শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩
শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

শহীদ স. ম. আলাউদ্দীন: আলোকবর্তিকা ও এক বেদনাকাতর মহাকাব্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন, ২০২৬, ১১:৪৬ অপরাহ্ণ
শহীদ স. ম. আলাউদ্দীন: আলোকবর্তিকা ও এক বেদনাকাতর মহাকাব্য

এসএম শহীদুল ইসলাম
যে মাটিতে জন্ম নেয় কালজয়ী মানুষ, সে মাটির বুক চিঁরে কখনো কখনো বয়ে যায় অন্তহীন বেদনার নদী। সাতক্ষীরার রূপালী নদী বেতনা আর সুন্দরবনের কোলঘেঁষে দাঁড়িয়ে থাকা অবহেলিত জনপদটিকে যিনি নিজের মেধা, শ্রম আর রক্ত দিয়ে তিলোত্তমা করে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা স. ম. আলাউদ্দীন। তিনি শুধু একটি নাম নন; তিনি ছিলেন একটি মানচিত্র, একটি আন্দোলন এবং সাতক্ষীরার অবরুদ্ধ মানুষের মুক্তির নিশান। কিন্তু নিয়তির কী নির্মম পরিহাস, যে মানুষটি আজীবন অন্যায়ের বিরুদ্ধে বজ্রকণ্ঠ ছিলেন, যাঁর হৃদয় স্পন্দিত হতো দুঃখী-মেহনতী মানুষের জন্য, তাঁরই জীবনপ্রদীপ নিভিয়ে দেওয়া হলো একবিংশ শতাব্দীর ঠিক প্রাক্কালে, ১৯৯৬ সালের এক কালরাত্রিতে। ঘাতকের একটি তাজা বুলেট স্তব্ধ করে দিল সাতক্ষীরার উন্নয়নের মহীরূহকে। আজ ৩০ বছর পরেও তার সেই শূন্যতা পূরণ হয়নি।
১৯৪৫ সালের ২৯ আগস্ট (বাংলা ১৩৫২ সালের ১৫ ভাদ্র)। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়নের মিঠাবাড়ি গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে আলো ছড়িয়ে জন্ম নেন স. ম. আলাউদ্দীন। পিতা মরহুম সৈয়দ আলী সরদার এবং মাতা সখিনা খাতুনের চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন জ্যেষ্ঠ সন্তান।
মেধাবী ও দৃঢ়চেতা আলাউদ্দীনের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। এরপর ১৯৬২ সালে কলারোয়া হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক (এসএসসি) এবং ১৯৬৪ সালে সাতক্ষীরা কলেজ থেকে ইন্টারমিডিয়েট (এইচএসসি) পাস করেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি খুলনার ঐতিহ্যবাহী ব্রজলাল (বিএল) কলেজে ভর্তি হন এবং ১৯৬৭ সালে সেখান থেকে বিএ ডিগ্রি লাভ করেন। পরবর্তীতে, কর্মব্যস্ততা ও রাজনীতির শত আবর্তের মধ্যেও শিক্ষার প্রতি অনুরাগের কারণে ১৯৭৫ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা সাহিত্যে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা তাঁর মনের ভেতর এক গভীর মানবিক ও প্রগতিশীল দর্শনের জন্ম দিয়েছিল।
স. ম. আলাউদ্দীনের রাজনৈতিক জীবন ছিল বর্ণাঢ্য এবং আপসহীন। ছাত্রাবস্থাতেই তিনি কুখ্যাত হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত হন; এটাই ছিল তাঁর রাজনীতির হাতেখড়ি। ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন, ছাত্রদের এগারো দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৮ সালের গণআন্দোলনে তিনি রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। ১৯৬৭ সালের প্রথম দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।
১৯৭০ সালের ঐতিহাসিক সাধারণ নির্বাচনে মাত্র ২৫ বছর বয়সে তালা-কলারোয়া নির্বাচনী এলাকা থেকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি তৎকালীন পাকিস্তানের সর্বকনিষ্ঠ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে তিনি কিছুকাল জাসদের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকলেও ১৯৮০ সালে পুনরায় তাঁর প্রিয় দল আওয়ামী লীগে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে তিনি বহু বছর তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সুনামের সাথে পালন করেন। রাজনীতির এই কণ্টকাকীর্ণ পথে স্বৈরাচার ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলতে গিয়ে তাঁকে একাধিকবার কারাবরণ করতে হয়েছে। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘকাল তিনি ঢাকা, খুলনা ও যশোর কারাগারে বন্দি ছিলেন, যেখানে জেলখানার ভেতরেও তিনি বন্দিদের অধিকার আদায়ে অনশন ধর্মঘট করেছিলেন।
