সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩
সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৮ আষাঢ় ১৪৩৩

সংস্কৃতি যখন উন্নয়নের নতুন ভাষা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬, ১১:৩০ অপরাহ্ণ
সংস্কৃতি যখন উন্নয়নের নতুন ভাষা

মো. মামুন হাসান
বাংলাদেশের উন্নয়নের গল্প আজ আর শুধু অবকাঠামো নির্মাণ, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা রপ্তানি আয়ের পরিসংখ্যানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নয়নের নতুন বিশ্ব বাস্তবতায় একটি দেশের প্রকৃত শক্তি নির্ধারিত হচ্ছে তার সৃজনশীলতা, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য এবং নিজস্ব পরিচয়কে অর্থনৈতিক সম্পদে রূপান্তরের সক্ষমতার মাধ্যমে। প্রশ্ন হলো, আগামী দিনের বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার নতুন চালিকাশক্তি কোথায় নিহিত? বৃহৎ শিল্পাঞ্চলে, নাকি কোনো গ্রামের উঠোনে বসে শত বছরের ঐতিহ্য বহন করে চলা একজন কারুশিল্পীর হাতে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমাদের ফিরে তাকাতে হয় সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সৃজনশীলতার সেই অমূল্য ভা-ারের দিকে, যা এতদিন উন্নয়নের মূলধারার আলোচনায় যথাযথ গুরুত্ব পায়নি।
প্রশ্নটি যতটা কাব্যিক, বাস্তবতাও ততটাই গভীর। কারণ বিশ্ব অর্থনীতির নতুন প্রবণতা বলছে, আগামী দিনের প্রতিযোগিতা শুধু শিল্প কারখানা বা প্রযুক্তিনির্ভর হবে না; বরং সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, ঐতিহ্য এবং স্থানীয় পরিচয়ও হবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির অন্যতম চালিকাশক্তি। আর সেখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শক্তি লুকিয়ে আছে।
দীর্ঘদিন ধরে আমরা গ্রামকে দেখেছি কৃষির ক্ষেত্র হিসেবে, শ্রমশক্তির উৎস হিসেবে কিংবা শহরমুখী জনসংখ্যার যোগানদাতা হিসেবে। কিন্তু খুব কম মানুষই গ্রামকে একটি অর্থনৈতিক ব্র্যান্ড হিসেবে কল্পনা করেছে। অথচ পৃথিবীর বহু দেশে একটি গ্রাম একটি পণ্যকে কেন্দ্র করেই বিশ্ববাজারে পরিচিতি লাভ করেছে। জাপানের ওয়ান ভিলেজ ওয়ান প্রোডাক্ট আন্দোলন, থাইল্যান্ডের ওটপ মডেল কিংবা ইতালির কারুশিল্পভিত্তিক গ্রামীণ অর্থনীতি তার উজ্জ্বল উদাহরণ।
বাংলাদেশ এখন সেই পথেই হাঁটার সুযোগ পেয়েছে।‘এক গ্রাম এক পণ্য’ শুধু একটি উন্নয়ন প্রকল্প নয়; এটি হতে পারে বাংলাদেশের গ্রামীণ অর্থনীতির নতুন দর্শন। এই দর্শন বলে, প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব দক্ষতা, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যই হবে তার উন্নয়নের মূল ভিত্তি।
ভাবুন, কোনো একটি গ্রাম যদি শুধু শীতলপাটির জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়, কোনো অঞ্চল যদি শতরঞ্জির রাজধানী হিসেবে পরিচিতি পায়, কোনো উপজেলা যদি তাঁতের নকশা কিংবা টেরাকোটার জন্য পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে পরিণত হয়, তাহলে সেখানে শুধু পণ্য বিক্রি হবে না; বিক্রি হবে একটি গল্প, একটি ইতিহাস এবং একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা।
আজকের বিশ্বে অভিজ্ঞতার বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। একজন বিদেশি পর্যটক এখন শুধু একটি স্মারক কিনতে চান না; তিনি জানতে চান সেই পণ্যের পেছনের মানুষ, সংস্কৃতি এবং জীবনযাত্রার গল্প। ফলে একটি শীতলপাটি শুধু একটি পণ্য নয়; এটি বাংলাদেশের গ্রামীণ জীবনের একটি জীবন্ত দলিল।
