুড়ে জন্ম নেওয়া পরগাছা, আগাছা নির্মূল এবং চারপাশের জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ পুরোদমে চালানো হচ্ছে। স্থানীয়রা জানান, পত্রদূতের খবরের পর এমন দ্রুত পদক্ষেপ তারা আগে কখনো দেখেননি।
খুলনা প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক মো. মহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, পত্রদূতের প্রতিবেদনটি তাদের বিশেষ দৃষ্টিগোচর হয়েছে। শত বছরের এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া থেকে বাঁচাতে তারা আর সময় নষ্ট করতে চান না।
তিনি আরও জানান, “আমরা বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়েছি। আজ থেকে মঠটির সুরক্ষায় প্রাথমিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও আগাছা পরিষ্কারের কাজ শুরু করা হয়েছে। এছাড়া মূল অবকাঠামোর সংস্কার কাজের রূপরেখা তৈরি ও বাস্তব অবস্থা সশরীরে খতিয়ে দেখতে আগামী সপ্তাহেই প্রতœতত্ত্ব অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসছে।”
জরুরি ভিত্তিতে এই কাজ শুরু হওয়ায় সোনাবাড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা, দর্শনার্থী এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মাঝে স্বস্তি ও আনন্দের হাওয়া বয়ে যাচ্ছে।
মন্দিরের সভাপতি দেবপ্রিয় চৌধুরী এবং সেবাইত সুবপ্রসাদ চৌধুরী পত্রদূত-কে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “পত্রদূত পত্রিকায় আমাদের আকুতি আর মন্দিরের বাস্তব চিত্রটি সঠিকভাবে ফুটে ওঠায় আজ প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। আজ থেকে আগাছা ও ময়লা পরিষ্কারের কাজ শুরু হয়েছে, যা আমাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল। আমরা চাই আগামী সপ্তাহের পরিদর্শনের পর দ্রুত মূল ভবনের স্থায়ী সংস্কার কাজও শুরু হোক।”