বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

শিশুর হাতে স্মার্টফোন: শৈশব কি বন্দি পর্দার আড়ালে?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:২৬ অপরাহ্ণ
শিশুর হাতে স্মার্টফোন: শৈশব কি বন্দি পর্দার আড়ালে?

এম. এম হায়দার আলী

একটি শিশুর হাতে যখন প্রথমবার স্মার্টফোন তুলে দেওয়া হয়, তখন হয়তো মা-বাবার চোখে থাকে স্বস্তির হাসি। কান্না থেমে যায়, খাওয়ানোর ঝামেলা কমে, ব্যস্ততার মধ্যে শিশুটিও কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকে এমন বাচ্চা ঘুমিয়েও পড়ে। আধুনিক জীবনের ব্যস্ততায় এটিকে অনেক অভিভাবক সহজ সমাধান হিসেবে বেছে নেন। কিন্তু সেই সাময়িক স্বস্তির আড়ালে যে দীর্ঘ মেয়াদি প্রশ্নটি ক্রমেই বড় হয়ে উঠছে, তা হলো শিশুর হাতে মোবাইল ফোন কতটুকু নিরাপদ? যে প্রযুক্তি পৃথিবীকে শিশুর হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে, সেই প্রযুক্তিই কি ধীরে ধীরে শিশুকে তার চারপাশের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিচ্ছে ? শৈশব মানে শুধু বয়সের একটি পর্যায় নয়, শৈশব মানে কৌতূহল, দৌড়ঝাঁপ, মাটিতে বসে খেলনা সাজানো, বন্ধুদের সঙ্গে অভিমান, বৃষ্টিতে ভেজার আনন্দ, গল্প শোনা এবং অসংখ্য প্রশ্নের মধ্য দিয়ে পৃথিবীকে চিনতে শেখা। অথচ আজ অনেক শিশুর শৈশবের একটি বড় অংশ আটকে যাচ্ছে ছোট্ট একটি পর্দায়।

 

মাঠের খেলায় যে আনন্দ, পরিবারের সঙ্গে গল্পে যে মমতা, প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যে জীবনবোধ তৈরি হওয়ার কথা,তার জায়গা দখল করছে কার্টুন, গেম, শর্ট ভিডিও আর অন্তহীন স্ক্রলিং। প্রশ্ন হলো, আমরা কি শিশুদের হাতে পৃথিবীকে চেনার উপকরণ তুলে দিচ্ছি, নাকি একটি কাচের পর্দার মধ্যে তাদের পৃথিবীকে সীমাবদ্ধ করে ফেলছি? এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে স্মার্টফোন আধুনিক সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। এর মাধ্যমে শিশুরা শিক্ষামূলক ভিডিও দেখতে পারে, নতুন ভাষা শিখতে পারে, বিজ্ঞান ও প্রকৃতি সম্পর্কে জানতে পারে, এমনকি দূরে থাকা স্বজনদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে পারে। বিশেষ প্রয়োজনে প্রযুক্তি হতে পারে শেখার সহায়ক, জ্ঞানের জানালা এবং সৃজনশীলতার হাতিয়ার। অতএব, মোবাইল ফোনকে এক কথায় শিশুর শত্রু বলা যেমন যুক্তিসংগত নয়, তেমনি একে নির্দোষ খেলনা মনে করাও বিপজ্জনক।

 