১৯৭১ সালের মার্চে যখন বাঙালি জাতির ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঝাঁপিয়ে পড়ে, তখন স. ম. আলাউদ্দীন ঘরে বসে থাকতে পারেননি। অনেক জনপ্রতিনিধি যখন ভারতে আশ্রয় নিয়ে কেবল রাজনৈতিক কর্মকা- পরিচালনা করছিলেন, তখন স. ম. আলাউদ্দীন নিজের জীবনকে বাজি রেখে সরাসরি রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি ছিলেন সশস্ত্র যুদ্ধের অন্যতম সংগঠক।
৯নং সেক্টরের অধীনে তিনি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করেন। যুদ্ধের প্রাথমিক দিনগুলোতে ভারত থেকে অস্ত্র সংগ্রহ ও মুক্তিযোদ্ধাদের অস্ত্র প্রশিক্ষণের দুরূহ কাজটি তিনি নিজ কাঁধে তুলে নেন। সেক্টর কমান্ডার মেজর (অব.) এম. এ. জলিল তাঁর বিখ্যাত “অরক্ষিত স্বাধীনতাই পরাধীনতা” গ্রন্থে স. ম. আলাউদ্দীনের এই অসীম সাহসিকতা ও রণকৌশলের কথা শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেছেন। স্বাধীনতার জন্য নিজের সর্বস্ব বাজি রাখা এই মানুষটি তৎকালীন যশোর সামরিক আদালতের চোখে ছিলেন এক ‘বিপজ্জনক বিদ্রোহী’। তাঁর অনুপস্থিতিতে সামরিক আদালত তাঁকে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদ- দেয় এবং সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা করে। কিন্তু কোনো ভয়ই তাঁকে দেশমাতৃকার মুক্তি অর্জনের পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
স্বাধীনতার পর স. ম. আলাউদ্দীন তালার জালালপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং পরবর্তীতে পাটকেলঘাটা বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, প্রচলিত পুঁথিগত শিক্ষা দিয়ে বেকারত্ব দূর করা সম্ভব নয়। তাই তিনি আধুনিক, কর্মমুখী ও আত্মনির্ভরশীল শিক্ষার এক যুগান্তকারী মডেল প্রবর্তন করেন।
১৯৯৫ সালে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন “বঙ্গবন্ধু পেশাভিত্তিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ” এবং নিজে এর প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেন। তাঁর এই শিক্ষা দর্শনের মূল বৈশিষ্ট্য ছিল: ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি অষ্টম শ্রেণি থেকে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা। হাতে-কলমে কৃষি, মৎস্য চাষ, হস্তশিল্প ও ইলেকট্রনিক্স প্রশিক্ষণ দেওয়া। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেরা আয় করবে ও সঞ্চয় করবে, যাতে স্নাতক শেষ করে তারা চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই উদ্যোক্তা হতে পারে।
স. ম. আলাউদ্দীনকে ‘সাতক্ষীরার রূপকার’ বলা মোটেও অতিশয়োক্তি নয়। সাতক্ষীরার অর্থনীতি, ব্যবসা ও অবকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের পেছনে তাঁর অবদান অতুলনীয়। তিনি যা ভাবতেন, তা বাস্তবায়ন করে ছাড়তেন।
তিনি সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের কাপাসডাঙ্গায় ‘আলাউদ্দীন ফুডস্ এন্ড কেমিক্যাল’ নামে একটি আধুনিক বিস্কুট ফ্যাক্টরি প্রতিষ্ঠা করেন, যা হাজারো বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে। তবে তাঁর সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক কীর্তি হলো ভোমরা স্থলবন্দর প্রতিষ্ঠা। তাঁর একক প্রচেষ্টা এবং দূরদর্শিতার কারণে আজ ভোমরা স্থলবন্দর বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি। তিনি সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি এবং ভোমরা স্থলবন্দর ব্যবহারকারী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন।
