রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
রবিবার, ২৪ মে ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাতক্ষীরা-যশোর সীমান্তে জমে উঠেছে সর্ববৃহৎ আমবাজার ‘বেলতলা’, দাম নিয়ে চাষিদের হতাশা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরা-যশোর সীমান্তে জমে উঠেছে সর্ববৃহৎ আমবাজার ‘বেলতলা’, দাম নিয়ে চাষিদের হতাশা

0-4024x1784-0-0-{}-0-12#

শেখ জিল্লু, কলারোয়া: সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার প্রবেশদ্বার কলারোয়া উপজেলার কিসমত ইলিশপুর এবং শার্শা উপজেলার বাগুড়ি (বেলতলা) এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ আমের বাজার ‘বেলতলা আমবাজার’। যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১০০টি আড়ত নিয়ে ভিন্ন জেলা ও উপজেলার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে এই বাজারটি পরিচালনা করে আসছেন। মধুমাসের এই মৌসুমে পাইকার ও বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে এখন জমজমাট পুরো এলাকা। এছাড়া কলারোয়া উপজেলার সিংগা গ্রামেও আমের আরেকটি পাইকারি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা দেখা গেছে।

শনিবার সরেজমিনে বেলতলা আমবাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের মানসম্মত আমের বিপুল সমাহার। বাজারে আসা আমের সিংহভাগই হিমসাগর। পাশাপাশি গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোপালভোগ, গোপালখাস ও বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের পুষ্ট ও পরিপক্ব আম পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাজারে আমের ভালো দাম না পাওয়ায় আম চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে।

কৃষি বিভাগের আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া আম গাছ থেকে নামানোর কথা থাকলেও, বাজারে এখনই অল্প পরিমাণে এই আম দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সামনে ঈদুল আজহা থাকায় এবং ঈদের সময় কয়েকদিন বাজার বন্ধ থাকতে পারেÑএই আশঙ্কায় অনেক চাষি আগাম পরিপক্ব হওয়া ল্যাংড়া আম বাজারে নিয়ে আসছেন। ঈদের পর এই আম পুরোদমে বাজারে নামলে বেচাবিক্রি আরও জমজমাট হবে এবং সবশেষে আসবে আম্রপালি।

ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে প্রতিদিন এই বাজার থেকে ৫০ মেট্রিক টনেরও বেশি আম ট্রাকযোগে ঢাকা, কানসাট, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।

বেলতলা পাইকারি আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বাজারের বেচাকেনা শেষ হয়। আমের গুণগত মানকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”

সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার বলেন, “এবার ফলন ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা কম। হিমসাগর আম মানভেদে প্রতি মণ ১,৪০০ থেকে ১,৮০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশি জাতের আম ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে যাতে কোনো রাসায়নিকযুক্ত বা অপরিপক্ব আম না ওঠে, সে বিষয়ে আড়তদারদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” কাজীরহাট ফল ভা-ার, মা এন্টারপ্রাইজ ও বিজয় এন্টারপ্রাইজসহ বেশ কিছু আড়তে এখন আমের উপচে পড়া ভিড়।

এদিকে কেমিক্যালযুক্ত ও অপরিপক্ব আম বাজারজাতকরণ রোধে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম নিয়মিত আড়তগুলো পরিদর্শন করছেন। তিনি বলেন, “কৃষি অধিদপ্তরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে বলা হয়েছে। কেমিক্যাল মেশানো আম বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান ও জরিমানা অব্যাহত থাকবে।”

উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার কলারোয়ায় ৬৫৮ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,২৩৮ মেট্রিক টন, যা ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে।

উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান, আমের বাজারদর কম থাকায় মোট বেচাবিক্রির আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তবে এখান থেকে বিদেশে আম রপ্তানি শুরু হলে চাষিদের হতাশা কেটে যাবে এবং তারা ভালো দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

Ads small one

আইলার ১৬ বছর: লোনা পানি আর স্বজন হারানোর ক্ষত আজও শুকায়নি উপকূলে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
আইলার ১৬ বছর: লোনা পানি আর স্বজন হারানোর ক্ষত আজও শুকায়নি উপকূলে

