বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩

লেবাননের আকাশে ঘাতক ড্রোন: সাতক্ষীরায় নিঃস্ব দুই পরিবারের স্বপ্নের সমাধি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
লেবাননের আকাশে ঘাতক ড্রোন: সাতক্ষীরায় নিঃস্ব দুই পরিবারের স্বপ্নের সমাধি

এসএম শহীদুল ইসলাম: সাতক্ষীরা শহর থেকে ১৪ কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের নিভৃত গ্রাম ভালুকা চাঁদপুর। গ্রামের কর্মকার পাড়ায় ঢুকতেই কানে আসে কান্নার করুণ সুর। সেই সুরের উৎস শফিকুল ইসলামের জীর্ণ বাড়ি। অন্যদিকে, শহর থেকে ২২ কিলোমিটার দূরে আশাশুনি উপজেলার কাদাকাটি গ্রামেও বইছে একই শোকের মাতম। সেখানে তরুণ অবিবাহিত নাহিদুলের স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে বাতাস।
লেবাননের নাবাতিয়েহ এলাকার জেবদিন গ্রামে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন এই দুই বাংলাদেশি রেমিট্যান্স যোদ্ধা। অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে যারা মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে ভিটেমাটি আর ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে পাড়ি জমিয়েছিলেন পরবাসে, সেখানে ফলের দোকানে কাজ করতেন তারা। আজ তাঁদের মৃত্যুর খবর এলাকায় এনে দিয়েছে পাথরের নীরবতা।
শফিকুলের ঘরে দুই মেয়ের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। কোন সান্ত¡নায় তাঁদের থামানো যাচ্ছে না। শফিকুল ইসলামের বাড়ি গিয়ে দেখা যায় এক বিভীষিকাময় শোকের দৃশ্য। শফিকুলের স্ত্রী রুমা খাতুন যেন পাথর হয়ে গেছেন। কিছুক্ষণ পর পর জ্ঞান হারাচ্ছেন, আর জ্ঞান ফিরলেই বিলাপ করে বলছেন, “ওগো, তুমি কেন আমাদের একা ফেলে চলে গেলে? মেয়ে দুটোর কী হবে? কার কাছে ওরা বাবার আবদার করবে?”
রুমা খাতুন বলেন, দশ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়ে বিদেশ যায় শফিকুল। এখন সুদে-আসলে সেই ঋণের মাত্রা প্রায় ১২ লাখে ঠেকেছে। কীভাবে এই ঋণ শোধ হবে আর কীভাবে দুই মেয়ের লেখাপড়া চালাবেন? কীভাবে চলবে সংসার? এভাবে বিলাপ করতে করতে মূর্ছা যাচ্ছেন তিনি।
শফিকুলের বড় মেয়ে তামান্না আক্তার মৌ এবার এইচএসসি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। বাবার স্বপ্ন ছিল মেয়েকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করবেন। বাবার সেই স্বপ্নের কথা মনে করে মৌ বারবার মুর্ছা যাচ্ছে। সে ডুকরে কেঁদে বলছে, “বাবা তো বলেছিল ঈদে আমাদের জন্য নতুন জামা পাঠাবে। এখন বাবার বদলে লাশ আসবে কেন? আমি এখন কাকে বাবা বলে ডাকব?”

 