তিনি কৃষিকে একটি লাভজনক শিল্প হিসেবে গড়ে তুলতে ‘গুচ্ছ সেচ কোম্পানি’র ধারণা প্রবর্তন করেন। সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকায় পরিকল্পিত চিংড়ি চাষ, আধুনিক হ্যাচারি স্থাপন এবং জলাবদ্ধতা দূরীকরণে বেতনা নদী খননসহ মহাসড়ক ডবল লেনে উন্নীত করার দাবিতে তিনি আমৃত্যু লড়াই করেছেন।
জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খানের তত্ত্বাবধানে নিজস্ব জমি দান করে তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘নগরঘাটা শিশু হাসপাতাল’। এছাড়া জেলা ট্রাক মালিক সমিতি, গণ-আদালত ও ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাতক্ষীরা জেলা সভাপতি হিসেবে সমাজ থেকে অন্যায় ও মৌলবাদ দূরীকরণে তিনি ছিলেন নিবেদিতপ্রাণ।
সাতক্ষীরার গণমানুষের মুখপত্র হিসেবে এবং শোষিত-বঞ্চিত মানুষের অবরুদ্ধ কণ্ঠস্বরকে ফুটিয়ে তুলতে ১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি প্রতিষ্ঠা করেন ‘দৈনিক পত্রদূত’। তিনি নিজেই ছিলেন এর প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক। অত্যন্ত নিরপেক্ষ, সাহসী এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার কারণে অল্প দিনেই পত্রিকাটি সাতক্ষীরার মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবং সাতক্ষীরার সুষম উন্নয়নের দাবিতে তাঁর কলম ছিল আপসহীন তরবারি। কিন্তু এই কলমই একসময় তাঁর জন্য কাল হয়ে দাঁড়াল। শোষক আর কালোবাজারিদের ভিত কাঁপিয়ে দেওয়া ‘পত্রদূত’ অফিসই শেষ পর্যন্ত তাঁর রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল।
১৯৯৬ সালের ১৯ জুন। তখন ঘড়িতে রাত ১০টা ২৩ মিনিট। সাতক্ষীরা শহরের দৈনিক পত্রদূত কার্যালয়ে বসে গভীর মনোযোগ দিয়ে নিজের টেবিলে কাজ করছিলেন সম্পাদক স. ম. আলাউদ্দীন। চারদিকে তখন এক থমথমে নীরবতা। ঠিক সেই মুহূর্তে অন্ধকারের বুক চিরে ছুটে এলো ঘাতকের নির্মম, নৃশংস বুলেট। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই আততায়ীর সেই তাজা বুলেট বিদ্ধ করল এই মহান জননেতার বুক। নিজের প্রিয় পত্রিকা অফিসের মেঝেতে লুটিয়ে পড়লেন সাতক্ষীরার আশার প্রদীপ। রাত ১০টা ৩০ মিনিটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। নিভে গেল সাতক্ষীরার ভাগ্যাকাশের সবচেয়ে উজ্জ্বল নক্ষত্রটি। এই নৃশংস হত্যাকা- শুধু একটি মানুষের মৃত্যু ছিল না, এটি ছিল সাতক্ষীরার সামগ্রিক অগ্রযাত্রার বুকে এক মরণাঘাত।
মানুষ মরে যায়, কিন্তু তাঁর কীর্তি অমর। স. ম. আলাউদ্দীন আজ আমাদের মাঝে নেই, কিন্তু সাতক্ষীরার বাতাসে আজও তাঁর নিঃশ্বাসের স্পন্দন অনুভূত হয়। মোটর সাইকেলে চড়ে কিংবা পায়ে হেঁটে মেঠোপথ ধরে গ্রামের সাধারণ মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা শোনা সেই মাটির মানুষটিকে সাতক্ষীরাবাসী কোনোদিন ভুলবে না।
প্রতি বছর ১৯ জুন এলে তাঁর মাজার ফুলে ফুলে ছেয়ে যায়; অশ্রুসিক্ত নয়নে মানুষ তাঁর কবর জিয়ারত করে। তিনি যে আধুনিক, বৈষম্যহীন এবং স্বাবলম্বী সাতক্ষীরার স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নকে ধারণ করাই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা নিবেদন। ঘাতকের বুলেট তাঁর শরীরকে ধ্বংস করতে পেরেছে, কিন্তু তাঁর আদর্শ, চেতনা এবং সাতক্ষীরার মানুষের প্রতি তাঁর অকৃত্রিম ভালোবাসাকে মুছে ফেলতে পারেনি। হে অকুতোভয় বীর, হে আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার, এই ঋণী জাতি আপনাকে চিরকাল সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করবে। আপনার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করি। আপনি আমাদের ইতিহাসের গর্ব, আমাদের চিরন্তন প্রেরণার উৎস। লেখক: বার্তা সম্পাদক, দৈনিক পত্রদূত

