রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩
রবিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৬, ৮ ভাদ্র ১৪৩৩

হামের উচ্চঝুঁকি : প্রতিরোধ ও প্রতিকার জরুরি

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১০:৫৩ অপরাহ্ণ
হামের উচ্চঝুঁকি : প্রতিরোধ ও প্রতিকার জরুরি

এম শফিকুল ইসলাম

২০২৬ সালের মার্চ থেকে দেশে হামের প্রার্দুভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম বিষয়ক প্রতিবেদনে এবং গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর মধ্য মার্চ থেকে শুরু করে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত নিশ্চিত হাম ও সন্দেহজনক উপসর্গে ৯০৮ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৯ জন ও হামের উপসর্গ নিয়ে ৮০৯ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকা বিভাগের সংক্রমণ ও মৃত্যু বেশি হলেও রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগেও এর প্রভাব রয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সময় মত টিকা না দেওয়া এবং শিশুদের পুষ্টিহীনতা এ মৃত্যুর প্রধান কারণ। বাংলাদেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। জাতীয়ভাবে অবস্থা উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মূল্যায়ন করছে দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮ সংক্রমণ ছড়ানো, বিপুল সংখ্যক শিশুর আক্রান্ত হওয়া, সময় মত টিকাদানের অভাবে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতায় ঘাটতি এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর ঘটনাবলির আলোকে সংস্থাটি এ মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। তারা বলছে, এ প্রার্দুভাবের আগে বাংলাদেশ হাম নির্মূলে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছিল।

 

হাম প্রতিরোধী টিকার প্রথম ডোজের কভারেজ ২০০০ সালে ছিল ৮৯ শতাংশ। ২০১৬- তে বেড়ে দাঁড়ায় ১১৮। ২০২৪ সালে তা আরো বেড়ে হয় ১২১ শতাংশ। এ সময় পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম রোগীর হার কমে এসেছিল। তবে ২০২৪-২৫ সালে জাতীয় পর্যায়ে এমআর টিকা ঘাটতির কারণে প্রথম ও দ্বিতীয় ডজের কভারেজ কমে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নিয়মিত টিকা দানের ফাঁক এবং ২০২০ সালের পর দেশব্যাপী নিয়মিত সম্পূরক হাম রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি না থাকা। এসব কারণে সংক্রমনের ঝুঁকিতে থাকা শিশু সংখ্যা বেড়েছে এবং বর্তমান প্রাদুর্ভাব সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই ঝুঁকি ‘উচ্চ’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।

 

এ সময় দ্রুত জরুরি ব্যবস্থা না নিলে সংক্রমণ আরো ছড়াতে পারে। সেজন্য নজরদারি শক্তিশালী করা দূরত্ব রোগ শনাক্ত ও আরোগ্যের পদক্ষেপ নেওয়া কর্তব্য। পাশাপাশি উন্নত মানের টিকাদান কার্যক্রমের মাধ্যমে রোগ প্রতিরোধের ঘাটতি পূরণ করণীয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এ বিষয়ে আরো যেসব পরামর্শ দিয়েছে, সেগুলোর প্রতিপালন শিশুদের সুরক্ষায় সহায়ক হবে। ৮ শতাধিক শিশু মৃত্যুর মর্মান্তিক বেদনার বেদীতে দাঁড়িয়ে দেশবাসী প্রত্যাশা করে, কর্তৃপক্ষের টনক নড়ক। সময় মতো প্রতিরোধ পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থতার জন্য তাদের মধ্যে অপরাধবোধ জাগুক। ভবিষ্যতের জন্য তারা সচেতন হোক।

 

সব ব্যর্থতার জন্য সরকার বা সরকার প্রধানের দিকে আঙ্গুল তুলেও পার পাওয়া যাবে না। রাষ্ট্রয়ন্ত্রের কোথায় কার কি দায়িত্ব ছিল, কার ব্যর্থতায় এ বির্পযয় ঘটল-তা খোঁজা হবে। কৃতকর্মের দায়ভোগও করতে হবে তাদের। সুতরাং সাধু সাবধান। লেখক: সাংবাদিক ও নাট্যকার