বিশ্বব্যাপী সৃজনশীল অর্থনীতির বাজার কয়েক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। চলচ্চিত্র, সংগীত, নকশা, কারুশিল্প, ডিজিটাল কনটেন্ট, উৎসব এবং সাংস্কৃতিক পর্যটনকে ঘিরে যে অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, তা অনেক দেশের প্রচলিত শিল্পখাতের চেয়েও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। দুঃখজনকভাবে বাংলাদেশ এখনো এই বিশাল বাজারে তার প্রকৃত অবস্থান তৈরি করতে পারেনি।
অথচ আমাদের রয়েছে হাজার বছরের সভ্যতা, নদীকেন্দ্রিক সংস্কৃতি, লোকসংগীত, বৈচিত্র্যময় খাদ্য ঐতিহ্য, হস্তশিল্প, উৎসব এবং অসংখ্য অপ্রকাশিত গল্প।প্রশ্ন হলো, আমরা কি এগুলোকে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে দেখতে শিখেছি?
বাংলাদেশের পর্যটন খাতের অন্যতম সীমাবদ্ধতা হলো আমরা এখনো পর্যটনকে মূলত স্থানভিত্তিকভাবে দেখি। কক্সবাজার, সুন্দরবন কিংবা পাহাড়ি অঞ্চলকে কেন্দ্র করেই অধিকাংশ পরিকল্পনা আবর্তিত হয়। অথচ বিশ্বের অনেক সফল পর্যটন গন্তব্য গড়ে উঠেছে সংস্কৃতি ও অভিজ্ঞতাকে কেন্দ্র করে।
একটি পিঠা উৎসব, একটি বাউল উৎসব, একটি নদী উৎসব কিংবা একটি লোকজ মেলা হাজারো পর্যটক আকর্ষণ করতে পারে, যদি তা পরিকল্পিতভাবে আয়োজন ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করা যায়।
ভাবুন, ডিসেম্বরকে ‘বাংলার পিঠা মাস’, ফাল্গুনকে ‘লোকসংস্কৃতির মাস’, বর্ষাকে ‘নদী ও নৌসংস্কৃতির উৎসব ঋতু’ এবং শরৎকে ‘গ্রামীণ ঐতিহ্যের ঋতু’ হিসেবে বিশ্বদরবারে পরিচিত করা হয়। তাহলে বাংলাদেশের পর্যটন ক্যালেন্ডার সারা বছরই প্রাণবন্ত থাকতে পারে। এতে শুধু পর্যটক বাড়বে না; জেগে উঠবে গ্রামীণ অর্থনীতিও।
একজন পর্যটক যখন কোনো গ্রামে যান, তখন তিনি শুধু একটি টিকিট কেনেন না। তিনি স্থানীয় পরিবহন ব্যবহার করেন, স্থানীয় খাবার খান, স্থানীয় হস্তশিল্প কেনেন, স্থানীয় গাইড নিয়োগ করেন এবং স্থানীয় মানুষের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক তৈরি করেন। ফলে পর্যটনের প্রতিটি টাকা বহু মানুষের হাতে পৌঁছে যায় এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করে।
একবিংশ শতাব্দীর অর্থনীতিতে সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ কারখানা নয়, ধারণা। সবচেয়ে মূল্যবান পণ্য কাঁচামাল নয়, সৃজনশীলতা। সবচেয়ে মূল্যবান ব্র্যান্ড বিজ্ঞাপন নয়, গল্প।সেই গল্পই বলতে পারে বাংলাদেশ।
‘ক্রিয়েটেড ইন বাংলাদেশ’ যদি সত্যিকার অর্থে একটি জাতীয় ব্র্যান্ডে পরিণত হয়, তাহলে বিশ্ব এক নতুন বাংলাদেশকে দেখতে পাবে। যে বাংলাদেশ শুধু পোশাক রপ্তানি করে না; যে বাংলাদেশ সংস্কৃতি রপ্তানি করে, সৃজনশীলতা রপ্তানি করে, অভিজ্ঞতা রপ্তানি করে এবং নিজস্ব পরিচয়কে বিশ্বমঞ্চে প্রতিষ্ঠিত করে।
হয়তো আগামী দশকের বাংলাদেশকে আমরা আর শুধু তৈরি পোশাকের দেশ হিসেবে চিনব না। আমরা চিনব এমন একটি দেশ হিসেবে, যেখানে একটি গ্রামের শীতলপাটি, একটি বাউলের গান, একটি পিঠার স্বাদ, একটি নদীর গল্প এবং একটি মানুষের সৃজনশীলতা মিলেই গড়ে তুলেছে নতুন অর্থনীতির ভিত্তি।
বাংলাদেশের পরবর্তী অর্থনৈতিক বিপ্লব হয়তো কোনো শিল্পাঞ্চলে নয়, শুরু হবে গ্রামের উঠোনে। আর সেই বিপ্লবের নাম হতে পারে সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও পর্যটনের অর্থনীতি। লেখক: ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান,ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট

Ads small one

শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে জেলেখালী খাল খনন শেষে পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:৩০ পূর্বাহ্ণ
শ্যামনগরের মুন্সীগঞ্জে জেলেখালী খাল খনন শেষে পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলায় মুন্সীগঞ্জ জেলেখালীতে প্রায় ২৫ একর জমির মধ্যে গ্রামবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে বেসরকারি উদ্যোগে খাল খনন করা হয়েছে। খাল খনন শেষ না হতেই খাল পূর্বের দখলকারীরা পুনরায় মাছ ছেড়ে দখল করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় গ্রামবাসী।

এলাকার কৃষকরা বলেন, মাটির নিচে লবনাক্ত হলেও এই এলাকায় আমন মৌসুমী ফসল উৎপাদন হয়। একটি ফসলের উপর নির্ভর করে এই অঞ্চলের কৃষক কষ্ট করে টিকে আছে। বছরের অন্যান্য সময় শহরের ইটভাটাসহ বিভিন্ন কাজে যেতে হয়। এলাকায় মিষ্টি পানির সংকট থাকার কারণে কৃষকরা এখানে শুধুমাত্র আমন ধান চাষ করে। জেলেখালির খালে বোরো মৌসুমী খালের ২ থেকে ৩ ফিট পানির থাকে, সেই পানির উপর ভরসা করে দুইটি ফসল করার চেষ্টা করলেও অধিকাংশ সময়ে পানি সংকট দেখা যায়। ফলে বোরো ফসল শুকিয়ে নষ্ট হয়ে যায়।

গ্রামের মধ্যে জেলেখালি খালটি প্রবাহিত হয়েছে, যার ২.২ কিঃমিঃ উন্মুক্ত আছে। সেই অংশটি খনন করা হয়েছে বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। বর্ষা মৌসুমী কৃষি ফসলের মাঠের পানি নিষ্কাশনের জন্য খালটি উন্মুক্ত রাখারও প্রয়োজন। কিন্তু খালটি ভরাট থাকার কারণে প্রতিবছর জলবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার ফলে পানি নিষ্কাশন না হলে ফসল ও বীজতলায় বিগত কয়েক বছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। শুষ্ক মৌসুমী খালে পানি থাকে না, বেশিরভাগ জায়গা পতিত থাকে। এমতাবস্থায় খালটি উন্মুক্ত রাখার দাবিতে জেলেখালি গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট পেশ করেন।

জনগণের দাবির পক্ষে প্রশাসন ও বেসরকারি সংগঠন খালটি খননের উদ্যোগ গ্রহণ করে। যার দাগ নম্বর ২৩৯, ২৮১। জনগনের দাবি, আইনগত মতামতের ভিত্তিতে ও উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে, সুইডেন দূতাবাস, ঢাকা এর অর্থায়নে, সিএনআরএস-বিফরআরএল প্রকল্পের উদ্যোগে খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। খালটি খনন উদ্বোধন করেন সাংসদ গাজী নজরুল ইসলাম।

খালটি খনন করার পর পূর্বের দখলকারী ইসাক আলী পাড়ের নেতৃত্বে তার সহযোগীরা স্থানীয় মানুষের হুমকি দিয়ে খালের একটি অংশে কিছু রুই জাতীয় মাছের পোনা ছেড়ে দেন। সাথে সাথে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে। খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি বিষয়টি স্থানীয় সুধীমহল ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের কাছে তুলে ধরেন। এলাকাবাসীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য সংসদ সদস্য বরাবর লিখিত আবেদন করেন। এছাড়া শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ জাতীয়বাদী দল বিএনপির নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসক, সহকারী কমিশনার ভূমিসহ বিভিন্ন মহলে খালটি মুক্ত রাখার আবেদন করেন।

