শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে গোলাগুলি চলছে, বাহিনী প্রধান আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ২:৫৯ অপরাহ্ণ
সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সঙ্গে গোলাগুলি চলছে, বাহিনী প্রধান আটক

পত্রদূত ডেস্ক: সুন্দরবনের বনদস্যু দুলাভাই বাহিনীর সঙ্গে কোস্টগার্ডের গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার রাতে বনবিভাগের কয়রা টহল ফাঁড়ির আওতাধীন ময়দাফেসা খাল এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গুলি লেগে সাকাত সরদার নামে এক জেলে নিহত হয়েছেন।

 

এছাড়া দুলাভাই বাহিনী প্রধান রবিউল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেছে কোস্টগার্ড। শুক্রবার সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে দুলাভাই বাহিনীর প্রধান রবিউল ইসলামকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায় কোস্টগার্ড। চিকিৎসা শেষে তাকে আবার সঙ্গে নিয়ে গেছে কোস্টগার্ডের সদস্যরা।

নিহত সাকাত সরদার ৩ নং ওয়ার্ড মহেশ্বরীপুর এলাকার ইজহার সরদারের ছেলে। থাকতেন ৬নং ওয়ার্ড তেতুল তলা গুচ্ছপাড়ায়।

হাসপাতালের চিকিৎসা নথিতে দেখা গেছে, কয়রা মহেশ্বরীপুর গ্রামের মানিক গাজীর জেলে রবিউল ইসলাম (৫০) কে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। তার হাতসহ শরীরে গুলির ক্ষত ছিল।

মহেশ্বরীপুর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, মানিক গাজীর জেলে রবিউল ইসলামই বনদস্যু দুলা ভাই বাহিনী প্রধান। একসময় সুন্দরবনের ত্রাস ছিল ‘ইলিয়াস বাহিনী’। তিনি মারা যাওয়ার পর ২০২৪ সালে ইলিয়াসের বোনের স্বামী রবিউল নতুন দল গড়ে তুললে স্থানীয় লোকজন এর নাম দেন ‘দুলাভাই বাহিনী’।

কয়রা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ শাহ আলম বলেন, বনের মধ্যে গোলাগুলি ও এক দস্যু নিহতের খবর শুনেছি। কিন্তু আমাদের কাছে এ বিষয়ে তথ্য নেই। কোস্টগার্ড বিষয়টি দেখছে।

সুন্দরবনের খুলনা রেঞ্জের সহকারি বন সংরক্ষক শরিফুল ইসলাম জানান, আমরাও বিষয়টি শুনেছি। কোস্টগার্ড বিস্তারিত বলতে পারবে।

 

শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬ দুপুরে কোস্ট গার্ড এর মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানান সুন্দরবনের কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সঙ্গে কোস্ট গার্ডের গোলাগুলি হয়েছে, অভিযান এখনো চলমান।

 

তিনি বলেন, গত ২৫ জুন ২০২৬ খুলনা জেলার কয়রা থানার বনপাড়া সংলগ্ন সুন্দরবনের গহীনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে কুখ্যাত ডাকাত ‘দুলাভাই বাহিনী’র সদস্যদের সঙ্গে রাতব্যাপী গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

 

বোটে অবস্থানরত ডাকাতদল কোস্ট গার্ডের উপস্থিতি টের পেয়ে অতর্কিত গুলি চালানো শুরু করে এবং আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যরাও ডাকাতদের বোট লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। চলমান এ অভিযানে এখন পর্যন্ত তিনজন ডাকাত সদস্যকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, ডাকাতদলের সদস্যরা সুন্দরবনের অভ্যন্তরে এবং নিকটবর্তী লোকালয়ে আশ্রয় নেবার চেষ্টা করতে পারে বিধায় সকলকে সতর্ক থাকা এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করার জন্য অনুরোধ করা হলো। কোস্ট গার্ডের নিকট তথ্য প্রদানকারীর বিষয়ে গোপনীয়তা রক্ষা করা হবে এবং পুরষ্কৃত করা হবে।

Ads small one

দেবহাটায় মাদক বিরোধী র‌্যালী ও সমাবেশ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৫৪ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় মাদক বিরোধী র‌্যালী ও সমাবেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি: আন্তর্জাতিক মাদক বিরোধী দিবস উপলক্ষে দেবহাটায় মাদক বিরোধী র‌্যালী ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (২৬ জুন) বিকাল ৩ টায় দেবহাটা উপজেলা জামাতের যুব ও ক্রীড়া বিভাগের আয়োজনে পারুলিয়া বাস স্টেশন থেকে একটি মটর সাইকেল র‌্যালী শুরু হয়। র‌্যালীটি উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পারুলিয়া বাস স্টেশনে এসে শেষ হয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত সমাবেশে দেবহাটা উপজেলা যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সভাপতি মাওলানা আনারুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সেক্রেটারী মাসুদ রানার সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি থেকে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন, সাতক্ষীরা জেলা জামাতের সহকারী সেক্রেটারি মাহবুবুল আলম, সহকারী সেক্রেটারি আসাদুজ্জামান মুকুল, জেলা জামাতের কর্ম পরিষদ সদস্য নজরুল ইসলাম, দেবহাটা উপজেলা জামাতের আমির মাওলানা ওলিউল্লাহ, উপজেলা জামতের সেক্রেটারী ইমদাদুল হক, উপজেলা জামাতের কর্ম পরিষদ সদস্য মাওলানা দেলওয়ার হোসেন, জিয়াউর রহমান জিয়া, কুলিয়া ইউনিয়ন জামাতের সভাপতি রুহুল আমিন, কুলিয়া ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি মাওলানা সাদিকুর রহমান, পারুলিয়া ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি রফিকুল ইসলাম, সখিপুর ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারি আফসার আলী, দেবহাটা সদর ইউনিয়ন জামাতের সেক্রেটারী আব্দুর রাজ্জাক প্রমুখ।

