শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩

লাইনের শেষে ন্যায্যতা নেই: তেলের পাম্পের বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:৪৮ অপরাহ্ণ
লাইনের শেষে ন্যায্যতা নেই: তেলের পাম্পের বাস্তবতা

সচ্চিদানন্দ দে সদয়
তেলের পাম্প-নগর ও গ্রামীণ জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। আধুনিক অর্থনীতির এই গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো কেবল জ্বালানি সরবরাহের কেন্দ্র নয়; বরং এটি রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলা, বাজার ব্যবস্থাপনা এবং নাগরিক আচরণেরও এক প্রতিচ্ছবি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে এই পাম্পগুলো ঘিরে যে চিত্র ফুটে উঠছে, তা উদ্বেগজনক এবং একই সঙ্গে গভীরভাবে চিন্তার বিষয়। ‘জোর যার, মুল্লুক তার’-এই প্রবাদের মতোই কোথাও কোথাও পেট্রোল পাম্পে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতা, প্রভাব এবং পরিচয়ের দাপট। দীর্ঘ সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ যখন নিয়ম মেনে অপেক্ষা করছেন, তখন কেউ কেউ বিশেষ সুবিধা নিয়ে সামনে চলে যাচ্ছেন। কেউ প্রতিবাদ করছেন, কেউ চুপ থাকছেন। আর এই নীরবতাই ধীরে ধীরে অন্যায়ের স্বাভাবিকীকরণ ঘটাচ্ছে। একটি সমাজে যখন নিয়মের চেয়ে প্রভাব বড় হয়ে ওঠে, তখন সেটি আর কেবল একটি ছোটখাটো অনিয়ম থাকে না; তা হয়ে ওঠে কাঠামোগত অবক্ষয়ের ইঙ্গিত। তেলের পাম্পে এই ধরনের আচরণ আপাতদৃষ্টিতে ক্ষুদ্র মনে হলেও এর প্রভাব বহুমাত্রিক। সময় নষ্ট, যানজট বৃদ্ধি, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি-এসব তো আছেই, পাশাপাশি তৈরি হচ্ছে এক ধরনের সামাজিক বৈষম্য, যেখানে শক্তিশালী ব্যক্তি নিয়মের বাইরে দাঁড়িয়ে যান। অনেক সময় অভিযোগ ওঠে, কিছু পাম্পে জ্বালানি বিতরণেও অনিয়ম হয়-পরিমাপে কারচুপি, নির্ধারিত দামের বাইরে বিক্রি, কিংবা সংকট তৈরি করে কৃত্রিম চাপ সৃষ্টি করা। যদিও সব পাম্পের ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়, তবুও কিছু ব্যতিক্রমই পুরো ব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট করার জন্য যথেষ্ট। প্রথমত, নজরদারির ঘাটতি। বাজার তদারকি প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিতভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে না পারলে অনিয়ম বাড়ে। দ্বিতীয়ত, সামাজিক প্রতিরোধের অভাব। সাধারণ মানুষ অন্যায় দেখেও চুপ থাকেন, কারণ প্রতিবাদ করলে হয়রানি বা ঝামেলার আশঙ্কা থাকে। তৃতীয়ত, কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়াও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে। এই তিনটি উপাদান মিলেই তৈরি হচ্ছে এক ধরনের “নীরব নৈরাজ্য”-যেখানে আইন আছে, নিয়ম আছে, কিন্তু তার প্রয়োগ দুর্বল। অন্যদিকে, এই সমস্যার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো মনস্তাত্ত্বিক। যখন একজন সাধারণ মানুষ বারবার দেখে যে নিয়ম ভাঙা ব্যক্তিই দ্রুত সুবিধা পাচ্ছে, তখন তার ভেতরেও এক ধরনের হতাশা ও নিষ্ক্রিয়তা তৈরি হয়। এটি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক মূল্যবোধের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ধীরে ধীরে “আমি কেন নিয়ম মানব?”-এই প্রশ্নটি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে। এভাবেই ছোট ছোট অনিয়ম একসময় বড় সামাজিক অসুস্থতায় রূপ নেয়। তেলের পাম্পে শৃঙ্খলা ভাঙার পেছনে কেবল ব্যক্তিগত অনিয়ম নয়, বরং একটি বড় প্রশাসনিক শিথিলতার চিত্রও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। নিয়ম-কানুন আছে, নির্দেশনা আছে, এমনকি তদারকি সংস্থাও রয়েছে-তবুও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন অনেক ক্ষেত্রেই দুর্বল। ফলে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের “নিয়ন্ত্রণহীন নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা”-যেখানে কাগজে-কলমে শাসন আছে, বাস্তবে আছে ঢিলেঢালা প্রয়োগ। জ্বালানি খাত এমন একটি সংবেদনশীল খাত, যেখানে সামান্য অনিয়মও বড় আকারের প্রভাব ফেলতে পারে। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, কিছু ক্ষেত্রে নিয়মিত মনিটরিংয়ের ঘাটতি, আকস্মিক পরিদর্শনের অভাব এবং জবাবদিহির দুর্বল কাঠামো পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। ফলে যেসব অনিয়ম শুরুতে ছোট পরিসরে ঘটে, তা ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায়, অভিযোগ দিলেও তা দ্রুত নিষ্পত্তি হয় না। তদন্ত হয় ধীরগতিতে, এবং অনেক ক্ষেত্রে ফলাফল সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছায় না। এই দীর্ঘসূত্রতা একদিকে যেমন অপরাধীদের সাহস বাড়ায়, অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের আস্থাহীন করে তোলে। ফলে তারা আর অভিযোগ করতেও আগ্রহী হন না। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্থানীয় প্রভাব ও ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা। কিছু এলাকায় প্রভাবশালী গোষ্ঠীর উপস্থিতি এমনভাবে কাজ করে যে, নিয়ম প্রয়োগে প্রশাসনও অনেক সময় চাপের মুখে পড়ে। এতে করে আইন প্রয়োগের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয় এক ধরনের অসহায়ত্ব। জ্বালানি তেলের বাজারব্যবস্থায় আরেকটি সমস্যা হলো তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব। কখন কোথায় কতটুকু সরবরাহ হলো, কী দামে বিক্রি হচ্ছে, বা কী কারণে সংকট তৈরি হচ্ছে-এসব তথ্য সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য নয়। এই তথ্যগত অস্পষ্টতা গুজব ও অবিশ্বাসকে আরও উসকে দেয়। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট-শুধু আইন থাকলেই হয় না, তার কার্যকর প্রয়োগই আসল বিষয়। শৃঙ্খলা তখনই প্রতিষ্ঠিত হয়, যখন নিয়ম ভাঙার পরিণতি নিশ্চিত ও দ্রুত হয়। কিন্তু যখন শাস্তি অনিশ্চিত বা বিলম্বিত হয়, তখন অনিয়মই এক ধরনের “বিকল্প নিয়ম” হয়ে দাঁড়ায়। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্ত হন সাধারণ মানুষ। তারা একদিকে যেমন সময় ও অর্থ হারান, অন্যদিকে ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার ওপর আস্থা হারাতে শুরু করেন। এটি দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তেলের পাম্পকেন্দ্রিক অনিয়মের সবচেয়ে গভীর দিকটি শুধু প্রশাসনিক নয়-এটি সামাজিক মানসিকতারও প্রতিফলন। এখানে একটি অদৃশ্য কিন্তু শক্তিশালী স্তর কাজ করে, যাকে অনেক ক্ষেত্রেই বলা যায় “গ্রাম্য পাতি নেতা সংস্কৃতি”। স্থানীয় পর্যায়ে কিছু মানুষ নিজেদের প্রভাব, পরিচয় বা রাজনৈতিক ছায়াকে ব্যবহার করে এমন এক ক্ষমতার বলয় তৈরি করেন, যা নিয়মের ওপরে ব্যক্তিকে প্রতিষ্ঠিত করে। এই পাতি নেতৃত্বের প্রভাব অনেক সময় সরাসরি প্রশাসনের নির্দেশের বিরুদ্ধেও চাপ সৃষ্টি করে। পাম্পে জ্বালানি নেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা, সারি ভাঙা, কিংবা অনিয়মকে “ম্যানেজ” করে ফেলা-এসবই কখনো কখনো স্থানীয় প্রভাবশালীদের অঘোষিত অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ফলে আইন নয়, সম্পর্কই হয়ে ওঠে সিদ্ধান্তের মানদ-। অন্যদিকে সাধারণ মানুষ এই পুরো ব্যবস্থার ভেতরে এক ধরনের মানসিক অসহায়ত্বে ভোগেন। তারা জানেন নিয়ম ভাঙা হচ্ছে, কিন্তু প্রতিবাদ করার মতো সামাজিক বা কাঠামোগত নিরাপত্তা তারা পান না। প্রতিবাদ করলে ঝামেলা বাড়তে পারে-এই আশঙ্কা অনেককে নীরব করে দেয়। এই নীরবতাই ধীরে ধীরে অন্যায়কে আরও শক্তিশালী করে তোলে। সমাজবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি এক ধরনের “নীরব সম্মতি”। অর্থাৎ সরাসরি সমর্থন না থাকলেও প্রতিবাদের অভাব অন্যায়কে টিকে থাকতে সাহায্য করে। তেলের পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা একজন সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস শুধু ব্যক্তিগত কষ্ট নয়-এটি একটি ভাঙা সামাজিক চুক্তির প্রতিচ্ছবি। গ্রাম্য পাতি নেতা সংস্কৃতি এখানে আরেকটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি করে-ক্ষমতার ব্যক্তিকরণ। যেখানে নিয়ম বা প্রতিষ্ঠান নয়, ব্যক্তি-সম্পর্কই মুখ্য হয়ে ওঠে। এই ব্যক্তিকেন্দ্রিক ক্ষমতা কাঠামো ধীরে ধীরে রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার বিকল্প ছায়া-ব্যবস্থা তৈরি করে, যা অনেক সময় আনুষ্ঠানিক আইনকেও দুর্বল করে দেয়। ফলে তেলের পাম্পের মতো সাধারণ একটি স্থানে