Ads small one

বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধাপরাধ: ইরান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৩ পূর্বাহ্ণ
বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা যুদ্ধাপরাধ: ইরান

ইরানের সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্রের চালানো নতুন হামলায় এক বিভীষিকাময় ট্র্যাজেডি ঘটে গেছে। মার্কিন বাহিনী এই অভিযানকে সফল বললেও ইরানের সিরিক কাউন্টিতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা চালিয়েছে তারা। বর-কনে আর অতিথিদের আনন্দময় মুহূর্তটি চোখের পলকে কান্নার রোলে ভেসে যায়।

ইরানি সংবাদমাধ্যম জানায়, বিয়ের আসরে চালানো ওই হামলায় অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ৬৭ জন। এই ভয়াবহ ঘটনাকে সরাসরি ‘যুদ্ধাপরাধ’ বলে আখ্যা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিরপরাধ মানুষের ওপর এমন হামলা আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন। অন্যদিকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র এই সংঘাতে বারবার শিশু ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করছে।

তবে এই অভিযোগের জবাবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের মুখপাত্র টিম হকিন্স জানিয়েছেন, তারা খবরটি সম্পর্কে জানেন এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী কখনোই সাধারণ মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।

এদিকে হোয়াইট হাউসে দাঁড়িয়ে অভিযানের খোলামেলা প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, মার্কিন বাহিনী গত রাতে ইরানকে খুব শক্ত আঘাত করেছে। প্রয়োজনে যেকোনো সময় তারা আবার হামলা চালাতে প্রস্তুত।

ট্রাম্প আরও জানান, মার্কিন সেনাবাহিনী কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং ইরানের রাডার ও মাইন বসানোর ক্ষমতা গুঁড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই পানিপথটির নাম বদলে ‘ট্রাম্প প্রণালি’ রাখারও আভাস দিয়েছেন তিনি। একদিকে ওয়াশিংটনের কড়া হুমকি, আর অন্যদিকে বিয়ের অনুষ্ঠানে মানুষের রক্তাক্ত লাশ—সব মিলিয়ে সংঘাত এখন চরম রূপ নিয়েছে।

সূত্র: বিবিসি।

ভারতের রাফাল ধ্বংসকারী সেই যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২২ পূর্বাহ্ণ
ভারতের রাফাল ধ্বংসকারী সেই যুদ্ধবিমান কেনার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের সুবিধা-অসুবিধা

পাকিস্তান-শাসিত কাশ্মীরে ‘অপারেশন সিঁদুর’ নামে ভারত যে সামরিক অভিযান চালিয়েছিল তার জের ধরে দেশটির অন্তত পাঁচটি যুদ্ধবিমানকে ভূপাতিত করা হয়েছে বলে দাবি ইসলামাবাদের।

ভারতের পাঁচটি জেট ফাইটার ভূপাতিত করার কথা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে প্রথম বলেন পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার।