আসল প্রশ্ন ফোন আছে কি নেই, তা নয়, প্রশ্ন হলো কোন বয়সে, কতক্ষণ, কী উদ্দেশ্যে এবং কার তত্ত্বাবধানে শিশু ফোন ব্যবহার করছে। শিশুর মস্তিষ্ক ও মন বিকাশের জন্য জীবনের প্রথম কয়েকটি বছর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই সময়ে শিশুরা শুধু বই বা পর্দা দেখে শেখে না, তারা শেখে মানুষের মুখের অভিব্যক্তি দেখে, কথা শুনে, প্রশ্ন করে, জিনিস স্পর্শ করে, খেলতে খেলতে ভুল করে এবং আবার চেষ্টা করে। মা-বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলা, অন্য শিশুর সঙ্গে খেলনা ভাগাভাগি করা কিংবা গল্প শুনে কল্পনার জগৎ তৈরি করা,এসব অভিজ্ঞতার কোনো পূর্ণ বিকল্প একটি ডিজিটাল পর্দা হতে পারে না। অতিরিক্ত বা অনুপযুক্ত পর্দা-ব্যবহার ঘুম, শারীরিক সক্রিয়তা, মনোযোগ এবং ভাষা ও সামাজিক দক্ষতার বিকাশে সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে সব শিশুর ক্ষেত্রে একই ফল হবে, এমন সিদ্ধান্তও ঠিক নয়, বয়স, ব্যবহারের ধরন, পারিবারিক পরিবেশ এবং কনটেন্টের মান এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত ঘুম এবং বসে বসে পর্দা দেখার সময় সীমিত রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে। তাদের নির্দেশনায় এক বছর বয়সী শিশুর জন্য বসে স্ক্রিন দেখার সময় সুপারিশ করা হয়নি; দুই বছর বয়সী এবং তিন থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিন টাইম দিনে সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা, তার চেয়ে কম হলে আরও ভালো। অন্যদিকে, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকসের নির্দেশনায় ১৮ মাসের কম বয়সী শিশুদের ভিডিও কল ছাড়া পর্দা ব্যবহার এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে; ১৮ থেকে ২৪ মাসে ব্যবহার করাতে হলে অভিভাবকের সঙ্গে মানসম্মত কনটেন্ট দেখা এবং দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সে দিনে প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে সীমিত রাখার পরামর্শ রয়েছে। এসব নির্দেশনার মূল কথা একটাই,শিশুর বয়স অনুযায়ী ব্যবহার, মানসম্মত কনটেন্ট এবং অভিভাবকের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি।

 

এগুলো কোনো জাদুকরি নিরাপদ সীমা নয়, স্ক্রিন টাইমের পাশাপাশি শিশুর ঘুম, খেলাধুলা, শেখা ও পারিবারিক যোগাযোগ ঠিক আছে কি না, সেটিও দেখতে হবে। কিন্তু বাস্তবতার চিত্র কতটা আলাদা! অনেক বাড়িতে শিশুর কান্না থামানোর সবচেয়ে সহজ অস্ত্র মোবাইল ফোন। খাবার খাওয়াতে ফোন, ঘুম পাড়াতে ফোন, অতিথির সামনে শান্ত রাখতে ফোন, এমনকি মা-বাবার নিজেদের ব্যস্ততা সামলাতেও ফোন। শিশুটি ধীরে ধীরে শিখে যায়,অস্থির হলেই পর্দা চাই, বিরক্ত হলেই ভিডিও চাই, মন খারাপ হলেই গেম চাই। অথচ শিশুর কান্নার পেছনে থাকতে পারে ক্ষুধা, ক্লান্তি, একাকিত্ব, ভয় কিংবা মা-বাবার সান্নিধ্য পাওয়ার আকাক্সক্ষা।

 

প্রতিটি আবেগের জবাবে মোবাইল তুলে দিলে শিশুটি নিজের অনুভূতি বুঝতে এবং তা সামলাতে শেখার সুযোগ কম পেতে পারে। যে শিশুর প্রয়োজন ছিল একটি আলিঙ্গন, একটি গল্প কিংবা কয়েক মিনিট মনোযোগ, তার হাতে আমরা তুলে দিচ্ছি একটি যন্ত্র। প্রযুক্তির ব্যবহার তখন আর প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; হয়ে ওঠে অভ্যাসের বিকল্প। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, শিশু ফোনে কী দেখছে ? সব ভিডিও শিক্ষামূলক নয়, সব গেম নিরীহ নয়, আর ইন্টারনেটের সব কনটেন্ট শিশুর উপযোগী নয়। অনুপযুক্ত সহিংসতা, অশালীন দৃশ্য, ভয় ধরানো ভিডিও, প্রতারণা মূলক বিজ্ঞাপন কিংবা অপরিচিত মানুষের সঙ্গে অনিরাপদ যোগাযোগ শিশুর মানসিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলতে পারে। কিছু গেম ও অ্যাপ বারবার নোটিফিকেশন, পুরস্কারের প্রলোভন কিংবা পরের ভিডিও স্বয়ংক্রিয় ভাবে চালানোর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর মনোযোগ ধরে রাখতে চায়।