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির): আজ ভয়াল ২৫ মে। ২০০৯ সালের এই দিনে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হেনেছিল শতাব্দীর অন্যতম প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় ‘আইলা’। দেখতে দেখতে দীর্ঘ ১৬টি বছর পার হয়ে গেলেও সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনির জীর্ণ বেড়িবাঁধ আর লোনা পানির গ্রাসে থাকা লাখো মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। লোনা পানির আগ্রাসন, সুপেয় পানির তীব্র সংকট আর স্বজন হারানোর ক্ষত নিয়ে এখনো মানবেতর জীবনযাপন করছেন উপকূলীয় এই জনপদের বাসিন্দারা।

২০০৯ সালের ২৫ মে আইলার প্রভাবে ১৪-১৫ ফুট উচ্চতার আকস্মিক জলোচ্ছ্বাসে মুহূর্তেই ল-ভ- হয়ে গিয়েছিল সাতক্ষীরার উপকূল। ভেসে গিয়েছিল মানুষ, গবাদিপশু আর ঘরবাড়ি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সে সময় সাতক্ষীরায় ৭৩ জন নিহত, দুই শতাধিক আহত এবং প্রায় ৬ লাখ মানুষ আশ্রয়হীন হয়ে পড়েছিল। ১৬ বছর পর সরকারি নথির সেই পরিসংখ্যানের হিসাব মিললেও, উপকূলের মানুষের প্রাত্যহিক জীবনের বাস্তব চিত্রটা বদলায়নি একটুও।

শ্যামনগরের দ্বীপ ইউনিয়ন গাবুরার ৯ নম্বর সোরা গ্রামের মাজেদ শেখের পরিবারের কাছে আইলার স্মৃতি আজও এক জীবন্ত নরক। জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে নৌকাডুবিতে তিনি তিন মেয়ে ও গর্ভবতী পুত্রবধূসহ পরিবারের ছয়জনকে হারান। চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, দুজনের খোঁজ আর কোনোদিন মেলেনি। স্বজন হারানোর সেই ধাক্কা আজও কাটিয়ে উঠতে পারেননি মাজেদ শেখ ও তাঁর স্ত্রী আমেনা খাতুন। একটি জীর্ণ খড়ের কুঁড়েঘরে কাটছে তাঁদের জীবন। সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়। পুনর্বাসন আর স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশনের সরকারি-বেসরকারি শত প্রতিশ্রুতি থমকে গেছে তাঁদের মাত্র এক ফুট উঁচু, তালপাতার বেড়া দিয়ে তৈরি ব্যবহারের একমাত্র টয়লেটের কাছেই।

একই এলাকার সালমা খাতুনের গল্পটি আরও মর্মস্পর্শী। জলোচ্ছ্বাস শুরু হলে পরিবারের ১৯ জনকে নিয়ে নৌকায় উঠেছিলেন তাঁরা। কিন্তু মাঝনদীতে প্রচ- স্রোতে নৌকাটি উল্টে গেলে মুহূর্তেই প্রাণ হারান পরিবারের ১১ জন। প্রচ- স্রোতের মধ্যে পিঠে বড় মেয়ে আর কোলে দুধের শিশুকে নিয়ে টানা তিন ঘণ্টা পানিতে ভেসেছিলেন সালমা। বড় মেয়েকে বাঁচাতে পারলেও তাঁর চোখের সামনে লোনা পানি আর ঠান্ডায় নিথর হয়ে যায় কোলের শিশুটি। ১৬ বছর পরও মে মাস এলেই সেই নদী, স্রোত আর সন্তানের শেষ মুহূর্তের আকুতি তাড়া করে ফেরে সালমাকে।

আইলা-পরবর্তী দিনগুলোর স্মৃতি আজও এই জনপদের মানুষকে শিউরে তোলে। চারিদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল লাশ। অনেকের শরীর এতটাই পচে গিয়েছিল যে শেষ গোসলটুকু পর্যন্ত করানো সম্ভব হয়নি। বস্তায় ভরে, বাঁশের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে কাদার ভেতরেই দাফন করা হয়েছিল অনেককে।

