সাতক্ষীরায় সড়ক-নিরাপত্তা সংকট: আর কত প্রাণ গেলে জাগবে প্রশাসন?
গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ
সাতক্ষীরার সড়ক যেন দিন দিন সাধারণ মানুষের জন্য এক অদৃশ্য আতঙ্কের নাম হয়ে উঠছে। সাতক্ষীরা-খুলনা ও সাতক্ষীরা-যশোর মহাসড়কসহ জেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। কোথাও প্রাণ যাচ্ছে, কোথাও কেউ আহত হয়ে দীর্ঘদিনের জন্য কর্মক্ষমতা হারাচ্ছেন, আবার কোনো পরিবার একমাত্র উপার্জনকারী মানুষটিকে হারিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে।
প্রতিটি দুর্ঘটনার পর কিছুদিন আলোচনা হয়, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তৎপরতার কথা শোনা যায়, আইন প্রয়োগের আশ্বাস আসে। তারপর আবার সবকিছু আগের মতো হয়ে যায়। প্রশ্ন-আর কত প্রাণ গেলে আমরা বুঝব এটি বিচ্ছিন্ন কোনো দুর্ঘটনা নয়, একটি দীর্ঘস্থায়ী সড়ক-নিরাপত্তা সংকট? সড়ক দুর্ঘটনার পেছনে চালকের বেপরোয়া গতি বা অসতর্কতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কারণ। সাথে ফিটনেসবিহীন যানবাহন, অদক্ষ চালক, অতিরিক্ত গতি, মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচল, অবৈধ থ্রি-হুইলারের দাপট, যথাযথ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব এবং পথচারীদের নিরাপদ পারাপারের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
কিছু জায়গায় সড়কের পাশে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জনবসতি রয়েছে, অথচ সেখানে পর্যাপ্ত গতি নিয়ন্ত্রণ, সতর্কতামূলক সাইন, জেব্রা ক্রসিং বা নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই। ফলে একটি ব্যস্ত মহাসড়ক একই সঙ্গে যানবাহনের চলাচলের পথ এবং মানুষের দৈনন্দিন পারাপারের জায়গায় পরিণত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা একটি সীমান্তবর্তী ও উপকূলীয় জেলা। কৃষি, মৎস্য, ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ও মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত সবকিছুর সঙ্গে জেলার সড়ক যোগাযোগ সরাসরি যুক্ত। ফলে সড়কে নিরাপত্তাহীনতা শুধু কয়েকটি দুর্ঘটনার হিসাব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জেলার অর্থনীতি ও মানুষের জীবনযাত্রা। বিশেষ করে সাতক্ষীরা-খুলনা এবং সাতক্ষীরা-যশোর সড়কে যাত্রীবাহী বাস, পণ্যবাহী ট্রাক, মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যানসহ বিভিন্ন ধরনের যান একই সড়ক ব্যবহার করে।
যানবাহনের এই বৈচিত্র্যের সঙ্গে যদি যথাযথ নিয়ন্ত্রণ ও কৃঙ্খলা না থাকায়, দুর্ঘটনা বাড়ছে। সড়ক নিরাপত্তার আলোচনায় পথচারীদের কথা অনেক সময় উপেক্ষিত থাকে। অথচ প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে মহাসড়ক পার হতে হয়। কোথাও নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা নেই, কোথাও পর্যাপ্ত আলো নেই, আবার কোথাও সড়কের পাশে বাজার বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থাকলেও পথচারীর জন্য পারাপারের সঠিক ব্যবস্থা নেই।
লেখক: গাজী মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রনেতা, উদ্যোক্তা ও সমাজকর্মী।