 

শিশু স্বাভাবিক ভাবেই নিজের ব্যবহারের সময় ও আচরণ নিয়ন্ত্রণে বড়দের মতো সক্ষম নয়। তাই শুধু ফোন হাতে দিয়ে বলা, ভালো কিছু দেখো, যথেষ্ট দায়িত্বশীল অভিভাবকত্ব নয়। বয়সোপযোগী কনটেন্ট বাছাই, অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ, নিরাপদ অনুসন্ধান ব্যবস্থা এবং নিয়মিত কথোপকথন অপরিহার্য। তবে এখানে একটি পাল্টা যুক্তিও সামনে আসে। অনেক অভিভাবক বলেন, এ যুগে মোবাইল ছাড়া চলবে কি ভাবে ? পড়াশোনা, অনলাইন ক্লাস, তথ্য সংগ্রহ,সব কিছুতেই তো প্রযুক্তির প্রয়োজন। যদিও কথাটির সত্যতা আছে।

 

ডিজিটাল যুগে শিশুদের প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে রাখা বাস্তবসম্মত নয়, বরং তা তাদের ভবিষ্যৎ দক্ষতা অর্জনের পথে বাধা হতে পারে। কিন্তু প্রযুক্তি শেখা আর প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া এক বিষয় নয়। বই পড়ার জন্য যেমন বই দরকার, তেমনি প্রতিটি অবসর কাটানোর জন্য বই হাতে বসে থাকা প্রয়োজন হয় না। একই ভাবে, শিক্ষার প্রয়োজনে মোবাইল ব্যবহার এবং বিনোদনের নামে ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনে ডুবে থাকা এক করে দেখার সুযোগ নেই। প্রয়োজন প্রযুক্তির সঙ্গে সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তোলা,যেখানে যন্ত্রটি শিশুকে পরিচালনা করবে না, শিশুই সচেতন ভাবে যন্ত্রটি ব্যবহার করতে শিখবে।

 

এখানে দায় শুধু শিশুর নয়, মা-বাবারও। যেমন,শিশুর হাতে মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে অভিভাবকদের প্রথম দায়িত্ব হলো, নিজেদের আচরণ দিয়ে উদাহরণ তৈরি করা। শিশুকে ফোন থেকে দূরে থাকতে বলে মা-বাবা যদি সারাক্ষণ নিজেরাই মোবাইলের পর্দায় ডুবে থাকেন, তাহলে সেই উপদেশ শিশুর কাছে গ্রহণযোগ্যতা হারাবে। শিশুরা শুধু বড়দের কথা শোনে না, তাদের আচরণও অনুকরণ করে। তাই পরিবারের খাবার টেবিলে, শিশুর সঙ্গে কথা বলার সময় এবং ঘুমাতে যাওয়ার আগে অপ্রয়োজনীয় মোবাইল ব্যবহার বন্ধ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। শিশুকে শাসন করার আগে নিজেদের অভ্যাস সংশোধন করাই হবে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ।

 

দ্বিতীয়ত, শিশুর বয়স অনুযায়ী মোবাইল ব্যবহারের বিষয়ে সুস্পষ্ট নিয়ম তৈরি করতে হবে। দুই বছরের কম বয়সী শিশুকে ভিডিও কলের মতো বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া পর্দা থেকে দূরে রাখাই ভালো। দুই থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে মানসম্মত কনটেন্ট অভিভাবকের সঙ্গে দেখে দৈনিক স্ক্রিন টাইম সাধারণত এক ঘণ্টার মধ্যে সীমিত রাখা উচিত, কম হলে আরও ভালো। বড় শিশুদের ক্ষেত্রেও পড়াশোনা ও প্রয়োজনীয় কাজের বাইরে বিনোদনের সময় নির্দিষ্ট করা প্রয়োজন। তবে শুধু ঘড়ির কাঁটা ধরে সময় নির্ধারণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। মোবাইল ব্যবহারের কারণে শিশুর ঘুম, পড়াশোনা, শারীরিক ব্যায়াম, সামাজিক মেলামেশা কিংবা পারিবারিক সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি না, সেটিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

 

তৃতীয়ত, শিশুর হাতে ফোন দেওয়ার আগে অভিভাবকদের নিশ্চিত হতে হবে,সে কী দেখছে এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে। বয়সোপযোগী ভিডিও, শিক্ষামূলক অনুষ্ঠান ও নিরাপদ অ্যাপ বেছে দিতে হবে। অনুপযুক্ত ওয়েবসাইট ও কনটেন্ট সীমিত করতে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল বা অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। ছোট শিশুদের একা একা ইন্টারনেট ব্যবহারের সুযোগ না দিয়ে পাশে বসে তাদের সঙ্গে কনটেন্ট দেখা এবং বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলা জরুরি। তবে নিয়ন্ত্রণের নামে শিশুর সঙ্গে এমন সম্পর্ক তৈরি করা যাবে না, যেখানে সে ভুল কিছু দেখলে ভয়ে মা-বাবার কাছে সত্য বলতে সাহস পায় না। বরং তাকে বোঝাতে হবে, অনলাইনে কোনো কিছু দেখে ভয় পেলে, অস্বস্তি হলে কিংবা কেউ ব্যক্তিগত ছবি বা তথ্য চাইলে সঙ্গে সঙ্গে বিশ্বস্ত বড়দের জানাতে হবে।

 

চতুর্থত, শিশুর কান্না থামানো, খাবার খাওয়ানো কিংবা ঘুম পাড়ানোর একমাত্র উপায় হিসেবে মোবাইলকে ব্যবহার করা বন্ধ করতে হবে। শিশু বিরক্ত হলে তার হাতে ফোন তুলে দেওয়ার পরিবর্তে গল্প বলা, ছবি আঁকা, খেলনা সাজানো, ছড়া শেখানো কিংবা বাইরে হাঁটতে যাওয়ার মতো বিকল্প তৈরি করতে হবে। শিশু কান্না করলে আগে বুঝতে চেষ্টা করতে হবে, তার ক্ষুধা লেগেছে কি না, ঘুম পাচ্ছে কি না, সে ভয় পেয়েছে কি না কিংবা মা-বাবার সান্নিধ্য চাইছে কি না। শিশুর প্রতিটি আবেগের জবাবে একটি পর্দা তুলে দিলে সে নিজের অনুভূতি সামলানোর সুযোগ কম পেতে পারে। অথচ ধৈর্য ধরে কথা বলা, আদর করা এবং মনোযোগ দিয়ে তার কথা শোনা শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

 

পঞ্চমত, প্রতিদিন শিশুর জন্য পর্দামুক্ত সময় নির্ধারণ করতে হবে। পরিবারের সঙ্গে একবেলা খাবার খাওয়া, ঘুমানোর আগে গল্প শোনা, বই পড়া, খেলাধুলা এবং বন্ধুদের সঙ্গে মেলামেশার সুযোগ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। বয়স অনুযায়ী পর্যাপ্ত ঘুম ও শারীরিক সক্রিয়তার ব্যবস্থা করতে হবে। বিশেষ করে শোবার অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ও অন্যান্য পর্দা বন্ধ রাখার পারিবারিক অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। শিশুর শোবার ঘরে ফোন না রাখা এবং রাতে ফোন নিজের কাছে রেখে দেওয়ার পরিবর্তে অভিভাবকের তত্ত্বাবধানে রাখা উপকারী। কারণ, সুস্থ শৈশবের জন্য শুধু তথ্য ও বিনোদন নয়, প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম, শরীরচর্চা এবং মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ।

 

