বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

‎সাতক্ষীরার সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের ফাঁদ!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:১৭ পূর্বাহ্ণ
‎সাতক্ষীরার সীমান্তে মাদক ও চোরাচালানের ফাঁদ!

গাজী মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ
‎একটি দেশের সীমান্ত কেবল ভৌগোলিক বিভাজনরেখা নয়, এটি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের গুরুত্বপূর্ণ প্রহরী। অথচ বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তের জেলা সাতক্ষীরার দীর্ঘ সীমান্ত ঘিরে চোরাচালান, মাদক পাচার এবং সীমান্তকেন্দ্রিক নানা অপরাধের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এসব অপরাধ শুধু সীমান্তের নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং স্থানীয় সমাজ, অর্থনীতি ও তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি করছে গভীর উদ্বেগ। সাতক্ষীরা সীমান্তের বাস্তবতা চোরাচালানকারীদের জন্য নানা সুযোগ তৈরি করে। সীমান্তবর্তী দুর্গম এলাকা, নদী-খাল, জনবসতির কিছু অংশকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন ধরনের পণ্য অবৈধভাবে পারাপারের অভিযোগ রয়েছে। এর সঙ্গে মাদক পাচারের বিষয়টি আরও ভয়াবহ। সীমান্তপথে কোনো মাদক বা নিষিদ্ধ পণ্য দেশে প্রবেশের পর তা শুধু সীমান্তবর্তী এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে না, একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, এ ধরনের অপরাধে শুধু সীমান্তের অপরাধী চক্রই নয়, স্থানীয় পর্যায়ের কিছু ব্যক্তি ও মধ্যস্বত্বভোগীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে সামনে আসে। বেকারত্ব, দারিদ্র্য ও সহজে অর্থ উপার্জনের প্রলোভনে কিছু তরুণ ও এই অবৈধ কর্মকা-ে জড়িয়ে পড়ছে। ফলে চোরাচালান একদিকে যেমন অপরাধের অর্থনীতি তৈরি করছে, অন্যদিকে তেমনি সামাজিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তবে সীমান্ত নিরাপত্তার আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্টভাবে মনে রাখা জরুরি। জীবিকার তাগিদে কিংবা অসচেতনতার কারণে কেউ সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করলে তার জন্য আইনানুগ ব্যবস্থা যেমন প্রয়োজন, তেমনি যারা পরিকল্পিতভাবে এই অপরাধের নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে, তাদের শনাক্ত করাও জরুরি। সীমান্তে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি, আটক বা নির্যাতনের অভিযোগ যেমন উদ্বেগজনক, তেমনি দেশের ভেতরে বসে যারা এই অবৈধ বাণিজ্যের পেছনে অর্থ, যোগাযোগ ও সংগঠন জোগান দেয়, তাদের আইনের আওতায় আনা আরও গুরুত্বপূর্ণ।
‎প্রশ্ন হচ্ছে একজন বাহক ধরা পড়লেই কি চোরাচালান বন্ধ হবে? নাকি প্রয়োজন সেই নেটওয়ার্কের মূল হোতা, অর্থদাতা, সরবরাহকারী ও স্থানীয় সহযোগীদের শনাক্ত করা প্রয়োজন। সীমান্ত নিরাপত্তা কেবল বিজিবির টহল বাড়ানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। প্রয়োজন সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। প্রথমত, চোরাচালান ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকর করতে হবে। রাজনৈতিক পরিচয়, সামাজিক প্রভাব কিংবা অর্থনৈতিক ক্ষমতা, কোনো কিছুই যেন অপরাধীদের আইনের ঊর্ধ্বে যাওয়ার সুযোগ না দেয়। তবে ব্যবস্থা হতে হবে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে, যাতে নিরপরাধ কেউ হয়রানির শিকার না হন।
‎সাতক্ষীরার সীমান্তকে শুধু অপরাধের পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করলে সমস্যার গভীরে পৌঁছানো যাবে না। এখানে যেমন নিরাপত্তার প্রশ্ন রয়েছে, তেমনি রয়েছে দারিদ্র্য, বেকারত্ব, সীমান্তবাসীর জীবন-জীবিকা এবং রাষ্ট্রীয় সেবার পর্যাপ্ততার প্রশ্ন। তাই সীমান্ত নিরাপত্তাকে মানবিক উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত করেই দেখতে হবে। লেখক: গাজী মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ সাবেক ছাত্রনেতা ও উদ্যোক্তা

Ads small one

প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ
প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকা বর্জ্য ও মাদকমুক্ত করার উদ্যোগ