দাঁড়িয়ে থাকা লাইনও আর শুধু জ্বালানি নেওয়ার লাইন থাকে না-তা হয়ে ওঠে ক্ষমতা, প্রভাব এবং সামাজিক অসমতার এক ক্ষুদ্র প্রতিচ্ছবি। তবুও প্রশ্ন থেকে যায়-এই অবস্থা কি অপরিবর্তনীয়? উত্তর হলো, না। পরিবর্তন সম্ভব, তবে তার জন্য প্রয়োজন দুইটি দিকের শক্তিশালী ভূমিকা। প্রথমত, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা; দ্বিতীয়ত, সামাজিক সাহস তৈরি করা। সাধারণ মানুষ যদি সম্মিলিতভাবে ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়াতে পারে, তবে “জোর যার মুল্লুক তার” সংস্কৃতি ধীরে ধীরে দুর্বল হতে বাধ্য। তেলের পাম্পে অনিয়ম, প্রভাবশালী দৌরাত্ম্য এবং সাধারণ মানুষের নীরব অসহায়ত্ব-এই পুরো চিত্রটি কেবল একটি খাতের সমস্যা নয়, বরং বৃহত্তর সামাজিক শৃঙ্খলার সংকটের প্রতিচ্ছবি। তবে এই পরিস্থিতি অমোচনীয় নয়। সঠিক উদ্যোগ, কার্যকর নজরদারি এবং নাগরিক সচেতনতা-এই তিনটি উপাদান একসঙ্গে কাজ করলে পরিবর্তন সম্ভব। প্রথমত, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। জ্বালানি খাতে নিয়মিত ও আকস্মিক তদারকি জোরদার করতে হবে। পাম্পে মূল্য তালিকা, পরিমাপ যন্ত্র এবং বিক্রয় প্রক্রিয়া নিয়মিতভাবে যাচাই করতে হবে। অনিয়ম ধরা পড়লে দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না থাকলে নিয়ম শুধু কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ থাকে। দ্বিতীয়ত, ডিজিটাল মনিটরিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা যেতে পারে। বিক্রয় তথ্য, স্টক এবং সরবরাহ ব্যবস্থা যদি স্বচ্ছ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে থাকে, তাহলে অনিয়মের সুযোগ অনেকাংশে কমে আসে। স্বচ্ছতা কেবল প্রশাসনিক দক্ষতা বাড়ায় না, বরং জনগণের আস্থাও পুনরুদ্ধার করে। তৃতীয়ত, স্থানীয় প্রভাবশালী বা “পাতি নেতা” সংস্কৃতির নিয়ন্ত্রণ জরুরি। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যেন আইন ও নিয়মের বাইরে বিশেষ সুবিধা নিতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। এখানে প্রশাসনের নিরপেক্ষ অবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইন প্রয়োগে যদি সামান্যও পক্ষপাত দেখা যায়, তবে পুরো ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট হয়ে যায়। চতুর্থত, ভোক্তা অধিকার সচেতনতা বাড়াতে হবে। সাধারণ মানুষ যদি নিজের অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হন, তাহলে অনিয়ম সহজেই চলতে থাকে। অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা, দ্রুত প্রতিকার এবং ভুক্তভোগীর সুরক্ষা নিশ্চিত করা গেলে মানুষ ধীরে ধীরে সাহসী হয়ে উঠবে।
পঞ্চমত, সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা জরুরি। নীরবতা অনেক সময় অন্যায়ের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায়। একজন প্রতিবাদ করলে ঝুঁকি থাকতে পারে, কিন্তু সম্মিলিত প্রতিবাদ সেই ঝুঁকি কমিয়ে আনে। সমাজ যদি ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়ায়, তবে অনিয়ম টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়ে। এই বাস্তবতায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানসিক পরিবর্তন। “এভাবেই চলে”-এই স্বাভাবিকীকরণ ভাঙতে হবে। অন্যায়কে মেনে নেওয়া কোনো সমাধান নয়; বরং তা সমস্যাকে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে। তেলের পাম্পের মতো সাধারণ একটি জায়গায় যদি ন্যায্যতা প্রতিষ্ঠা না হয়, তাহলে বৃহত্তর অর্থনীতির প্রতি আস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে। কারণ প্রতিদিনের জীবনে মানুষ যখন নিয়ম ভাঙতে দেখে, তখন রাষ্ট্রীয় শৃঙ্খলার ওপর তার বিশ্বাসও ধীরে ধীরে ক্ষয়ে যায়। অতএব, এই সংকটের সমাধান শুধু প্রশাসনের হাতে নয়, সমাজের প্রতিটি স্তরের অংশগ্রহণ প্রয়োজন। রাষ্ট্র, প্রশাসন এবং নাগরিক-এই তিনটি স্তর একসঙ্গে কাজ করলে “জোর যার মুল্লুক তার” সংস্কৃতি বদলানো সম্ভব।শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন একটাই-আমরা কি নীরব দর্শক হয়েই থাকব, নাকি ন্যায্যতার পক্ষে দাঁড়িয়ে একটি শৃঙ্খল সমাজ গড়ব? উত্তর নির্ভর করছে আমাদের সম্মিলিত অবস্থানের ওপর। লেখক: সংবাদ কর্মী