তবে তিনি তখন এর বেশি কিছু বিস্তারিত জানাননি। যদিও পরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগের (আইএসপিআর) মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী দাবি করেন, ভারতের পাঁচটি ভূপাতিত বিমানের মধ্যে তিনটি অত্যাধুনিক রাফাল, একটি সুখোই ও একটি মিগ-২৯।

বিবিসি ভেরিফায়েড জানিয়েছিল, ভারতের পাঞ্জাবের একটি কৃষিক্ষেতে রাফাল যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ পড়েছিল এবং সেনা সদস্যরা সেগুলো সরানোর কাজে যুক্ত ছিল।

ফ্রান্সের ডাসোঁ অ্যাভিয়েশনের তৈরি রাফাল হলো ভারতীয় বিমানবাহিনীর সম্ভারে সবচেয়ে আধুনিক ও বিধ্বংসী যুদ্ধবিমান।

রাফালকে ধ্বংস করতে পাকিস্তান ব্যবহার করেছিল চীন থেকে কেনা ‘জে-১০ সি ই’ যুদ্ধবিমান। আর সেই যুদ্ধবিমান বাংলাদেশ কিনতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যেই যুদ্ধবিমান কেনার চুক্তির খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীন থেকে বাংলাদেশ প্রথম যে যুদ্ধবিমান কিনেছিল এর আনুষ্ঠানিক নাম এফ-৬। ১৯৭৭ সালে চীন থেকে এসব যুদ্ধবিমান কিনেছিল বাংলাদেশ।

ঢাকার বিজয়স্মরণী থেকে জিয়া উদ্যানের দিকে গেলে রাস্তার মোড়ে মাঝারি আকারের যে যুদ্ধবিমান চোখে পড়ে, সেটি এ ধরনের বিমান। বিমানটি মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর একে উন্মুক্ত প্রদর্শনীর জন্য রাখা হয়।

আনুষ্ঠানিক নাম এফ-৬ হলেও চীনে বিমানটি পরিচিত জে-সিক্স নামে।

বাংলাদেশ এখন চীন থেকে আধুনিক প্রযুক্তির নতুন যেসব যুদ্ধবিমান কিনতে যাচ্ছে সেটার নাম অবশ্য জে-টেন সি ই।

সাম্প্রতিক ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে আলোচিত এ যুদ্ধবিমানটি দিয়েই পাকিস্তান তার প্রতিপক্ষ ভারতের অত্যাধুনিক প্রযুক্তির রাফাল বিমান ভূপাতিত করার দাবি করে।

রাফাল ভূপাতিত করার দাবি নিয়ে সেসময় আলোচনা তৈরি হয়। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোতেও চীনের জে-টেন বিমান নিয়ে খবর-বিশ্লেষণ উঠে আসে।

বাংলাদেশ এখন যে তার বিমানবাহিনীর আধুনিকায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নতুন যুদ্ধবিমান সংগ্রহের কথা বলছে, সেখানে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে চীনের এই মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান জে-টেন কেনার উপর।

বলা হচ্ছে, ইতোমধ্যেই এই বিমান কেনার প্রক্রিয়া এগিয়ে গেছে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বিমানবাহিনী আধুনিকায়নের পরিকল্পনায় শুধু কি যুদ্ধবিমানই যথেষ্ট?

আকাশ প্রতিরক্ষা, প্রশিক্ষণ, যুদ্ধবিমানের রক্ষণাবেক্ষণ এবং অবকাঠামো বিবেচনায় কতটা প্রস্তুত বাংলাদেশ?

আর চীনের এ যুদ্ধবিমান বাংলাদেশের সামরিক সক্ষমতায় কতটা পরিবর্তন আনবে?

বাংলাদেশের প্রথম যুদ্ধবিমান কোন দেশের?