এ বিষয়ে খাল দখলকারী ইসহাক আলী পাড়ের নিকট কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ খালের মাছ বিক্রির আয় থেকে কিছু অর্থ দলীয় ও একটি প্রতিষ্ঠানের নামে যায়। তাছাড়া আমি ব্যক্তিগত কোন কাজে এই অর্থ ব্যবহার করি না, আমার সৃষ্টিকর্তা অনেক কিছু দিয়েছেন। খালমুক্ত থাকলে সবার জন্য ভালো কিন্তু আইনি প্রক্রিয়ায় আটকানো রয়েছে। খালমুক্ত থাকলে আমিও সাধুবাদ জানাই। আইনের প্রক্রিয়ায় খালটি মুক্ত হলে আমি ১৫ দিন অথবা এক মাসের মধ্যে সব মাছ ধরে নিতে পারব। এই এলাকার হিন্দু মুসলিম আমার ভাই আত্মীয়। সবাই এই খালের সাথে যুক্ত উল্লেখ করে তাদের ক্ষয়ক্ষতি না করে সমন্বয় করে নেওয়ার কথা বলেন। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, কোটের নিষেধাজ্ঞা আছে। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত এলাকাবাসীর সাথে যাতে সম্পর্কের অবনতি যাতে না হয় সেই দিকে খেয়াল রাখবো বলে তিনি জানান।

খালপাড়ের বাসিন্দা ধনঞ্জয় গায়েন বলেন, এই খালটি আমাদের পানি নিষ্কাশনের একমাত্র পথ। খালটি খনন হওয়ায় এলাকার পানি নিষ্কাশনসহ কৃষকরা বোরো ধান চাষ করতে পারবেন। এই খালটি খনন করার জন্য খালের দু’পাড়ে কৃষকদের কাছে গণস্বাক্ষর করে নিয়েছে যাতে খালটি উন্মুক্ত থাকে এবং খালের পাড়ে আমাদের জমিতে মাটি রাখতে পারে। খালপাশে কৃষি জমিতে প্রায় ৫০ থেকে ৬০ বিঘা জায়গাতে মাটি ফেলা হয়েছে যেটা আমাদের কৃষকের স্বার্থ ও খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা খননের জন্য একমত হয়েছি ।

কৃষাণী ফুলমতি মিস্ত্রি বলেন, এই খালটি ইজরা বা দখল থাকলে এই খালের একফোঁটা পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না স্থানীয় কৃষকরা। আমরা শত শত কৃষক কৃষাণী এখন মাছ ধরছি কিন্তু মাছ ধরার সুযোগ তো দূরে থাক, একফোঁটা পানি ব্যবহার করার সুযোগ পাবে না।

জেলেখালির গ্রামের ইউপি সদস্য দেবাশিষ গায়েন বলেন, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ এর উদ্যোগে এই খালটি খনন করা হয়েছে। এ খালটি উন্মুক্ত রাখার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। এই খাল দখলদারদের হাতে চলে গেলে এলাকার কৃষকগণ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে।

 

আলিয়ার এক প্রশংসায় রীতিমতো তারকা বনে গেলেন, কে এই যুবক?

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:০৫ পূর্বাহ্ণ
আলিয়ার এক প্রশংসায় রীতিমতো তারকা বনে গেলেন, কে এই যুবক?

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৭ হাজার অনুসারী নিয়ে দিন কাটছিল সুক্রুত দেওর। পরিচিতি বলতে বন্ধু-স্বজন আর অল্প কিছু দর্শক। কিন্তু ভাগ্য বোধহয় অপেক্ষা করছিল একটি মঞ্চের জন্য, আর সেই মঞ্চের নাম ইন্ডিয়াজ গট ল্যাটেন্ট।

শোতে এসে এমন এক পারফরম্যান্স দিলেন সুক্রুত, যা দেখে মুগ্ধ শুধু দর্শকই নন, বলিউড তারকা আলিয়া ভাটও। আর আলিয়ার প্রশংসা যেন কাজ করল জাদুর মতো। এরপর যা ঘটল, তা অনেক নতুন শিল্পীর কাছেই স্বপ্নের মতো।

