সুন্দরবনের সবুজ ক্যানভাসে আশাশুনি প্রেস ক্লাবের আনন্দ ভ্রমণ
বিএম আলাউদ্দীন, আশাশুনি: ইটের দেয়াল আর সংবাদপত্রের ব্যস্ত নগরজীবনকে পেছনে ফেলে এক চিলতে সবুজের খোঁজে বের হয়েছিলেন একঝাঁক সংবাদকর্মী। উপলক্ষ আশাশুনি প্রেস ক্লাবের বার্ষিক আনন্দ ভ্রমণ। গত শনিবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ সুন্দরবনের গহীনে সবুজের সান্নিধ্যে কাটালেন তাঁরা।
ভোর হতেই আশাশুনি থেকে শুরু হয় অভিযাত্রা। উদ্দেশ্য সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার উপকূলীয় সীমান্ত। যাত্রাপথে হাস্যরস আর আড্ডায় মেতে ওঠেন সংবাদকর্মীরা। পথে সাতক্ষীরার নীলডুমুর ঘাটে পৌঁছেই দেখা মেলে সুন্দরবনের কোলঘেঁষে বয়ে চলা খোলপেটুয়া নদীর বিশালতা। সেখান থেকে ট্রলারে চড়ে শুরু হয় বনের ভেতরের মূল রোমাঞ্চ।
কলাগাছিয়া ইকোট্যুরিজম সেন্টারে পৌঁছাতেই যেন চারপাশের রূপ বদলে গেল। বনের চিরচেনা লোনা জলের ঘ্রাণ আর পশুপাখির কলতানে মুখর চারপাশ। বনের কাঠের ট্রেইল দিয়ে হাঁটার সময় দেখা মেলে হরিণের পালের অবাধ বিচরণ। বানরের দুষ্টুমি আর বনের স্নিগ্ধতা যেন নিমিষেই ভুলিয়ে দিচ্ছিল যান্ত্রিক জীবনের সব ক্লান্তি। বনের ওয়াচ টাওয়ারে উঠে দূর দিগন্তে সুন্দরবনের অবারিত সবুজ দেখে মুগ্ধ হন সবাই।
সফরে কেবল প্রকৃতি দর্শনই নয়, প্রেস ক্লাবের সদস্যদের মধ্যে এক অন্যরকম মেলবন্ধন তৈরি হয়েছিল। দুপুরে আকাশ আর বনের মাঝখানে ট্রলারের ওপর চলে প্রীতিভোজ। মধ্যাহ্নভোজের পর চলল ছোটখাটো স্মৃতিচারণ আর গানের আড্ডা।
আশাশুনি প্রেস ক্লাবের এই ভ্রমণে নেতৃত্ব দেন সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদক। এছাড়া ক্লাবের অন্যান্য সিনিয়র ও জুনিয়র সদস্যরা এই আনন্দঘন আয়োজনে অংশ নেন। উপস্থিত সবাই মনে করেন, এমন আয়োজন কাজের চাপ কমিয়ে সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং নিজেদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ সুদৃঢ় করতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
সূর্য যখন পশ্চিম আকাশে হেলে পড়ছে, তখন শুরু হয় ফেরার আয়োজন। গোধূলির আলোয় সুন্দরবনের রূপ যেন আরও রহস্যময় হয়ে ওঠে। এক বুক সতেজ বাতাস আর একরাশ স্মৃতি নিয়ে সন্ধ্যায় আবারও লোকালয়ে ফিরে আসেন সংবাদকর্মীরা। প্রকৃতি আর বন্ধুত্বের মিশেলে দিনটি ছিল তাঁদের জন্য স্মৃতির পাতায় তুলে রাখার মতো একটি দিন।








