বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
বুধবার, ৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

৭ বছর পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ল্যাপারোস্কপিক পিত্তথলি অপারেশন শুরু

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬:২৪ অপরাহ্ণ
৭ বছর পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ল্যাপারোস্কপিক পিত্তথলি অপারেশন শুরু
এসএম বিপ্লব হোসেন: দীর্ঘ সাত বছর পর সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে আধুনিক ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে পিত্তথলির অপারেশন (ল্যাপারোস্কপিক কোলিসিস্টেকটমি) পুনরায় চালু হয়েছে। পেট না কেটে মেশিনের মাধ্যমে এ অপারেশন চালু হওয়ায় জেলার সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সিভিল সার্জন কাম তত্ত্বাবধায়ক ডা. আব্দুস সালামের উদ্যোগ ও আন্তরিক প্রচেষ্টায় এ সেবা পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। প্রথম দিনে সফলভাবে অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. সুব্রত কুমার মন্ডলের নেতৃত্বে এই অপারেশনে সহযোগিতা করেন সার্জারি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তফা আরাফাত ইসলাম এবং এনেস্থিসিয়ার দায়িত্বে ছিলেন ডা. রাজীব কাওসার। ট্রলি নার্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ওটি ইনচার্জ আকলিমা।
সার্জারি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মোস্তফা আরাফাত বলেন, ল্যাপারোস্কপিক পদ্ধতিতে অপারেশন চালু হওয়ায় রোগীরা কম ব্যথা, কম রক্তক্ষরণ এবং দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছেন। এ পদ্ধতিতে পেট না কেটে ছোট ছোট ছিদ্রের মাধ্যমে অপারেশন করা হয়, ফলে সংক্রমণের ঝুঁকি কম থাকে এবং রোগীদের হাসপাতালে থাকার সময়ও তুলনামূলক কম লাগে। তিনি আরও জানান, আধুনিক এই সেবা চালু থাকলে জেলার সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে উন্নত চিকিৎসা নিতে পারবে এবং বাইরে যাওয়ার প্রবণতা কমবে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুর রহমান জানান, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর ল্যাপারোস্কপি মেশিন সচল করে আবারও আধুনিক এই সেবা চালু করা হয়েছে। এতে রোগীদের আর বাইরে গিয়ে ব্যয়বহুল অপারেশন করাতে হবে না। স্বল্প খরচে এবং ঝুঁকি কমিয়ে এখন সদর হাসপাতালেই এ অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে। এটি জেলার স্বাস্থ্যসেবায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম বলেন, যোগদানের পর হাসপাতালের স্টোরে পড়ে থাকা একটি ল্যাপারোস্কপি মেশিন শনাক্ত করে সেটিকে অপারেশন উপযোগী করা হয়। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের সমন্বয়ে দ্রুত প্রস্তুতি নিয়ে সফলভাবে অপারেশন শুরু করা গেছে। তিনি বলেন, “এখন থেকে দরিদ্র ও সাধারণ মানুষও সহজে এই আধুনিক চিকিৎসা সেবা পাবে।”
অপারেশন করা রোগীর ভাই জানান, আগে পেট কেটে অপারেশনের কথা শুনে ভয় লাগতো। কিন্তু এখানে মেশিনের মাধ্যমে ছোট ছিদ্র করে অপারেশন হওয়ায় খুব বেশি কষ্ট হয়নি বলে জানিয়েছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। তিনি বলেন, “জেলায় এমন আধুনিক চিকিৎসা সেবা চালু হওয়ায় আমরা অনেক উপকৃত হবো।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বহিঃবিভাগের ১১৭-১১৮ নম্বর কক্ষ থেকে নির্ধারিত সময়ে আউটডোর টিকিট সংগ্রহ করে রোগীরা এ সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে বর্তমানে জেনারেল সার্জারি, ইউরোলজি এবং ডায়াবেটিক ফুট কেয়ারের আওতায় বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা ও অপারেশন সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য—পিত্তথলির পাথর অপারেশন, অ্যাপেন্ডিক্স, হার্নিয়া, পাইলস, ফিস্টুলা, বিভিন্ন টিউমার অপারেশন, প্রস্রাবজনিত জটিলতা, জন্মগত ইউরোলজি সমস্যা, ডায়াবেটিক ফুটের চিকিৎসাসহ নানা আধুনিক সেবা।
চিকিৎসকরা জানান, এই সেবা ধারাবাহিকভাবে চালু রাখতে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও জনবল নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আরও উন্নত সার্জিক্যাল সেবা প্রদান সম্ভব হবে।
জেলার সচেতন মহল মনে করছে, সদর হাসপাতালে আধুনিক এই সেবা চালু হওয়ায় স্বাস্থ্যসেবায় নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো এবং এতে করে সাধারণ মানুষ বিশেষভাবে উপকৃত হবে।