Ads small one

এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৯ পূর্বাহ্ণ
এইচএসসির ফল প্রকাশের তারিখ: ফেল করলে তিন মাসে পরীক্ষার সুযোগ

চলতি ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল আগামী ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রকাশের প্রস্তাব করেছে বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি। বাংলাদেশ আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান এ তথ্য জানান।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের উচ্চপর্যায়ের একটি সূত্র বৃহস্পতিবার সংবাদ মাধ্যমকে জানায়, সাধারণত বৃহস্পতিবার ফল প্রকাশ করা হয়। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এ দিন ফল প্রকাশিত হতে পারে।

এবার এইচএসসিতে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের আর এক বছর অপেক্ষা করতে হবে না। অকৃতকার্য বিষয়ে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে এবার থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এবার দুই বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ দুই মাসের মধ্যে এবং তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদের ক্ষেত্রে তিন মাসের মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশ ও খাতা পুনর্নিরীক্ষণের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পরই এ পরীক্ষা নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু হবে। সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত সভায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর বিষয়ে মত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ের বেশি সর্বোচ্চ কতটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন, তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ফল প্রকাশের পর দুই মাসের মধ্যে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে। ফল প্রকাশের পর এক মাস পুনর্নিরীক্ষণের কাজ চলবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর পরীক্ষার রুটিন দেওয়া হবে। এরপর পরীক্ষা নেওয়া ও ফল প্রকাশ করা হবে।

