রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩

সন্তানের হৃদয়ে সাতক্ষীরাকে প্রতিষ্ঠিত করবার প্রশ্নে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৩৭ অপরাহ্ণ
সন্তানের হৃদয়ে সাতক্ষীরাকে প্রতিষ্ঠিত করবার প্রশ্নে

আখলাকুর রহমান

মানুষের সভ্যতার ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, প্রতিটি জাতি, প্রতিটি জনপদ, এমনকি প্রতিটি ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীও তার ভবিষ্যৎ নির্মাণ করে তার সন্তানদের চেতনার ভেতর দিয়ে। কোনো ভূখন্ড তার নিজস্ব শক্তিতে অগ্রসর হয় না, অগ্রসর হয় সেই ভূখন্ডের মানুষের চেতনার অগ্রগতির মধ্য দিয়ে। আর চেতনার সেই যাত্রা শুরু হয় শৈশবেই, পরিবারের অভ্যন্তরে, মা-বাবার কণ্ঠস্বরের ভেতর দিয়ে। সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ নিয়ে যদি আমরা প্রকৃতপক্ষে চিন্তিত হই, তাহলে আমাদের প্রথম দৃষ্টি ফেরাতে হবে সেই পরিবারগুলোর দিকে, যেখানে আজ একটি শিশু প্রথমবারের মতো তার মাতৃভাষায় কথা বলতে শিখছে, প্রথমবারের মতো তার চারপাশের জগৎকে চিনতে শিখছে।

আমরা প্রায়ই ভুলে যাই যে, একটি শিশুর মস্তিষ্ক কোনো শূন্য পাত্র নয় যেখানে যা খুশি তা ঢেলে দেওয়া যায়। বরং এটি এক জীবন্ত ক্ষেত্র, যেখানে প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অভিজ্ঞতা, প্রতিটি নীরবতা পর্যন্ত বীজ হয়ে বপিত হয়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর শিক্ষাচিন্তায় বারংবার বলেছেন যে, প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগহীন শিক্ষা মানুষকে তার নিজের ভূমি থেকেই বিচ্ছিন্ন করে তোলে। এই সত্য আজও প্রাসঙ্গিক, বিশেষত সাতক্ষীরার মতো একটি অঞ্চলে, যার ভূগোল, জলবায়ু এবং জীবনযাত্রা এতটাই স্বতন্ত্র যে এখানকার শিশুর শিক্ষা যদি এই মাটির বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, তাহলে সে বেড়ে উঠবে ঠিকই, কিন্তু শিকড়হীন হয়ে।

পিতামাতার প্রথম ও প্রধান কর্তব্য এই যে, তাঁরা সন্তানের সামনে উপদেশের পাহাড় গড়ে তুলবেন না, বরং আখ্যানের মাধ্যমে তার চেতনাকে জাগ্রত করবেন। মানবজাতির ইতিহাসে জ্ঞান চিরকালই আখ্যানের মধ্য দিয়ে সঞ্চারিত হয়েছে, শাস্ত্র থেকে শুরু করে লোককথা পর্যন্ত। একটি শিশু যখন শোনে যে এই অঞ্চলের নদীতে একদিন মিষ্টি জল প্রবাহিত হতো, যখন শোনে যে তার প্রপিতামহেরা এই মাটিতে সোনার ফসল ফলাতেন, তখন সেই শোনা কথাগুলো তার চেতনায় কোনো তথ্য হিসেবে জমা হয় না, জমা হয় এক গভীর আত্মপরিচয়ের অংশ হিসেবে। এই আত্মপরিচয়ই ভবিষ্যতে তাকে তার ভূমির প্রতি দায়বদ্ধ করে তুলবে, কোনো আরোপিত নির্দেশ নয়।

