সাতক্ষীরায় ডেঙ্গুর ঝুঁকি বাড়ছে, প্রয়োজন কার্যকর প্রতিরোধ
গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
এক সময় ধারণা করা হতো ডেঙ্গু কেবলই রাজধানী ঢাকা বা বড় মেগাসিটির রোগ। কিন্তু সেই ধারণা ভেঙে দিয়ে এডিস মশা এখন দেশের প্রান্তিক জেলাগুলোতেও নিজের সাম্্রাজ্য বিস্তার করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের জেলা সাতক্ষীরায় ডেঙ্গু পরিস্থিতির যে অবনতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে, তা আমাদের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য এক বড় সতর্কবার্তা। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর চিত্র এবং প্রতিনিয়ত আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনগুলো থেকে জানা যায়, সাতক্ষীরায় প্রতিনিয়ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে এবং জেলাজুড়ে প্রায় অর্ধশতাধিক রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। উদ্বেগের আরেকটি বড় জায়গা হলো, আক্রান্তদের একটি বড় অংশই ‘খুলনাফেরত’। অর্থাৎ, জীবিকা বা পড়াশোনার তাগিদে খুলনায় অবস্থান করা সাতক্ষীরার বাসিন্দারা সেখানে আক্রান্ত হয়ে নিজ জেলায় ফিরে আসছেন। তাছাড়া সাতক্ষীরার সবচেয়ে বড় উপজেলা শ্যামনগরসহ বিভিন্ন প্রান্তিক অঞ্চলেও ডেঙ্গুর প্রকোপ ছড়িয়ে পড়ছে। অথচ গ্রামীণ অঞ্চলের সাধারণ মানুষ এখনো ডেঙ্গুর লক্ষণ বা এর ভয়াবহতা সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন নন। অনেকেই সাধারণ জ্বর মনে করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে দেরি করছেন, যা পরবর্তীতে রোগীর শারীরিক অবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে।
আমাদের খোলাখুলি স্বীকার করতে হবে যে, শুধু পৌরসভার ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো কিংবা দায়সারা কিছু প্রচারণাই এই মরণব্যাধি রুখতে যথেষ্ট নয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধের মূল চাবিকাঠি হলো এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। সাতক্ষীরার বিভিন্ন এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার সংকট, বর্ষা বা অসময়ের বৃষ্টির পর জমে থাকা পানি এবং অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এডিস মশার বংশবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করছে। বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব বা পরিত্যক্ত টায়ারে যাতে তিন দিনের বেশি পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে।
একই সাথে সাতক্ষীরা পৌরসভা ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চিরুনি অভিযান জোরদার করা প্রয়োজন। শুধু লোকদেখানো সচেতনতা নয়, বরং প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় বাড়ি বাড়ি গিয়ে জমে থাকা পানির উৎস খুঁজে বের করে তা ধ্বংস করতে হবে এবং প্রয়োজনে জরিমানার মতো কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিতে হবে। স্থানীয় তরুণ সমাজ ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে এই কার্যক্রমে যুক্ত করা গেলে আরও দ্রুত সুফল পাওয়া সম্ভব।
পাশাপাশি, জেলা সদর হাসপাতালসহ প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষার কিট, মশারি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। শেষ কথা কথা: চিকিৎসকদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে ও জ্বর হলে, অবহেলা না করে দ্রুত ডেঙ্গু পরীক্ষা এবং হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে।
লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা












