সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সংস্কৃতি যখন উন্নয়নের নতুন ভাষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
সংস্কৃতি যখন উন্নয়নের নতুন ভাষা

মো. মামুন হাসান
বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প আজ আর শুধু অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নয়নের নতুন বিশ্ব বাস্তবতায় একটি দেশের প্রকৃত শক্তি নির্ধারিত হচ্ছে তার সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং নিজস্ব পরিচয়কে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের সক্ষমতার মাধ্যমে। প্রশ্ন হলো, আগামী দিনের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার নতুন চালিকাশক্তি কোথায় নিহিত? বৃহৎ শিল্পাঞ্চলে, নাকি কোনো গ্রামের উঠোনে বসে শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা একজন কারুশিল্পীর হাতে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে তাকাতে হয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার সেই অমূল্য ভা-ারের দিকে, যা এতদিন উন্নয়নের মূলধারার আলোচনায় যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
প্রশ্নটি যতটা কাব্যিক, বাস্তবতাও ততটাই গভীর। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির নতুন প্রবণতা বলছে, আগামী দিনের প্রতিযোগিতা শুধু শিল্প কারখানা বা প্রযুক্তিনির্ভর হবে না; বরং সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, ঐতিহ্য এবং স্থানীয় পরিচয়ও হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। আর সেখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি লুকিয়ে আছে।
দীর্ঘদিন ধরে আমরা গ্রামকে দেখেছি কৃষির ক্ষেত্র হিসেবে, শ্রমশক্তির উৎস হিসেবে কিংবা শহরমুখী জনসংখ্যার যোগানদাতা হিসেবে। কিন্তু খুব কম মানুষই গ্রামকে একটি অর্থনৈতিক ব্র্যান্ড হিসেবে কল্পনা করেছে। অথচ পৃথিবীর বহু দেশে একটি গ্রাম একটি পণ্যকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববাজারে পরিচিতি লাভ করেছে। জাপানের ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট আন্দোলন, থাইল্যান্ডের ওটপ মডেল কিংবা ইতালির কারুশিল্পভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
বাংলাদেশ এখন সেই পথেই হাঁটার সুযোগ পেয়েছে।‘এক গ্রাম এক পণ্য’ শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি হতে পারে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন দর্শন। এই দর্শন বলে, প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব দক্ষতা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যই হবে তার উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
ভাবুন, কোনো একটি গ্রাম যদি শুধু শীতলপাটির জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়, কোনো অঞ্চল যদি শতরঞ্জির রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পায়, কোনো উপজেলা যদি তাঁতের নকশা কিংবা টেরাকোটার জন্য পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়, তাহলে সেখানে শুধু পণ্য বিক্রি হবে না; বিক্রি হবে একটি গল্প, একটি ইতিহাস এবং একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।
আজকের বিশ্বে অভিজ্ঞতার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। একজন বিদেশি পর্যটক এখন শুধু একটি স্মারক কিনতে চান না; তিনি জানতে চান সেই পণ্যের পেছনের মানুষ, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার গল্প। ফলে একটি শীতলপাটি শুধু একটি পণ্য নয়; এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের একটি জীবন্ত দলিল।
বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল অর্থনীতির বাজার কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলচ্চিত্র, সংগীত, নকশা, কারুশিল্প, ডিজিটাল কনটেন্ট, উৎসব এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনকে ঘিরে যে অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, তা অনেক দেশের প্রচলিত শিল্পখাতের চেয়েও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশ এখনো এই বিশাল বাজারে তার প্রকৃত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।
অথচ আমাদের রয়েছে হাজার বছরের সভ্যতা, নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি, লোকসংগীত, বৈচিত্র্যময় খাদ্য ঐতিহ্য, হস্তশিল্প, উৎসব এবং অসংখ্য অপ্রকাশিত গল্প।প্রশ্ন হলো, আমরা কি এগুলোকে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখতে শিখেছি?
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো আমরা এখনো পর্যটনকে মূলত স্থানভিত্তিকভাবে দেখি। কক্সবাজার, সুন্দরবন কিংবা পাহাড়ি অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই অধিকাংশ পরিকল্পনা আবর্তিত হয়। অথচ বিশ্বের অনেক সফল পর্যটন গন্তব্য গড়ে উঠেছে সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে।
একটি পিঠা উৎসব, একটি বাউল উৎসব, একটি নদী উৎসব কিংবা একটি লোকজ মেলা হাজারো পর্যটক আকর্ষণ করতে পারে, যদি তা পরিকল্পিতভাবে আয়োজন ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করা যায়।
ভাবুন, ডিসেম্বরকে ‘বাংলার পিঠা মাস’, ফাল্গুনকে ‘লোকসংস্কৃতির মাস’, বর্ষাকে ‘নদী ও নৌসংস্কৃতির উৎসব ঋতু’ এবং শরৎকে ‘গ্রামীণ ঐতিহ্যের ঋতু’ হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিত করা হয়। তাহলে বাংলাদেশের পর্যটন ক্যালেন্ডার সারা বছরই প্রাণবন্ত থাকতে পারে। এতে শুধু পর্যটক বাড়বে না; জেগে উঠবে গ্রামীণ অর্থনীতিও।
একজন পর্যটক যখন কোনো গ্রামে যান, তখন তিনি শুধু একটি টিকিট কেনেন না। তিনি স্থানীয় পরিবহন ব্যবহার করেন, স্থানীয় খাবার খান, স্থানীয় হস্তশিল্প কেনেন, স্থানীয় গাইড নিয়োগ করেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেন। ফলে পর্যটনের প্রতিটি টাকা বহু মানুষের হাতে পৌঁছে যায় এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করে।
একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতিতে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কারখানা নয়, ধারণা। সবচেয়ে মূল্যবান পণ্য কাঁচামাল নয়, সৃজনশীলতা। সবচেয়ে মূল্যবান ব্র্যান্ড বিজ্ঞাপন নয়, গল্প।সেই গল্পই বলতে পারে বাংলাদেশ।
‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ যদি সত্যিকার অর্থে একটি জাতীয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়, তাহলে বিশ্ব এক নতুন বাংলাদেশকে দেখতে পাবে। যে বাংলাদেশ শুধু পোশাক রপ্তানি করে না; যে বাংলাদেশ সংস্কৃতি রপ্তানি করে, সৃজনশীলতা রপ্তানি করে, অভিজ্ঞতা রপ্তানি করে এবং নিজস্ব পরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করে।
হয়তো আগামী দশকের বাংলাদেশকে আমরা আর শুধু তৈরি পোশাকের দেশ হিসেবে চিনব না। আমরা চিনব এমন একটি দেশ হিসেবে, যেখানে একটি গ্রামের শীতলপাটি, একটি বাউলের গান, একটি পিঠার স্বাদ, একটি নদীর গল্প এবং একটি মানুষের সৃজনশীলতা মিলেই গড়ে তুলেছে নতুন অর্থনীতির ভিত্তি।
বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপ্লব হয়তো কোনো শিল্পাঞ্চলে নয়, শুরু হবে গ্রামের উঠোনে। আর সেই বিপ্লবের নাম হতে পারে সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও পর্যটনের অর্থনীতি। লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Ads small one