ষষ্ঠত, শিশুর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা শেখাতে হবে। অনলাইনে নিজের ঠিকানা, ফোন নম্বর, পাসওয়ার্ড কিংবা ব্যক্তিগত ছবি অপরিচিত কাউকে না দেওয়া, সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক না করা এবং অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তিগত যোগাযোগে সতর্ক থাকার বিষয়গুলো সহজ ভাষায় বোঝাতে হবে। কেউ অনলাইনে অপমান করলে, ভয় দেখালে, ব্ল্যাকমেইল করলে কিংবা অনুপযুক্ত ছবি পাঠালে শিশুকে দোষারোপ না করে তার পাশে দাঁড়াতে হবে। প্রয়োজন হলে প্রমাণ সংরক্ষণ করে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মে অভিযোগ জানাতে হবে এবং গুরুতর পরিস্থিতিতে আইনগত সহায়তা নিতে হবে। শিশুর নিরাপত্তার প্রথম শর্ত হলো,বিপদে পড়লে সে যেন নির্ভয়ে মা-বাবার কাছে ফিরে আসতে পারে।

 

সবশেষে, অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে,মোবাইল কেড়ে নেওয়াই সমাধান নয়, আবার শিশুর প্রতিটি আবদারে ফোন তুলে দেওয়াও ভালোবাসার প্রকাশ নয়। প্রয়োজন ধৈর্য, ধারাবাহিকতা এবং বিকল্প আনন্দের ব্যবস্থা। দীর্ঘদিনের অভ্যাস এক দিনে বদলানো সম্ভব নয়; তাই ধীরে ধীরে স্ক্রিন টাইম কমাতে হবে এবং ভালো অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। মোবাইল ব্যবহারের নিয়ম ভাঙলে অপমান বা মারধর নয়, বরং শান্তভাবে কারণ বুঝিয়ে নির্ধারিত নিয়ম কার্যকর করতে হবে। শিশুর আচরণে দীর্ঘদিন ধরে ঘুমের সমস্যা, পড়াশোনায় গুরুতর ব্যাঘাত, সামাজিক যোগাযোগ থেকে সরে যাওয়া কিংবা ফোন ছাড়া তীব্র অস্থিরতা দেখা দিলে শিশু বিশেষজ্ঞ বা উপযুক্ত মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

একটি বিষয় কখনোই ভুলে গেলে চলবে না,শিশুর হাতে স্মার্টফোন তুলে দেওয়ার আগে অভিভাবককে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে স্মার্ট হতে হবে। প্রযুক্তি শিশুকে জ্ঞানী করে তুলতে পারে, কিন্তু সঠিক দিকনির্দেশনা ছাড়া সেই প্রযুক্তিই তার সময়, মনোযোগ ও শৈশবের স্বাভাবিক আনন্দ কেড়ে নিতে পারে। তাই শিশুকে শুধু ফোন চালানোর কৌশল শেখানো নয়, কখন ফোন সরিয়ে রেখে জীবনের দিকে তাকাতে হয়, সেই শিক্ষাটিও দিতে হবে। শিশুকে সারাক্ষণ মোবাইল থেকে দূরে থাকার উপদেশ দিয়ে অভিভাবক নিজেই যদি খাবার টেবিলে ফোনে ব্যস্ত থাকেন, শিশুটি কোন শিক্ষা গ্রহণ করবে? বড়রা যা করেন, শিশুরা প্রায়ই তা-ই অনুকরণ করে।

 

তাই শিশুদের জন্য নিয়ম তৈরির আগে পরিবারকে নিজেদের আচরণের দিকে তাকাতে হবে। খাবারের সময় ও শোবার আগে ফোন দূরে রাখা, প্রতিদিন কিছুটা সময় শিশুর সঙ্গে খেলাধুলা করা, গল্প শোনা, ছবি আঁকা, বই পড়া কিংবা বাইরে হাঁটতে যাওয়াÑএসব অভ্যাস পর্দার ওপর নির্ভরতা কমাতে সাহায্য করতে পারে। ফোন কেড়ে নিয়ে বিকল্প কিছু না দিলে শিশুর বিরক্তি বাড়তে পারে; কিন্তু আনন্দময় বিকল্প তৈরি করে দিলে সে ধীরে ধীরে বাস্তব জগতের সৌন্দর্যও আবিষ্কার করতে পারে। শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেওয়ার আগে অভিভাবকদের কয়েকটি বিষয় ভেবে দেখা জরুরি। শিশুর বয়স কি ফোন ব্যবহারের উপযোগী? ব্যবহারের উদ্দেশ্য কি পরিষ্কার? কনটেন্ট কি তার বয়সের সঙ্গে মানানসই? ফোন ব্যবহারের কারণে কি ঘুম, পড়াশোনা, খেলাধুলা কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো কমে যাচ্ছে? ফোন সরিয়ে নিলে কি প্রতিবারই তীব্র অস্থিরতা দেখা দিচ্ছে? এসব প্রশ্নের উত্তর অভিভাবককে শিশুর ডিজিটাল অভ্যাস সম্পর্কে বাস্তব ধারণা দেবে।