শেখ আব্দুল আলিম: সাতক্ষীরা পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বাজার কমিটির সক্ষমতা বাড়াতে এক পরামর্শ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের ম্যানগ্রোভ সভাকক্ষে উন্নয়ন সংস্থা ‘রূপান্তর’-এর উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় সাতক্ষীরা পৌর এলাকা ও প্রাণসায়ের খাল পাড়ের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা জানান, প্রাণসায়ের খালের সৌন্দর্য বৃদ্ধি ও যাতায়াতের জন্য যে পথটি তৈরি করা হয়েছে, তা বর্তমানে গরু-ছাগল চলাচল, ময়লা-আবর্জনা এবং মাদকসেবীদের দখলে চলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতি নিরসনে পুরো এলাকাটিকে ধূমপান ও মাদকমুক্ত ঘোষণা করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি সচেতনতা বাড়াতে লিফলেট বিতরণ ও নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার জন্য ঝুড়ি (বাস্কেট) স্থাপনের প্রস্তাব রাখা হয়।
অনুষ্ঠানে রূপান্তরের প্রতিনিধি রতœা খাতুন, অণিক দত্ত এবং কর্মসূচি সঞ্চালক নাসরিন সুলতানা মৌ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন সাতক্ষীরা বড়বাজার কমিটির সভাপতি আব্দুর রব, সাতক্ষীরা পৌরসভার প্রতিনিধি মো. ইদ্রিস আলি, মো. রাশেদ, আব্দুল আলিম, ফরিদ আহম্মেদ ময়না এবং প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন ব্যবসায়ীরা।
আলোচনা পর্ব শেষে সাতক্ষীরা শহর ও প্রাণসায়ের খাল সংলগ্ন এলাকাকে পরিচ্ছন্ন ও মাদকমুক্ত রাখতে সর্বস্তরের নাগরিকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান পৌর প্রতিনিধি মোঃ ইদ্রিস আলি ও রূপান্তরের প্রতিনিধি নাসরিন সুলতানা মৌ।

সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৩৩ পূর্বাহ্ণ
সাতক্ষীরায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট, স্তব্ধ জনজীবন ও বাণিজ্য

নিজস্ব প্রতিনিধি: জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সাতক্ষীরা জেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। দিনে-রাতে মিলিয়ে অর্ধেকেরও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় দৈনন্দিন জীবনের পাশাপাশি স্তব্ধ হয়ে পড়েছে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিভিত্তিক শিল্প। দীর্ঘ লোডশেডিং ও ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বাসাবাড়ির ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি নষ্ট হচ্ছে। এতে চরম বিপাকে পড়েছে শিক্ষার্থীরা।
বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলায় সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকসংখ্যা প্রায় সাড়ে ছয় লাখ। পিক আওয়ারে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ চাহিদা থাকে প্রায় ১৫৮ মেগাওয়াট। তবে আবহাওয়াভেদে গড় চাহিদা প্রায় ১২০ মেগাওয়াট। জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ না পাওয়ায় ১০ থেকে ২০ শতাংশ, এমনকি ক্ষেত্রভেদে আরও বেশি লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
মাঠপর্যায়ে এলাকাভেদে দিনে মাত্র তিন থেকে চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ মিলছে। শ্যামনগরের কাশিমাড়ি ও আশাশুনির গদাইপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, দুই থেকে তিন ঘণ্টা পর মাত্র এক ঘণ্টার জন্য বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। ফলে সুপেয় পানির সংকট দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে ধানের মিল, মুড়ির মিল ও খাবার পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের কাজ স্থবির হয়ে পড়েছে। বরফ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আশাশুনির মৎস্য খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চালকেরাও জীবিকা সংকটে পড়েছেন।
সাতক্ষীরা সুন্দরবন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ জানান, ভোল্টেজ পরিবর্তনের কারণে ফ্রিজসহ মূল্যবান সরঞ্জাম বিকল হয়ে যাচ্ছে। এতে কোল্ড স্টোরেজ ও ফ্রিজনির্ভর ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। সামনে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষা থাকলেও বিদ্যুতের অভাবে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বিঘিœত হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার মুহাঃ আজিজু রহমান সরকার জানান, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটের কারণে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। স্বাভাবিক নিয়মে এক ঘণ্টার বেশি লোডশেডিং হওয়ার কথা নয়; তবে কোথাও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকলে তা কারিগরি ত্রুটি বা স্থানীয় সমস্যার কারণে হতে পারে।

পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬, ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি তালা-কয়রা সড়ক সংস্কার, ভোগান্তি চরমে

এমএম জামান মনি, পাটকেলঘাটা: সাতক্ষীরার তালা থেকে খুলনার কয়রা পর্যন্ত ৬০ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ ও বাঁক সরলীকরণের কাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। ৫৩৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রতার কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের এই মহাসড়কে চলাচলকারী হাজার হাজার মানুষকে মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের জানুয়ারিতে প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। একই বছরের ডিসেম্বরে ৩৩৯ কোটি টাকা চুক্তিতে মোজাহার এন্টারপ্রাইজকে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। ২০২২ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তিন দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে চলতি বছরের ৩০ ডিসেম্বর পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়। জমি অধিগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক ব্যয়সহ বর্তমানে প্রকল্পের মোট বাজেট দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৩৪ কোটি ৫৮ লাখ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, বাঁক সোজা করার কাজ সিংহভাগ শেষ হলেও সড়ক প্রশস্ত করার মূল কাজ অর্ধেকের কম হয়েছে। নির্মাণাধীন সড়কের ধুলোবালি ও খানাখন্দে যানবাহনের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে তিন গুণ বেশি লাগছে। বিশেষ করে রোগী, পরীক্ষার্থী ও নিত্যদিনের যাত্রীদের যাতায়াতে চরম বিঘœ ঘটছে।
খুলনা সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী আনিসুজ্জামান মাসুদ জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত আইনি জটিলতা ও সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের কারণে কাজে ধীরগতি ছিল। নির্ধারিত মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে তাগিদ দেওয়া হয়েছে। তালা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফেরদৌসী আফরোজা স্বর্ণাও নিয়মিত তদারকি করছেন বলে জানান।