Ads small one

সম্পাদকীয়/ বাঁশদাহার কয়ারবিল ব্রিজ কি সংস্কার হবে

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ণ
সম্পাদকীয়/ বাঁশদাহার কয়ারবিল ব্রিজ কি সংস্কার হবে

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশদাহা ইউনিয়নের কয়ারবিল এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজটির বর্তমান বেহাল দশা কেবল স্থানীয় সড়ক যোগাযোগের অব্যবস্থাপনাই ফুটিয়ে তোলে না, বরং তা জননিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সংবাদদাতাদের পাঠানো খবর অনুযায়ী, এক বছরেরও বেশি সময় ধরে ব্রিজটির বিভিন্ন অংশ ভেঙে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। অথচ অত্যন্ত জনগুরুত্বপূর্ণ এই অবকাঠামোটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণে এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়া চরম উদ্বেগজনক।

কয়ারবিলের এই সড়কটি মূলত কলারোয়া উপজেলার সঙ্গে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রতিদিন এই পথ দিয়ে শত শত মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, ভ্যান ও পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। বর্তমানে ব্রিজের ভেঙে যাওয়া অংশে বাঁশ, কাঠ, ইটের রাবিশ আর মাটির বস্তা দিয়ে কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে যাতায়াত সচল রাখা হয়েছে। একটি ব্যস্ততম গ্রামীণ সড়কের প্রধান ব্রিজে এমন ঝুঁকিপূর্ণ ও আদিম উপায়ে চলাচল সচল রাখা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি তা স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতারও বহিঃপ্রকাশ। এই নড়বড়ে সেতুটি যেকোনো মুহূর্তে ধসে পড়ে বড় ধরনের প্রাণহানি কিংবা মানবিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

এই অচলাবস্থার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় কৃষক ও সাধারণ মানুষ। কয়ারবিল অঞ্চল থেকে ধান, সবজি ও মাছের মতো পচনশীল পণ্য জেলা শহরের বাজারে নেওয়ার একমাত্র পথ এটি। ব্রিজের এই জরাজীর্ণ অবস্থার কারণে কৃষকদের বাধ্য হয়ে দীর্ঘ বিকল্প পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে, যা তাঁদের পরিবহন খরচ ও সময় দুই-ই বাড়িয়ে দিচ্ছে। এ ছাড়া স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী ও জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী রোগীদের দুর্ভোগের তো কোনো সীমাই নেই।

সামনে বর্ষা মৌসুম। ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে পানির তোড়ে এবং অতিরিক্ত চাপে জরাজীর্ণ এই ব্রিজের বাকি অংশটুকুও ধসে পড়ার আশঙ্কা শতভাগ। তেমনটি ঘটলে আশপাশের বেশ কয়েকটি গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা দেবে।

আমরা মনে করি, জনগণের জানমালের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সচলতা বজায় রাখা যেকোনো স্থানীয় সরকারের প্রথম কাজ। কয়ারবিল ব্রিজের ক্ষেত্রে এই দীর্ঘসূত্রতা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটার পর টনক নড়ার সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। বর্ষা পুরোদমে শুরু হওয়ার আগেই অতি দ্রুত এই স্থানে একটি নতুন ও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরি ও সর্বোচ্চ হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

 

 

তালায় স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:১৯ অপরাহ্ণ
তালায় স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করলেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

তালা প্রতিনিধি: তালা উপজেলার খেশরা ইউনিয়নের হরিহরনগর (মুড়াগাছা) গ্রামে এক স্কুলছাত্রীর বাল্যবিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খানের নেতৃত্বে পরিচালিত একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, হরিহরনগর গ্রামের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক স্কুলছাত্রীর সঙ্গে একই গ্রামের সবুজ গাজীর (২৪) বিয়ের আয়োজন চলছেÑএমন খবর পায় ‘রিইব’-এর তালা উপজেলা সিএসও কমিটির এক সদস্য। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের প্রতিনিধিরা প্রথমে কনের বাড়িতে গিয়ে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।

পরে বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রাহাত খানের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান পরিচালনা করেন। এ সময় স্থানীয় খেশরা ইউপি চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু, ইউপি সদস্য, খেশরা ক্যাম্প পুলিশ এবং গ্রামের লোকজনের উপস্থিতিতে বাল্যবিয়ের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। একই সঙ্গে বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে মেয়ের বাবার কাছ থেকে একটি মুচলেকা নেওয়া হয়।

উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ও জেলার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিচালক নাজমুন নাহার অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে একটি স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের আগেই গতকাল সকালে সাতক্ষীরার এক নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে সবুজ গাজীর কাগজের কলমে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছিল।

 

কাদার নিচে সোনা-রুপা খোঁজা একজন নাজিমের গল্প

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১১:১৫ অপরাহ্ণ
কাদার নিচে সোনা-রুপা খোঁজা একজন নাজিমের গল্প