দ্বিতীয়ত, একটি শিশুর কৌতূহলকে হত্যা করা সমতুল্য তার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে হত্যা করার। আমাদের সমাজে বহু অভিভাবক শিশুর অবিরাম প্রশ্নের মুখে বিরক্ত হয়ে ওঠেন, এবং সেই বিরক্তি প্রকাশ করেন এমন সব বাক্যে যা আসলে একটি ক্ষুদ্র মনের অনুসন্ধিৎসাকে চিরতরে স্তব্ধ করে দিতে পারে। অথচ প্রকৃত শিক্ষা শুরু হয় ঠিক সেই মুহূর্তে, যখন একটি শিশু জিজ্ঞাসা করে কেন সুন্দরবনের বাঘের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, কেন তাদের নলকূপের জল লবণাক্ত, কেন প্রতিবছর নদীর পাড় ভেঙে মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। এই প্রশ্নগুলোর সৎ ও গভীর উত্তর দেওয়াই পিতামাতার প্রকৃত দায়িত্ব, এমনকি সেই উত্তর যদি জটিল হয়, এমনকি সেই উত্তর যদি একটি অস্বস্তিকর বাস্তবতাকে উন্মোচিত করে দেয়। কারণ সত্যকে এড়িয়ে গিয়ে কখনো কোনো সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলা যায়নি, যায় না।

তৃতীয় বিবেচনার বিষয় হলো প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার গুরুত্ব। কথায় বলে, শোনা কথার চেয়ে দেখা বস্তু অধিক বিশ্বাসযোগ্য, এবং শিশুমনের ক্ষেত্রে এই প্রবচন আক্ষরিক অর্থেই সত্য। একটি শিশুকে যদি কেবল মৌখিকভাবে বলা হয় যে সুন্দরবন আমাদের গর্বের বিষয়, সে কথাটি তার স্মৃতিতে থাকবে বটে, কিন্তু তার অস্তিত্বের গভীরে প্রবেশ করবে না। কিন্তু যদি তাকে একবার নিয়ে যাওয়া হয় নদীর তীরে, যদি তাকে দেখানো হয় মৎস্যচাষের ঘের, যদি তাকে বসিয়ে শোনানো হয় কোনো প্রবীণ মানুষের মুখে আইলা কিংবা সিডরের রাতের বিভীষিকাময় স্মৃতি, তাহলে সেই অভিজ্ঞতা তার সমগ্র সত্তায় প্রোথিত হয়ে যাবে। এই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতাই ভবিষ্যতে তাকে প্রকৃত অর্থে দায়বদ্ধ নাগরিকে রূপান্তরিত করবে।

চতুর্থত, আমাদের সমাজে একটি বহুল প্রচলিত এবং সুগভীর ভ্রান্তি বিদ্যমান, যা হলো এই ধারণা যে শিশুর সামনে কেবল সৌন্দর্যের চিত্র তুলে ধরাই কল্যাণকর, দুঃখ ও সংকটের কথা তার থেকে গোপন রাখাই শ্রেয়। এই ধারণা বস্তুত এক প্রকার আত্মপ্রতারণা। লবণাক্ততার অভিশাপ, নদীভাঙনের নিষ্ঠুরতা, প্রান্তিক কৃষকের নিরন্তর সংগ্রাম, সুন্দরবনের উপর নেমে আসা পরিবেশগত হুমকি, এই সমস্ত বাস্তবতা শিশুর বয়স অনুযায়ী সহজ ভাষায় হলেও তার সামনে উন্মোচিত করা আবশ্যক। কেননা যে শিশু সংকটের স্বরূপ জানে না, সে কখনো সমাধানের স্বপ্নও দেখতে শিখবে না। আর যে শিশু জানে তার জন্মভূমির ক্ষতস্থান কোথায়, সে বড় হয়ে সেই ক্ষত নিরাময়ের ব্রত নিয়েই পরিণত বয়সে পদার্পণ করবে।

পঞ্চম বিবেচ্য বিষয় হলো, শিশুর মুখ থেকে উচ্চারিত ক্ষুদ্র প্রতিজ্ঞাগুলোকে যথাযথ মর্যাদা প্রদান করা। একটি শিশু যখন ঘোষণা করে যে সে বৃহৎ হয়ে চিকিৎসক হয়ে ফিরে আসবে তার নিজের গ্রামে, অথবা সে সুন্দরবনকে রক্ষা করবে বিলুপ্তির হাত থেকে, তখন এই উচ্চারণকে কোনোক্রমেই লঘু কৌতুক মনে করে উড়িয়ে দেওয়া চলবে না। ইতিহাস সাক্ষী যে, বৃহৎ পরিবর্তনের সূচনা প্রায় সর্বদাই ঘটেছে এইরূপ ক্ষুদ্র, অপরিণত, কিন্তু আন্তরিক প্রতিজ্ঞার মধ্য দিয়ে। পিতামাতার একটি স্বীকৃতিসূচক হাসি, একটি উৎসাহব্যঞ্জক মন্তব্য, শিশুর অন্তরে সেই স্বপ্নের ভিত্তিকে দৃঢ় করে তোলে।

ষষ্ঠত, আমাদের স্মরণ রাখা আবশ্যক যে শিশু কখনোই পিতামাতার বাক্য দ্বারা গঠিত হয় না, গঠিত হয় পিতামাতার আচরণ দ্বারা। যদি আমরা মুখে সাতক্ষীরার প্রতি ভালোবাসার কথা প্রচার করি, অথচ নিজেরা রাস্তায় আবর্জনা নিক্ষেপ করি, জলের অপচয় করি, স্থানীয় সংকটের প্রতি ঔদাসীন্য প্রদর্শন করি, তাহলে সন্তান আমাদের বাক্যকে অগ্রাহ্য করে আমাদের আচরণকেই অনুকরণ করবে। কারণ শিশুর অনুকরণপ্রবণতা তার সহজাত প্রকৃতি, এবং এই সহজাত প্রকৃতির বিরুদ্ধে কোনো উপদেশ কার্যকর হতে পারে না।

সপ্তম ও অন্তিম বিবেচনা হলো, শিশুর স্বপ্নের ওপর কোনো পূর্বনির্ধারিত পথ আরোপ না করা। তাকে বলা চলবে না যে তাকে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট পেশা গ্রহণ করতে হবে, অথবা একটি নির্দিষ্ট সংকটেরই সমাধান করতে হবে। বরং তার সম্মুখে উন্মোচিত করে দিতে হবে বহুবিধ সম্ভাবনার দ্বার, কৃষি, চিকিৎসাবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, শিক্ষকতা কিংবা প্রকৌশলবিদ্যা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাতক্ষীরার নিজস্ব প্রয়োজন বিদ্যমান, নিজস্ব সংকট বিদ্যমান। তাকে এই সম্ভাবনাগুলি অবগত করানোর পর তাকেই বেছে নিতে দিতে হবে তার নিজস্ব পথ। কারণ বলপূর্বক আরোপিত স্বপ্ন কখনো দীর্ঘস্থায়ী হয় না, কিন্তু স্বেচ্ছায় নির্বাচিত স্বপ্নই মানুষকে সমগ্র জীবন ধরে সম্মুখে পরিচালিত করে।

আহমদ ছফা তাঁর রচনায় বারংবার এই সত্য উচ্চারণ করেছেন যে, একটি জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্য ঘোচে না কেবল প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে, ঘোচে তখনই, যখন প্রতিটি পরিবার তার সন্তানের অন্তরে প্রশ্ন করবার সাহস, সত্যকে গ্রহণ করবার ক্ষমতা এবং স্বপ্ন দেখবার স্পর্ধা জাগিয়ে তুলতে সক্ষম হয়। সাতক্ষীরার প্রেক্ষাপটেও এই সত্য সমান প্রযোজ্য। এই জনপদের ভবিষ্যৎ কোনো বৃহৎ প্রশাসনিক পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে নির্ধারিত হবে না, নির্ধারিত হবে সেই অগণিত পরিবারের মধ্য দিয়ে, যেখানে আজ একটি শিশু প্রথমবারের মতো তার শহরের নাম উচ্চারণ করতে শিখছে।