 

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুকে গোপনে নজরদারি করার বদলে অনলাইনের ঝুঁকি, ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা, অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগের বিপদ এবং সাইবার বুলিং সম্পর্কে বুঝিয়ে বলা প্রয়োজন। নিরাপত্তা মানে শুধু নিয়ন্ত্রণ নয়; নিরাপত্তা মানে সচেতনতা ও আস্থার সম্পর্ক তৈরি করা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেরও দায়িত্ব রয়েছে। শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার শেখানোর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা, পাঠাভ্যাস ও পারস্পরিক সহযোগিতার সুযোগ বাড়াতে হবে। শিশুদের ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে শিক্ষক ও অভিভাবকদের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

 

প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোরও উচিত শিশুদের জন্য নিরাপদ নকশা, কার্যকর অভিভাবকীয় নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিকর কনটেন্ট প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখা। শিশুদের মনোযোগকে কেবল বাণিজ্যিক পণ্যে পরিণত করে লাভবান হওয়া কোনো ভাবেই সামাজিক দায়িত্বের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। একই সঙ্গে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার উচিত শিশুদের অনলাইন সুরক্ষা, সচেতনতামূলক শিক্ষা এবং অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করা। সবচেয়ে বড় কথা, শিশুদের শৈশবকে শুধু পরীক্ষার ফল, মোবাইলের দক্ষতা কিংবা প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার মানদ-ে বিচার করা যাবে না।

 

একটি শিশু কত দ্রুত অ্যাপ চালাতে পারে, তা দিয়ে তার বুদ্ধিমত্তার পূর্ণ মূল্যায়ন হয় না। সে কতটা সহানুভূতিশীল, কতটা কৌতূহলী, কতটা স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে পারে, অন্যের সঙ্গে কেমন আচরণ করেÑএসবও তার বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ সূচক। প্রযুক্তির সুবিধা গ্রহণ করতে গিয়ে যদি আমরা শিশুর স্বাভাবিক কৌতূহল, শারীরিক সক্রিয়তা, সৃজনশীলতা ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ সংকুচিত করি, তবে সেই অগ্রগতি অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। মনে রাখতে হবে, মোবাইল ফোন নিজে ভালো বা মন্দ নয়; এর নিরাপত্তা নির্ভর করে ব্যবহারের বয়স, সময়, উদ্দেশ্য, কনটেন্ট এবং তত্ত্বাবধানের ওপর। শিশুকে প্রযুক্তি থেকে দূরে সরিয়ে রাখাই একমাত্র সমাধান নয়, আবার প্রযুক্তির হাতে শিশুর অবসর, আবেগ ও মনোযোগ ছেড়ে দেওয়াও দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়।

 

দরকার ভারসাম্যÑযেখানে শেখার প্রয়োজনে পর্দা থাকবে, কিন্তু জীবনের সব আনন্দের জায়গা দখল করবে না; যোগাযোগ থাকবে, কিন্তু পরিবারের মুখোমুখি কথোপকথন হারিয়ে যাবে না; প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় হবে, কিন্তু শৈশবের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হবে না। একটি শিশুর হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া সহজ, কিন্তু তার শৈশবকে সুস্থ, সুন্দর ও নিরাপদ করে তোলা অনেক বড় দায়িত্ব। যে আঙুল আজ পর্দায় ছবি বদলাচ্ছে, সেই আঙুল একদিন বইয়ের পাতা উল্টাবে, পৃথিবী গড়ার কাজে যুক্ত হবে। সেই ভবিষ্যৎকে সুন্দর করতে হলে আজই আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে শিশুকে শুধু স্মার্টফোন চালাতে শেখাব, নাকি স্মার্ট ভাবে জীবন চিনতেও শেখাব ? কারণ, শিশুর হাতে প্রযুক্তি থাকুক, কিন্তু প্রযুক্তির হাতে যেন শিশুর শৈশব বন্দি না হয় আমি অধম লেখকের এমনটি প্রত্যাশা।