Ads small one

সম্পাদকীয়/ নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:০৩ পূর্বাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে

উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় মানবাধিকার ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মানবাধিকার কর্মীসহ স্থানীয় সুশীল সমাজ। রবিবার ‘পত্রদূত’-এ প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী, মে থেকে জুলাই পর্যন্ত মাত্র তিন মাসে জেলায় ৬৮৪টি অপরাধের ঘটনা এবং ১৩৬ জনের অপমৃত্যুর তথ্য আমাদের চিন্তিত করে। ২৫১টি মাদক মামলা, ৫০টি নারী নির্যাতন, ২১টি ধর্ষণ এবং ৯টি হত্যাকা-ের মতো ঘটনা প্রমাণ করে যে, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ কতটা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সর্বাধিক চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে মানসিক স্বাস্থ্য ও সামাজিক অস্থিরতার প্রকাশ। তিন মাসে ৬৫টি আত্মহত্যার ঘটনা কোনো সাধারণ পরিসংখ্যান নয়; এটি তীব্র মানসিক সংকট, অর্থনৈতিক টানাপোড়েন ও সামাজিক সহমর্মিতার অভাব নির্দেশ করে। এর পাশাপাশি সুন্দরবনে ডাকাতদের হাতে ৩২ জন জেলের অপহরণ এবং সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে প্রাণহানি ও আহতের ঘটনা উপকূলীয় ও সীমান্তঘেঁষা মানুষের জীবিকা ও জীবনকে প্রতিনিয়ত চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।
আইনশৃঙ্খলার এই ধসের পাশাপাশি বিচারপ্রার্থী মানুষের আইনি সুরক্ষার পথও আজ অবরুদ্ধ। সাতক্ষীরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দীর্ঘদিন বিচারক না থাকায় শত শত ভুক্তভোগী নারী ও শিশু বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেনÑযা মানবাধিকারের আরেকটি বড় লঙ্ঘন। বিচারিক প্রক্রিয়ার এই স্থবিরতা অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে। মানবাধিকার রক্ষা কেবল কোনো নির্দিষ্ট সংস্থার একক দায়িত্ব হতে পারে না; এটি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রতিশ্রুতি। সাতক্ষীরার এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবিলম্বে কয়েকটি কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। তা হলোÑ মাদক ট্রাফিকিং, চুরি-ডাকাতি ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধে পুলিশের দৃশ্যমান ও কঠোর টহল নিশ্চিত করা। জজ কোর্টের শূন্য পদে দ্রুত বিচারক নিয়োগ দিয়ে স্থবির হয়ে থাকা মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করা। সীমান্তে কঠোর কূটনৈতিক তদারকি এবং সুন্দরবনে জেলেদের নিরাপত্তায় কোস্টগার্ড ও নৌপুলিশের যৌথ অভিযান জোরদার করা। আত্মহত্যা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ উদ্যোগে কাউন্সেলিং ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালু করা।
একটি সভ্য সমাজে সংখ্যা দিয়ে মানুষের জীবনের মূল্য বিচার করা যায় না। প্রতিটি অপমৃত্যু ও অপরাধের পেছনে লুকিয়ে রয়েছে একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি। জেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সুশীল সমাজকে অবিলম্বে একসঙ্গে বসে এই নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় কার্যকর ও টেকসই পদক্ষেপ নিতে হবে।

ক্যালারোয়ায় ‘জাতীয় তরুণ সংঘের’ নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রবিউল, সম্পাদক রঞ্জু, সাংগঠনিক মোস্তাক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৭ অপরাহ্ণ
ক্যালারোয়ায় ‘জাতীয় তরুণ সংঘের’ নতুন কমিটি গঠন: সভাপতি রবিউল, সম্পাদক রঞ্জু, সাংগঠনিক মোস্তাক

