সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

অভিজ্ঞতার বাজারে বাংলাদেশের অদেখা বাস্তবতা

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ণ
অভিজ্ঞতার বাজারে বাংলাদেশের অদেখা বাস্তবতা

মো. মামুন হাসান

বাংলাদেশের উন্নয়ন ভাবনায় কয়েক দশক ধরে একটি স্থায়ী প্রবণতা লক্ষ করা যায়। আমরা উন্নয়নকে দেখেছি মূলত অবকাঠামো নির্মাণ, শিল্পায়ন, রপ্তানি আয় বৃদ্ধি এবং কৃষি উৎপাদনের পরিমাণগত সম্প্রসারণের আলোকে। এই কাঠামো নিঃসন্দেহে দেশের অর্থনীতিকে একটি দৃশ্যমান ভিত্তি দিয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, উন্নয়নের সংজ্ঞা কি কেবল উৎপাদনের পরিসংখ্যানেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি এবং অভিজ্ঞতাও অর্থনৈতিক মূল্য হিসেবে বিবেচিত হবে?

বিশ্ব অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিবর্তন এই প্রশ্নকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। পর্যটন এখন আর কেবল অবকাশ যাপনের খাত নয়, এটি একটি পূর্ণাঙ্গ অভিজ্ঞতা নির্ভর অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। আন্তর্জাতিক পর্যটন সংস্থার বিভিন্ন প্রতিবেদনে দেখা যায়, বিশ্ব পর্যটনের একটি ক্রমবর্ধমান অংশ এখন অভিজ্ঞতা ভিত্তিক ভ্রমণের দিকে ঝুঁকছে। পর্যটকরা এখন কেবল কোনো স্থান দেখতে যান না, তারা সেখানে বসবাসের অনুভূতি পেতে চান, স্থানীয় মানুষের জীবনকে বুঝতে চান এবং সংস্কৃতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হতে চান।

এই পরিবর্তিত বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান বিশেষভাবে অনুকূল। কারণ বাংলাদেশে কৃত্রিমভাবে গ্রামীণ অভিজ্ঞতা তৈরি করার প্রয়োজন নেই। এখানে গ্রামীণ জীবন নিজেই একটি জীবন্ত বাস্তবতা। দেশের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ মানুষ এখনো গ্রামীণ পরিবেশে বসবাস করেন এবং তাদের দৈনন্দিন জীবন কৃষি, নদী, মৌসুমি পরিবর্তন, লোকসংস্কৃতি এবং ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামোর সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। অথচ এই বিশাল সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পদকে আমরা এখনো মূলত উৎপাদনশীল কৃষির দৃষ্টিকোণ থেকেই বিবেচনা করি। একটি ধানক্ষেতের অর্থনৈতিক মূল্য নির্ধারিত হয় কেবল উৎপাদিত ধানের বাজারমূল্যে, কিন্তু সেই একই ক্ষেত যে একটি সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক এবং পর্যটন অভিজ্ঞতার কেন্দ্র হতে পারে, সেই দৃষ্টিভঙ্গি এখনো নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যথেষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা এই বিষয়ে আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত বহন করে। ইতালির গ্রামীণ পর্যটন ব্যবস্থা কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে বহুমাত্রিক আয়ের উৎসে পরিণত করেছে। জাপানে কৃষি শিক্ষা ও পর্যটনকে একত্রিত করে নতুন প্রজন্মকে গ্রামীণ জীবনের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম তাদের গ্রামীণ সংস্কৃতি, নদীকেন্দ্রিক জীবন এবং কৃষিভিত্তিক উৎপাদন ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন পণ্যে রূপান্তর করেছে। এসব উদাহরণ দেখায়, গ্রাম এখন আর কেবল উৎপাদনের কেন্দ্র নয়, বরং এটি অভিজ্ঞতা অর্থনীতির একটি শক্তিশালী ইউনিট।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এই সম্ভাবনা আরও বিস্তৃত। হাওর অঞ্চল, উপকূলীয় জনপদ, পার্বত্য এলাকা, নদীবিধৌত দক্ষিণাঞ্চল এবং উত্তরবঙ্গের কৃষিভিত্তিক গ্রামগুলো একেকটি স্বতন্ত্র অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক জগৎ। হাওরের বর্ষাকালীন জলরাশি, জেলেদের জীবনসংগ্রাম এবং মৌসুমি পরিবর্তন একটি অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করে। উপকূলীয় অঞ্চলের নদীভিত্তিক জীবন, জেলে সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জীবনযাত্রা পর্যটকদের জন্য গভীর মানবিক অভিজ্ঞতা হতে পারে। পার্বত্য অঞ্চলের নৃগোষ্ঠীগত বৈচিত্র্য এবং কৃষিভিত্তিক জুম চাষ পদ্ধতি ভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক আকর্ষণ তৈরি করে।

অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষ করে কৃষিভিত্তিক হাটবাজার, মৌসুমি ফল উৎপাদন এবং লোকসংস্কৃতি একটি ধারাবাহিক সামাজিক অর্থনৈতিক কাঠামো তৈরি করেছে, যা পর্যটনের মাধ্যমে নতুন আয়ের উৎসে রূপ নিতে পারে। একইভাবে সিলেটের চা বাগান কেবল কৃষি উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়, এটি একটি ইতিহাস, শ্রম সংস্কৃতি এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সমন্বিত অভিজ্ঞতা।

অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে গ্রামীণ অভিজ্ঞতা অর্থনীতি একটি মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট তৈরি করে। একটি পর্যটন কেন্দ্রের মাধ্যমে কেবল একটি খাত নয়, বরং পরিবহন, খাদ্য, হস্তশিল্প, আবাসন, ডিজিটাল সেবা এবং স্থানীয় উদ্যোক্তা কার্যক্রম একসঙ্গে বিকশিত হয়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, পর্যটন খাতে প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বহু গুণ বেশি পরোক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে দ্রুত গতিশীল করে।
বাংলাদেশের বর্তমান শ্রমবাজারের প্রেক্ষাপটে এই খাত বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে, যাদের একটি বড় অংশ প্রচলিত চাকরির সুযোগের বাইরে থেকে যাচ্ছে। গ্রামীণ অভিজ্ঞতা অর্থনীতি এই তরুণদের জন্য নতুন উদ্যোক্তা ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তারা পর্যটন গাইড, ডিজিটাল কনটেন্ট নির্মাতা, হসপিটালিটি ম্যানেজার, স্থানীয় ইতিহাস ব্যাখ্যাকারী এবং ক্ষুদ্র পর্যটন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ করতে পারে।

নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও এই খাতের গুরুত্ব অনস্বীকার্য। গ্রামীণ নারীরা ঐতিহ্যবাহী রান্না, হস্তশিল্প, লোকসংগীত এবং আতিথেয়তার মাধ্যমে পর্যটন অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠতে পারেন। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রামীণ পর্যটনভিত্তিক আয়ের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারীদের হাতে পৌঁছায়, যা পারিবারিক ও সামাজিক ক্ষমতায়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবায়ন করতে হলে কয়েকটি মৌলিক কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দূর করতে হবে। প্রথমত, গ্রামীণ পর্যটনের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় নীতিমালা প্রয়োজন। দ্বিতীয়ত, অবকাঠামো উন্নয়নকে পর্যটনবান্ধব করতে হবে। তৃতীয়ত, স্থানীয় জনগণের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়নকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। চতুর্থত, ডিজিটাল বিপণন ও আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডিংকে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সর্বোপরি পরিবেশ ও সংস্কৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে উন্নয়নের নামে স্থানীয় স্বাতন্ত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। এই সময় কেবল পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং ধারণাগত উন্নয়নও জরুরি। অর্থনীতিকে যদি আমরা কেবল উৎপাদনের পরিসংখ্যান হিসেবে দেখি, তাহলে তার একটি বড় অংশ অদৃশ্য থেকে যাবে। কিন্তু যদি আমরা মানুষের জীবনযাপন, সংস্কৃতি এবং অভিজ্ঞতাকে অর্থনৈতিক সম্পদ হিসেবে স্বীকৃতি দিই, তাহলে উন্নয়নের পরিসর বহুগুণ বিস্তৃত হবে।

