যৌন হয়রানির অভিযোগে মনিরামপুরে শিক্ষক আটক, ছাত্রীদের গণ-অনশন
সারা দেশে একদিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে আটজনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় তাদের মৃত্যু হয়। এছাড়া এই সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে আক্রন্ত হয়ে নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৭৩৩ জন।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ৭০১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১১০ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৯১ জন, খুলনা বিভাগে ৩০২ জন, রংপুর বিভাগে ৮৬ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৪৫ জন, বরিশাল বিভাগের ১৯১ জন এবং সিলেট বিভাগে সাত জন আক্রান্ত হয়েছেন।
আরও জানানো হয়, চলতি বছরের শুরু থেকে আজকে পর্যন্ত সারা দেশে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭০ জন। এদের মধ্যে ৪৯ হাজার ৩৭৫ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। আর বর্তমানে হাসপাতালে ৪ হাজার ৩৮ জন চিকিৎসাধীন আছেন। এই সময়ের মধ্যে মোট মারা গিয়েছেন ১৫৭ জন।
আগামী ১২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) প্রথম ধাপের নির্বাচন। স্থানীয় সরকারের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সাতটি ধাপে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) কমিশন বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান।
আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, ‘দেশের মোট ইউনিয়ন পরিষদ রয়েছে ৪ হাজার ৫৮০টি। এসব ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সাতটি ধাপে অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি। পঞ্চম ধাপ আগামী বছরের ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল, সপ্তম ধাপ ২৭ মে।
তিনি আরও বলেন, ‘প্রথম ধাপে ৮০টি উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে পারি আমারা। এগুলো আমরা প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সকল নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা হবে। আমরা তৃতীয় ধাপে এ আলোচনা করবো।’
তারিক ইসলাম
আজকের কংক্রিটের শহরে নিঃশ্বাস নেওয়া যেন এক কঠিন সংগ্রাম। মাত্রাতিরিক্ত নগরায়ণ, যানবাহনের কালো ধোঁয়া আর অপরিকল্পিত শিল্পায়ন প্রতিনিয়ত আমাদের চারপাশের বাতাসকে বিষাক্ত করে তুলছে। এই শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে কেবল যেকোনো গাছ লাগালেই চলবে না, বরং প্রয়োজন এমন সব উদ্ভিদ নির্বাচন করা যা অধিক পরিমাণে অক্সিজেন উৎপাদন এবং বাতাস পরিশুদ্ধ করতে সবচেয়ে বেশি পারদর্শী। বাংলাদেশের আবহাওয়া ও মাটিতে প্রাকৃতিকভাবেই এমন কিছু গাছ জন্মে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর।
আমাদের পরিবেশ রক্ষায় সহায়ক এমন শীর্ষ ৫টি উচ্চ অক্সিজেন প্রদানকারী গাছের বিবরণ তুলে ধরা হলো:
১. অশ্বত্থ গাছ
তালিকার শীর্ষেই রয়েছে অশ্বত্থ গাছ। এর রয়েছে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণের অসামান্য ক্ষমতা। সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, বিশেষ মেটাবলিক প্রক্রিয়া বা ‘ক্যাম’ পাথওয়ের কারণে এটি রাতের বেলাতেও বায়ুমন্ডলে অক্সিজেন নির্গত করতে সক্ষম। এর সুবিশাল ক্যানোপি বা পাতার বিস্তার বাতাস থেকে প্রচুর ধূলিকণা দূর করে এবং শহুরে উষ্ণতা কমাতে দারুণ কার্যকরী।
২. বট গাছ
আমাদের গ্রামীণ জনপদের চিরচেনা বট গাছ তার বিশাল আকৃতি এবং সুবিশাল ডালপালার কল্যাণে এক একটি প্রাকৃতিক অক্সিজেন কারখানা। এর পাতার মোট উপরিভাগ বা সারফেস এরিয়া অনেক বেশি হওয়ায় সালোকসংশ্লেষণের মাত্রা বহুগুণ বেড়ে যায়। বিপুল পরিমাণ সবুজ পাতার প্রাচুর্য থাকায় এটি আশেপাশের পরিবেশকে সবসময় শীতল ও সতেজ রাখে।
৩. নিম গাছ
পরিবেশবান্ধব গাছের তালিকায় নিম গাছের নাম সর্বাগ্রে আসে। এটি কেবল দিনের বেলায় বিপুল পরিমাণ অক্সিজেনই তৈরি করে না, বরং বাতাসকে প্রাকৃতিক ফিল্টার হিসেবে পরিষ্কার রাখে। বায়ুমন্ডলের ক্ষতিকর গ্রিনহাউস গ্যাস শোষণ করে পরিবেশ ঠান্ডা রাখতে এবং বাতাসকে বিষমুক্ত করতে নিম গাছের জুড়ি মেলা ভার।
৪. অর্জুন গাছ
রাস্তার ধার কিংবা মেঠোপথে পরম যতেœ বেড়ে ওঠা অর্জুন একটি ঘন পাতার চিরহরিৎ গাছ। এর চওড়া ক্যানোপি দ্রুতগতিতে বাতাস থেকে কার্বন সেকুয়েস্ট্রেশন (কার্বন আটকে রাখা) কাজটি নিখুঁতভাবে সম্পন্ন করে। ফলস্বরূপ, এই গাছটি প্রচুর পরিমাণে অক্সিজেন বায়ুমন্ডলে ফিরিয়ে দিতে সক্ষম।
৫. জাম গাছ
আমাদের চেনা পরিচিত জাম গাছ অত্যন্ত দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এর পাতার ঘনত্ব বেশ বেশি। এটি বাতাস থেকে সালফার ডাই অক্সাইড ও নাইট্রোজেন অক্সাইডের মতো মারাত্মক দূষিত উপাদানগুলো শুষে নিয়ে বিশুদ্ধ অক্সিজেন ফিরিয়ে দিতে অত্যন্ত পারদর্শী। দূষণ রোধ ও পরিবেশ সুরক্ষায় এই ফল গাছের অবদান অনস্বীকার্য।
বায়ুদূষণের এই চরম সংকটময় সময়ে আমাদের বাড়ির আঙিনা, গ্রামীণ সড়ক, মহাসড়কের পাশ কিংবা কংক্রিটের শহুরে চত্বরে অশ্বত্থ, বট, নিম, অর্জুন ও জামের মতো উপকারী গাছগুলো সংরক্ষণ ও রোপণ করা অত্যন্ত জরুরি। একটি সবুজ, সুস্থ ও প্রাণবন্ত ভবিষ্যৎ গড়তে এখনই আমাদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
লেখক: তারিক ইসলাম, সভাপতি, সাতক্ষীরা বোটানিক্যাল সোসাইটি।