বাংলাদেশ ১৯৭৭ সালে চীন থেকে যুদ্ধবিমান কেনে এটা ঠিক। তবে দেশটির প্রথম যুদ্ধবিমানের বহর এসেছিল আরও কয়েকবছর আগে ১৯৭৩-৭৪ সালে।

তখন বাংলাদেশকে বিনামূল্যে যুদ্ধবিমান উপহার হিসেবে দিয়েছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন।

সেটা ছিল তখনকার অত্যাধুনিক সুপারসনিক যুদ্ধবিমান মিগ-২১।

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত এয়ার কমোডর ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, এগুলো ছিল একেবারে ফ্যাক্টরি ফ্রেশ। কারখানা থেকে বের হয়েই আমরা পেয়েছিলাম। মানে রাশান বিমানবাহিনীর বাইরে আমরাই প্রথম পেয়েছিলাম। এমনকি ভারতও আমাদের কয়েকবছর পর মিগ-২১ পেয়েছিল। তখনকার এই অত্যাধুনিক বিমান আমাদের এগিয়ে দিয়েছিল অনেক।

তিনি বলেন, শুধু যুদ্ধবিমান নয়, এর সঙ্গে যত ধরনের মিসাইল, বোমা, রকেট- সব আমাদের দিয়েছিল। তখন থেকেই বিমানবহর শুরু হলো বলা যায়। তখন তো আমাদের কিছুই ছিল না। যুদ্ধের পর এয়াফিল্ডগুলো মেরামত হচ্ছিল। এমনকি ব্যাচের পর ব্যাচ প্রশিক্ষণের জন্য রাশিয়া পাঠানো হয়েছিল।

বাংলাদেশের বিমানবাহিনীতে এখন কী আছে?

বাংলাদেশ প্রথম যুদ্ধবিমান পায় সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে, সেটা হচ্ছে মিগ-২১।

এরপর বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান সংগ্রহের মূল উৎস পরিবর্তিত হয়ে চীনের দিকে ঝুঁকে পড়ে।

১৯৭৭ সালে চীন থেকে এফ-৬, এরপর আশির দশকে আনা হয় এফ-৭।

বাংলাদেশ এরপরও যুদ্ধবিমান কিনেছে। তবে আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে একটা বড় পরিবর্তন আসে ১৯৯৯ সালে।

তখন রাশিয়া থেকে আটটি মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনে বাংলাদেশ। সেগুলো ছিল সেসময়ে পৃথিবীর অন্যতম সেরা আকাশ প্রতিরক্ষা ফাইটার জেট।

তবে ২০২৬ সালে এসে দেখা যাচ্ছে, বাংলাদেশের বিমানবাহিনীর বহর বেশ পুরোনো হয়ে পড়েছে। একটা অংশ এখন অচল, আরেকটা অংশ পুরোনো হয়ে অচল হওয়ার পথে।

কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের বিমানবহরে এখন আসলে কী আছে? সরকারিভাবে অবশ্য এর কোন পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয় না।

তবে সামরিক তথ্য বিষয়ক ওয়েবসাইট ‘ওয়ারপাওয়ার বাংলাদেশ’ এর হিসেবে এর একটা চিত্র পাওয়া যায়। যেখানে দেখা যায় বাংলাদেশের বিমান বাহিনী বহরে এখন বিমান আছে ২১২টি। এর মধ্যে যুদ্ধ বিমান রয়েছে ৪৪টি।

এই ৪৪টি যুদ্ধবিমানের মধ্যে রাশিয়ার মিগ-২৯ আছে আটটি। আর চীনের নির্মিত এফ-৭ যুদ্ধবিমান ৩৬টি। এই মডেলগুলো কিছুটা পুরোনো।

এছাড়াও আছে ১৪টি ইয়াক-১৩০ বিমান যেগুলো প্রশিক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হলেও হালকা আক্রমণ চালানোর উপযোগী। রাশিয়া থেকে বিমানগুলো কেনে বাংলাদেশ বিমানবাহিনী।

চীনের এফটি সেভেন প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান, যুক্তরাষ্ট্রের লকহিডের দুটি সিরিজের কৌশলগত পরিবহন বিমানও আছে বাহিনীতে।

বিমানবাহিনীর বহরে ৭৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে বলেও ওয়ারপাওয়ার বাংলাদেশে তথ্য দেওয়া আছে। এর মধ্যে রাশিয়ার এমআই সিরিজের ৩৬টি হেলিকপ্টার আছে।

