মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬, ১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শ্যামনগরে কৃষকদের মাঝে জলবায়ু সহনশীল বীজ সংরক্ষণের পাত্র বিতরণ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ
শ্যামনগরে কৃষকদের মাঝে জলবায়ু সহনশীল বীজ সংরক্ষণের পাত্র বিতরণ

মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের কৃষকদের মাঝে জলবায়ু সহনশীল পদ্ধতিতে বীজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ পাত্র (হার্মেটিক সাইলো) বিতরণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় চত্বরে বেসরকারি উন্নয়ন সংগঠন ‘লিডার্স’ এই বিতরণ কর্মসূচির আয়োজন করে।

দাতা সংস্থা ‘গেইন বাংলাদেশ’-এর সহযোগিতায় এবং ‘কল কনসোর্টিয়াম’ এর আওতায় ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যাট লোকাল লেভেল’ (কল) প্রকল্পের মাধ্যমে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ৪৮ জন নির্বাচিত কৃষক-কৃষাণীর হাতে এই বীজ রাখার আধুনিক পাত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে সাইলো বিতরণ করেন শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শামসুজ্জাহান কনক। এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ওয়ালিউল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকেরা জানান, ‘কল’ প্রকল্পের মাধ্যমে শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ২ হাজার ৪০০ পরিবারকে কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, জলবায়ু সহনশীল চাষাবাদ ও পুষ্টি বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় কৃষকদের উৎপাদিত বীজ যেন দীর্ঘ সময় সুরক্ষিত ও গুণগত মানসম্পন্ন থাকে, সেজন্য এই হার্মেটিক সাইলো বিতরণ করা হলো। কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন লিডার্স-এর প্রজেক্ট অফিসার সুব্রত কুমার গাইন, ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর কানিজুর রহমান, অনুপ মন্ডল, সীমা মন্ডল ও সালমা খাতুন।

Ads small one

কোন বিপদের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬, ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
কোন বিপদের ইঙ্গিত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার গঠনের তিন মাস পরই দেশে এক ধরনের অস্থিরতার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, সীমান্তে পুশ-ইন ও সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতের সরকারবিরোধী ভূমিকা এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এসব বিষয় সরকারকেও ভাবনায় ফেলেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা। ‘‘দেশের জন্য সামনে কঠিন ও গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে’’— সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এমন মন্তব্যের পরই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তিনি আসলে কোনও বিপদের ইঙ্গিত দিলেন? আসলে ভেতরের খবর কী? সামনে কী হচ্ছে? এমন অসংখ্য প্রশ্ন সামনে আসছে।

জানতে চাইলে সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট আলতাফ পারভেজ বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী কোনদিক থেকে এমনটি বলেছেন জানি না। তবে দেশের সামগ্রিক অবস্থা কিছুটা জটিলই বলা যায়। অর্থনীতি ভালো নেই, ব্যাংকগুলোতে অস্থিরতা, আইএমএফ’র ঋণ পাওয়া যাচ্ছে না, ইসলামী ব্যাংকের কর্তৃত্ব নিয়ে দ্বন্দ্ব। আর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়টিও সরকারকে চাপে ফেলেছে।

অপরদিকে একটি নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের তৎপরতা নিয়েও এক ধরনের উদ্বিগ্নতা কাজ করছে প্রশাসনে। এসব বিষয় হয়তো প্রধানমন্ত্রীকে ভাবাচ্ছে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার তাগিদ দিতে পারেন।’’

কী বলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী

সরকারের ১০০ দিনের মাথায় প্রত্যাশা ও প্রাপ্তি নিয়ে ইতোমধ্যে নানা মূল্যায়ন করেছেন রাজনীতিবিদ ও বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, সামনে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে। এমন শঙ্কাকে আরও শক্তিশালী ভিত্তি দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘‘দেশের জন্য সামনে কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ সময় অপেক্ষা করছে। বিএনপির কাছে দেশের মানুষের প্রত্যাশা অনেক। তাই কঠিন সময়ে হেসেখেলে চললে দেশ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অনেক বড় ক্ষতি হবে।’’

গত ৩১ মে রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (কেআইবি)-এ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকীর আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

অর্থনীতিতে বড় ধরনের শঙ্কা

সামনে দেশে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে এক ধরনের অনিশ্চয়তার আভাস সরকারের পক্ষ থেকেই বিভিন্ন সময়ে দেওয়া হচ্ছে। এ জন্য সরকার-প্রধান থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রেই কৃচ্ছ্রসাধন করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এসি না চালানো, রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে মিতব্যয়িতা, বিপণিবিতান খোলা রাখার বিষয়ে সময়সীমা নির্ধারণসহ বেশ কিছু পদক্ষেপের কারণে সামনের আরও কঠিন সংকট মুহূর্তের শঙ্কার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে দেশের ব্যাংকিং খাতও টালমাটাল। পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে কোনও অগ্রগতি নেই। জুলাই আন্দোলনে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে বিতাড়িত ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলমকে ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান নিয়োগকে কেন্দ্র করে সেখানে চলছে গ্রাহক-শেয়ার হোল্ডারদের আন্দোলন। এমনকি সংঘর্ষ-গুলির ঘটনাও ঘটেছে। সেই সংকটেরও সমাধান সহসা হবে কিনা বলা কঠিন। ২০২৫ সালের বেশিরভাগ সময় মূল্যস্ফীতি ৮ থেকে ৯ শতাংশের মধ্যে থাকলেও মার্চে তা কিছুটা কমে আসে। কিন্তু এপ্রিলে আবার ৯ শতাংশের ওপরে উঠে যায়, ফলে নিম্ন আয়ের মানুষ ও নির্দিষ্ট আয়ের জনগোষ্ঠীর দুর্ভোগ দীর্ঘায়িত হয়। এ নিয়েও শঙ্কার পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

আইএমএফের ঋণ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। সব মিলিয়ে সামনে চরম আর্থিক সংকট সরকারকে চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে চ্যালেঞ্জ

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের ১০০ দিন পূর্ণ হয় গত ২৭ মে। তবে এই সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি।

সারা দেশে হত্যা, চাঁদাবাজি, গণপিটুনি, চুরি-ছিনতাই ও সরকারদলীয় নেতাকর্মীদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলসহ বিভিন্ন অপরাধের ঘটনা খুব একটা কমেনি। এতে জনমনে নিরাপত্তাহীনতা নতুন করে বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি অপরাধবিরোধী অভিযান চালানো হলেও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ এখনও পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। গত ১৯ মে মিরপুরের পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার ঘটনায় এ পরিস্থিতির ভয়াবহতা সামনে আসছে। এর বাইরে একাধিক ধর্ষণের ঘটনা ঘটছে। মব কালচার বন্ধ হচ্ছে না। মাজারে হামলা অব্যাহত আছে।

সম্প্রতি মিরপুরে শাহ আলী মাজারে উগ্রবাদী হামলায় মারধরের শিকার হন ভক্ত অনুরাগীরা। কিন্তু প্রকৃত অভিযুক্তদের গ্রেফতার নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে ধোঁয়াশা।

যদিও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদের কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে। অভিযুক্তদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ সংস্কার এবং বাহিনীর মধ্যে শৃঙ্খলা নিশ্চিতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে নতুন চাপ

১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তিন দিন আগে ৯ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি করে অন্তর্বর্তী সরকার।

আলোচনা আছে, সেই সময়ে চুক্তির আয়োজন ও শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করা—এই পুরো প্রক্রিয়ায় নেতৃত্বে ছিলেন ড. খলিলুর রহমান। গত ৪ মার্চ এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘‘এই চুক্তিতে প্রধান দুই দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সম্মতি ছিল।’’

তিনি আরও জানান, ‘‘ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ আমাদের প্রধান দুটি দলের প্রধানের সঙ্গে নির্বাচনের আগেই কথা বলেছেন এবং তারাও এতে সম্মতি দিয়েছিলেন।’’ যদিও তা অস্বীকার করে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ওই চুক্তি নিয়ে তার দলের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।

তবে এ বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কোনও বক্তব্য দেওয়া হয়নি। এর মধ্যেও এই সরকারের অবস্থানের ইঙ্গিত রয়েছে বলে বিশ্লেষকেরা বলছেন।

এই চুক্তি নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের এমন অবস্থানের মধ্যেই সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে এই আইন বাতিলের দাবি উঠেছে।

এ নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের যোগসাজশ রয়েছে বলে দাবি তাদের। বিশেষ করে সংসদে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিরোধী দলের তেমন উচ্চবাচ্য না থাকা, স্বতন্ত্র এমপি রুমিন ফারহানার আলোচনার প্রস্তাব নাকচ করা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

অন্যদিকে বাম দলগুলোও এ নিয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপি ও প্রধান বিরোধী দল জামায়াতকে দায়ী করে আসছে। তারা অবিলম্বে এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে। ইতোমধ্যে তারা নানা কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

এ চুক্তির বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি দীর্ঘমেয়াদে বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থি হবে।’’ ‘‘এটি দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীন নীতিনির্ধারণের ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপের একটি প্রক্রিয়া।’’ তিনি এ চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।

সংসদের বাইরে থাকা ধর্মীয় দলগুলোও এ চুক্তি নিয়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে। সব মিলিয়ে সামনে বিষয়টি নিয়েও উত্তপ্ত হতে পারে রাজনৈতিক ময়দান।

নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার পথে বাজার পরিস্থিতি

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে সরকারের মধ্যেও এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। যদিও সরকার এ নিয়ে বাজার মনিটরিংসহ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছুতেই তা নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না। সম্প্রতি আবারও জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ায় এর প্রভাব বাজারের ওপর পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

এর মধ্যে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর নিয়মিত বাজার পরিদর্শন করে অতিরিক্ত মূল্য আদায়, ওজনে কারচুপি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য বিক্রির বিরুদ্ধে জরিমানা ও আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছে। সিন্ডিকেট দমনে কোনও ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা সিন্ডিকেট যেন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়াতে না পারে, সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারি ও কঠোর আইনি পদক্ষেপ জোরদার করা হয়েছে। এসব পদক্ষেপ কতটুকু ফলপ্রসূ হয়, সেটিই দেখার বিষয়।

দীর্ঘ মেয়াদে ভোগাতে পারে হাম

গত দুই মাসেরও বেশি সময়ে চলা হামে শিশুমৃত্যু অব্যাহত আছে। এটি পুরোপুরি কবে শেষ হবে এ নিয়ে কোনও সুখবর নেই। সরকার নানা পদক্ষেপের কথা জানালেও থামছে না শিশুমৃত্যুর মিছিল। সর্বশেষ গত ১ জুন আরও ৩ জনসহ এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৫৮৮ জন।

সম্প্রতি ইউনিসেফ জানিয়েছে, তারা বারবার অন্তর্বর্তী প্রশাসনকে সম্ভাব্য টিকা সংকট এবং বড় ধরনের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। তবে সেই সতর্কবার্তাগুলো মূলত উপেক্ষিতই ছিল।

যদিও সরকার ইতোমধ্যে শিশুদের টিকা দেওয়ার কর্মসূচি শুরু করেছে। তবে শিশুমৃত্যু থামছে না। অনেকের ধারণা, হামের প্রাদুর্ভাব না থামাতে পারলে সরকারকে বড় ধরনের সংকটে পড়তে হতে পারে।

পুশ-ইন নিয়ে নতুন দুশ্চিন্তা

পশ্চিমবঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) জয়লাভের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন সামীন্ত উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে বিএসএফ-এর গুলিতে বেশ কয়েকজন বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে।

সর্বশেষ ১ ‍জুন যশোরের বেনাপোলের সাদিপুর সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া খুলে ১০-১২ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। যদিও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে ওই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এ ঘটনায় সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আগামী দিনে এমন পরিস্থিতি সরকার কীভাবে মোকাবিলা করবে, এ নিয়েও আলোচনা হচ্ছে।

উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি

আগামী দিনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও সরকারকে চিন্তায় ফেলেছে মনে করেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে বড় ধরনের শোডাউন দিয়েছে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। গত ১ জুন ঢাকার ধানমন্ডিতে দলটির প্রবীণ নেতা তোফায়েল আহমেদের জানাজা ঘিরে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীর সমাগম ঘটে। অনেকে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। এর মধ্যে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ। আর পরদিন ২ জুন তার নিজ জেলা ভোলাতেও ঘটেছে এমন ঘটনা।

অপরদিকে সংসদের প্রধান বিরোধী দল জামায়াতও সরকারকে চাপে রাখতে নানা কর্মসূচি দিচ্ছে। দুই শক্তিকে সরকার কোন কৌশলে মোকাবিলা করবে তা দেখার বিষয়।

কীভাবে দেখছেন রাজনীতিবিদরা?

জানতে চাইলে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল ক্বাফী রতন বলেন, ‘‘বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের তিন মাসেও দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির তেমন কোনও উন্নতি হয়নি। হত্যা, ধর্ষণ ও মব কালচার বন্ধ হচ্ছে না। বৈশ্বিক সংকটের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে যাওয়াসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেশেও নেতিবাচক প্রভাব পরতে পারে। জুনের মধ্যেই সরকার পড়তে পারে আর্থিক সংকটে।’’

তিনি বলেন, ‘‘অন্যদিকে ইসলামী ব্যাংক নিয়ে তথাকথিত বিরোধী দল জামায়াত যে ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, সেটাও এক ধরনের অশনি সংকেত। এর বাইরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৎপরতাও সরকারকে এক ধরনের চিন্তায় ফেলেছে। তারাও হয়তো ফেরার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে। আগামী দিনে এসব বিষয় মোকাবিলা করা সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে। এমনটি হয়তো কিছুটা আঁচ করতে পেরেছেন সরকার-প্রধান।’’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম বলেন, ‘‘সরকার কোনও কিছুই সঠিকভাবে সামাল দিতে পারছে না। সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটছে। আর ব্যাংকিং খাতে লুটপাটের রাস্তা তৈরি করা হচ্ছে। চাঁদাবাজি ও খুনোখুনির খবর সামনে আসছে। তাই সরকার-প্রধানের আশঙ্কা একেবারেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।’’

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা আমানউল্লাহ আমান বলেন, ‘‘একটি গোষ্ঠী দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। তাছাড়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রধানমন্ত্রী নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন। আশা করি তার যোগ্য নেতৃত্বে কঠিন পরিস্থিতি থেকেও ঘুরে দাঁড়াবে বাংলাদেশ।’’

জুনে কমলো এলপিজির দাম

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ণ
জুনে কমলো এলপিজির দাম

জুনে কমেছে এলপিজির দাম। ১২ কেজি সিলিদাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা এবং যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাস লিটার প্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২ জুন) সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে নতুন দাম কার্যকর হবে বলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

সর্বশেষ ১৯ এপ্রিল ১২ কেজিতে ২১২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তার আগে এপ্রিল মাসে অর্থাৎ ২ এপ্রিল ৩৮৭ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৭ টাকা করেছিল বিইআরসি। অর্থাৎ এপ্রিলে দুই দফায় ১২ কেজিতে ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি করা হয়।

খলিলুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ২ জুন, ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ
খলিলুর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) রাতে এক বার্তায় তাকে এই অভিনন্দন জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘এই অর্জন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অবদান ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিফলন। আমরা বিশ্বাস করি, তিনি গর্বের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বহুপাক্ষিক ও অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যোগাযোগ, সংলাপ ও সহযোগিতা গড়ে তুলবেন। আমরা এই নতুন দায়িত্বের জন্য তার সাফল্য কামনা করি।’’

প্রসঙ্গত, এর আগে জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার (২ জুন) নিউ ইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দফতরের জেনারেল অ্যাসেম্বলি হলে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গ্রহণ শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বর্তমান সভাপতি এবং জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বেয়ারবক।

তিনি জানান, মোট ভোট পড়েছে ১৯০টি। এর মধ্যে ড. খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯ ভোট এবং তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী সাইপ্রাসের বহুপাক্ষিকতা-বিষয়ক বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত আন্দ্রেয়াস কাকুরিস পেয়েছেন ৯১ ভোট। অর্থাৎ ভোটের ব্যবধান ৮টি।