চেয়ারম্যান বলেন, দুই বিষয়ে পরীক্ষা হলে দুই মাসের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করা সম্ভব হবে। তবে তিন বা তার বেশি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হলে সময় বেশি লাগবে। সে ক্ষেত্রে তিন মাস পর্যন্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। কারণ, পুনর্নিরীক্ষণ, পরীক্ষার আয়োজন, পরীক্ষা গ্রহণ ও উত্তরপত্র মূল্যায়ন শেষে ফল প্রকাশ করতে হবে।

দুই বিষয়ে পরীক্ষা, নাকি আরও বেশি—সিদ্ধান্ত মন্ত্রণালয়ের

ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, সোমবারের সভায় অন্তর্বর্তী পরীক্ষার ধরন, সম্ভাব্য পরীক্ষার্থী, কতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়া হবে এবং পরীক্ষার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। শুরুতে বাংলা ও ইংরেজি বিষয়ে পরীক্ষা নেওয়ার প্রসঙ্গ এলেও পরে অন্যান্য বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।

অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘বোর্ড চেয়ারম্যানরা পুনঃপরীক্ষা নেওয়ার বিষয়ে তাদের অভিমত দিয়েছেন। তবে দুটি বিষয়ে অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেওয়া হবে, নাকি তিন বা তার বেশি বিষয়ে অনুত্তীর্ণদেরও সুযোগ দেওয়া হবে, তা এখনও নির্ধারণ করা হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ভাষ্য, অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য এ বছর থেকেই অন্তর্বর্তী পরীক্ষা চালুর উদ্যোগ বাস্তবায়নের পক্ষে মত দিয়েছেন বোর্ড চেয়ারম্যানরা।

এক বছর অপেক্ষা না করানোর ঘোষণা উপদেষ্টার

এর আগে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের এক বছর অপেক্ষা না করিয়ে তিন মাসের মধ্যে অকৃতকার্য বিষয়ে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন।

গত শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের উইন্ডি টাউনে গণসাক্ষরতা অভিযান ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘চ্যালেঞ্জড শিক্ষার্থী সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মাহদী আমিন বলেন, এবার এসএসসি পরীক্ষায় প্রায় ৬ লাখ ৯ হাজার শিক্ষার্থী কাঙ্ক্ষিত ফল পায়নি। এত বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকার দায়িত্ব এড়িয়ে যেতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন, এসব শিক্ষার্থীর জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের পথ তৈরি করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি বিষয়ে খারাপ ফলের কারণে একজন শিক্ষার্থীর অন্য সব মেধা ও সৃজনশীলতা নষ্ট হয়ে যায় না। তাই শুধু প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা বা সনদের ভিত্তিতে একজন মানুষের জীবন মূল্যায়ন করা উচিত নয়।

শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, গত ২ জুলাই সারাদেশে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষ হয় ৮ আগস্ট। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্ট।

এবার এইচএসসি, আলিম, এইচএসসি (বিএম/বিএমটি), এইচএসসি (ভোকেশনাল) ও ডিপ্লোমা-ইন-কমার্স পরীক্ষায় ১১টি বোর্ডের অধীনে মোট পরীক্ষার্থী ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন। পরীক্ষার কেন্দ্র ২ হাজার ৬৯৭টি এবং অংশগ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ৯ হাজার ৪৩৯টি। এ বছর নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
চীনের তিব্বতে ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলে ৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে (জিএমটি ১৪৩৩) ভূকম্পনটি অনুভূত হয় বলে জানিয়েছে চীন ভূমিকম্প নেটওয়ার্ক কেন্দ্র (সিইএনসি)।

