মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

সম্পাদকীয়/চাল ও ডিমের বাজার: নি¤œআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/চাল ও ডিমের বাজার: নি¤œআয়ের মানুষের বেঁচে থাকার লড়াই

নিত্যপণ্যের লাগাতার ঊর্ধ্বগতিতে দেশের সাধারণ ও নি¤œআয়ের মানুষের জীবনযাত্রা ক্রমেই অসহনীয় হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে চাল, ডাল, তেল, সবজির পাশাপাশি ডিম ও মাংসের মতো আমিজাতীয় খাদ্যের দাম যেভাবে নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে, তাতে সাধারণ মানুষের সংসার চালানো এক কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একদিকে কর্মসংস্থানের সংকোচন এবং আয়ের স্থবিরতা, অন্যদিকে লাগামহীন ব্যয়Ñএই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট হয়ে অসংখ্য মানুষ ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। সামান্য সঞ্চয়ের সুযোগ তো দূরের কথা, দৈনিক প্রয়োজন মেটাতেই এখন হিমশিম খাচ্ছে বেশিরভাগ পরিবার।
সাম্প্রতিক বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের ব্যবধানে চাল ও পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেড়েছে। মিনিকেট ও নাজিরশাইলের মতো সরু ও মাঝারি চালের দাম কেজিতে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। একইভাবে প্রতি ডজন ডিমের দাম বেড়ে পৌঁছেছে দেড়শ টাকার ওপরে। ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি তেলের মূল্য এবং ধানের চড়া দামের কথা বলা হলেও, পাইকারি ও খুচরা বাজারের এই ফারাক ও অতিরিক্ত মূল্যবৃদ্ধির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত বিপণন প্রক্রিয়ায় তদারকি ও জবাবদিহির অভাব না থাকলে পণ্যের এই কৃত্রিম বা অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধি রোধ করা সম্ভব নয়।

বাজার ব্যবস্থাপনার এই অস্থিরতা জনজীবনে গভীর সংকট তৈরি করেছে। শুধু অজুহাত দিয়ে পণ্যের দাম বাড়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হলে বাজার মনিটরিং আরও কঠোর করতে হবে। সরবরাহ চেইনে কোনো সিন্ডিকেট বা অনিয়ম কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। অন্যথায় নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও বেশি বিপন্ন করে তুলবে, যা কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।

Ads small one

তালায় দুর্গোৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় সজাগ প্রশাসন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
তালায় দুর্গোৎসবের আমেজ, নিরাপত্তায় সজাগ প্রশাসন

তালা প্রতিনিধি: শারদীয় দুর্গোৎসবকে ঘিরে তালা উপজেলাজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। প্রতিমায় রংতুলির শেষ আঁচড়, ম-পে সাজসজ্জা ও আলোকসজ্জার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন আয়োজক ও প্রতিমাশিল্পীরা। উপজেলায় এবার ১২টি ইউনিয়নে মোট ২০২টি পূজাম-পে দুর্গোৎসব উদ্যাপনের প্রস্তুতি চলছে।

উপজেলা পূজা উদ্যাপন ফ্রন্ট সূত্রে জানা গেছে, পাটকেলঘাটা থানার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নে ৮৭টি এবং তালা থানার আওতাধীন সাতটি ইউনিয়নে ১১৫টি পূজাম-প রয়েছে। উৎসব নির্বিঘœ ও শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রতিটি ম-পে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশি টহল এবং আনসার ও গ্রাম পুলিশ মোতায়েনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমাশিল্পী বিশ্বজিৎ কুমার ম-ল ও পুরোহিত তপন হালদার জানান, ম-পগুলোতে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষের পথে। তালা থানার এসআই (ওসির চার্জ) মহাসীন আলী, পাটকেলঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তোফাজ্জেল হোসেন এবং তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল আফরোজ স্বর্ণা জানান, পূজা চলাকালে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুরোপুরি সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একব্যক্তির মৃত্যু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে একব্যক্তির মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বল্লী ইউনিয়নের নারায়নপুর গ্রামে বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নুরুজ্জামান গাজী (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই গ্রামের মৃত শামছুদ্দিন গাজীর (নূরী) ছেলে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর দেবনগর গ্রামের রফিকুল মোল্লার বৈদ্যুতিক ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে ট্রান্সফর্মারের ঢাকনা খোলার পর ভিতরকার জিনিসপত্র মাথায় পড়ে ও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারাত্মক জখম হন নুরুজ্জামান। পরে চোর চক্রটি একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাঁকে বাড়িতে নিয়ে আসে। সোমবার বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। চুরির ওই ঘটনায় রফিকুল মোল্লা থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসী জানান, ঘটনার রাতে নুরুজ্জামানসহ অন্যরা ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়ে হাইভোল্টেজ তারের সংস্পর্শে আসেন। পুলিশের ঝামেলার ভয়ে তাঁকে কোনো সরকারি হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতে রেখে গোপনে চিকিৎসার চেষ্টা করা হয়। পরে সোমবার সন্ধ্যায় তাঁর মৃত্যুর খবর জানাজানি হলে পুলিশ ও গোয়েন্দা বিভাগের পক্ষ থেকে তদন্ত শুরু হয়।

পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ঝাউডাঙা অফিসের এজিএম মোছা. মারিয়া ছিদ্দিকা জুঁই জানান, উত্তর দেবনগরের রফিকুল মোল্লার ট্রান্সফর্মার চুরির ঘটনায় একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে। নুরুজ্জামান ওই ট্রান্সফর্মার চুরি করতে গিয়েই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

 

গুড় পুকুর মেলার সময় বাড়ানোর দাবী ব্যবসায়ীদের

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ১৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ
গুড় পুকুর মেলার সময় বাড়ানোর দাবী ব্যবসায়ীদের

0-0x0-0-0#

মিলন বিশ্বাস: সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা আরও ১০ দিন বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন দূরদূরান্ত থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। তাঁদের মতে, মেলায় দোকান বসাতে পরিবহন, পণ্য আনা, দোকান পরিচালনা ও কর্মচারীদের পেছনে উল্লেখযোগ্য খরচ হয়। কিন্তু মাত্র ২০ দিনের আয়োজনে অনেকেরই সেই খরচ পুষিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। তাই মেলার মেয়াদ ৩০ দিন করা হলে বেচাকেনার সুযোগ বাড়বে এবং লোকসানের আশঙ্কা কমবে বলে আশা তাঁদের।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) মেলার ১৩তম দিনে শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে কয়েকজন ব্যবসায়ীর সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তাঁদের কেউ মাদারীপুর, কেউ কুমিল্লা-চাঁদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মেলায় এসেছেন। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বেচাকেনা মোটামুটি হলেও মেলার সময়সীমা কম হওয়ায় প্রত্যাশা অনুযায়ী আয় করা কঠিন হচ্ছে।
মাদারীপুর থেকে আসা ‘মায়ের দোয়া এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক বোরহান বলেন, এ বছরই প্রথম গুড়পুকুর মেলায় দোকান নিয়ে এসেছেন তিনি। বেচাকেনা মোটামুটি হচ্ছে। তবে সামনে শারদীয় দুর্গাপূজা থাকায় মেলার সময় আরও কিছুদিন বাড়ানো হলে তাঁদের সুবিধা হবে। কারণ, মেলায় আসা ও দোকান পরিচালনায় ইতোমধ্যে অনেক খরচ হয়েছে।

কুমিল্লা-চাঁদপুর এলাকা থেকে আসা প্রসাধনী ব্যবসায়ী মোস্তফা বলেন, “অনেক দূর থেকে এসেছি। মেলাটা দীর্ঘ সময় ধরে চললে আমারা ব্যবসায়ীরা উপকৃত হব। সব খরচ তো আর বেচাকেনা দিয়ে পোষাণো যায় না।”

মাদারীপুর থেকে আসা ‘সাজ কর্নার’-এর মালিক সবুজ হাওলাদার বলেন, মেলার মাঝামাঝি স্থানে দোকান পাওয়ায় তাঁর বেচাকেনা কিছুটা কম। সাধারণত যেসব জায়গায় মেলার আয়োজন করা হয়, সেখানে প্রায় এক মাস ধরে মেলা চলে বলে তাঁর অভিজ্ঞতা। কিন্তু সাতক্ষীরার গুড়পুকুর মেলা হচ্ছে ২০ দিনের জন্য। আরও ১০ দিন সময় বাড়ানো হলে ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো হতো বলে মনে করেন তিনি।
ব্যবসায়ীরা জানান, মেলার আয়োজনের জন্য দূরদূরান্ত থেকে পণ্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম নিয়ে আসতে হয়। পাশাপাশি দোকানভাড়া, যাতায়াত, থাকা-খাওয়া ও কর্মচারীদের খরচ রয়েছে। অল্প সময়ের মধ্যে এসব ব্যয় তুলে লাভের মুখ দেখা অনেকের জন্য কঠিন। মেয়াদ বাড়লে ক্রেতা সমাগম ও বেচাকেনার সুযোগও বাড়তে পারে বলে তাঁদের প্রত্যাশা।

মেলা কমিটির সদস্য হাসান শিকদার বলেন, “মেলা পরিচালনায় সবাই আমাদের সহযোগিতা করছেন। প্রশাসনও খুব সুন্দরভাবে নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করেছে। মেলার সময় আরও ১০ দিন বাড়ানো হলে দূরদূরান্ত থেকে আসা দোকানিরা উপকৃত হবেন।”
তিনি আরও বলেন, “মেলায় বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়ী এসেছেন। কারও বেচাকেনা ভালো হচ্ছে, আবার কারও প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না। তাই সবার বক্তব্য এক নয়। তবে মেয়াদ বাড়ানো হলে সামগ্রিকভাবে ব্যবসায়ীরা লাভবান হবেন।”

হাসান শিকদার জানান, মেলা শান্তিপূর্ণভাবে চলছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হয়নি। পুলিশের সদস্যরা সুন্দরভাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আগামী দিনগুলোতে প্রশাসন নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করবে বলেও আশা করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের একটি অংশের প্রত্যাশা, মেলা কমিটি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাঁদের দাবি বিবেচনা করে নির্ধারিত ২০ দিনের বাইরে আরও ১০ দিন মেলার আয়োজনের সুযোগ দেবে। তবে মেলার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।

জেলা প্রশাসন ও সাতক্ষীরা পৌরসভার আয়োজনে গত ১ অক্টোবর শহরের শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে শুরু হয়েছে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুর মেলা। দুই বছর বিরতির পর শুরু হওয়া এ মেলা নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আগামী ২০ অক্টোবর পর্যন্ত চলার কথা রয়েছে।