আর যুক্তরাষ্ট্রে নির্মিত সেসনা, বেলের বিভিন্ন মডেলের হেলিকপ্টার আছে ২৪টি।

এর পাশাপাশি ফ্রান্স, ইতালি, চেকোস্লোভাকিয়া (চেক রিপাবলিক) থেকে কেনা কিছু প্রশিক্ষণ বিমান ও হেলিকপ্টারও ব্যবহার করে বাংলাদেশ।

এছাড়া বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর কাছে ৪৪টি ড্রোন রয়েছে বলে জানাচ্ছে ওয়েবসাইটটি। এর মধ্যে ৩৬ টিই স্লোভেনিয়ায় নির্মিত ব্রামর সি ফোর আই।

তুরস্কের তৈরি বায়রাক্তার টিবি টু আছে ছয়টি। গত বছরই এগুলো যুক্ত হয়।

বিমান বাহিনীর সাবেক এয়ার ভাইস মার্শাল এম আবুল বাশার বলেন, বাংলাদেশের মিগ-২৯ একটু আধুনিক। কিন্তু সেটাও এখনকার যুগে পুরনো। এর বাইরে আমাদের বাকি যা আছে সবগুলো আরও পুরনো থ্রি-জি প্রযুক্তির। অথচ এখন যে যুদ্ধ হচ্ছে, সেখানে ফোর পয়েন্ট ফাইভ-জি এমনকি ফাইভ-জি প্রযুক্তির স্টেলথ বিমানও ব্যবহার হচ্ছে। সুতরাং বাংলাদেশের বিমানবহর আধুনিকায়ন করার বিকল্প ছিল না। এখন চীন থেকে যে বিমানগুলো আনা হচ্ছে সেগুলো আধুনিক ফোর পয়েন্ট ফাইভ জি প্রযুক্তির।

শুধু যুদ্ধ বিমান কেনাই কি যথেষ্ট?

বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে চীনের ২০টি অত্যাধুনিক যুদ্ধবিমান কিনছে বাংলাদেশ। এগুলোকে বলা হচ্ছে মাল্টিরোল ফাইটার জেট।

অর্থাৎ বিমানগুলো আকাশ প্রতিরক্ষায় একইসঙ্গে বহুমুখী ব্যবহারের উপযোগী। যেমন-

এয়ার টু এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ এটি আকাশসীমায় শত্রুবিমানকে প্রতিরোধ করতে ব্যবহার করা যায়।

এয়ার টু গ্রাউন্ড অর্থাৎ শত্রু দেশের মাটিতে কোনো টার্গেট থাকলে সেখানে বোমবর্ষণে দক্ষ।

ক্লোজ এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ সেনাবাহিনী কোথাও যুদ্ধরত আছে, এই বিমান গিয়ে তাদেরকে সাপোর্ট দিতে পারে। মেরিটাইম এয়ার সাপোর্ট অর্থাৎ সমুদ্রে নৌবাহিনীকে সাপোর্ট দেওয়া।

তিনি আরও বলেন, এই একটা বিমান, যেটা আমরা কিনতে যাচ্ছি, এটা একাই সব ধরনের কাজ করতে পারে।

তিনি এটাও বলেন, আধুনিক যুদ্ধপরিস্থিতিতে শুধু যুদ্ধবিমানই যথেষ্ট নয়। রাডার, জ্যামিং প্রযুক্তি, মিসাইলের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবহার দেখা যায়। এছাড়া বিমান-নৌ-সেনা অস্ত্র সরঞ্জামের মধ্যে একধরণের ‘রিয়েল টাইম’ সমন্বয়ের উপরও যুদ্ধের সফলতা নির্ভর করছে।

চীনা নির্ভরতার কারণ কী?

