লাবসায় পূর্বশত্রুতার জেরে বিষপ্রয়োগে গাভী হত্যার অভিযোগ
সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ১৩ নম্বর লাবসা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে পূর্বশত্রুতার জেরে একটি প্রজননক্ষম (গাভীন) গাভীকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই সৎ ভাইয়ের মধ্যে বিরোধ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাজনগর গ্রামের মৃত মাহাতব উদ্দিন শেখের ছেলে মোহাম্মদ কবির শেখের বিরুদ্ধে তাঁর সৎ ভাই সমীর উদ্দীনের গাভীকে বিষপ্রয়োগে হত্যার অভিযোগ রয়েছে। প্রায় দুই মাস আগে এ ঘটনায় সমীর উদ্দীন সাতক্ষীরা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর উভয় পক্ষকে নিয়ে থানায় বিষয়টি আপস-মীমাংসা করা হয়। আপসনামায় উল্লেখ করা হয়, গরুকে বিষপ্রয়োগে হত্যার ক্ষতিপূরণ বাবদ কবির শেখ ২ লাখ টাকা প্রদান করবেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, জরিমানা পরিশোধ না করে তিনি গা ঢাকা দেন।
এরই মধ্যে গত ৩০ আগস্ট সকাল আনুমানিক ৯টার দিকে কবির শেখ নিজের ঘরবাড়ি ভাঙচুর এবং স্ত্রী সাহানাজকে মারধর করা হয়েছে বলে পুলিশকে অবহিত করেন। পরে তাঁকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বললে তাঁরা জানান, পাওনা টাকা আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে কবির শেখ নিজেই ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে এবং স্ত্রীকে আঘাতের নাটক সাজিয়ে সমীরের বিরুদ্ধে মামলা করার পাঁয়তারা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. আদম আলী বলেন, “গরুটির পেটে বাচ্চা ছিল এবং সঙ্গে আরেকটি বাছুরও ছিল। গরুটির আনুমানিক মূল্য দুই লাখ টাকা। সমীর ও তাঁর স্ত্রী কান্নাকাটি করছিলেন। গিয়ে দেখি, দুটি কলার ভেতরে বিষের বড়িসদৃশ কিছু খাওয়ানো হয়েছে। পরে গরুটি মারা যায়।” আদম আলী আরও জানান, সমীরের মা করিমন বিবির কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন, বড় ছেলে কবির শেখ ছোট ছেলে সমীর হোসেনের গরুকে বিষ খাইয়ে মেরে ফেলেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবু তাহের জানান, এলাকায় এর আগেও হাঁস-মুরগি বিষ খেয়ে মারা যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এমনকি পুকুরে বিষপ্রয়োগ করে মাছ নিধনের ঘটনাও ঘটেছে।
আরেক বাসিন্দা এনায়েত হোসেন বলেন, থানায় মীমাংসা হওয়ার পরও টাকা দেওয়া হয়নি। পরবর্তীতে রাজনগর মোড়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে সালিশ বসে। সেখানে টাকা পরিশোধের তাগিদ দিলে কোবির হোসেন জমি লিখে দেওয়ার কথা বলেন। এর পর থেকেই দুই পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব নতুন রূপ নেয়।
দুই পক্ষের এ বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশাসনের কাছে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।