লেখক : সাংবাদিক ও কলামিস্ট

Ads small one

কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: জয়দেব সভাপতি, কুদ্দুস সম্পাদক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ
কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন: জয়দেব সভাপতি, কুদ্দুস সম্পাদক

কেশবপুর (যশোর) প্রতিনিধি: উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কেশবপুর প্রেস ক্লাবের দ্বি-বার্ষিক নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে জয়দেব চক্রবর্তী (লোকসমাজ) এবং সাধারণ সম্পাদক পদে রুহুল কুদ্দুস (ইনকিলাব) নির্বাচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া সহসভাপতি পদে আব্দুল হাই সিদ্দিকী (নয়া দিগন্ত ও পূর্বাঞ্চল) ও মোতাহার হোসাইন (সমকাল ও গ্রামের কাগজ), যুগ্ম সম্পাদক পদে মশিয়ার রহমান (আলোকিত বাংলাদেশ) ও মেহেদী হাসান জাহিদ (সময়ের খবর), কোষাধ্যক্ষ পদে সিদ্দিকুর রহমান (খোলা কাগজ), দপ্তর সম্পাদক পদে আলমগীর হোসেন (দৈনিক খুলনাঞ্চল), ক্রীড়া ও সাহিত্য সম্পাদক পদে মাসুম বিল্লাহ (প্রতিদিনের কথা), এবং গ্রন্থাগার সম্পাদক পদে মতিয়ার রহমান (অনির্বাণ) নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যনির্বাহী পাঁচ সদস্য পদে নির্বাচিত হয়েছেন আজিজুর রহমান (যুগান্তর), নুরুল ইসলাম খান (কালের কণ্ঠ), আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ (দৈনিক কল্যাণ), উৎপল দে (কালবেলা) ও শেখ শাহীনুর ইসলাম (করতোয়া)।
নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রেস ক্লাবের সদস্য ও ভোটারদের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত ঐক্য, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সাংবাদিকতার মান উন্নয়নে তাঁদের ভূমিকা অব্যাহত থাকবে। সংবাদ পরিবেশনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে লেখনী ধারণ এবং সমাজের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা তুলে ধরার মাধ্যমে তাঁরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন। প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আশরাফুজ্জামান ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ নবনির্বাচিত কমিটিকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আগামী দিনে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা

‘জলবায়ু অভিঘাত পেরিয়ে গ্রামীণ নারী ক্ষমতায়ন ও সমৃদ্ধির পথে’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বুড়িগোয়ালিনী ও গাবুরা ইউনিয়নের নারী দলের সদস্যদের আয়োজনে শ্যামনগরের বুড়িগোয়ালিনীর দাতিনাখালি বালুর মাঠে গ্রামীণ নারী কৃষি মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। লিডার্স, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও অ্যাম্বাসি অব সুইডেনের সহযোগিতায় কমিউনিটি ভিত্তিক জলবায়ু সহনশীলতা ও নারীর ক্ষমতায়ন কর্মসূচি–সিআরইএ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক গ্রামীণ নারী দিবস উপলক্ষে এ মেলার আয়োজন করা হয়। ৯ নম্বর বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান জিএম আব্দুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা কৃষি অফিসার ওয়ালিউল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. জামাল হোসেন, উপকূলীয় প্রেসক্লাবের সম্পাদক ও সাংবাদিক হুদা মালী, বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের সমাজসেবক জি এম রুস্তম আলী, ফেইথ ইন অ্যাকশনের জেন্ডার অফিসার নয়মী বিশ্বাস, পিসিআরসিবি প্রকল্প সিসিডিবির সহসভাপতি মিনতি রানী মল্লিক, মেঘনা নারী দলের সভাপতি নার্গিস সুলতানা, দোলন চাঁপা নারী দলের সহসভাপতি জেবুন্নেছা খাতুন এবং লিডার্সের সিআরইএ প্রকল্প সমন্বয়কারী সুব্রত অধিকারীসহ প্রকল্পের অন্যান্য কর্মকর্তারা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্প কর্মকর্তা সুলতা রানী সাহা। প্রেসবিজ্ঞপ্তি

