সম্পাদকীয়/ সাতক্ষীরার প্রাথমিক বিদ্যালয়: ঝুঁকিতে কোমলমতি শিশুদের ভবিষ্যৎ
সরকার যখন দেশকে স্মার্ট ও মানসম্মত শিক্ষায় এগিয়ে নিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে, তখন সাতক্ষীরা জেলার প্রাথমিক শিক্ষার চিত্র আমাদের গভীর উৎকণ্ঠায় ফেলে দেয়। রবিবার দৈনিক পত্রদূতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক আতঙ্কজনক তথ্য—জেলার ১ হাজার ৯৫টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে প্রায় ২৫০টি ভবনই আজ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এসব জরাজীর্ণ প্রতিষ্ঠানে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে প্রায় ৩৬ হাজার কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং পাঠদান চালিয়ে যাচ্ছেন দেড় হাজার শিক্ষক-কর্মচারী। এই অবস্হা কেবল শিক্ষাকার্যক্রমের অন্তরায় নয়, বরং এক ভয়াবহ দুর্ঘটনার পূর্বাভাস।
খসে পড়া পলেস্তারা, মরিচাপড়া টিন, নড়বড়ে দেওয়াল আর বর্ষার জলাবদ্ধতায় সাতক্ষীরার কুলতিয়া, কুলপোতা কিংবা দক্ষিণ ঘোষপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বর্তমান অবস্হা চরম মানবেতর। কুলপোতা স্কুলের মতো বহু প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত বেঞ্চের অভাবে প্লাস্টিকের টুলে বসে বা রোদ-বৃষ্টিতে গাছের তলায় ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে শিক্ষার্থীরা। অথচ এসব প্রতিকূলতার মধ্যেও এসব প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত ভালো ফলাফল ও বৃত্তি আসছে। কিন্তু জীবনহানির শঙ্কায় অভিভাবকদের নিরুৎসাহের কারণে ধীরে ধীরে কমছে শিক্ষার্থীর সংখ্যা। একটি জাতির ভিত্তি যেখানে প্রাথমিক শিক্ষা, সেখানে সেই ভিত্তিমূল যদি এমন আতঙ্কের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যালয়গুলোর তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে নতুন ভবন নির্মিত হতে পারে। তবে প্রশ্ন হলো—এই দীর্ঘ সময়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে তার দায় কে নেবে? সামান্য মেরামত বা সংস্কারকাজ দিয়ে এই বিশাল ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব নয়।
আমরা মনে করি, শিশুদের জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে। তাই লাল ফিতার দৌরাত্ম্য বা দীর্ঘসূত্রিতা কাটিয়ে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ বরাদ্দ বা তহবিলের মাধ্যমে সাতক্ষীরার ২৫০টি ঝুঁকিপূর্ণ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুত শুরু করা আবশ্যক। একই সঙ্গে বিদ্যালয়গুলোর জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পর্যাপ্ত আসবাবপত্র নিশ্চিত করতে হবে। আগামী দিনের ভবিষ্যৎ এই শিশুদের নিরাপদ ও উপযুক্ত শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ উপহার দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের এই দীর্ঘদিনের শঙ্কা দূর করা সম্ভব।









