মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩

সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কলারোয়ায় রাস্তার ওপর পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬, ১:০১ পূর্বাহ্ণ
সরকারি নির্দেশ উপেক্ষা করে কলারোয়ায় রাস্তার ওপর পাকা ঘর নির্মাণের অভিযোগ

সংবাদদাতা: কলারোয়া উপজেলার জয়নগর ইউনিয়নের ধানদিয়া এলাকায় সরকারি রাস্তার জমি দখল করে অবৈধভাবে পাকা ঘর নির্মাণ করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন ভূমি অফিস থেকে কাজ বন্ধ রাখার এবং নির্মিত অবকাঠামো অপসারণের চূড়ান্ত নোটিশ দেওয়া হলেও তা তোয়াক্কা না করে নির্মাণকাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয় বাসিন্দা ইউনুছ আলীর পরামর্শে অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম তিনজন নির্মাণশ্রমিক নিয়ে কাজ করাচ্ছেন। কাজের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা দাবি করেন, আদালত তাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। তবে রায়ের কোনো অনুলিপি তারা দেখাতে পারেননি।
ভূমি অফিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ধানদিয়া এলাকার শেখ খোরশেদ আলী তাঁর নিজস্ব জমি সংলগ্ন সরকারি রাস্তার জায়গা দখল ও পাকা ঘর নির্মাণের বিরুদ্ধে ভূমি অফিসে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে জয়নগর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা প্রদীপ কুমার গাইন অভিযুক্ত জহুরুল ইসলাম ও ইউনুছ আলীকে কাজ বন্ধ করার জরুরি নোটিশ দেন। নোটিশে নিজ খরচে অবকাঠামো অপসারণের নির্দেশ থাকলেও বিবাদী পক্ষ তা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
তফসিল অনুযায়ী, বিতর্কিত সম্পত্তিটি ধানদিয়া মৌজার ১ নম্বর খতিয়ানের আরএস ১৬১২ নম্বর দাগের ০.০৫ একর সরকারি রাস্তার জমি।
ভূমি অফিসের নোটিশ ছাড়াও এই জায়গা নিয়ে আদালতে ১৮৮ ধারার একটি মামলা (নং- পি ৪৫৩/২৬) চলমান রয়েছে। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশে কলারোয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে এবং আগামী ২৩ জুন পর্যন্ত কাজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গত দুদিন ধরে কাজ চলছে। বিষয়টি কলারোয়া থানার ওসিকে জানানো হলে তিনি বলেন, “আমি তো থানা থেকে পুলিশ পাঠিয়েছি। আর কতবার পাঠাবো?” এ বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কলারোয়া থানার ওসির মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
অভিযুক্ত ইউনুছ আলী বলেন, “ম্যাপ করার সময় ভুলবশত রাস্তা আমাদের জমির মধ্যে ঢুকে গেছে।” সরকারি এই রাস্তাটি ১৪ ফুট চওড়া থাকার কথা স্বীকার করলেও তাঁর নির্মাণাধীন ঘরের কারণে রাস্তার পরিমাপ ঠিক থাকছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রওশন আলী গাজী বলেন, “সরকারি রাস্তার ওপর ঘর তৈরি করতে আমি নিজে ইউনুছ ও জহুরুলকে অনেকবার নিষেধ করেছি। তারা আইন মানে না। নিজেদের ইচ্ছামতো যা ইচ্ছা তাই করে। লোকবল আছে বলে তারা কোনো নিয়ম মানতে চায় না। এ রাস্তা নিয়ে অনেকবার সালিস হলেও তারা তা মানেনি।”
সার্বিক বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কলারোয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফুল ইসলামের মুঠোফোনে গত দুদিনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

Ads small one

কয়রায় সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, সাংবাদিকদের নিন্দা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ
কয়রায় সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, সাংবাদিকদের নিন্দা

কপিলমুনি (খুলনা) প্রতিনিধি: সংবাদ প্রকাশের জেরে দৈনিক পত্রদূতের কয়রা প্রতিনিধি জি এম রিয়াজুল আকবরকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মো. হাফিজুর রহমান মন্টু ও মো. লতিফুর রহমান লাল্টু নামের দুই ব্যক্তি এই হুমকি দেন বলে জানা গেছে।
সাংবাদিককে দেওয়া এই হুমকির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কপিলমুনি সিটি প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকেরা। তাঁরা অবিলম্বে হুমকিদাতাদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।
এক যৌথ বিবৃতিতে কপিলমুনি সিটি প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম আজাদ হোসেন, কার্যকরী সহ-সভাপতি মো. রফিকুল ইসলাম খান, সহ-সভাপতি জি এম এমদাদ, সাধারণ সম্পাদক পলাশ কর্মকার, সহ-সাধারণ সম্পাদক এস কে আলীম, কোষাধ্যক্ষ জগদীশ দে, সাংগঠনিক সম্পাদক পলাশ মজুমদারসহ অন্য সদস্যরা এ ঘটনার প্রতিবাদ জানান। পৃথক বিবৃতিতে অন্যান্য স্থানীয় সাংবাদিক সংগঠনের নেতারাও দোষীদের দ্রুত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় যুবনীতি হালনাগাদে খুলনায় তরুণদের মতামত গ্রহণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৮ পূর্বাহ্ণ
জাতীয় যুবনীতি হালনাগাদে খুলনায় তরুণদের মতামত গ্রহণ

