সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩

সাংবাদিকতা কি ভয়মুক্ত?/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:২৬ অপরাহ্ণ
সাংবাদিকতা কি ভয়মুক্ত?/ সচ্চিদানন্দ দে সদয়

সচ্চিদানন্দ দে সদয়

যাঁরা কথায় কথায় বলেন, দেশে এখন স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বর্ণযুগ চলছে, সবাই নাকি মন খুলে কথা বলতে পারছেন, তাঁদের কাছে একটি সরল প্রশ্ন রাখা যায়-এই কি সেই স্বাধীনতা? স্বাধীন সাংবাদিকতার অর্থ শুধু সংবাদ প্রকাশের সুযোগ থাকা নয়। এর অর্থ হলো ভয়, চাপ, হুমকি কিংবা হামলার আশঙ্কা ছাড়াই একজন সাংবাদিক সত্য অনুসন্ধান করতে পারবেন, প্রশ্ন করতে পারবেন এবং জনগণের সামনে তথ্য তুলে ধরতে পারবেন। সংবাদকর্মী যখন কোনো ঘটনার ছবি তুলতে গিয়ে বাধার মুখে পড়েন, তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে হুমকি পান কিংবা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন, তখন স্বাধীন সাংবাদিকতার বাস্তব চিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।

 

সাংবাদিকের হাতে অস্ত্র থাকে না। থাকে কলম, ক্যামেরা, মাইক্রোফোন আর সত্য তুলে ধরার দায়িত্ব। তাঁর শক্তি কোনো পেশিশক্তি নয়; তথ্য ও জনস্বার্থ। তাই সাংবাদিকের ওপর হামলা কেবল একজন ব্যক্তির ওপর হামলা হিসেবে দেখলে বিষয়টির গভীরতা বোঝা যায় না। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে মানুষের জানার অধিকার।

 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা সেই প্রশ্নটিই আবার সামনে এনেছে। একটি বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা জ্ঞান, যুক্তি, মতবিনিময় ও মুক্ত চিন্তার জায়গা। সেখানে সাংবাদিকেরা যদি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলার শিকার হন, তাহলে বিষয়টি শুধু ক্যাম্পাসের একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং প্রশ্ন ওঠে, মতের ভিন্নতা ও সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে আমরা কী ধরনের আচরণ করছি? কোনো সংবাদ পছন্দ না হলে তার প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। কোনো তথ্য ভুল মনে হলে সংশোধনের দাবি তোলার অধিকার আছে।

 

সাংবাদিকের প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত থাকলে যুক্তি দিয়ে তার জবাব দেওয়ার সুযোগ আছে। কিন্তু হামলা, হুমকি বা ভয় দেখানো কোনোভাবেই সেই জবাবের বিকল্প হতে পারে না। সমস্যাটি এখানেই। আমরা অনেক সময় সংবাদকে নিজের পক্ষে বা বিপক্ষে হিসেবে দেখতে শুরু করি। যে সংবাদ নিজের পছন্দের, সেটিকে সত্য বলে গ্রহণ করি; আর যে সংবাদ অস্বস্তি তৈরি করে, সেটিকে সাংবাদিকের অপরাধ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হয়। এই মানসিকতা সাংবাদিকতার জন্য যেমন বিপজ্জনক, তেমনি সমাজের জন্যও।

 

একজন সাংবাদিক যদি মনে করেন, একটি তথ্য প্রকাশ করলে তাঁর ওপর হামলা হতে পারে, কোনো পক্ষ তাঁকে হুমকি দিতে পারে কিংবা তাঁর ক্যামেরা কেড়ে নেওয়া হতে পারে, তাহলে তিনি স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারবেন না। তখন তৈরি হয় আত্মনিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি। সাংবাদিক হয়তো কিছু তথ্য জানেন, কিন্তু ঝুঁকি এড়াতে তা প্রকাশ করেন না। সংবাদ প্রকাশের আগে বারবার ভাবেন, কারও অসন্তোষ হবে কি না। এভাবে সরাসরি সেন্সরশিপ ছাড়াও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা সংকুচিত হতে পারে। এ কারণেই সাংবাদিকের নিরাপত্তা শুধু সাংবাদিক সমাজের দাবি নয়। এটি নাগরিকেরও দাবি। কারণ সংবাদমাধ্যম দুর্বল হলে সাধারণ মানুষও তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে দুর্বল হয়ে পড়ে।ক্যামেরাকে ভয় পাওয়ার সংস্কৃতি কোনো সুস্থ সমাজের লক্ষণ নয়। ক্যামেরা কোনো অপরাধের হাতিয়ার নয়। ক্যামেরা একটি ঘটনার সাক্ষ্য ধারণ করে। কোনো সড়ক দুর্ঘটনা, দুর্নীতি, অনিয়ম, সহিংসতা কিংবা মানুষের দুর্ভোগ-সবকিছুর বাস্তব চিত্র ক্যামেরায় উঠে আসতে পারে।

