শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩

সুন্দরবন বন্ধ, নাকি খোলা? বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৬, ১০:১৪ অপরাহ্ণ
সুন্দরবন বন্ধ, নাকি খোলা? বন বিভাগের ভূমিকা নিয়ে সচেতন মহলের প্রশ্ন

উপকূলীয় অঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: সরকার ঘোষিত তিন মাসের প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবনে সব ধরনের মাছ, কাঁকড়া ও অন্যান্য বনজ সম্পদ আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও বাস্তবে সেই নিষেধাজ্ঞা কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। কাগজে-কলমে বন বন্ধ থাকলেও সুন্দরবনের বিভিন্ন নদী ও খালে অসংখ্য মাছ ও কাঁকড়া আহরণকারী নৌকার বিচরণ দেখা যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। এতে বন বিভাগের তদারকি ও দায়িত্ব পালনের বিষয়টি নিয়ে সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনের পুষ্পকাটি, দোবেকি, লটাবেকিসহ বিভিন্ন এলাকায় প্রতিগণে জেলেদের নৌকা প্রবেশ করছে। অভিযোগ রয়েছে, বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে সমঝোতা করে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে এসব নৌকাকে বনে প্রবেশের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এরপর তারা অবাধে মাছ ও কাঁকড়া আহরণ করে বাজারজাত করছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে ও বাওয়ালি জানান, বন বন্ধ থাকলে সাধারণত বনে মানুষের আনাগোনা কমে যায়। সে সময় যারা প্রবেশ করতে পারেন, তারা তুলনামূলক অনেক বেশি মাছ ও কাঁকড়া পান। একজন জেলে বলেন, “বন বন্ধের সময় মাছ ও কাঁকড়ার উৎপাদন বেশি থাকে। তাই যারা যেতে পারি, তারা ভালো আয় করি। কিন্তু সবাই তো যেতে পারে না।”

অন্যদিকে, স্থানীয়দের অভিযোগ, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে একটি প্রভাবশালী চক্র বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে অবৈধভাবে বন ব্যবহার করছে। এতে সরকারের রাজস্ব যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনি সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যও মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে।

এদিকে সম্প্রতি সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় বনদস্যুদের তৎপরতাও বেড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন জেলেকে জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, প্রজনন মৌসুমে সুন্দরবন বন্ধ রাখার মূল উদ্দেশ্য হলো মাছ, কাঁকড়াসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণীর নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং বনজ সম্পদ সংরক্ষণ করা। কিন্তু যদি নিষেধাজ্ঞা কার্যকর না হয়, তাহলে সরকারের এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে এবং দীর্ঘমেয়াদে সুন্দরবনের প্রাকৃতিক ভারসাম্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এ বিষয়ে বন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাদের দাবি, বন বন্ধের সময় নিয়মিত টহল পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অবৈধভাবে প্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বন বিভাগের ভাষ্য অনুযায়ী, কেউ যদি নির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দিতে পারেন, তবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, কেবল বক্তব্যে নয়, বাস্তবেও কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধভাবে সুন্দরবনে প্রবেশ, মাছ ও কাঁকড়া আহরণ এবং এ কাজে জড়িত ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

উল্লেখ্য, সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের স্বার্থে প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে বন তিন মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবে কতটা কার্যকর হচ্ছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখন বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে যাচাই ও প্রমাণ সাপেক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তই প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করতে পারে।

Ads small one

এই শীতে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১৩ পূর্বাহ্ণ
এই শীতে

মকবুল মাহ্ফুজ
উলের সোয়েটার পরে আছে ওষুধের দোকান
নতুন বছরের ক্যালেন্ডারের গায়ে শীতের চাদর।

এই শীতে গাছেরা কুঁজো হয়ে আছে।
হাড় কাঁপানো শীত এ বছর
আগুনে সেঁকতে হচ্ছে হাত। পা রোজ।
কার যেন কবিতায় পড়েছিলাম
‘কথা বললেই শীত কম লাগে।’
ইস্, এরা যদি কথা বলতে পারত!

মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে
বাবুর আলী গোলদার
কিছু ইতর প্রাণী মলমূত্র ত্যাগ করছে,
দুর্গন্ধ নাকে আসছে।
নারী কী পুরুষ চেনা দায় হচ্ছে,

সর্বাঙ্গ ঢাকা আছে।
বিরতিহীন হাঁটছে,
এপাড়া-ওপাড়া যাচ্ছে।
ফিসফিসিয়ে বলছেÑ
অনন্তকাল সুখভোগের লোভ দেখাচ্ছে।
বাহ্! সুখ যেন ওদের হাতে,
মিছামিছি লোভ দেখাচ্ছে।
সরলমনা মানুষগুলো কি বুঝতে পারছে?