১৬ বছর পার হলেও এই জনপদের মানুষ পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। স্থানীয় সংকটের পাশাপাশি এখন বড় হয়ে উঠেছে জলবায়ু পরিবর্তনের দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব। লবণপানির দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতিতে নষ্ট হয়ে গেছে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি, কমেছে কর্মসংস্থান এবং তীব্র আকার ধারণ করেছে সুপেয় পানির সংকট।

প্রতি বছরই টেকসই বাঁধের নামে কোটি কোটি টাকার বাজেট ও বরাদ্দ থাকলেও উপকূলের মানুষের ভাগ্য বদলানোর মতো স্থায়ী কোনো সমাধান এখনো মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান হয়নি। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, উপকূলজুড়ে জলবায়ু সহনশীল ও স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলম জানান, দীর্ঘ সময় পর এবার গাবুরাতে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ মাঠপর্যায়ে চলমান রয়েছে। তবে বছরের পর বছর ধরে চলা এই ধীরগতির উন্নয়ন উপকূলের মানুষের লোনা পানির আতঙ্ক পুরোপুরি দূর করতে পারছে না। আইলার দীর্ঘ ১৬ বছর পেরিয়ে গেলেও মাজেদ শেখের নিখোঁজ সন্তানদের শেষ দাফনটুকু করতে না পারার আফসোস কিংবা সালমা খাতুনদের বুকের ভেতর জমে থাকা দীর্ঘশ্বাস আজও মুছতে পারেনি কোনো উদ্যোগ। উপকূলাবাসীর একটাই দাবি—ত্রাণ বা অনুদান নয়, তাঁরা বাঁচতে চান একটি স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধের নিরাপত্তা নিয়ে।

আশাশুনি সদরে ভিজিএফের চাল বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ
আশাশুনি সদরে ভিজিএফের চাল বিতরণ

 

আশাশুনি প্রতিনিধি: পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে সাতক্ষীরার আশাশুনি সদর ইউনিয়নে অসহায় পরিবারের মাঝে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়েছে। আজ রবিবার সকাল ১১টায় ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এই চাল বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।
ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সঞ্জীব কুমার দাশ এবং সদর ইউপি চেয়ারম্যান এস এম হোসেনুজ্জামান হোসেনের উপস্থিতিতে ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের তালিকাভুক্ত ৬৯৪ জন সুবিধাভোগীর মাঝে ১০ কেজি করে চাল বিতরণ করা হয়। ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে পৃথক পৃথক স্থানে মোট ৬ মেট্রিক টন ৯৪০ কেজি চাল বিতরণ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।

দুর্যোগ সচেতনতায় তালায় ঐতিহ্যবাহী পটগান

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১২:৫০ পূর্বাহ্ণ
দুর্যোগ সচেতনতায় তালায় ঐতিহ্যবাহী পটগান

তালা প্রতিনিধি: দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকিহ্রাস বিষয়ে গ্রামীণ জনপদের মানুষকে সচেতন করতে সাতক্ষীরার তালায় ৪টি ঐতিহ্যবাহী ‘পটগান’ পরিবেশন করা হয়েছে। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ওয়ার্ল্ড কনসার্নের আয়োজনে উপজেলার খলিলনগর ও তালা সদর ইউনিয়নে এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।
উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’-এর সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ উজির হোসেনের পরিচালনায় ১৪ থেকে ২০ মে পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে গোনালী এফবিসিবি চার্চ, আটারই হোপ চার্চ, মুড়াকলিয়া এমকে হাইস্কুল মাঠ এবং মাছিয়াড়া গ্রামের দাসপাড়ায় এই পটগানগুলো অনুষ্ঠিত হয়। খুলনার সুশীলন সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীর শিল্পী লিজা পারভীন, সাথী বিশ্বাস, লাবনী রায়, শেখর বৈরাগী ও পবিত্র রায়সহ অন্যান্যরা এই পরিবেশনায় অংশ নেন।