বাংলাদেশ বহুমাত্রিক সামরিক সক্ষমতা তৈরি করতে চায়। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, এর জন্য দেশটি মূলত চীনা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির উপর নির্ভরশীল।

নৌবাহিনীর সাবমেরিন থেকে শুরু করে রণতরী কিংবা সেনাবাহিনীর ট্যাংক, সাঁজোয়া যান থেকে শুরু করে আকাশ প্রতিরক্ষা – সবকিছুর বড় অংশটাই আসে চীন থেকে।

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সাবমেরিন রয়েছে দু’টি। দুটিই চীনের তৈরি এবং ২০১৭ সালে এগুলো নৌবাহিনীতে যুক্ত হয়।

এছাড়া গ্লোবাল ফায়ার পাওয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর কাছে সব মিলিয়ে নৌযান রয়েছে ১১৭টি। এর মধ্যে সাতটি ফ্রিগেট বা রণতরী আছে বাংলাদেশের।

সাথে আরো আছে ছয়টি কর্ভেট যুদ্ধজাহাজ। কর্ভেট জাহাজগুলোর মধ্যে চারটি চীনের, দুটি যুক্তরাজ্যের।

ফ্রিগেটগুলোর চারটির নির্মাতা চীন, দুইটির যুক্তরাষ্ট্র আর একটি দক্ষিণ কোরিয়ার।

কিন্তু চীন কীভাবে বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের প্রধান উৎস হয়ে উঠল?

পে-স্কেল নিয়ে নতুন প্রশাসনিক জটিলতার আভাস

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:১৯ পূর্বাহ্ণ
পে-স্কেল নিয়ে নতুন প্রশাসনিক জটিলতার আভাস

নতুন বেতন কাঠামো বা পে-স্কেলের গেজেট আগামী রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) জারি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে গেজেট প্রকাশের আগে শেষ মুহূর্তের কয়েকটি প্রশাসনিক ধাপ নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পে-স্কেলের গেজেটের খসড়া এরই মধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয়ে (বিজি প্রেস) পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রয়োজনীয় মুদ্রণ ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর গেজেটটি পরবর্তী ধাপে যাবে।

প্রজ্ঞাপন জারির আগে পে-স্কেলের খসড়াটি আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। এরপর এসআরও নম্বরসহ প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে জারি করা হবে প্রজ্ঞাপন। এসব প্রক্রিয়া নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শেষ করা নিয়েই এখন চলছে শেষ মুহূর্তের তোড়জোড়। ফলে আগামী রোববারই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও অনিশ্চয়তা।

এর আগে বৃহস্পতিবারের মধ্যে পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন প্রকাশের কথা বলা হলেও শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। পরে আগামী রোববার প্রজ্ঞাপন জারির নতুন সময়সীমা জানানো হয়।

এদিকে অর্থসচিব জানিয়েছেন, ৬ সেপ্টেম্বরই নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। ফলে এখন নজর রয়েছে বিজি প্রেস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর শেষ মুহূর্তের কার্যক্রমের দিকে।

নতুন স্কেলে ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ প্রথম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন বাড়ছে প্রায় ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতির চাপ আমলে নিয়ে বেসরকারি খাতের সবখানে, এমনকি সংবাদমাধ্যমেও নতুন বেতন কাঠামো হওয়া দরকার। আবার সরকারি খাতে অপ্রয়োজনীয় লোকবল কমিয়েও আনা যেতে পারে। এতে সরকারের ব্যয় কমবে।

নতুন কাঠামোয় সবচেয়ে বড় সুবিধা পাচ্ছেন নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীরা। ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করা হয়েছে। আর প্রথম গ্রেডের নির্ধারিত বেতন ৭৮ হাজার থেকে বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। অর্থাৎ সর্বনিম্ন গ্রেডে মূল বেতন বাড়ছে ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডে ১০০ শতাংশ। নতুন কাঠামোতে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতনের অনুপাতও কমিয়ে আনা হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দশম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমানে এই অনুপাত ১:১.৯৪৫ থাকলেও নতুন স্কেলে তা ১:১.৭৮ করা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এতে বেতন কাঠামোয় ন্যায্যতা ও ভারসাম্য বাড়বে।

নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর ধরা হলেও পুরো সুবিধা একসঙ্গে মিলবে না। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং মূল্যস্ফীতির ওপর সম্ভাব্য চাপ বিবেচনায় ২০২৬-২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ধাপে ধাপে তা বাস্তবায়ন করা হবে।