সাতক্ষীরার হাট-বাজারে পর্যাপ্ত দেশি মাছের সরবরাহ, ন্যায্যমূল্য পেয়ে মাছচাষিরা লাভবান
এম শফিকুল ইসলাম: সাতক্ষীরা অঞ্চলের খাল-বিল, পুকুর ও জলশয়ের পানি সুস্বাদু হওয়ায় একসময় ২০০ প্রজাতির মাছের নিরাপদ আশ্রয়স্থল ছিল। কালের বিবর্তনে জলবায়ুর পরিবর্তন ও পরিবেশগত কারণে অনেক প্রজাতির মাছ ছিল বিলুপ্তির পথে। তবে দক্ষ মৎস্যচাষী ও মৎস্য বিভাগের মাঠপর্যায়ের প্রচেষ্টায় দেশি মাছ চাষে ফিরে এসেছে সুদিন।
সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলার খাল-বিল পুকুর ও মুক্ত জলাশয় বেড়েছে দেশী মাছের চাষ। মিঠা পানিতে চাষ হচ্ছে হরেক রকম দেশি মাছ। মিঠা পানির উল্লেখযোগ্য মাছ গুলো হচ্ছে-কৈ, শিং, মাগুর, টেংরা, পাবদা, তেলাপিয়া, চিতল, পাঙ্গাস, আইড়, পুঁটি, ফলুই, চান্দা, রুই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল, সরপুটি, গজাল, টাকি, শোল, কালবাউশ, খলিসা ও তিতপুঁটি। দেশীয় এসব মিঠা পানির মাছের প্রচুর চাহিদা রয়েছে খাদ্য তালিকায়।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জি.এম. সেলিম জানান, গত বছরের জুন থেকে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার হেক্টর এর বেশি জলাশয়ের দেশি প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। জলবায়ু অনুকূলে থাকায় দেশি মাছের উৎপাদন তুলনামূলকভাবে ভাব বেড়েছে। বিশেষ করে মাছ চাষীদেরকে দেশি মাছ উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভোক্তাদের মাছের চাহিদা পূরণে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তিনি আরো জানান, চলতি বছরের যে পরিমাণ মিঠা পানির মাছ উৎপাদিত হয়েছে তাতে ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সাতক্ষীরার আঞ্চলকভিত্তিক হাট-বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে বেড়েছে দেশী মাছের সরবরাহ। দামও রয়েছে ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে। সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, দিন দিন বাড়ছে দেশী মাছের চাষাবাদ। মাছ চাষিরা দেশীয় উৎপাদিত মাছ বাজারজাত করে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় মাছ চাষে উৎসাহিত হয়ে উঠেছে। প্রযুক্তি ব্যবহার করে মিঠা পানিতে দেশী মাছ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সুফল দেখছে মাছচাষীরা।
মাছ উৎপাদনে খরচ মিটিয়ে লাভের মুখ দেখছে তারা। সে কারণে দেশি মাছ চাষে অধিক আগ্রহী হয়ে উঠেছে এসব মাছ চাষীরা। মাছ চাষী শরিফুল ইসলাম বলেন, মাছের চাহিদা পূরণে সিংহভাগ মিঠা পানির মাছ সরবরাহ হচ্ছে গ্রাম ও শহরাঞ্চলের হাট বাজারগুলোতে। পর্যাপ্ত পরিমান সরবরাহের পরেও কমেনি মাছের দাম। বাজারদরে মাছের ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় আমরা খুশি।
এদিকে সাতক্ষীরার গ্রাম ও শহরের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বদেশী কৈ মাছ প্রতি কেজি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি শিং ও মাগুর ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি টেংরা ৭০০ টাকা ৮০০ টাকা, প্রতি কেজি পাবদা ৩৫০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, প্রতি কেজি তেলাপিয়া ২০০ টাকা থেকে ২৫০ টাকা, প্রতি কেজি শোল ৪০০ টাকা, প্রতি কেজি পুঁটি মাছ ২০০ টাকা প্রতি কেজি পাঙ্গাস ২০০ টাকা ২৫০ টাকা, প্রতি কেজি ফলুই ৪০০ টাকা, প্রতি কেজি রুই ২৫০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা, প্রতি কেজি কাতলা ৩০০ টাকা থেকে ৪০০ টাকা, প্রতি কেজি মৃগেল ৩০০ টাকা, প্রতি কেজি বোয়াল ৪০০ টাকা, প্রতি পুৃঁটি ১৫০ টাকা থেকে ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মৎস্যবিদ আবুল ফজল জানান, সাতক্ষীরার দরিদ্র মাছ চাষীদের নানা ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা দরকার। দেশীয় মাছ উৎপাদনে মাছ চাষীদের মৎস্য অধিদপ্তর থেকে মৎস্য প্রণোদনা নিশ্চিত হওয়া উচিত। সরকার মৎস্য অধিদপ্তর ও মৎস্য চাষীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় ফিরে আসতে পারে মৎস্য সম্পদের হারানো অতীত। কাছে ভোরে উঠতে পারে খাল, বিল, পুকুর, জলাশয় ও হাওর-বাঁওর।