গ্রামীণ অভিজ্ঞতা অর্থনীতি সেই সম্ভাবনার নাম, যা একই সঙ্গে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে, আঞ্চলিক বৈষম্য কমাতে পারে এবং বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পকে বৈশ্বিক মানচিত্রে নতুনভাবে উপস্থাপন করতে পারে। এখন প্রয়োজন কেবল একটি সুস্পষ্ট নীতি, কার্যকর সমন্বয় এবং গ্রামকে অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে নতুনভাবে দেখার সাহস।

লেখক: মোঃ মামুন হাসান, ইনস্ট্রাক্টর (টেক) ও বিভাগীয় প্রধান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগ, সাতক্ষীরা সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট।

Ads small one

সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:৩১ অপরাহ্ণ
সাতক্ষীরা সীমান্তে বিজিবির অভিযানে প্রায় দশ লক্ষ টাকার চোরাচালানী মালামাল আটক

পত্রদূত রিপোর্ট: সোমবার (২৭ জুলাই ২০২৬) সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন এর অধীনস্থ হিজলদী, তলুইগাছা ও কাকডাঙ্গা বিওপি এর টহলদল দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ, পাতার বিড়ি, চা পাতা, মেহেদী, বিমল আটক করেছে।

সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়ন জানায়, হিজলদী বিওপির আভিযানে কলারোয়া থানার বড়ালী হতে ৭০ হাজার ৯০০ টাকার ভারতীয় পাতার বিড়ি, চা পাতা, মেহেদী ও বিমল আটক করে।

তলুইগাছা বিওপির আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার নটিজঙ্গল হতে ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ আটক করে।

এছাড়াও, কাকডাঙ্গা বিওপির পৃথক দুইটি আভিযানে সাতক্ষীরা সদর থানার ভাদিয়ালী হতে ৭ লাখ ৯০ হাজার টাকার ভারতীয় মোবাইল ফোনের যন্ত্রাংশ ও ঔষধ আটক করে। আটক পন্যের সর্বমোট মূল্য ৯ লাখ ৮০ হাজার ৯০০ টাকা।

চোরাকারবারী কর্তৃক বর্ণিত মালামাল শুল্ককর ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারত হতে বাংলাদেশে পাচার করায় জব্দ করা হয়।

 

এভাবে ভারতীয় দ্রব্য সামগ্রী চোরাচালানের কারণে দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্থ হবার পাশাপাশি দেশ উল্লেখযোগ্য রাজস্ব আয় হতে বঞ্চিত হচ্ছে। দেশের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করে স্থানীয় শিল্প বিকাশে বিজিবি’র এরূপ দেশপ্রেমিক ও জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযানে উপস্থিত স্থানীয় জনগন সাধুবাদ জ্ঞাপন করে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ করেন।

ফিংড়ীর জোড়দিয়াই ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:২০ অপরাহ্ণ
ফিংড়ীর জোড়দিয়াই ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

সংবাদদাতা: সোমবার সকাল সাড়ে ৯ টার সময় সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ী ইউনিয়নের জোড়দিয়াই ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে।

 

সাতক্ষীরা ২ আসনের সংসদ সদস্য মুহাদ্দিস আব্দুল খালেকের সরকারি বাজেট বরাদ্দের অংশ হিসেবে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে ড্রেনেজ সংস্কার, রাস্তা সংস্কার ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় জোড়দিয়া পশ্চিম পাড়ায় মৌলভী জালাল উদ্দিনের বাড়ি সংলগ্ন ইটের সোলিং রাস্তা নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর আলহাজ্ব মাস্টার হাবিবুর রহমান উন্নয়নকাজের উদ্বোধন করেন।