একটি জনপদ কখনো নিজের শক্তিতে পরিবর্তিত হয় না। পরিবর্তিত হয় তার সন্তানদের চেতনার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে। আর সেই চেতনার প্রথম স্ফুলিঙ্গ প্রজ্বলিত হয় কোনো বৃহৎ মঞ্চে নয়, প্রজ্বলিত হয় একটি ক্ষুদ্র গৃহে, সান্ধ্যকালীন কোমল আলোকে, একজন জননীর কণ্ঠস্বরে, একজন পিতার ধৈর্যশীল উত্তরে। অতএব, আজ, এই মুহূর্ত থেকেই আমাদের অঙ্গীকার করা আবশ্যক যে, আমরা আমাদের সন্তানকে কেবল সাতক্ষীরা নামটি শিখাব না, তাকে শিখাব এই মাটিকে ভালোবাসতে, তার ক্ষতকে অনুভব করতে, এবং তার ভবিষ্যৎকে স্বপ্ন দেখতে। কেননা আজকের এই ক্ষুদ্র শিশুরাই, নিঃসন্দেহে, আগামী দিনের সাতক্ষীরা।

লেখক: উদ্যোক্তা

Ads small one

সম্পাদকীয়/বিষ ঢেলে জলজ ধ্বংসযজ্ঞ: সুন্দরবন রক্ষায় প্রয়োজন মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৫ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/বিষ ঢেলে জলজ ধ্বংসযজ্ঞ: সুন্দরবন রক্ষায় প্রয়োজন মূল হোতাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি

বিশ্ব ঐতিহ্য ও প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যূহ সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ প্রয়োগ করে মাছ শিকারের অসাধু তৎপরতা চরম রূপ ধারণ করেছে। বন বিভাগের নিয়মিত ও জোরালো টহল অভিযান, অবৈধ সরঞ্জাম জব্দ এবং অপরাধীদের আটকের খবর প্রকাশিত হলেও থামানো যাচ্ছে না এই জলজ ধ্বংসযজ্ঞ। একশ্রেণীর সংঘবদ্ধ অসাধু চক্র নিজস্ব ক্ষুদ্র স্বার্থে গোপনে খাল-নদীতে বিষ ঢেলে বিষাক্ত পন্থায় মাছ আহরণ চালিয়ে যাচ্ছে। অভিযানের মুখেও এই অপতৎপরতার পুনরাবৃত্তি প্রমাণ করে যে, বিদ্যমান পদক্ষেপগুলো অপরাধীদের মনে ভয় ঢোকাতে কিংবা এই চক্রের শিকড় উপড়ে ফেলতে সক্ষম হচ্ছে না।
বিষ দিয়ে মাছ শিকারের এই ভয়াবহ প্রবণতা কেবল মৎস্য সম্পদের ক্ষতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সুন্দরবনের পুরো জলজ বাস্তবতন্ত্রকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জলে বিষ ছড়ানোর ফলে মাছের পাশাপাশি কাঁকড়া, ছোট চিংড়ি, প্লাংকটন এবং অন্যান্য বিরল জলজ প্রাণী তাৎক্ষণিকভাবে মারা যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জলজ উদ্ভিদের খাদ্যশৃঙ্খল। এই অবক্ষয় দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের অনন্য জীববৈচিত্র্যের ওপর অপূরণীয় বিপর্যয় ডেকে আনবে। যে সুন্দরবন উপকূলীয় কোটি মানুষের প্রাকৃতিক ঢাল হিসেবে কাজ করে, সেই বনের মূল ভিত্তি এভাবে বিষাক্ত করে তোলা জাতীয় নিরাপত্তার জন্যও এক বড় হুমকি।
বন বিভাগের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে শুরু করে অন্যান্য অঞ্চলের বনকর্মীরা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছেন এবং আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছেন—যা প্রশংসনীয়। কিন্তু শুধু প্রান্তিক জেলে কিংবা বিষ প্রয়োগে জড়িত মাঠপর্যায়ের ব্যক্তিদের আটক ও সরঞ্জাম জব্দ করাই এই সমস্যা সমাধানের শেষ কথা হতে পারে না। এই অসাধু বাণিজ্যের পেছনে রয়েছে প্রভাবশালী কিছু চক্র বা ‘মূল হোতা’, যারা নেপথ্যে থেকে বিষ সরবরাহ করে এবং বিষাক্ত মাছের বাজার নিয়ন্ত্রণ করে। এই মূল চক্রটিকে চিহ্নিত করে কঠোর আইনের আওতায় না আনলে কেবল সাময়িক অভিযানে অপরাধ দমন সম্ভব হবে না।
সুন্দরবনের পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় বন বিভাগকে এখন কৌশলী ও কঠোর ভূমিকা গ্রহণ করতে হবে। প্রথমত, অপরাধীদের ধরতে কেবল প্রথাগত টহলের ওপর নির্ভর না করে জলপথে আধুনিক প্রযুক্তিগত নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, বিষ প্রয়োগের নেপথ্য নায়কদের চিহ্নিত করে তাঁদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তা অন্যদের জন্য চরম বার্তা হিসেবে কাজ করে। তৃতীয়ত, বনজ সম্পদের সুরক্ষায় স্থানীয় উপকূলীয় সম্প্রদায়কে সম্পৃক্ত করা সবচেয়ে জরুরি। স্থানীয় পরিবেশ সচেতন মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি তাঁদের বিকল্প জীবিকায় সহায়তা ও তথ্যসংগ্রহের অংশীদার করতে পারলে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ অনেক সহজ হবে।
সুন্দরবন কেবল একটি বন নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। কোনো অসাধু চক্রের লোভের বলিকাঁঠা হিসেবে এর জীববৈচিত্র্যকে ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না। সুন্দরবন ও এর অনবদ্য বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় শূন্য-সহনশীলতা নীতি প্রয়োগের মাধ্যমে বিষচক্রকে স্থায়ীভাবে নির্মূল করতে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়াই সময়ের দাবি।

আশাশুনিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আন্তঃসংযোজক ব্যবস্থা চালু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:০৩ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের আন্তঃসংযোজক ব্যবস্থা চালু

আশাশুনি প্রতিনিধি: সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটের সঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটের সমন্বিত আন্তঃসংযোগ ও মনিটরিং সিস্টেম চালু করা হয়েছে। শিক্ষা মনিটরিং খাত আধুনিকীকরণে এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে প্রথমবারের মতো কোনো উপজেলা এই নেটওয়ার্কের আওতায় এল।
রোববার আশাশুনি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় নতুন এই ব্যবস্থাপনার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম। আয়োজনের সার্বিক সঞ্চালনায় ছিলেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) শিক্ষক আসিফ ইকবাল।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের বাস্তবায়নে ও ‘মমতাজ ট্রেডিং (প্রা:) লিমিটেড’ যশোরের সহযোগিতায় কাজটি সম্পন্ন হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলার ৪৭টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৪টি কলেজের মোট ৫১ জন আইসিটি শিক্ষককে নিয়ে নতুন এই আন্তঃসংযোগ ও ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
সহযোগী প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ মুরাদুজ্জামান জানান, উপজেলা শিক্ষা অফিসের মূল ওয়েবসাইট থেকে (ধংংধংঁহর.ঁংবড়.মড়া.নফ) সরাসরি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যাবে। প্রাতিষ্ঠানিক নজরদারি জোরদারে ইতিমধ্যে আইপিসিসি ক্যামেরা স্থাপন ও সচল ওয়েবসাইটসংক্রান্ত গুগল ফরম সাবমিট প্রক্রিয়াও সফলভাবে শেষ হয়েছে।

বড়বাড়ি ও কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন কমিটির সভাপতি কাজল

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ণ
বড়বাড়ি ও কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নতুন কমিটির সভাপতি কাজল

 

কয়রা (খুলনা) প্রতিনিধি: খুলনার কয়রা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বড়বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে। দুটি বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন উপজেলা যুবদলের সদস্য ও উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক আবুল কালাম আজাদ কাজল। যশোর শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক মুহা. এনামুল কবির স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) বড়বাড়ি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এবং রবিবার (২ আগস্ট) কপোতাক্ষ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটির অনুমোদন প্রদান করা হয়েছে।
একসঙ্গে উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অ্যাডহক কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে আবুল কালাম আজাদ কাজলকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন, নতুন কমিটির নেতৃত্বে বিদ্যালয় দুটির শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং সার্বিক উন্নয়ন আরও গতিশীল হবে।