পাশেই বসে কাঁদছে ছোট মেয়ে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী তন্নি আক্তার বৃষ্টি। বাবার অভাব বুঝতে শেখার আগেই সে আজ এতিম। বৃষ্টির কান্নায় প্রতিবেশী মহিলারাও চোখের পানি ধরে রাখতে পারছেন না। শফিকুলের মা মাটিতে আছাড়ি-পাছাড়ি করছেন। তাঁর বিলাপ যেন থামছেই না।
নিহত শফিকুল ইসলামের বাবা আফসার আলী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘ঋণ করে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম সংসারে একটু সুখ আসবে বলে। এখন আমার ছেলেটা লাশ হয়ে ফিরতেছে। আমি আমার ছেলের মুখটা শেষবার দেখতে চাই। সরকারের কাছে আকুতিÑযেন দ্রুত আমার ছেলের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনে।’
স্থানীয় বাসিন্দা অরবিন্দ বলেন, ‘শফিকুল ইসলামের পরিবার খুবই দরিদ্র। ঋণ করেই তাকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তার বাবা। এখন সেই বাবা ছেলের লাশ ফেরত পেতে আকুতি করছেন। বিদেশ থেকে মরদেহ আনার সামর্থ্যও তাদের নেই। সরকারের উদ্যোগেই মরদেহ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া উচিত।’
নিহতের মেয়ে তামান্না আক্তার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘আমরা দুই বোন, আমাদের কোনো ভাই নেই। আব্বু আমাদের ভালো রাখার জন্য বিদেশে গিয়েছিল। এখন আমরা শুধু চাই, সরকার যেন দ্রুত আব্বুর লাশ দেশে আনে। শেষবার আব্বুকে দেখতে চাই।’
শফিকুল ইসলামের স্ত্রী রুমা খাতুন বলেন, ‘দুই মেয়ের পড়াশোনা আর সংসারের ভালো ভবিষ্যতের আশায় ঋণ করে বিদেশে গিয়েছিল। সব স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। আমি এখন কীভাবে বাঁচবো?’ তিনি আরও বলেন, ‘ওর বাবার খুব ইচ্ছা ছিল দুই মেয়েকে ভালোভাবে বিয়ে দেবে। সেই স্বপ্নও শেষ হয়ে গেল।’
স্থানীয় ভালুকা চাঁদপুর কলেজের অধ্যক্ষ এআরএম মোবাশ্বেরুল হক জ্যোতি বলেন, ‘পরিবারকে সুখে রাখার আশায় প্রায় ১০ লাখ টাকা ঋণ করে মাত্র তিন মাস আগে বিদেশে গিয়েছিলেন শফিকুল ইসলাম। এর মধ্যেই তার মৃত্যুসংবাদ এলো। পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়।’
শফিকুলের প্রতিবেশী ও স্থানীয় হাইস্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আল কালাম আবু ওয়াহিদ বাবলু বলছিলেন, “শফিকুল ছিল পরিবারের একমাত্র আশার আলো। গত ২০ রমজান অনেক স্বপ্ন নিয়ে সে বিদেশে গিয়েছিল। এখনো এক মাসও পূর্ণ হয়নি, এর মধ্যেই সব শেষ।”
ধুলিহর ইউপি সদস্য ফারুক হোসেন মিঠু বলেন, “শফিকুল অনেক পরিশ্রমী ছেলে ছিল। ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে সে লেবানন গিয়েছিল পরিবারের সুদিন ফেরানোর লড়াই শুরু করতে। কিন্তু লড়াই শুরু হওয়ার আগেই ঘাতক ড্রোনের আঘাতে সব চূর্ণ হয়ে গেল।”

 