রনজিত বর্মন, সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর): সকাল হলেই কাঁধে চেপে বসে এক টুকরো অনিশ্চয়তা আর আশা। মেঠো পথ, আধা পাকা রাস্তা কিংবা পিচ ঢালা পথ ধরে হেঁটে চলেন এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। অলিতে-গলিতে ঘুরে চড়া গলায় জানান দেন নিজের উপস্থিতির কথাÑপুকুর বা জলাশয়ে হারিয়ে যাওয়া সোনা-রুপার গহনা খুঁজে দেওয়াই তাঁর কাজ।

এই মানুষের নাম নাজিম মাহমুদ (৪০)। মুন্সিগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার গোয়ালিমান্দ্রা গ্রামের মর্তুজা আলীর ছেলে তিনি। তবে এখন তাঁর ঠিকানা সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার সংযোগস্থল মৌতলা এলাকায়। সেখানে একটি ছোট ঘর তৈরি করে বাস করছেন। পরিচয় দেন বেদে সম্প্রদায়ের মানুষ হিসেবে।

বাপদাদার চৌদ্দ পুরুষের এই আদি পেশাকেই নিজের জীবিকা বানিয়েছেন নাজিম। অথচ ইচ্ছে ছিল অন্য রকম। পড়াশোনা শিখে কোনো ভদ্রস্থ চাকরি করবেন। সেই লক্ষ্যে এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তিও হয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে অর্থাভাবে পড়ালেখা আর এগোয়নি। অগত্যা ২০০৬ সাল থেকে বাবার হাত ধরে নেমে পড়েন এই হারানো গহনা খোঁজার পেশায়।

নাজিম জানান, কাজ শুরু করার আগে রীতিমতো প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে তাঁকে। প্রথম গুরু ছিলেন তাঁর ভগ্নিপতি মো. রাহিন। এরপর থেকে একা একাই দেশের এক জেলা থেকে অন্য জেলায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, মোংলা, বরগুনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুরে ঘুরে কাজ করেছেন। আয়ের সুবিধার জন্য বেদে সম্প্রদায়ের মানুষেরা সাধারণত এলাকা ভাগ করে নেন।

কাজের ধরনটা বেশ কৌতুহলোদ্দীপক। একটি শক্ত লাঠির মাথায় চিরুনির মতো লোহার আঁচড়া আর একটি টিনের হুঁচাÑএই হলো নাজিমের অস্ত্র। পুকুর বা জলাশয়ে কোনো গহনা হারিয়ে গেলে, ভুক্তভোগী মানুষের দেওয়া বর্ণনামতে পানিতে নেমে পড়েন তিনি। লোহার আঁচড়া দিয়ে নরম কাদা-মাটি আর আবর্জনা টেনে তোলেন টিনের হুঁচায়। তারপর তা ধুয়ে-মুছে নিখুঁতভাবে খুঁজতে থাকেন। এভাবেই কাদার নিচ থেকে বেরিয়ে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই সোনা বা রুপার গহনা।

পারিশ্রমিক কেমন মেলে? নাজিম জানান, উদ্ধার হওয়া গহনার ওজনের ওপর ভিত্তি করে মজুরি ঠিক করা হয়। সাধারণত হারানো জিনিসের মূল্যের একটি নির্দিষ্ট শতকরা অংশ নেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। একটি সোনার কানের দুল খুঁজে পেলে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার কম মজুরি হয় না। অনেকে খুশি হয়ে বেশি টাকাও বকশিশ দেন। এভাবে মাসে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হয় তাঁর। বিভিন্ন দেওয়ালে বা দর্শনীয় স্থানে নিজের মোবাইল নম্বরটিও লিখে রাখেন তিনি, যাতে দরকারে মানুষ সহজে খুঁজে পায়। এ পর্যন্ত শতাধিক মানুষের হারিয়ে যাওয়া গহনা উদ্ধার করেছেন তিনি।

তবে এই কাজে ঝুঁকিও কম নয়। পানিতে জোঁকের কামড় তো আছেই, পুরানো ভাঙা ঘাটের নিচে কাজ করতে গিয়ে হাত-পা কেটে যায় প্রায়ই। গভীর পানিতে বারবার ডুব দেওয়ার কারণে চোখ ও কানের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। দিনভর হেঁটে চলার ক্লান্তি তো বোনাস।

নাজিম আক্ষেপ করে বলেন, এখন আর এই পেশায় টিকে থাকা কঠিন। দিন দিন পুকুর ভরাট হয়ে যাচ্ছে। আধুনিক বাথরুমের চল বাড়ায় এখন মানুষ আর পুকুরে গোসল করতে গিয়ে গহনা হারায় না। সোনার দাম আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের এর ব্যবহারও কমেছে। ফলে আয় কমে যাওয়ায় পরিবার চালানো দায় হয়ে পড়েছে। ঐতিহ্যবাহী এই পেশা ও বেদে সম্প্রদায়কে টিকিয়ে রাখতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।