মানহীন রেস্টুরেন্টের ছড়াছড়ি : আশাশুনিতে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৪৬ অপরাহ্ণ
মানহীন রেস্টুরেন্টের ছড়াছড়ি : আশাশুনিতে প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা

আশাশুনি সংবাদদাতা: সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায় দিন দিন বাড়ছে বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানের সংখ্যা। তবে প্রশাসনের নিয়মিত তদারকির অভাবে এসব প্রতিষ্ঠানের একটি অংশে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন, অতিরিক্ত দাম আদায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে রান্না এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। ফলে প্রতিদিনই প্রতারিত হচ্ছেন সাধারণ ভোক্তারা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।

 

উপজেলার বুধহাটা, আশাশুনি সদর, প্রতাপনগর, গুনাকরকাটি, কুল্যার মোড, দরগাপুর, কাদাকাটি, কালীবাড়ি, আনুলিয়া ও খাজরা বাজারের কয়েকটি রেস্টুরেন্ট ও ফাস্টফুড দোকানে গিয়ে দেখা যায়, অনেক জায়গায় খাবার প্রস্তুত ও সংরক্ষণের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয়। রান্নাঘর অপরিষ্কার, পুরোনো তেল বারবার ব্যবহার করা হচ্ছে এবং ফ্রিজে দীর্ঘদিন সংরক্ষিত মাংস ও মাছ দিয়ে বিভিন্ন খাবার প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে স্থানীয় কয়েকজন ভোক্তা অভিযোগ করেন।

 

আশাশুনি সদর বাজারের এক ভোক্তা, পরিচয় প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেন, “মেন্যুতে যেভাবে খাবারের বর্ণনা দেওয়া থাকে, বাস্তবে খাবারে সেই উপকরণ পাওয়া যায় না। চিকেনের পরিবর্তে হাড় বেশি, সবজির পরিবর্তে অতিরিক্ত সস ব্যবহার করা হয়। দামও তুলনামূলক বেশি নেওয়া হয়।” আরেকজন কলেজ শিক্ষার্থী জানান, অনেক ফাস্টফুড দোকানে বারবার একই তেল ব্যবহার করে চিকেন ফ্রাই, বার্গার ও অন্যান্য ভাজাপোড়া তৈরি করা হয়। এতে খাবারের স্বাদ যেমন নষ্ট হয়, তেমনি স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে।স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন ফ্রিজে রাখা মাংস, মাছ কিংবা বারবার ব্যবহৃত তেলে রান্না করা খাবার শরীরে নানা ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। এসব খাবার থেকে খাদ্যে বিষক্রিয়া, গ্যাস্ট্রিক, লিভারের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকিও সৃষ্টি হতে পারে।

 

স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, উপজেলার অনেক রেস্টুরেন্ট ও খাবারের দোকানে ট্রেড লাইসেন্স, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্য পরিবেশনের সনদ, অগ্নিনিরাপত্তা ছাড়পত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়মিত নবায়ন করা হয় না। তবুও এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তেমন কোনো অভিযান বা নিয়মিত মনিটরিং চোখে পড়ে না। এ বিষয়ে আশাশুনি উপজেলার কয়েকজন ব্যবসায়ী বলেন, অধিকাংশ ব্যবসায়ী স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশে খাবার পরিবেশনের চেষ্টা করেন। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর কারণে পুরো খাতের সুনাম ক্ষুণœ হচ্ছে।

 

নিয়মিত প্রশাসনিক নজরদারি হলে অনিয়ম অনেকটাই কমে আসবে। সচেতন মহলের দাবি, উপজেলা প্রশাসন, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সমন্বয়ে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাদ্যের মান পরীক্ষা এবং লাইসেন্স যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি ভোক্তাদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নিরাপদ ও মানসম্মত খাদ্য ভোক্তার মৌলিক অধিকার। তাই জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অনিয়মকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি সচেতনতামূলক কার্যক্রমও জোরদার করা জরুরি।

 

মাদক প্রতিরোধে দুই পুরস্কার পেল ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২৬, ৫:৩১ অপরাহ্ণ
মাদক প্রতিরোধে দুই পুরস্কার পেল ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন

মাদক প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন দুটি পুরস্কার অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৬ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ পুরস্কার প্রদান করেন।

ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টরের পরিচালক ইকবাল মাসুদ এবং আহ্ছানিয়া মিশন মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র (যশোর)-এর ম্যানেজার মিজানুর রহমানের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

বিজ্ঞানভিত্তিক মাদক প্রতিরোধ কার্যক্রমে বিশেষ অবদানের জন্য আহ্ছানিয়া মিশনের যশোর কেন্দ্র এবং জাতীয় মাদকবিরোধী র‌্যালিতে বর্ণাঢ্য অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনকে এ পুরস্কারের জন্য মনোনীত করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর। দিবস উপলক্ষে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশনের স্বাস্থ্য সেক্টর ও ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব সাবসটেন্স ইউজ প্রোফেশনালস (আইস্যাপ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের উদ্যোগে তিন শতাধিক তরুণ-তরুণী ব্যানার-ফেস্টুনসহ র‌্যালিতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। সভাপতিত্ব করেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ।

উল্লেখ্য, ১৯৯০ সাল থেকে ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন দেশে মাদক প্রতিরোধ, বিজ্ঞানভিত্তিক চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ ও যশোরে পুরুষদের এবং ঢাকায় নারীদের জন্য মাদকাসক্তি চিকিৎসা ও পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিচালনা করছে। প্রেসবিজ্ঞপ্তি