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন ফিংড়ী ইউনিয়ন জামাায়াতের আমির শাহীনুজ্জামান শাহিন, ৭ নং ওয়ার্ড জামাায়াতের সভাপতি জুলফিকার আলী, ৭ নং ওয়ার্ড মেম্বর সাংবাদিক মোঃ আবু ছালেক, আব্দুল আহাদ, আবুল হোসেন,আব্দুস সাত্তার, শাহিনুর রহমান, মমতাজ আলী, আব্দুস সালাম, সাইদুর রহমান, হাবিবুল্লাহ গাজীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

উদ্বোধনকালে আলহাজ্ব মাস্টার হাবিবুর রহমান বলেন, জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় অবকাঠামোগত উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

 

পাইকগাছার বোয়ালিয়া ব্রিজ সড়ক বেহাল, খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলে মানুষ

ডেস্ক নিউজ প্রকাশিত: সোমবার, ২৭ জুলাই, ২০২৬, ৪:১৬ অপরাহ্ণ
পাইকগাছার বোয়ালিয়া ব্রিজ সড়ক বেহাল, খানাখন্দে ঝুঁকি নিয়ে চলে মানুষ

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (পাইকগাছা): খুলনার পাইকগাছা উপজেলার অতিগুরুত্বপূর্ণ গদাইপুরে বোয়ালিয়া মোড় থেকে বোয়ালিয়া ব্রিজ পর্যন্ত ২.৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলা ও সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে রয়েছে। পিচ ও সুড়কি উঠে গিয়ে সড়ক জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অসংখ্য খানাখন্দ। বেশ কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এসব গর্তে পানি জমে সড়কটি এখন রীতিমতো ভোগান্তির ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ফলে প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন হাজার হাজার পথচারী ও যানবাহনের চালকেরা।

জানা যায়, সড়কটি পাইকগাছা সদর থেকে রাড়–লী, দরগাহপুর এবং পার্শ্ববর্তী সাতক্ষীরা জেলায় যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। তাছাড়া রাড়ুলী ও আশাশুনি এলাকার মানুষের খুলনা বিভাগীয় শহরের সাথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও এ সড়কটির ওপর নির্ভর করতে হয়। সড়কটির কোল ঘেঁষেই অবস্থিত বিএডিসি বোয়ালিয়া বীজ উৎপাদন খামার। যার ফলে কৃষক, কৃষি কর্মকর্তা, স্থানীয় স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী এবং ব্যবসায়ীদের প্রতিনিয়ত এই ভাঙা সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিদিন এই সড়কে ইজিবাইক, ব্যাটারিচালিত ভ্যান, মোটরসাইকেলসহ বহু যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় পথচারী রবিউল ইসলাম মল্লিক বলেন, “এই রাস্তা দিয়ে হাঁটাই এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই গর্তে জমে থাকা কাঁদা-পানিতে জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়।” মাদ্রাসা শিক্ষার্থী অলি গাজী জানান, “আমাদের প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে হয়। খানাখন্দের কারণে ভ্যান উল্টে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে, অনেকে আহত হন।

 

পরীক্ষার দিনেও ভয়ে ভয়ে এই পথ পাড়ি দিতে হয়।” অন্যদিকে একাধিক ভ্যান চালক আক্ষেপ করে জানান, রাস্তার ঝাঁকুনিতে গাড়ির পার্টস ভেঙে প্রতিদিনের আয় করা টাকা মেকানিকের পেছনেই চলে যায়। এমনকি আশঙ্কাজনক কোনো রোগীকে হাসপাতালে নেওয়াও এখন চরম চ্যালেঞ্জের বিষয়।

সড়কের এই কঙ্কালসার অবস্থার কারণে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। জনস্বার্থে অতি দ্রুত সড়কটির টেকসই সংস্কার ও পুনঃনির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

এ বিষয়ে পাইকগাছা উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ শাফিন শোয়েব জানান, “সড়কটির বর্তমান পরিস্থিতি ইতোমধ্যেই আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি। জনভোগান্তির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক ব্যবস্থা ও উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।” স্থানীয়দের আকুল আকুতি কাগজে-কলমে নয়, দ্রুততম সময়ে বাস্তবে যেন সংস্কার কাজ শুরু করে সড়কটিকে যাতায়াতের উপযোগী করে তোলেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।