সম্পাদকীয়/ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতা: কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা ও সুরক্ষা নিশ্চিতের তাগিদ
শিক্ষাই জাতির মেরুদ-, আর প্রাথমিক বিদ্যালয় হলো সেই শিক্ষার মূল ভিত্তি। অথচ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার যুগিখালি ইউনিয়নের ৯৪নম্বর মানিকনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় ধরে এক অবর্ণনীয় ও স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে দিনাতিপাত করছে। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ ও চারপাশ পচা, দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে নিমজ্জিত থাকায় প্রতিদিন পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে, বিঘিœত হচ্ছে কোমলমতি শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশ।
একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুরা যেখানে আনন্দঘন পরিবেশে লেখাপড়া ও খেলাধুলা করবে, সেখানে মানিকনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চিত্র সম্পূর্ণ বিপরীত। কাদা-পানিতে পিছলে পড়ে শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় ও বই-খাতা নষ্ট হওয়া নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। আরও আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, শৌচাগারে যাওয়ার পথ পানিতে তলিয়ে থাকায় শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যগত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সাঁতসেঁতে পরিবেশ ও জমা পানিতে মশা-মাছির অনাকাক্সিক্ষত বিস্তারের ফলে সেখানে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশিতে আক্রান্ত হয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।
পরিবেশ বিশেষজ্ঞদের অভিমত অনুযায়ী, এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা কেবল শিক্ষার পরিবেশ ধ্বংস করছে না, বরং সমগ্র এলাকার পরিবেশগত ভারসাম্যেও নীতিবাচক প্রভাব ফেলছে। দুঃখজনক হলেও সত্য, স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ বা দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বিষয়টি জেনেও এতদিন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিদ্যালয় মাঠ ভরাটের বিষয়টি প্রকল্প তালিকায় অন্তর্ভূক্ত রয়েছে এবং বরাদ্দ পেলেই কাজ শুরু হবে। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা ও বরাদ্দের অপেক্ষায় বসে থাকার মতো সময় এখন আর নেই। শিশুদের দৈনন্দিন সুরক্ষার প্রশ্নটি এখানে মুখ্য। শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের মতো মৌলিক চাহিদা কোনো অজুহাতে আটকে থাকতে পারে না।
আমরা মনে করি, মানিকনগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে আর বিলম্ব করার সুযোগ নেই। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে বা বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে মাটি ভরাট এবং টেকসই পানি নিষ্কাশন (ড্রেনেজ) ব্যবস্থা গড়ে তোলা উচিত। কোমলমতি শিশুদের বিদ্যালয়মুখী রাখতে এবং তাদের সুস্থ-নিরাপদ শৈশব ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে দ্রুত ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের চরম দাবি।