খুলনায় আঞ্চলিক বিপণন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৪:৫৭ অপরাহ্ণ
খুলনায় আঞ্চলিক বিপণন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্টিপ্রিনিউরশিপ অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ (পার্টনার) এপিসিইউ-ডিএএম অংগ’ প্রকল্পের আওতায় আঞ্চলিক বিপণন কর্মশালা আজ (সোমবার) খুলনা সিএসএস আভা সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এম. এম. আরিফ পাশা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি বলেন, কৃষি দেশের প্রধান চালিকা শক্তি। দেশের ৪৫ শতাংশ মানুষ সরাসরি কৃষির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু আমাদের কৃষি ব্যবস্থা সেই পুরনো রয়ে গেছে। বর্তমানে বাজারমুখি বিশ^ব্যবস্থার সাথে তাল মেলাতে গেলে আমাদের সনাতন কৃষি ব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের আমদানি কমাতে হবে এবং কোয়ালিটি ফুড উৎপাদন করে বিদেশে রপ্তানি করতে হবে।

খুলনা কৃষি বিপণন কার্যালয়ের উপপরিচালক মোছা: শাহনাজ বেগমের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের খুলনা অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মো: রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মিজ সিফাত মেহনাজ ও পার্টনারের এজেন্সি প্রোগ্রাম ডিরেক্টর ড. মুহাম্মদ আব্দুলাহ আল ফারুক। কর্মশালায় প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পার্টনারের সিনিয়র মনিটরিং অফিসার তৌহিদ মো: রাশেদ খান ও খুলনা কৃষি বিপণন কার্যালয়ের সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা সুমন হোসাইন। কৃষি বিপণন কার্যালয় এই কর্মশালার আয়োজন করে।

কর্মশালায় মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা তাদের কার্যক্রম বিষয়ক মতামত তুলে ধরেন।
পার্টনার প্রোগ্রামের মাধ্যমে কৃষি ব্যবসায় যুবক ও নারীদের উৎসাহিত করার জন্য সারাদেশে ২০ হাজার জনকে অন-দ্যা-জব প্রশিক্ষণ প্রদান ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ইনকিউবেশন সাপোর্ট প্রদান করা হবে। যার মধ্যে রয়েছে ১২ হাজার নারী ও আট হাজার যুবক।

 

২০ হাজারের মধ্যে ছয় হাজার পাঁচশত ৭৫ জনকে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে, যার মধ্যে তিন হাজার আটশত ১৫ জন নারী উদ্যোক্তা এবং দুই হাজার সাতশত ৬০ জন পুরুষ উদ্যোক্তা। এই প্রকল্পটি দেশের আটটি বিভাগে সিটি কর্পোরেশন, পৌরসভাসহ ৬৪টি জেলা ও ২০৮টি উপজেলায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, কৃষি উদ্যোক্তা, ম্যাবস সদস্য, আড়তদাররা অংশ নেন। তথ্যবিবরণী

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৪:৫১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে ছাত্রশিবিরের নবীন বরণ অনুষ্ঠিত
নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সরকারি কলেজে অনার্স প্রথম বর্ষের প্রায় ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে নবীন বরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ শাখা। সোমবার (২২ জুন) সকাল ৯টায় কলেজ ক্যাম্পাসে উৎসবমুখর পরিবেশে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সেক্রেটারি জিয়াউর রহমান ফাহিমের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, শিক্ষাজীবন শুধু সনদ অর্জনের জন্য নয়, বরং নিজেকে একজন আদর্শ, নৈতিক ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলারও গুরুত্বপূর্ণ সময়। তিনি শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও সকল ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থেকে জ্ঞানার্জনের মাধ্যমে দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কলেজ কার্যক্রম সম্পাদক হাফেজ ইউসুফ ইসলাহী, সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল, সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান এবং সেক্রেটারি মো. নুরুন্নবী।
আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুর রহমান, শহর জামায়াতের আমির জাহিদুল ইসলাম বকুল, সদর উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় এইচআরডি সম্পাদক আব্দুর রহিম, জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জুবায়ের রহমান এবং জেলা জামায়াতের অফিস সেক্রেটারি মাওলানা রুহুল আমিন।
বক্তারা বলেন, শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কার্যক্রমের বিকল্প নেই। তারা নবীনদের শিক্ষাজীবনের শুরু থেকেই সময়ের সঠিক ব্যবহার, একাডেমিক উৎকর্ষ অর্জন এবং সমাজকল্যাণমূলক কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
এসময় সাতক্ষীরা শহর ছাত্রশিবিরের অফিস সম্পাদক আরিফ বিল্লাহ, অর্থ সম্পাদক হাফেজ আনিসুর রহমান, শিক্ষা ও মানবসম্পদ সম্পাদক আবু সালেহ সাদ্দাম, তথ্য ও মিডিয়া সম্পাদক মো. মাসুদ রানা, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক আল রাজিব, প্রকাশনা ও গবেষণা সম্পাদক মো. ইমরান হোসেন আফজাল, মাদরাসা কার্যক্রম সম্পাদক মো. শাহনেওয়াজ, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রচার সম্পাদক মো. ওয়ালীউল্লাহ, এইচআরডি সম্পাদক মো. মাসুদুজ্জামান, ক্রীড়া সম্পাদক হাফেজ এবাদুল ইসলাম, ব্যবসা শিক্ষা সম্পাদক শামীম হোসেন এবং আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক মো. আতিক মুজাহিদসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল দিয়ে বরণ করা হয়। এছাড়া সাংগঠনিক পরিচিতি, দিকনির্দেশনামূলক আলোচনা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