 

আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
আমি তোমার বন্ধু হতে চাই

জহুরুল হক জুলু
সকালের রোদের চিকমিক সোনা গায়ে মেখে
যে নতুন দিনের জন্ম দেয়,
আর সন্ধ্যার আকাশে
আবিরের রঙ ছড়িয়ে

অস্তাচলে রেখে যাওয়া শেষ স্বাক্ষরÑ
শিল্পীর তুলিতে আঁকা রঙিন স্বপ্নের মতো;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
শীতের ভোরে
ঘাসের ডগায় জেগে থাকা শিশিরকণা

টুপটাপ ঝরে পড়ে নীরবে,
যেন একান্ত আপন ভেবে
বেদনার ভাষা জানাতে চায়Ñ
হৃদয় নিংড়ানো স্বচ্ছ সে কথা;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
সৌন্দর্যের ডালি সাজিয়ে, সুগন্ধ বিলিয়ে
যে নীরবে পৌঁছে যায় হৃদয়ের মনিকোঠায়,

অবশেষে একদিন
ঝরে পড়ে নিঃশব্দে,
নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েÑ
আমি সেই ফুলটিকে ধরে রাখতে চাই
সযতেœ স্মৃতির পাতায়;
আমি তার বন্ধু হতে চাই।
ঘুম ভাঙে কিচিরমিচির ডাকে,

হৃদয়ে জাগে অচেনা আলোড়ন।
কেউ দূর নীল আকাশে ভেসে যায়,
খাদ্যের সন্ধানে ব্যস্ত উড়াল;
সন্ধ্যা নামলে আবার
কুলায় ফেরে তৃপ্ত হৃদয়ে।
তাদের এই সহজ জীবনযাত্রা
কার না মন কাড়ে?
আমি সেই পাখিদের বন্ধু হতে চাই।

সবুজ ফসলের মাঠ মনকে ভুলিয়ে দেয়,
আলো-ছায়ার লুকোচুরি খেলায়
বাতাস দোলে ছন্দে ছন্দে;
তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে
আমার হৃদয়ের তীরে।
আমি তারও বন্ধু হতে চাই।
তুমিও তবে হাত বাড়াওÑ
দিগন্ত-বিস্তৃত উন্মুক্ত হাত।

এসো, আমরা বন্ধু হই

এই সৌন্দর্যের, এই জীবনের,

এই অনন্ত মমতার।

শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬, ১২:১২ পূর্বাহ্ণ
শীতল বাতাসের এক অনুরোধ

শাহাবুদ্দীন
সবকিছুর বিনিময়ে তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন ভোরের কুয়াশা তার অদৃশ্য আঙুল দিয়ে
ঘাসের ডগায় হেঁটে যায়,
শুধু নিঃশব্দে কিছু নরম আলো রেখে যায়।
আমি যত দিইÑ
শব্দ, সময়, স্মৃতি, অদৃশ্য আঙুলের স্পর্শÑ
সবই যেন মাটির নিচে সরে যায়;
কিন্তু তুমি ভালো থাকো,
এটাই আমার প্রার্থনা।
যেমন ঝড়ের পর একা পাতার ওপর
সন্ধ্যার আলো নেমে আসে,
তেমনি তোমার মুখে যেন
শান্তির নরম ছাপ থাকেÑ

যেখানে কেউ আহত হয় না, কেউ হারায় না।
আমি জানি, আমার দেওয়া সবকিছু
অদৃশ্য নদীর মতো বয়ে যাবে;
শুধু তুমি ভালো থেকো,
এই ভেবে নদীও থেমে যায়,
এক মুহূর্তের জন্য নিজেকে দাঁড় করায়।
তুমি ভালো থেকোÑ
যেমন হেমন্তের শেষে
শিশিরের নিচে একাকী ফুল;
শুধু নিজের উপস্থিতি দিয়ে
সমস্ত মাঠকে ভরিয়ে রাখে।
সবকিছুর বিনিময়ে,
যদি এই পৃথিবীর সমস্ত শব্দ,
সমস্ত নীরবতা, সমস্ত আকাশ
আমার হাতে এসে গলে যায়Ñ
তবু একটাই চাওয়া থাকবে:
তুমি ভালো থেকো,
যেমন নক্ষত্র নিজের আলো দিয়ে
রাত্রিকে আলোকিত রাখে,
অচল, অমোঘ, অদূর।