সংবাদদাতা: জাতীয় যুবনীতি ২০১৭ হালনাগাদ করে সময়োপযোগী, আধুনিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নতুন নীতি প্রণয়নের লক্ষ্যে তরুণদের সরাসরি মতামত নেওয়া হচ্ছে। এই উদ্দেশ্যে খুলনায় অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পরামর্শ কর্মশালায় সরকারি কর্মকর্তা, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা এবং উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার যুব প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) খুলনার নূরনগরে বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় সংলগ্ন কৃষি বিপণন ভবনে দিনব্যাপী এই বিভাগীয় কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
নতুন নীতি প্রণয়ন কার্যক্রমে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক সচিব ড. আবুল হোসেন। এতে আরও অংশ নেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মরিয়ম আক্তার, খুলনার উপপরিচালক মো. মোস্তাক উদ্দীন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিলের (ইউএনএফপিএ) টেকনিক্যাল অফিসার হাবিবুর রহমান এবং ভিএসও বাংলাদেশের প্রকল্প সমন্বয়কারী অনুপ গুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আবুল হোসেন বলেন, দেশ গড়ার মূল কারিগর তরুণ সমাজ। দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ জনগোষ্ঠীই যুবসমাজ। পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও জলবায়ু সংকটের মতো বাস্তব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের চাহিদাকেই নতুন জাতীয় যুবনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।
কর্মশালায় বক্তারা পরিবেশবান্ধব দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, নতুন উদ্যোক্তা তৈরি, মানসিক স্বাস্থ্য, ডিজিটাল সক্ষমতা, সামাজিক সুরক্ষা এবং উপকূলীয় জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলার বিষয়গুলোকে নতুন নীতিতে প্রাধান্য দেওয়ার তাগিদ দেন।
কর্মশালায় উপস্থিত তরুণরা দলীয় আলোচনা ও মুক্ত মতবিনিময়ের মাধ্যমে তাঁদের নানা প্রস্তাবনা নীতি-নির্ধারকদের সামনে তুলে ধরেন। খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার দপ্তরপ্রধান এবং বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরাও এতে উপস্থিত ছিলেন। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মরিয়ম আক্তার জানান, দেশের আটটি বিভাগ থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো জাতীয় পর্যায়ে সমন্বয় করে একটি আধুনিক ও টেকসই জাতীয় যুবনীতি প্রণয়ন করা হবে।

চেয়ারম্যানের তদারকিতে শৈলকুর বিলের পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
চেয়ারম্যানের তদারকিতে শৈলকুর বিলের পানি নিষ্কাশনের কাজ শুরু

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা সদর উপজেলার লাবসা ইউনিয়নের মাগুরা-তালতলা ও কৈখালীসহ আশপাশের এলাকার দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে শৈলকুর বিলের পানি অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্ণব দত্তের দিকনির্দেশনা ও লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিমের তদারকিতে বিভিন্ন মৎস্যঘেরের মালিকেরা পানি চলাচলের পথ উন্মুক্ত করছেন।
এর আগে জলাবদ্ধতার কারণে প্রায় ১০ হাজার বাসিন্দার দুর্ভোগ দেখে ইউপি চেয়ারম্যান গত ২৬ জুলাই বিকেলে মাগুরা পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সামনে মৎস্যঘেরের মালিক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিয়ে আলোচনা সভা করেন। সেখান থেকে পানি নিষ্কাশনের স্বার্থে ঘেরমালিকদের তিন দিনের সময় বেঁধে দেওয়া হয়। পরদিন ২৭ জুলাই বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পুরো এলাকায় মাইকিং করে ঘেরমালিকদের পুনরায় সতর্ক করা হয়।
মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, শৈলকুর বিলের পানি বের করতে বিভিন্ন মৎস্যঘেরের মালিকেরা শ্রমিক নিয়োগ করে পাইপ বসানো ও নেট-পাটা সরিয়ে পানি চলাচলের পথ তৈরি করছেন। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি ঘেরে এ ধরনের কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, শৈলকুর বিলের ঘেরগুলোর বেড়িবাঁধ উন্মুক্ত করে দিলে কাটিয়া কাস্টমস গোডাউন মোড়সংলগ্ন স্টাফ কোয়ার্টার, মিলবাজার আবহাওয়া অফিস, মিলগেট, মাগুরা কর্মকারপাড়া, দাসপাড়া, কৈখালী মাদ্রাসা মোড় ও তালতলাসহ বিস্তীর্ণ এলাকার জমে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন হবে। এই বিলের কাটাখাল দিয়ে পানি সরাসরি বেতনা নদীতে গিয়ে পড়বে।
কামরুজ্জামান নামের এক মৎস্যঘের ব্যবসায়ী জানান, জলাবদ্ধতা দূর করতে দ্রুত বাঁধ কেটে ও পাইপ বসিয়ে পানি বের করে দেওয়ার জোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী বেশ কিছু ঘেরের আইল কেটে পথ তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ হলে দ্রুত এলাকার পানি নেমে যাবে।
এ বিষয়ে লাবসা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম স্পষ্ট জানান, পানি আটকে রেখে ঘের পরিচালনা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পানি নিষ্কাশনের পথ উন্মুক্ত হলে হাজার হাজার মানুষ ও গবাদিপশু জলজট থেকে রক্ষা পাবে।