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন জাতীয় তরুণ সংঘের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে কলারোয়া সরকারি কলেজ সংলগ্ন ক্লাবের নিজস্ব ভবনে এক জরুরি সভায় ক্লাবের সকল সদস্যদের সর্বসম্মতিক্রমে ২৩ সদস্য বিশিষ্ট কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়। তিন বছর মেয়াদি নতুন কার্যনির্বাহী কমিটিতে মো. রবিউল হোসেনকে সভাপতি, আরিফুর রহমান রঞ্জুকে সাধারণ সম্পাদক ও মোস্তাক আহমেদকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। এছাড়া কমিটিতে ৬ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে রাখা হয়েছে।
সভা শেষে নবনির্বাচিত সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক জানান, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কলারোয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী ক্রীড়া সংগঠন জাতীয় তরুণ সংঘ তার ঐতিহ্য অব্যাহত রাখতে কাজ করবে। মাদক থেকে যুবসমাজকে দূরে রাখতে অতি দ্রুতই কলারোয়া সরকারি কলেজ মাঠে ফুটবল টুর্নামেন্টের আয়োজন, তরুণ প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড়দের প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। একই সাথে উপজেলায় বৃক্ষরোপণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন-সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম মল্লিক, এনায়েত খাঁন টুন্টু, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ আহম্মেদ সোহেল, সহ-সাধারণ সম্পাদক ই-ইউনুছ আলী, কোষাধ্যক্ষ আলমগীর কবীর তারেক, দপ্তর সম্পাদক খালিদ সাইফুল্লাহ, সহ-দপ্তর সম্পাদক মুকুল হোসেন, ক্রীড়া সম্পাদক সুভাষ চন্দ্র, সহ-ক্রীড়া সম্পাদক শাহাদাত হোসেন অপু, প্রচার সম্পাদক নাছির উদ্দিন, সহ-প্রচার সম্পাদক আতিয়ার রহমান, সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সাহেব আলী, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক উত্তম গোলদার, সহ-সংস্কৃতি সম্পাদক সন্তোষ কুমার, শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক আনারুল ইসলাম, সহ-শ্রমিক কল্যাণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, কার্যনির্বাহী সদস্য মজনুর রহমান মজনু, শাহীনুজ্জামান খাঁন পপি, মোজাম্মেল হক ও নজরুল ইসলাম।
এছাড়া উপদেষ্টা হিসেবে রয়েছেন-সিরাজুল ইসলাম, মাগফুর রহমান রাজু (সাবেক পৌর কাউন্সিলর), শেখ জামিল হোসেন (সাবেক পৌর কাউন্সিলর), শেখ আমজাদ হোসেন (সাবেক সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ সদস্য), রফিকুল হাসান (সাবেক পৌর কাউন্সিলর) ও ড্যা. মনোয়ার হোসেন।

দেবহাটায় শিশুশ্রমমুক্ত ও শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ামুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ২৩ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫৫ অপরাহ্ণ
দেবহাটায় শিশুশ্রমমুক্ত ও শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ামুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণা

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটায় শিশুশ্রমমুক্ত ও শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ামুক্ত ইউনিয়ন ঘোষণা ও উদযাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) সকাল ১১টায় উপজেলার পারুলিয়া সীমান্ত ট্রেড স্কুল চত্বরে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের অর্থায়নে এবং সুশীলন দেবহাটা এরিয়া প্রোগ্রামের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পারুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক বাবু। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা নাসরিন জাহান।
সুশীলনের সিভিও কমিটির সভাপতি ও সাংবাদিক লিটন ঘোষ বাপির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দেবহাটা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মিজানুর রহমান, সাংবাদিক মীর খাইরুল আলম, সাংবাদিক আর. কে. বাপ্পা, ইছামতি টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আহসান সালেহীন, সাংবাদিক কে. এম. রেজাউল করিম, পারুলিয়া ইউনিয়নের সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্য নূর বানু কাদেরী, হাছিনা খাতুন ও রেহেনা পারভীন।