এদিকে নিহত নাহিদুলের বাড়িতেও চলছে স্বজনদের আহাজারি। আশাশুনির কাদাকাটি গ্রামের আব্দুল কাদেরের ছেলে নাহিদুল ইসলাম। মাত্র ২৬ বছর বয়সেই সংসারের হাল ধরতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন তিনি। বাবা-মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে নাহিদ ছিলেন বড়। নাহিদুলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় স্বজনদের উপচে পড়া ভিড়। মা বিলাপ করতে করতে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন। তিনি বিড়বিড় করে বলছেন, “বাবা রে, তুই তো বললি ভালো আছিস, কয়েক দিন পর টাকা পাঠাবি। এখন তোর লাশ কেন আসবে?” নাহিদুলের বাবা আব্দুল কাদের নির্বাক হয়ে বসে আছেন, তাঁর দুচোখ বেয়ে গড়িয়ে পড়ছে জল। দরিদ্র পরিবারে সচ্ছলতা আনতে চড়া সুদে ঋণ করে তাঁকে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, সেই ঋণের কথা মনে করে স্বজনরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।
নিহত নাহিদুল ইসলামের বাবা আব্দুল কাদের বলেন, ‘আমার দুইটা ছেলে। বড় ছেলে নাহিদকে ঋণ করে বিদেশে পাঠিয়েছিলাম। এখন তার লাশটা দেশে এনে যেন মাটি দিতে পারিÑসরকারের কাছে এইটুকুই দাবি।’
নাহিদুল ইসলামের চাচা জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে আমার ভাইপোর সাথে শেষবার কথা হয়। ভিডিও কলে সে দেখাচ্ছিল আশপাশে বোমা ফেলা হচ্ছে। সে বলছিল দ্রুত ফোন রাখতে, না হলে ট্র্যাকিং করে হামলা হতে পারে। সন্ধ্যায় জানতে পারি, সে নিহত হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, এখন পরিবারের একটাই দাবিÑদ্রুত যেন মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
ধুলিহর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান চৌধুরী অত্যন্ত ভারাক্রান্ত কণ্ঠে বলেন, “এই দুটি পরিবার অত্যন্ত অসহায়। ঋণ করে সন্তানদের বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তারা। শফিকুলের মেয়ে দুটি এখন পড়াশোনা করবে কীভাবে? পরিবার দুটি এখন অর্থনৈতিক ও মানসিকভাবে পুরোপুরি নিঃস্ব হয়ে গেছে। ঋণের টাকা কে শোধ করবে, আর এই এতিম সন্তানদের কে দেখবে?”
এদকি বৈরুতের বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে নাবাতিয়েহ প্রদেশের জেবদিন গ্রামের একটি আবাসিক বাড়িতে অতর্কিত ড্রোন হামলা চালায় ইসরায়েলি বাহিনী। ওই বাড়িতেই থাকতেন সাতক্ষীরার শফিকুল ইসলাম (৩৮) এবং নাহিদুল ইসলাম (২৬)। হামলায় ধসে পড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন তাঁরা। ঘটনাস্থলেই তাঁদের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শফিকুল ও নাহিদুল ছাড়াও একজন সিরীয় নাগরিক নিহত হয়েছেন।
এর কিছুক্ষণ আগেই ওই এলাকার একটি রুটি বহনকারী ভ্যানে ড্রোন হামলায় আরও দুই স্থানীয় বাসিন্দা প্রাণ হারান। অর্থাৎ, মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে ওই এলাকা দ্বিতীয় দফা হামলার শিকার হয়। বর্তমানে দুই বাংলাদেশির মরদেহ নাবাতিয়েহর নাবিহ বেররী হাসপাতালে রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১৬ এপ্রিল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করলেও বাস্তবে হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলি বাহিনীর সংঘাত থামেনি। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত মার্চ থেকে শুরু হওয়া অভিযানে দেশটিতে এ পর্যন্ত প্রায় ২ হাজার ৮৬৯ জন নিহত হয়েছেন। এই সংঘাতের বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ এবং আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশের নিরপরাধ প্রবাসী শ্রমিকরা।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্ত বলেন, ‘দুইজন নিহত হওয়ার সংবাদ পেয়েছি। এর মধ্যে একজন সদর উপজেলার বাসিন্দা। আমরা পরিবারের সাথে কথা বলেছি এবং দ্রুত মরদেহ দেশে এনে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের চেষ্টা করছি।’
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, ‘নিহত পরিবারের বাড়িতে এসে আমরা খোঁজখবর নিয়েছি। জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা ও দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্বজনদের একটাই দাবি, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে শফিকুল ও নাহিদুলের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। সেই সাথে অসহায় এই পরিবার দুটির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে সরকারের কাছে বিশেষ আর্থিক সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন প্রতিবেশীরা।
গ্রামের মেঠোপথ ধরে ফেরার পথে কানে বাজছিল স্ত্রী রুমা খাতুন আর দুই কিশোরী মেয়ের বিলাপ। যে স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা শফিকুলকে বিমানবন্দরে বিদায় জানিয়েছিলেন, সেই স্বপ্ন আজ লেবাননের ধ্বংসস্তূপে ধূলিসাৎ হয়ে গেছে। সাতক্ষীরার এই দুই নিভৃত পল্লীর ঘরে ঘরে এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস আর শূন্যতা।

Ads small one

তালা থানার ওসির সঙ্গে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:১২ অপরাহ্ণ
তালা থানার ওসির সঙ্গে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালা উপজেলা হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের নেতৃবৃন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

