বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

অব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক হয়রানির আরেক নাম কলারোয়ার ‘আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক’!

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬, ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ
অব্যবস্থাপনা ও গ্রাহক হয়রানির আরেক নাম কলারোয়ার ‘আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক’!

নিজস্ব প্রতিনিধি: অব্যবস্থাপনা, গ্রাহকদের হয়রানি, গ্রাহকদের টাকা দিতে না পারা, অসৌজন্যতার আরেক নাম কলারোয়ার ‘আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক’। কলারোয়া বাজারের এমআর ফাউন্ডেশনে দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত এই ব্যাংকে গ্রাহকদের হয়রানি ও নাজেহাল নিত্যদিনের ঘটনা।
গত রবিবার দুপুরের দিকে পৃথক দুটি চেকে ৯ লাখ টাকা তুলতে যান একজন অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক। ক্যাশ কাউন্টারের দায়িত্ব মহিলা কর্মকর্তা জানালেন টাকা নেই। অথচ তখনই পরপর দুই থেকে তিনজন ব্যক্তি পাঁচশত ও এক হাজার টাকা নোটের কয়েকটি ব্যান্ডেল জমা দিলেন। আনুমানিক ৩০/৪০ লাখ টাকার মতো। তখন বলা হলো এখনতো টাকা জমা পড়েছে তাহলে আমাদের চেকের টাকাটা দেন। ক্যাশ কাউন্টারের মহিলা কর্মকর্তা বললেন, ম্যানেজার সাহেব কে জানান। ম্যানেজার সাব্বির আহমেদকে জানালে তিনি ক্যাশ কাউন্টারের কর্মকর্তাকে একটি চেকের টাকা দিতে বললেন। ম্যানেজারকে জানানো হলো- ইতোমধ্যে বহু টাকা জমা পড়েছে। তবু তিনি বললেন, বাকি টাকা ঝাউডাঙ্গা শাখা থেকে নেন। অগত্যা নিরুপায় হয়ে একটি থেকে পাঁচ লাখ টাকা তুলতে গিয়ে ৫০০ টাকার নোটের ব্যান্ডেলে ২ লাখ টাকা দিয়ে বাকি টাকা ১০০ টাকার নোটের ব্যান্ডেল দিতে পাঁচ লাখ টাকা ডেলিভারি দিলেন। ক্যাশ কাউন্টার মহিলাকে জানানো হলো, যেহেতু বড় টাকার নোটের ব্যান্ডেল আছে সেখান থেকে দেন, কারণ এগুলো অন্য জায়গায় নিয়ে যেতে হবে। বড় নোটের টাকার ব্যান্ডেল থাকা সত্ত্বেও ওই কর্মকর্তা কিছুতেই দিলেন না। এ নিয়ে বাগবিত-াও হলো। অগত্যা সেই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ছুটলেন ঝাউডাঙ্গা শাখায়।
এরূপ প্রতিনিয়ত অসৌজন্যমুলক আচরণ, অব্যবস্থাপনা, গ্রাহকদের হয়রানি ও টাকা থাকলেও না দেয়ার ঘটনা ঘটছে ‘আল আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসি কলারোয়া শাখায়।

Ads small one

আশাশুনিতে কৃষি কর্মকর্তার বিভিন্ন বাজারে সারের দোকান পরিদর্শন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ
আশাশুনিতে কৃষি কর্মকর্তার বিভিন্ন বাজারে সারের দোকান পরিদর্শন

আশাশুনি প্রতিনিধি: আশাশুনিতে কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান বিভিন্ন বাজারে সার ডিলারের দোকান পরিদর্শন করেছেন। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় উপজেলার বড়দল ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা বাজারের গাজী এন্টারপ্রাইজ, তৃষা এন্টারপ্রাইজসহ তিন দোকান ও আশাশুনি সদরের দুই দোকানসহ উপজেলার বিভিন্ন সার ডিলারের দোকান আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। কৃষকদের মাঝে সঠিক মূল্যে ও নিরবচ্ছিন্নভাবে সার সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই পরিদর্শন পরিচালনা করেন তিনি।

পরিদর্শনকালে তিনি উপজেলার বিভিন্ন খুচরা ও পাইকারি সারের দোকান ঘুরে দেখেন, সারের স্টক রেজিস্টার যাচাই করেন এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে কৃষকের মাঝে সার বিক্রির নির্দেশনা প্রদান করেন। এসময় সারের কৃত্রিম সংকট রোধ এবং কোনো ধরনের অনিয়ম পেলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার হুশিয়ারিও উচ্চারণ করেন তিনি।

পরিদর্শন শেষে কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষায় এবং ডিলারদের স্বচ্ছতা বজায় রেখে সার বিতরণে সজাগ থাকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন বলে জানিয়েছেন কৃষি কর্মকর্তা।

সাতক্ষীরায় শফিকুল ইসলাম শফিকের ‘খোলপেটুয়া’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরায় শফিকুল ইসলাম শফিকের ‘খোলপেটুয়া’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন

সংবাদদাতা: সাতক্ষীরায় সুন্দরবন থিয়েটারের পরিচালক ও কবি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক রচিত ‘খোলপেটুয়া’ কাব্যগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সন্ধ্যায় সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরির হলরুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাহিত্য ও সংস্কৃতিপ্রেমীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা সঞ্চয় সমিতি ও ঋণদান প্রকল্পের সহ-সভাপতি গৌরাঙ্গ সরকার।

বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কবি, লেখক ও সৃজনশীল সংগঠক শেখ সিদ্দিকুর রহমান। তিনি ‘খোলপেটুয়া’ কাব্যগ্রন্থের বিষয়বস্তু, কবির সাহিত্যচর্চা এবং সাতক্ষীরার সাহিত্য-সংস্কৃতির পরিমন্ডলে এ ধরনের প্রকাশনার গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি জনপদের নদী, প্রকৃতি, মানুষ, জীবন-সংগ্রাম ও অনুভূতির সঙ্গে সাহিত্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ‘খোলপেটুয়া’ নামের মধ্যেও সাতক্ষীরার নদী-প্রকৃতি ও জনজীবনের একটি নিজস্ব আবহ ফুটে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন চলচ্চিত্রের নৃত্যশিল্পী এইচ কে হাসান এবং আরিফুল ইসলামসহ অন্যরা। বক্তারা কবি মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রশংসা করেন এবং ‘খোলপেটুয়া’ কাব্যগ্রন্থের সাফল্য কামনা করেন।

বক্তারা বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতিচর্চা মানুষের মননশীলতা বিকাশের পাশাপাশি সমাজের অসংগতি, মানুষের সুখ-দুঃখ এবং জীবনবাস্তবতাকে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সাতক্ষীরার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কর্মকান্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা মো. শফিকুল ইসলাম শফিকের নতুন এই কাব্যগ্রন্থ পাঠকদের মধ্যে সাড়া ফেলবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে কবি মো. শফিকুল ইসলাম শফিক তাঁর অনুভূতি ব্যক্ত করেন এবং কাব্যগ্রন্থটি প্রকাশের পেছনের ভাবনা ও সাহিত্যচর্চার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কবি মৃত্যুঞ্জয় কুমার বিশ্বাস। সাহিত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সপ্তাহের ৬ দিন বন্ধ ওটি, নামে তালপুকুর-ঘটি ডোবেনা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৪:২৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সপ্তাহের ৬ দিন বন্ধ ওটি, নামে তালপুকুর-ঘটি ডোবেনা

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় সপ্তাহের ছয় দিনই বন্ধ থাকছে অপারেশন থিয়েটার (ওটি)। এতে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন প্রসূতি ও জরুরি অস্ত্রোপচারের রোগীরা। জটিল পরিস্থিতিতে রোগীদের প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে খুলনা শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে নিতে হচ্ছে। এতে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের বাড়ছে চিকিৎসা ব্যয় ও ঝুঁকি।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন ডা. জহিরুল ইসলাম। তবে তিনি সংযুক্তিতে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে ৪ দিন এবং কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ দিন দায়িত্ব পালন করেন। পাইকগাছায় তিনি সপ্তাহে মাত্র ১ দিন দায়িত্ব পালন করছেন। ফলে ওই দিন ছাড়া অন্য ৬ দিন হাসপাতালে অস্ত্রোপচার বন্ধ থাকে। প্রতিদিনই অস্ত্রোপচারের জন্য রোগী আসেন। বিশেষ করে প্রসূতি রোগীদের জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলেও অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় তাঁদের অন্যত্র পাঠাতে হচ্ছে।

গত জুলাই মাসে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে প্রসূতি বিভাগে ১৫৫ জন রোগী ভর্তি হন। তাঁদের মধ্যে ১৯ জনের স্বাভাবিক প্রসব এবং ১১ জনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব হয়। চলতি আগস্ট মাসের ২৪ তারিখ পর্যন্ত ১২৫ জন প্রসূতি ভর্তি হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের স্বাভাবিক প্রসব এবং ৮ জনের সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার হয়েছে। জুলাই মাসে জরুরি বিভাগে ১ হাজার ৬৯৭ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেন। দৈনিক গড়ে রোগী ভর্তি হয়েছেন প্রায় ৬৮ জন। আগস্টের ২৪ তারিখ পর্যন্ত জরুরি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৪১৫ জন। এ সময়ে দৈনিক গড়ে ৫৯ জন রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, আগে এই হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে ২০ থেকে ৩০টি অস্ত্রোপচার হতো। অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসকের সংকটে বর্তমানে অস্ত্রোপচারের সংখ্যা প্রায় শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপে¬ক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) সাকিলা আফরোজ বলেন, এখানে প্রতিদিন অপারেশনের জন্য অনেক রোগী আসেন। কিন্তু অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক না থাকায় আমাদের নানা জটিলতার মুখে পড়তে হয়।

অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম বলেন, প্রায় আড়াই বছর ধরে তিনি পাইকগাছা হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করছেন। বর্তমানে তাঁর স্ত্রী ও সন্তান অসুস্থ। এ কারণে খুলনা শহরের কাছাকাছি থাকার জন্য তিনি পরিচালকের কাছে আবেদন করেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে তাঁর আবেদন অনুমোদন করা হয়েছে। এরপরও তাঁকে পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহে ১ দিন করে দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে।

পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আহসানারা বিনতে আহমেদ বলেন, অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক ডা. জহিরুল ইসলাম এই হাসপাতালে পদায়িত থাকলেও সংযুক্তিতে ফুলতলা হাসপাতালে ৪ দিন কাজ করছেন। তিনি পাইকগাছায় ১ দিন ও কয়রায় ১ দিন দায়িত্ব পালন করছেন। হাসপাতালে সার্বক্ষণিক একজন অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। আশা করছি, দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

এলাকাবাসীর দাবি, পাইকগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স শুধু এ উপজেলার মানুষ নয়, আশপাশের কয়রা, দাকোপ, আশাশুনি ও তালা উপজেলার অনেক মানুষও এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই দ্রুত একজন নিয়মিত অ্যানেস্থেশিয়া চিকিৎসক পদায়ন করে অস্ত্রোপচার কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।