ভূমিকম্পের তীব্রতায় তাৎক্ষণিকভাবে কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। সিইএনসির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল উত্তর তিব্বতের নাগকু জেলার উচ্চ পার্বত্য এলাকায়, ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে। উৎপত্তিস্থলের পাঁচ কিলোমিটারের মধ্যে গড় উচ্চতা প্রায় ৪ হাজার ৮৬৪ মিটার।

সিইএনসি জানিয়েছে, তিব্বতের রাজধানী লাসা থেকে প্রায় ৪০০ কিলোমিটার দূরে ঘটা এই ভূমিকম্পটি স্থানীয়ভাবে বেশ তীব্রভাবে অনুভূত হয়েছে। ২০২৪ সালের জানুয়ারির পর এটিই চীনে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প।

এর আগে ২০১০ সালে প্রতিবেশী কিংহাই প্রদেশের ইউশুতে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ২ হাজার ৬৯৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং প্রায় ৩০০ জন নিখোঁজ হন, যা আজকের ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল থেকে ২৮০ কিলোমিটার দূরে ছিল।

থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন রুমিন ফারহানা, ওসি বললেন ‘মব সৃষ্টির কথা’

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চাইলেন রুমিন ফারহানা, ওসি বললেন ‘মব সৃষ্টির কথা’

দুর্গাপূজায় ব্যক্তিগত নিরাপত্তা না পাওয়া এবং সৌজন্যমূলক আচরণ না করার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে সরাইল থানায় ওসির কক্ষে তিনি এ ক্ষোভ প্রকাশ করেন। এ সময় ওসিকে উদ্দেশ্য করে রুমিন ফারহানা বলেছেন, ‘আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন।’ সেইসঙ্গে ওসির বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতি, মাটি কাটা ও বালু ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়া এবং আওয়ামী লীগ নেতাদের বাড়িতে গিয়ে খাওয়াদাওয়া করার অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি।

থানার কক্ষে রুমিন ফারহানাকে বলতে শোনা যায়, তিনি একাধিকবার ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য অনুরোধ করেছেন। বিজয়নগর ও আশুগঞ্জে তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হলেও সরাইলে তা পাননি। তার দাবি, নির্বাচিত সংসদ সদস্য নিরাপত্তা চাইলে স্থানীয় পর্যায়ে তা দেওয়ার বিধান রয়েছে। কিন্তু পুলিশ তাকে দেয়নি।

রুমিন ফারহানা বলেন, ‘কতবার রিকোয়েস্ট করেছি যে নিরাপত্তা দেওয়া হোক। আমাকে বিজয়নগরে নিরাপত্তা দিয়েছে, আমাকে আশুগঞ্জে নিরাপত্তা দিয়েছে। ওইটা আইন আছে যে নির্বাচিত এমপি নিরাপত্তা চাইলে লোকাল এরিয়াতে হবে। গাইবান্ধায় আওয়ামী লীগের সময় একজন এমপি গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর এবং উনি মারা যাওয়ার পর এই আইনটা হয়।’

ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘উনি আমার লোকের ফোনই ধরেন না এবং বলেন, উনি নির্বাচিত এমপি, ওনার নিরাপত্তা মানুষ দেবে। তো এ জন্যই মানুষ যা দেখতেছেন, বাইরে আরও ৫-১০ হাজার মানুষ আছে। তো ওরা আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে। আমার তো নিরাপত্তা লাগবে, তাই না? সো মানুষ আমার নিরাপত্তা দিচ্ছে।’

ওসির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাটি কাটা, বালু ও ইটভাটাসংশ্লিষ্ট ব্যবসা থেকে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেন রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, এলাকাটি দাঙ্গাপ্রবণ। কোনও ঘটনা ঘটলে পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় বলে তার অভিযোগ। এসব বিষয়ে জানতে তিনি থানায় গিয়েছিলেন বলেও জানান। তার ভাষ্য, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের সঙ্গে ওসির এমন আচরণ করা উচিত হয়নি।

অভিযোগ অস্বীকার ওসির

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে সরাইল থানার ওসি মোহাম্মদ মনজুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, ‘সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা থানায় এক থেকে দেড়শ লোক নিয়ে এসে হইচই করেন এবং আমার কার্যালয়ে কয়েকশ লোক ঢুকে বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি করে।’