গতকাল দুপুর ২টায় তালা থানায় অনুষ্ঠিত এ সৌজন্য সাক্ষাতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে ওসি শহিদুল ইসলামকে শুভেচ্ছা জানানো হয়। পরে বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও আইন-শৃঙ্খলা বিষয়ক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে শান্তি, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সমাজে সম্প্রীতি বজায় রাখতে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সবসময় জনগণের পাশে রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাক্ষাৎকালে উপস্থিত ছিলেন হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্ট তালা শাখার সভাপতি অমল দত্ত, সাধারণ সম্পাদক সুরোজিৎ সরকার, সিনিয়র সহ-সভাপতি তাপস দাস, সহ-সভাপতি প্রভাষক সন্দীপ দাস, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক পবিত্র বাছাড়, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক সুমনা দে, প্রচার সম্পাদক প্রসেনজিৎ দাস, দপ্তর সম্পাদক মিঠুন মল্লিক, তারক রাহা ও শিবু দাসসহ সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। নেতৃবৃন্দ এ সময় আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সামাজিক উন্নয়ন এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা পালন করা সম্ভব হবে।

 

দেবহাটায় গ্রাম আদালতের ত্রৈমাসিক সমম্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৭:০২ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় গ্রাম আদালতের ত্রৈমাসিক সমম্বয় সভা অনুষ্ঠিত

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলায় গ্রাম আদালতের ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৩ মে) বেলা ২টায় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কনফারেন্স রুমে এ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিলন সাহা ।

গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী রেবেকা সুলতানা এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত ত্রৈমাসিক সমন্বয় সভায় উপস্থিত ছিলেন, দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তাবৃন্দ।
গ্রাম আদালতের গুরুত্ব ও বিচারিক সেবার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, গ্রামের ছোটখাটো বিরোধ গ্রাম আদালতে নিস্পত্তি করতে হবে।

 

গ্রাম আদালতের মাধ্যমে ছোটখাটো ফৌজদারী ও দেওয়ানী মামলা নিষ্পত্তির মাধ্যমে স্থানীয় বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিস্পত্তি করে প্রান্তিক সাধারণ মানুষের আইনী সেবা নিশ্চিত করতে হবে। তিনি উচ্চ আদালতের মামলা জট কমাতে নিয়মিত গ্রাম আদালত পরিচালনা করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

সভায় তিনি, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের গ্রাম আদালতের এখতিয়ারভুক্ত মামলা গ্রহণ, আইন ও বিধি অনুযায়ী গ্রাম আদালত পরিচালনা, উচ্চ আদালতের মামলা দ্রুত নিষ্পত্তি এবং প্রতিবেদন দাখিল, মামলা নিস্পত্তি, এজলাস ব্যবহার এবং মামলার নথি, রেজিস্টার সংরক্ষণ করার জন্য বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন। একইসাথে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ইউপি সদস্যসহ সবাইকে গুরুত্ব সহকারে কাজ করার জন্য বলেন।

ত্রৈমাসিক সভায় উপজেলা সমন্বয়কারী রেবেকা সুলতানা দেবহাটা উপজেলার ইউনিয়ন ভিত্তিক গ্রাম আদালত কার্যক্রমের অগ্রগতিসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন এবং কার্যক্রম বাস্তবায়নে উপজেলার সকল ইউপি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সার্বিক সহযোগীতা কামনা করেন এবং ইউনিয়ন পরিষদের বার্ষিক বাজেটে গ্রাম আদালত পরিচালনায় ব্যায়ের জন্য আলাদা বরাদ্দ রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

ত্রৈমাসিক সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসের অফিস সহকারি কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক এস কে সাদেক হোসেন।

বাড়ি বিক্রি করে ছেলেকে লেবাননে পাঠিয়েছিলেন কলারোয়ার ভ্যান চালক সুরঞ্জন দাস, কে জানতো শুভকে লাশ হয়ে ফরিতে হবে!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৬:৫৪ অপরাহ্ণ
বাড়ি বিক্রি করে ছেলেকে লেবাননে পাঠিয়েছিলেন কলারোয়ার ভ্যান চালক সুরঞ্জন দাস, কে জানতো শুভকে লাশ হয়ে ফরিতে হবে!