শ্যামনগরে স্থাপনার মধ্যভাগ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ৪:৪৮ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে স্থাপনার মধ্যভাগ দিয়ে ড্রেন নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

শ্যামনগর প্রতিনিধি: বাংলাদেশ ও জাতিসংঘের অর্থায়নে নির্মিত শ্যামনগরের একমাত্র চিংড়ি পোনা (পিএল) ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রের মধ্যভাগ দিয়ে ড্রেন তৈরীর প্রতিবাদে মানববন্ধন হয়েছে। সোমবার সকালে বংশীপুর বাস্ট্যান্ডে চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে ক্রেতা-বিক্রেতাসহ সাধারণ মানুষ অংশ নেয়।

কমিউনিটি বেইজড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ফিসারিজ এ্যান্ড অ্যাকোয়াকালচার ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ প্রকল্পের আওতায় দুই বছর আগে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে উক্ত স্থাপনা নির্মিত হয়।

সমিতির সভাপতি এম. কে কামরুজ্জামান কচির সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন আব্দুল কাদের গাজী, ফারুক হোসেন, আবু বক্কার সিদ্দিক বাবু, আব্দুল আহাদ প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতির কারনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের চিংড়ি খাতের জন্য বংশীপুর চিংড়ি পোনা ক্রয়-বিক্রয় কেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ। বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদিন এখানে বিপুল পরিমাণ চিংড়ি পোনা ক্রয়-বিক্রয় হয়, যা স্থানীয় স্থানীয় ও জাতীয় অর্থনীতিতে বিশেষ অবদান রাখছে। অথচ সওজ কতৃপক্ষ অপরিকল্পিত ড্রেন নির্মানের স্বার্থে উক্ত স্থাপনার মধ্যভাগ খুঁড়ে ফেলতে চাইছে। যা বাস্তবায়িত হলে শতাধিক ব্যবসায়ীর পাশাপাশি হাজারও শ্রমিক জীবিকা হারানোর ঝুঁকিতে পড়বে।

এমতাবস্থায় উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনস্বার্থ ও বাস্তবতা উপলব্ধির আহবান জানান বক্তারা। একইসাথে তারা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকাসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষতির বিষয়কে প্রাধান্য দিয়ে পরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণের দাবি করেন।

শ্যামনগর উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তৌহিদ হাসান এর ভাষ্য, উপকুলবর্তী চারটি উপজেলার মানুষ উক্ত স্থাপনা হতে পিএল ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত। প্রতিদিন প্রায় কোটি টাকা লেনদেনের কারনে অর্থনীতিতে তার যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে- দাবি করে তিনি বিকল্পভাবে সড়কের সম্প্রসারণ কাজ সম্পন্নের কথা জানান।

সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোঃ রাফিউজ্জামান জানান প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় সংশ্লিষ্টরা দায়িত্বশীল হলে এমন সমস্যা তৈরি হতো না। তারপরও উর্ধ্বতন কতৃপক্ষের সাথে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।