আলো ঝলমলে রাতের গুড়পুকুর মেলা, বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩১ পূর্বাহ্ণ
আলো ঝলমলে রাতের গুড়পুকুর মেলা, বাড়ছে দর্শনার্থীদের আনাগোনা

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলায় দুপুরের পর থেকেই বাড়তে শুরু করে দর্শনার্থীদের ভিড়। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই আলো ঝলমলে মেলা প্রাঙ্গণ পরিণত হয় মানুষের মিলনমেলায়। কেনাকাটা, ঘোরাঘুরি ও বিনোদনের আনন্দে মেতে ওঠেন নানা বয়সী মানুষ। মেলা শেষের দিকে চলে আসায় ব্যবসায়ীদের বেচাকেনাও জমে উঠেছে। অন্যদিকে, মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেছেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) মেলার ১৫তম দিনে সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে এমন উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। গত ১ অক্টোবর উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া ঐতিহ্যবাহী এ মেলা ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকেও দর্শনার্থীরা আসছেন। মেলায় রয়েছে প্রসাধনী, পোশাক, শিশুদের খেলনা, গৃহস্থালির সামগ্রী ও খাবারের নানা দোকান। রঙিন আলোকসজ্জা আর মানুষের পদচারণায় সন্ধ্যার পর মেলা প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে আরও প্রাণবন্ত।

মেলার শেষ পর্যায়ে এসে বেচাকেনা ভালো হওয়ায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করছেন বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। তাঁদের প্রত্যাশা, মেলার বাকি দিনগুলোতে ক্রেতা-দর্শনার্থীর উপস্থিতি আরও বাড়বে এবং বিক্রিও ভালো হবে।

ঢাকা থেকে আসা কসমেটিকস ব্যবসায়ী মাসুদ বলেন, “মেলার শেষ দিকে এসে বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। দুপুরের পর থেকেই ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এভাবে ক্রেতা আসতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে বেচাকেনা আরও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

বরিশাল থেকে শিশুদের খেলনা নিয়ে আসা ব্যবসায়ী আকবর বলেন, “মেলার শেষ সপ্তাহে এসে ক্রেতাদের আনাগোনা ভালো। শিশুদের খেলনার প্রতি ছোটদের আগ্রহ রয়েছে। এখন বেচাকেনা ভালো হওয়ায় আমরা আশাবাদী। মেলার শেষ দিনগুলোতে আরও ভালো বিক্রির প্রত্যাশা করছি।”
মাদারীপুর থেকে আসা ব্যবসায়ী নাজমুল হোসেন বলেন, “মেলা শেষের দিকে হওয়ায় এখন বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বিভিন্ন বয়সী মানুষ মেলায় আসছেন, পছন্দের জিনিস কিনছেন। সামনে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়লে আমাদের ব্যবসাও ভালো হবে বলে আশা করছি।”

এদিকে, বৃহস্পতিবার গুড়পুকুর মেলার সার্বিক নিরাপত্তাব্যবস্থা পরিদর্শন করেন পুলিশের খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. রেজাউল করিম। মেলায় দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও পুলিশের দায়িত্ব পালন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মেলায় নিরাপত্তাব্যবস্থা সন্তোষজনক রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

শতাব্দীর ঐতিহ্য বহনকারী গুড়পুকুর মেলা সাতক্ষীরার মানুষের কাছে শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, বরং সামাজিক মিলন ও বিনোদনেরও অন্যতম উপলক্ষ। মেলা শেষের দিকে এসে দর্শনার্থীদের আনাগোনা এবং ব্যবসায়ীদের বেচাকেনায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসায় আয়োজক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।