সাতক্ষীরায় পরিবেশ রক্ষায় ও টিআরএম কার্যক্রমকে গতিশীল করতে যুব পানি কমিটির বৃক্ষরোপণ
সংবাদদাতা: পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলাবদ্ধতা নিরসনে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি এবং টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) কার্যক্রমকে গতিশীল করার লক্ষ্যে সাতক্ষীরায় এক বিশেষ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টায় উত্তরণ এসআরবিএম প্রকল্পের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটি এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
কর্মসূচিতে যুব পানি কমিটির সদস্যরা আম গাছ, মেহগনি, আমড়া, বকুল, রেইনট্রি ও সুপারি গাছসহ বিভিন্ন প্রজাতির ৫০টি বড় আকৃতির গাছের চারা রোপণ করেন। চারা রোপণের পাশাপাশি প্রতিটি গাছের সুরক্ষায় ও পরিচর্যার সুবিধার্থে ছোট ছোট সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। তীব্র রোদ ও বৃষ্টির প্রতিকূল আবহাওয়া উপেক্ষা করেই স্বেচ্ছাসেবী তরুণরা পুরো কর্মসূচি সম্পন্ন করেন। রোপণ করা গাছগুলো নিয়মিত পরিচর্যা ও সংরক্ষণের মাধ্যমে সঠিকভাবে বাড়িয়ে তোলার দায়িত্বও নিয়েছে সংগঠনটি।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল, সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো. মোকাররাম বিল্লাহ ইমন, সদস্য ইফতি জামিল, ইমতি জামিল, লামিয়া জেরিন, মো. সাইমুন হাসনাত, মাহাবুবুর রহমান, সিয়াম হোসেন, করিমন নেছা শান্তরা, তাসনিহা জুই, মো. নাইমুর রহমান চৌধুরী, লামিয়া সুলতানা, আবু তাহের বিল্যাহ, মিলন কুমার রুদ্র, জাহাঙ্গীর আলম ও হাফিজা আফরোজ নীলা। এছাড়া অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক এবং বেসরকারি সংস্থা ‘উত্তরণ’-এর ফিল্ড অর্গানাইজার মো. গোলাম হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধি ও সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সাতক্ষীরা যুব পানি কমিটির সেক্রেটারি ইব্রাহিম খলিল বলেন, “সাতক্ষীরা উপকূলীয় অঞ্চলের অন্যতম বড় সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা। নদী ও খালের নাব্যতা হ্রাস, অতিরিক্ত পলি জমা ও অপরিকল্পিত নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে এখানে বছরের পর বছর সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে টিআরএম বা জোয়ারাধার ব্যবস্থাপনা জলাবদ্ধতা নিরসনে অত্যন্তর কার্যকারী নদীভিত্তিক সমাধান। টিআরএমের মাধ্যমে জোয়ারের পানি নিয়ন্ত্রিতভাবে নির্দিষ্ট বিলে প্রবেশ করিয়ে পলি জমার সুযোগ তৈরি করা হয়, যা নদীর পানি ধারণ ও নিষ্কাশন সক্ষমতা বৃদ্ধি করে।”
সংগঠনের প্রচার সম্পাদক মোকাররাম বিল্লাহ ইমন বলেন, টিআরএমের সুফল টেকসই করতে শুধু বিল ও নদী ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট নয়। নদী-খালের আশপাশে পরিকল্পিত সবুজায়ন, মাটির ক্ষয় রোধ এবং জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধি করা অত্যন্তর জরুরি। অন্যদিকে, সহ-সভাপতি সাজেদুল ইসলাম জানান, তরুণদের সম্পৃক্ত করে পরিবেশ ও নদী-খাল সংরক্ষণে সচেতনতা বৃদ্ধিই তাদের মূল লক্ষ্য।
যুব পানি কমিটি আশা প্রকাশ করে, এ ধরনের ধারাবাহিক সবুজায়ন ও পরিবেশবান্ধব উদ্যোগের মাধ্যমে এলাকায় সবুজ পরিবেশ তৈরি হবে, তরুণ সমাজ তাদের দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সচেতন হবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে টিআরএম ও পলি ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ আরও শক্তিশালী হবে।