 

সেই ছবি কখনো কারও জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে। কিন্তু অস্বস্তিকর সত্যকে আড়াল করার জন্য ক্যামেরার ওপর হামলা করা হলে সত্যটি কি মুছে যায়? যায় না। বরং প্রশ্ন আরও বড় হয়ে ওঠে। আমাদের মনে রাখা দরকার, সাংবাদিকতা কারও প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ নয়। এটি একটি পেশা এবং একই সঙ্গে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট দায়িত্ব। সংবাদকর্মীরও ভুল হতে পারে। কোনো প্রতিবেদনে তথ্যগত ভুল থাকলে তার জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। সাংবাদিকতার নামে মিথ্যা, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ থাকলে আইনগত ও পেশাগত প্রক্রিয়ায় তার প্রতিকার হতে পারে। কিন্তু সেই প্রতিকার কখনো হামলা বা ভয় দেখানো হতে পারে না।

 

সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও দায়িত্বশীলতার প্রশ্নটি সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। স্বাধীনতা মানে যা খুশি তাই বলা নয়। তথ্য যাচাই, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নেওয়া, গুজব এড়িয়ে চলা এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ থেকে বিরত থাকাÑএসব সাংবাদিকতার মৌলিক দায়িত্ব। সাংবাদিকতার বিশ্বাসযোগ্যতা যত বাড়বে, তার স্বাধীনতার সামাজিক ভিত্তিও তত শক্ত হবে। তবে সাংবাদিকের ভুলকে অজুহাত বানিয়ে তাঁর ওপর হামলা বৈধ হয়ে যায় না। একজন চিকিৎসকের ভুলের অভিযোগ থাকলে চিকিৎসককে মারধর করা যায় না, একজন শিক্ষকের সঙ্গে মতবিরোধ হলে তাঁকে হুমকি দেওয়া যায় না। একইভাবে সাংবাদিকের প্রতিবেদনের সঙ্গে দ্বিমত থাকলেও তার উত্তর দিতে হবে তথ্য ও যুক্তি দিয়ে।

 

আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে ভাবার সময় এসেছে। সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনায় প্রায়ই কিছুদিন আলোচনা হয়, প্রতিবাদ হয়, তদন্তের দাবি ওঠে। এরপর বিষয়টি ধীরে ধীরে আড়ালে চলে যায়। এতে অপরাধীর মনে দায়মুক্তির ধারণা তৈরি হতে পারে। তাই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিটি ঘটনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। কারণ বিচার না হলে পরবর্তী হামলার ঝুঁকি থেকেই যায়। আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক হামলার শিকার হয়েছেন, কাল অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানের সাংবাদিক হতে পারেন। তার পরদিন কোনো স্থানীয় সংবাদকর্মী, ফটোসাংবাদিক বা নাগরিক সাংবাদিকও একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে পারেন।

 

ভয় যদি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে যায়, তার প্রভাব সংবাদকক্ষের বাইরেও ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ তখন প্রশ্ন করতে ভয় পায়, তথ্য দিতে ভয় পায়, অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পায়। একটি গণতান্ত্রিক সমাজে এই ভয় কমানো দরকার, বাড়ানো নয়। সাংবাদিককে ভয় দেখানো মানে শুধু একজন সংবাদকর্মীকে থামানোর চেষ্টা নয়; এর মাধ্যমে একটি ঘটনার সত্য প্রকাশের পথও সংকুচিত করা হয়। ক্যামেরায় হামলা মানে শুধু একটি যন্ত্র ভাঙা নয়; এর সঙ্গে জনগণের জানার অধিকারের প্রশ্ন জড়িয়ে আছে।

 

কলম থামিয়ে দিলে কাগজ সাদা থাকে, কিন্তু সমাজের সমস্যাগুলো সাদা হয়ে যায় না। বরং অন্ধকারে থেকে যায়।তাই স্বাধীন সাংবাদিকতার স্বর্ণযুগ চলছে কি নাÑএমন দাবি করার আগে আমাদের দেখতে হবে সাংবাদিক কতটা নিরাপদে প্রশ্ন করতে পারছেন, কতটা স্বাধীনভাবে তথ্য সংগ্রহ করতে পারছেন এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর কতটা সুরক্ষা পাচ্ছেন। স্বাধীন সাংবাদিকতা কোনো দয়া নয়, কোনো বিশেষ সুবিধাও নয়। এটি নাগরিকের তথ্য জানার অধিকারের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

 

সাংবাদিকের কলম ও ক্যামেরা ভয়মুক্ত থাকলেই সমাজ নিজের বাস্তব চেহারাটি দেখতে পারে। অতীতে সাংবাদিক নির্যাতন অন্যায় ছিল, আজও অন্যায়, ভবিষ্যতেও অন্যায় থাকবে। তাই সাংবাদিকের ওপর হামলার প্রতিবাদ শুধু সাংবাদিকদের করতে হবেÑএমন ভাবার সুযোগ নেই। এটি প্রত্যেক নাগরিকের প্রশ্ন হওয়া উচিত: সত্য বলার জন্য যদি সাংবাদিককে ভয় পেতে হয়, তাহলে আমরা যে স্বাধীনতার কথা বলি, সেই স্বাধীনতা আসলে কতটা স্বাধীন?

লেখক: সংবাদকর্মী

Ads small one

আদালত প্রাঙ্গণে আইনগত সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতায় বিলবোর্ড স্থাপন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:৩০ অপরাহ্ণ
আদালত প্রাঙ্গণে আইনগত সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতায় বিলবোর্ড স্থাপন
বদিউজ্জামান: ‘আইনগত সেবা পাওয়া আপনার অধিকার—নিশ্চিত করেছে সরকার’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সাতক্ষীরায় আইনগত সহায়তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি বিলবোর্ড স্থাপন করা হয়েছে। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৪টায় জেলা জজ আদালত প্রাঙ্গণে বিলবোর্ডটি স্থাপন করা হয়।
বিলবোর্ড স্থাপনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মুহাম্মদ নাছির উদদীন ফরাজী, চীফ লিগ্যাল এইড অফিসার এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ মোঃ মুস্তাফিজুর রহমান, লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিভিল জজ লিটন দাস, সিভিল জজ মোঃ হাসানুল বান্না, সিভিল জজ লাবিব মেজবাহ, প্যানেল আইনজীবী খায়রুল বদিউজ্জামান ও আরা সংস্থার পরিচালক আবুল কালাম আজাদ। এ সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সাতক্ষীরার উদ্যোগে স্থাপিত বিলবোর্ডে সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার বিভিন্ন সুযোগ ও পদ্ধতি তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, আর্থিকভাবে অসচ্ছল, নির্যাতিত, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষসহ নির্ধারিত শ্রেণির নাগরিকরা সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পাওয়ার অধিকারী।
বিলবোর্ডের তথ্যে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে বিনামূল্যে আইনগত পরামর্শ, আইনজীবী নিয়োগ, মামলা পরিচালনা, আপস-মীমাংসা ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সহায়তা পাওয়া যায়। দেওয়ানি, ফৌজদারি, পারিবারিক ও অন্যান্য মামলায় প্রয়োজন অনুযায়ী আইনগত সহায়তার জন্য আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। এমনকি চলমান মামলায়ও আইনগত সহায়তার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট আদালতের মাধ্যমে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।
এতে আইনগত সহায়তা পাওয়ার যোগ্য ব্যক্তিদের মধ্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধার সন্তান, নির্যাতিত নারী ও শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তি, দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তি, কর্মক্ষেত্রে নিয়োজিত বা নির্দিষ্ট কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি এবং আর্থিকভাবে অসচ্ছলসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বিলবোর্ডে সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা পেতে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে যোগাযোগের পাশাপাশি অনলাইনে আবেদন করার সুযোগের কথাও জানানো হয়েছে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, উপজেলা লিগ্যাল এইড অফিস এবং সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সমিতির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় তথ্য ও সহায়তা নেওয়া যাবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, অনেক দরিদ্র ও অসহায় মানুষ আইনি অধিকার সম্পর্কে পর্যাপ্ত ধারণা না থাকায় ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এ ধরনের জনসচেতনতামূলক উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ বিনামূল্যে সরকারি আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ, আবেদন পদ্ধতি এবং লিগ্যাল এইডের বিভিন্ন সেবা সম্পর্কে জানতে পারবেন।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের এ উদ্যোগের মাধ্যমে ‘অর্থের অভাবে কোনো মানুষ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন’—এই লক্ষ্য আরও কার্যকর হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।
বিলবোর্ডটি বাস্তবায়নে রয়েছে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আরা, সাতক্ষীরা। সহযোগিতায় রয়েছে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন ও ট্রাইডিশন এইড, অর্থায়নে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। প্রচারে রয়েছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস, সাতক্ষীরা।

কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২৩ অপরাহ্ণ
কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে র‍্যালি ও আলোচনা সভা
কলারোয়া প্রতিনিধি: ‘শিক্ষকদের পাশে: পেশা সুরক্ষা, এর মর্যাদা বৃদ্ধি এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গড়ার ৬০ বছর’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কলারোয়ায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে।
দিবসটি উপলক্ষে সোমবার (৫ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম।
আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন কলারোয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর শশী ভূষণ পাল। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জয়নাল আবদীন।  বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ও বক্তব্য রাখেন কলারোয়া সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর  আবু নসর, সরকারি জিকেএফ কে পাইলট হাইস্কুলের  প্রধান শিক্ষক সুদীপ বিশ্বাস, একাডেমিক সুপারভাইজার তাপস কুমার দাস, উপজেলা জামায়াতের আমীর মুহা. কামরুজ্জামান, অবসরপ্রাপ্ত  প্রধান শিক্ষক আমানুল্লাহ আমান, প্রধান শিক্ষক আখতার আসাদুজ্জামান  প্রধান শিক্ষক সাংবাদিক রাশেদুল হাসান কামরুল, সুপার মাওলানা ওসমান গনি, শিক্ষক নেতা বাকী বিল্লাহ শাহী, সহকারী শিক্ষক আরিফুজ্জামান কাঁকন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া প্রেসক্লাবের যুগ্ম আহ্বায়ক এমএ সাজেদ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, সাংবাদিক জাহিদুর রহমান, দেলোয়ার হোসেন প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, একটি উন্নত ও মানবিক সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা অপরিসীম। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা বৃদ্ধি এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ ও মানবিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান ও সহযোগিতা নিশ্চিত করা জরুরি।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষা কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার হারুন অর রশিদ মোল্লা।

কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ায় এবার দুর্গাপ্রতিমায় নতুন চমক, সাদা তিলে গড়া অনন্য শিল্পকর্ম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৬, ৭:২০ অপরাহ্ণ
কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়ায় এবার দুর্গাপ্রতিমায় নতুন চমক, সাদা তিলে গড়া অনন্য শিল্পকর্ম
কলারোয়া প্রতিনিধি: প্রতিমা নির্মাণে ব্যতিক্রমী সৃজনশীলতার জন্য ইতোমধ্যে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে সাতক্ষীরার কলারোয়ার উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া। দুর্গাপূজাকে ঘিরে প্রতিবছরই নতুন কোনো শিল্পভাবনা নিয়ে হাজির হন এখানকার প্রতিমাশিল্পী ও পূজা আয়োজকরা। এরই ধারাবাহিকতায় এবার দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিলের আবরণে তৈরি করা হয়েছে দুর্গাপ্রতিমা। অভিনব এই শিল্পকর্ম দেখতে প্রতিদিনই পূজামণ্ডপে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।
কলারোয়া পৌরসভাধীন উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া সর্বজনীন পূজামণ্ডপে এবার দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ, কার্তিক, অসুর ও মহিষাসুরসহ মোট ১৬টি প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি প্রতিমার গায়ে বিশেষ পদ্ধতিতে বসানো হচ্ছে সাদা তিল। সব মিলিয়ে প্রতিমাগুলোতে প্রায় ২৫ কেজি সাদা তিল ব্যবহার করা হচ্ছে।
এর আগে ২০২৩ সালে চিনিগুঁড়া ধান দিয়ে এবং গত বছর পাটের আঁশ ব্যবহার করে প্রতিমা নির্মাণ করে চমক সৃষ্টি করেছিল পালপাড়া পূজামণ্ডপ। সেই ধারাবাহিকতায় এবার সাদা তিলের মোড়কে প্রতিমা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিমাগুলো নির্মাণের মূল কাজ অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন প্রতিমার শরীরে আঠা দিয়ে একেকটি করে সাদা তিল বসানোর সূক্ষ্ম কাজ চলছে। তালুতে তিল নিয়ে নির্দিষ্ট জায়গায় বসিয়ে দেওয়ার এই কাজ অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ও শ্রমসাধ্য। প্রতিটি তিল সঠিকভাবে বসিয়ে প্রতিমার শরীরে নান্দনিক নকশা ফুটিয়ে তুলতে প্রয়োজন হচ্ছে ধৈর্য, নিখুঁত হাতের কাজ ও শিল্পীর দক্ষতা।
প্রতিমাশিল্পী খুলনার পাইকগাছার কপিলমুনির বাসিন্দা প্রহ্লাদ বিশ্বাস জানান, প্রতিমা নির্মাণ, তিল বসানো ও রঙের কাজ শেষ করতে সব মিলিয়ে প্রায় ১৫ দিন সময় লাগছে। তিনি চার সহকর্মীকে নিয়ে দিনরাত কাজ করছেন। তিল বসানোর কাজ শেষ করতে আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে।
তিনি বলেন, “পরিষ্কার সাদা তিল হাতের তালুতে নিয়ে প্রতিমার গায়ে একে একে বসিয়ে দেওয়ার কাজটি বেশ কঠিন। প্রতিটি তিল সঠিকভাবে স্থাপন করতে যথেষ্ট সময় ও শ্রম দিতে হয়।”
পূজা মণ্ডপ কমিটির কোষাধ্যক্ষ অশ্বিন পাল জানান, এবার প্রতিমা নির্মাণ ও মণ্ডপসজ্জাসহ সব মিলিয়ে পাঁচ লাখ টাকারও বেশি খরচ হচ্ছে। তিনি বলেন, পাটের আঁশ দিয়ে প্রতিমা তৈরির পর এবারও নতুন কিছু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পূজা মণ্ডপের দায়িত্বশীলদের আলোচনার মাধ্যমে সাদা তিলের মোড়কে প্রতিমা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
তিনি আরও বলেন, “কলারোয়া উপজেলার মধ্যে আমরাই প্রতিবার নতুন কিছু করে দেখানোর চেষ্টা করি। এবারও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সাদা তিল দিয়ে প্রতিমা সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
পূজা মণ্ডপের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক প্রদীপ পাল বলেন, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার ফলেই এই ব্যতিক্রমী কাজ সম্ভব হয়েছে। চিনিগুঁড়া ধান ও পাটের আঁশ দিয়ে তৈরি প্রতিমা দেশের সীমানা পেরিয়ে বিদেশেও প্রশংসা পেয়েছিল। এবার দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল দিয়ে তৈরি প্রতিমাটিও মানুষের নজর কাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পালপাড়া পূজামণ্ডপ কমিটির নেতৃবৃন্দের মতে, সাদা তিল দিয়ে প্রতিমা সাজানো শুধু একটি ব্যতিক্রমী শিল্পপ্রয়াস নয়; এর মাধ্যমে কৃষিনির্ভর বাংলাদেশের মাটি, শস্য, শিকড় ও ঐতিহ্যকেও তুলে ধরা হচ্ছে। দেশীয় উপকরণকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করে নতুন প্রজন্মের সামনে লোকজ সৃজনশীলতার একটি ভিন্ন দৃষ্টান্ত স্থাপন করাই তাদের লক্ষ্য।
উপজেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সভাপতি বাবু প্রকাশ হালদার জানান, এ বছর কলারোয়া উপজেলায় ৪৬টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা উদযাপিত হচ্ছে। এর মধ্যে উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া পূজামণ্ডপে সাদা তিলের আবরণে তৈরি ব্যতিক্রমী প্রতিমা ইতোমধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজর কেড়েছে।
ব্যতিক্রমী এই উদ্যোগে একদিকে যেমন ফুটে উঠেছে প্রতিমাশিল্পীদের নিপুণ হাতের কারুকাজ, অন্যদিকে দেশীয় খাদ্যশস্য সাদা তিল পেয়েছে এক অনন্য শিল্পরূপ। ফলে এবারের দুর্গাপূজায় উত্তর মুরারিকাটি পালপাড়া হয়ে উঠেছে সৃজনশীলতার এক আকর্ষণীয় কেন্দ্র।