 

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভার শ্রীপতিপুর গ্রামের সুরঞ্জন দাস ভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তিন ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রীকে নিয়ে তার অভাবের সংসার। বড় ছেলে শান্তি দাস বিয়ে করে অন্যত্র বসবাস করে। মেঝ ছেলে শুভ দাস কয়লা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করার পর পড়াশুনার ফাঁকে ফাঁকে ট্রলি চালাতো। একমাত্র মেয়ে সাধনা দাস কলারোয়া সরকারি বাালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীতে পড়াশুনা করে।

 

ছোট ছেলে সুদীপ দাস পড়ে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। স্ত্রী শিখা দাস একজন গৃহিনী। তাই সংসারের বিরাট খরচ বহন করতে না পেরে মেঝ ছেলে শুভকে তিন বছর আগে লেবাননে পাঠিয়েছিলেন। সেখানে শুভ মাইফাদুন এলাকায় একটি বাড়ি দেখাশুনা ও বাড়ি সংলগ্ন বাগানে কাজ করতো।

শেষ সম্বল মাত্র এক শতক জমির উপর শেষ আশ্রয়স্থলটি বিক্রি করে আরো চার লাখ টাকা সমিতি ও স্থানীয়দের কাছ থেকে চড়া সুদে ঋণ নিয়ে শুভকে লেবাননে পাঠান সুরঞ্জন দাস। বাড়ি বিক্রির পর একই গ্রামে এক হাজার টাকার ভাড়া বাসায় বসবাস করেন সুরঞ্জন দাস (৫৫)। প্রতি মাসে শুভ’র পাঠানো ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে ঋণ শোধের পাশাপাশি ছেলে মেয়েদের পড়াশুনা ও সংসার খরচ চালানো হতো। শেষের দুই মাস টাকা পাঠায়নি শুভ। গত সোমবার রাতে লেবাননের মাইফাদুন এলাকায় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চলাচলের সময় ইজরাইলি ড্রোন হামলায় শুভ মারা যায়। একই সময়ে বাংলাদেশের আরো দুইজন মারা যায়।

বুধবার সকালে শ্রীপতিপুর গ্রামে গেলে দেখা গেছে শুভ’র বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। পরিবারের সদস্যরা লাশ ফিরে পাওয়ার জন্য প্রহর গুনছেন। সাধনা দাস জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে মুঠোফোনে তার দাদার মৃত্যুর খবর পান তারা। রবিবার রাতে তাদের সঙ্গে দাদার শেষ কথা হয়। দুই মাস টাকা পাঠাতে না পারার জন্য কষ্ট পাচ্ছিল সে। আয়ক্ষম দাদার অকাল মৃত্যুতে তাদের বড় ক্ষতি হয়ে গেল। হয়তো তার ও ছোট ভাইয়ের আর পড়াশুনা করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া বাবা বকেয়া ঋণের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তা বেড়ে গেছে।

শিখা রানী দাস জানান, সংসারের হাল ফেরাতে যেয়ে বিয়ে না করেই লেবাননে যায় শুভ। ভেবেছিলেন আরো কিছু দিন লেবাননে থাকার পর দেশে নিয়ে এসে শুভকে বিয়ে দেবেন। ভগবান বুঝি তাদের সুখ সহ্য করতে পারলেন না। তাই এভাবেই কেড়ে নিলেন তার ছেলে শুভকে। তার ছেলের লাশ যাতে দ্রুত ফিরে পান সেজন্য তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করবেন।

শুভ’র বাবা সুরঞ্জন দাস বলেন, ঈশ^র যেন তাকে ছেলের শোক সহ্য করার ক্ষমতা দেওয়ার পাশাপাশি কর্মক্ষমতা বাড়িয়ে দেন। নইলে অন্যের বাড়িতে ভাড়া থেকে সংসার চালাবেন কিভাবে?

শ্রীপতিপুর গ্রামের সুমন দাস বলেন, শুভ খুব ভাল চেলে ছিলো। কারো সাথে বিরোধ করতো না। ঈশ^র যেন তাকে স্বর্গবাসি করে।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম জানান, শুভ’র পরিবার যাতে দ্রুত লাশ ফিরে পেতে পারে সেজন্য তারা সার্বিক চেষ্টা চালাবেন। একইসাথে সরকারি সব ধরণের সহায়তা পাওয়ার জন্য তারা উদ্যোগ নেবেন।
প্রসঙ্গত, এ নিয়ে রবিবার ও সোমবার লেবাননে কর্মরত সাতক্ষীরা জেলার তিনজন রেমিটেন্স যোদ্ধার ইজরাইলি ড্রোন হামলায় মৃত্যু হলো।

সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) বিষ্ণুপদ পাল জানান, শুভসহ তিনজনের লাশ লেবানন থেকে ফেরানোর জন্য চেষ্টা চলছে।