কয়েক দিনের ব্যবধানে সুক্রুতের অনুসারীর সংখ্যা ৭ হাজার থেকে লাফিয়ে পৌঁছে যায় ১ লাখ ৩৬ হাজারে। অর্থাৎ যে সংখ্যাটা একসময় কল্পনার মতো ছিল, সেটাই এখন বাস্তব।

শোটির নির্মাতা ও সঞ্চালক সমায় রায়নাও সুক্রুতকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তার মতে, এই তরুণের মধ্যে রয়েছে আলাদা এক আকর্ষণ, যা দর্শকদের চোখ এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

নেটদুনিয়াতেও এখন সুক্রুতকে নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা। কেউ বলছেন তিনি অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বড় চমক, কেউ আবার দাবি করছেন— এই মৌসুমের সবচেয়ে স্মরণীয় আবিষ্কার হতে পারেন তিনি।

বিনোদন জগতে প্রায়ই বলা হয়, একটি সুযোগ মানুষের জীবন বদলে দিতে পারে। সুক্রুত দেওর গল্পটি আপাতত সেই কথারই নতুন সংস্করণ। কয়েক দিন আগেও যিনি ছিলেন হাজারের ঘরে, তিনি এখন লাখো মানুষের নিউজফিডে। আর সবকিছুর শুরু একটি পারফরম্যান্স, কয়েকটি প্রশংসাসূচক বাক্য এবং দর্শকদের অকুণ্ঠ ভালোবাসা থেকে।

৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেলো মিসর

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬, ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
৯২ বছরের অপেক্ষার অবসান, বিশ্বকাপে প্রথম জয় পেলো মিসর

১৯৩৪ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলেছিল মিসর। চলতি বিশ্বকাপসহ অংশ নিয়েছে মোট ৪ আসরে। কিন্তু আগের তিনটি আসরেই ছিল হতাশা। জয় ছিল না একটিও। এবার মোহাম্মদ সালাহের মিসর নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে। তাতে গ্রুপ ‘জি’-এর শীর্ষে উঠে গেছে ফারাওরা।

এই জয়ে গ্রুপের শীর্ষে উঠলেও এখনই নকআউট পর্ব নিশ্চিত হয়নি মিসরের। আগামী শুক্রবার সিয়াটলে ইরানের বিপক্ষে নিজেদের শেষ গ্রুপ ম্যাচে অন্তত ড্র করলেই শেষ ৩২ নিশ্চিত হবে।

চার বছর আগে কাতার বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়া মিসর এর আগে ২০১৮ সালে রাশিয়া বিশ্বকাপে দুটি গোল করেছিলেন সালাহ। এবার ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দলের হয়ে দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি। তৃতীয়টিতে রাখেন অবদান।

জয় পেলেও ম্যাচের ১৫ মিনিটে মিসরকে বিপদে ফেলে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। কর্নার থেকে টিম পেইনের নিখুঁত ক্রসে হেডে গোল করে নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে দিয়েছিলেন ফিন সারম্যান।

শেষ পর্যন্ত মিসর খেলায় ফেরে বিরতির পর। আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে ৫৮ মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান মোস্তফা জিকো। এরপর ৬৭ মিনিটে জিকোর ব্যাকহিল পাস থেকে গোল করে মিসরকে এগিয়ে দেন সালাহ। জাতীয় দলের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় কোচ হোসাম হাসানের রেকর্ড স্পর্শ করতে এখন সালাহর প্রয়োজন আর মাত্র একটি গোল। ৮২ মিনিটে ত্রেজেগের ডাইভিং হেডারে ম্যাচের শেষ গোলটি আসে। গোল বানিয়ে দিয়েছেন সালাহ।

উল্লেখ্য, গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে বেলজিয়ামের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছিল মিসর। আর ২০১০ সালের পর এবারই প্রথম বিশ্বকাপে খেলছে নিউজিল্যান্ড। দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে তারা তিনটি ম্যাচই ড্র করেছিল। ইরানের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুইবার এগিয়ে গিয়েও ২-২ গোলে ড্র করেছে তারা।