ওসি বলেন, ‘উনি কিছু লোককে শিখিয়ে নিয়ে আসছেন যে, আমার বিরুদ্ধে আজেবাজে কথাবার্তা বলছে, যা আমি প্র্যাকটিস করি না। উনি বলছেন, আমি নাকি কোনও এক আওয়ামী লীগ নেতার বাড়িতে গিয়ে ভাত খেয়ে আসছি। আমি কখনও কারও দাওয়াতেই যাই না। বিয়ের দাওয়াতেও যাই না। রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রাম ছাড়া কোনও খাবারদাবার, খানাপিনায় অ্যাটেন্ড করি না। শুধু সরকারি প্রোগ্রাম, যেখানে ইউএনও মহোদয় থাকেন, আমি থাকি, ম্যাজিস্ট্রেট থাকেন, তখন আমি যাই।’

মামলার আসামি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তাকে ৩০ হাজার টাকা দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেন ওসি। তিনি বলেন, ‘উনি লোক সাজিয়ে নিয়ে আসছেন। সে বলছে, আমাকে নাকি মামলার আসামি ছাড়ার ব্যাপারে ৩০ হাজার টাকা দিয়েছে। লোকটাকে আমি কখনও দেখছি বলে আমার মনে পড়ে না। আসামিরা আসে, অফিসারেরা ধরে হাজতে পাঠায়, আবার কোর্টে চলে যায়। আমার সঙ্গে ইন্টারোগেশনে কোনও প্রয়োজনই হয় না। সে নাকি আমাকেই ৩০ হাজার টাকা দিছে। এটা তো ওনার শেখানো বিষয়।’

ইটভাটা থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে ওসি বলেন, ‘উনি বলছেন, ব্রিকফিল্ড থেকে টাকা নিই। ব্রিকফিল্ড এখানে হাওর অঞ্চল, সবগুলো পানির নিচে ডুবানো। উনি এই অভিযোগটা কোত্থেকে আনলেন?’

পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে ওসি বলেন, ‘দুর্গাপূজায় পুলিশের কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা ছিল। থানা এলাকার সব পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সামগ্রিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য গানম্যান চাওয়ার বিষয়টি আলাদা। এ জন্য তিনি পুলিশ সুপারের কাছে আবেদন করতে পারেন। গানম্যান দেওয়ার সিদ্ধান্ত হলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি তো একটা টিম ওনার সঙ্গে ওইভাবে এনগেজ রাখা আমার পক্ষে সম্ভব ছিল না।’

থানায় বিশৃঙ্খলার অভিযোগ ওসির

ওসি মনজুর কাদের ভূঁইয়া অভিযোগ করেন, রুমিন ফারহানা তার অনুসারীদের নিয়ে থানার কক্ষে এসে তাকে অবরুদ্ধ করেন এবং থানার বাইরে মিছিল করেন। সেখানে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কোনও সংগঠনের লোকজন ছিলেন কি না, তা তিনি জানেন না বলে জানান। তার দাবি, ওই সংগঠনের লোকজনকে গ্রেফতার না করার জন্য সংসদ সদস্য তাকে প্রায়ই চাপ দেন।

এ সময় জবাবে রুমিন ফারহানা ওসিকে বলেছেন, আপনি বিরাট আওয়ামী লীগ ছিলেন। আমরা সব জানি। এখন আসছেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংগঠনের লোক চিনাইতে।

ওসি বলেন, থানায় আসা অনেককেই তিনি চিনতে পারেননি। পরে তাদের পরিচয় জানা যেতে পারে। থানায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির বিষয়টি তিনি নোট করে রেখেছেন বলেও জানান।

এ সময় ওসির সঙ্গে রুমিন ফারহানার সমর্থকদের তর্কে জড়ানোর ঘটনা ঘটে। তাদের কথোপকথনের ভিডিও ধারণ করে রাখার জন্য থানার সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেন ওসি।

এদিকে রুমিন ফারহানা থানায় অবস্থানকালে বাইরে তার পক্ষে এবং ওসির বিরুদ্ধে কয়েক শ মানুষকে স্লোগান দিতে দেখা যায়। এ ঘটনায় থানা ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।