সাতক্ষীরা-যশোর সীমান্তে জমে উঠেছে সর্ববৃহৎ আমবাজার ‘বেলতলা’, দাম নিয়ে চাষিদের হতাশা
0-4024x1784-0-0-{}-0-12#
শেখ জিল্লু, কলারোয়া: সাতক্ষীরা ও যশোর জেলার প্রবেশদ্বার কলারোয়া উপজেলার কিসমত ইলিশপুর এবং শার্শা উপজেলার বাগুড়ি (বেলতলা) এলাকা জুড়ে গড়ে উঠেছে এ অঞ্চলের সর্ববৃহৎ আমের বাজার ‘বেলতলা আমবাজার’। যশোর-সাতক্ষীরা মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় ১০০টি আড়ত নিয়ে ভিন্ন জেলা ও উপজেলার ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে মিলেমিশে এই বাজারটি পরিচালনা করে আসছেন। মধুমাসের এই মৌসুমে পাইকার ও বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে এখন জমজমাট পুরো এলাকা। এছাড়া কলারোয়া উপজেলার সিংগা গ্রামেও আমের আরেকটি পাইকারি বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের ব্যস্ততা দেখা গেছে।
শনিবার সরেজমিনে বেলতলা আমবাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের মানসম্মত আমের বিপুল সমাহার। বাজারে আসা আমের সিংহভাগই হিমসাগর। পাশাপাশি গোবিন্দভোগ, বোম্বাই, গোপালভোগ, গোপালখাস ও বৈশাখীসহ স্থানীয় জাতের পুষ্ট ও পরিপক্ব আম পাওয়া যাচ্ছে। তবে বাজারে আমের ভালো দাম না পাওয়ায় আম চাষিদের মধ্যে হতাশা দেখা গেছে।
কৃষি বিভাগের আম সংগ্রহের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আগামী ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া আম গাছ থেকে নামানোর কথা থাকলেও, বাজারে এখনই অল্প পরিমাণে এই আম দেখা যাচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানান, সামনে ঈদুল আজহা থাকায় এবং ঈদের সময় কয়েকদিন বাজার বন্ধ থাকতে পারেÑএই আশঙ্কায় অনেক চাষি আগাম পরিপক্ব হওয়া ল্যাংড়া আম বাজারে নিয়ে আসছেন। ঈদের পর এই আম পুরোদমে বাজারে নামলে বেচাবিক্রি আরও জমজমাট হবে এবং সবশেষে আসবে আম্রপালি।
ব্যবসায়ীরা জানান, মৌসুমের শুরুতে প্রতিদিন এই বাজার থেকে ৫০ মেট্রিক টনেরও বেশি আম ট্রাকযোগে ঢাকা, কানসাট, চট্টগ্রাম ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে।
বেলতলা পাইকারি আম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, “প্রতিদিন সকাল থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বাজারের বেচাকেনা শেষ হয়। আমের গুণগত মানকে আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।”
সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জব্বার বলেন, “এবার ফলন ভালো হওয়ায় দাম কিছুটা কম। হিমসাগর আম মানভেদে প্রতি মণ ১,৪০০ থেকে ১,৮০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশি জাতের আম ১,১০০ থেকে ১,২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারে যাতে কোনো রাসায়নিকযুক্ত বা অপরিপক্ব আম না ওঠে, সে বিষয়ে আড়তদারদের কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।” কাজীরহাট ফল ভা-ার, মা এন্টারপ্রাইজ ও বিজয় এন্টারপ্রাইজসহ বেশ কিছু আড়তে এখন আমের উপচে পড়া ভিড়।
এদিকে কেমিক্যালযুক্ত ও অপরিপক্ব আম বাজারজাতকরণ রোধে তৎপর রয়েছে প্রশাসন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম নিয়মিত আড়তগুলো পরিদর্শন করছেন। তিনি বলেন, “কৃষি অধিদপ্তরের ক্যালেন্ডার অনুযায়ী আম সংগ্রহ ও বাজারজাত করতে বলা হয়েছে। কেমিক্যাল মেশানো আম বিক্রির বিরুদ্ধে আমাদের নিয়মিত অভিযান ও জরিমানা অব্যাহত থাকবে।”
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এবার কলারোয়ায় ৬৫৮ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৭,২৩৮ মেট্রিক টন, যা ইতিমধ্যে অর্জিত হয়েছে।
উপজেলা উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা জিয়াউল হক জানান, আমের বাজারদর কম থাকায় মোট বেচাবিক্রির আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা এখনো নির্ধারণ করা যায়নি। তবে এখান থেকে বিদেশে আম রপ্তানি শুরু হলে চাষিদের হতাশা কেটে যাবে এবং তারা ভালো দাম পাবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।












